মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৭ এম
বাগেরহাটের মোংলায় চোরাই মালামালসহ স্থানীয় জনতার হাতে আটক দুই যুবককে আদালত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছে। সোমবার সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের একজনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অপরজনের জন্য ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে উভয়কে আরো এক মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার গভীর রাতে মোংলা পৌরসভার রিজেকশন গলি থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা চোরাই মালামালসহ ওই দুই যুবককে আটক করেন। খবর পেয়ে মোংলা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে আজ সোমবার তাদের আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত দণ্ডাদেশ প্রদান করে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. শাকিল হাওলাদার (২২), পিতা মো. শামীম হাওলাদার এবং মো. আবুল হোসেন (২৩), পিতা মো. আমজাদ হোসেন রয়েছেন।
আটক দুই যুবকের কাছ থেকে একটি গ্রেডিং মেশিন, একটি সেলাই রেঞ্চ, একটি মাঙ্কি রেঞ্চ, পাঁচটি এল-রেঞ্চ এবং ৪৮ ইঞ্চি লম্বা একটি ওয়েল্ডিং ক্যাবল জব্দ করা হয়েছে।
মাদক ও চুরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম মন্তব্য করেন, মোংলা ও রামপাল এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, চোর ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। তিনি বলেন, "অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।" মাদক ব্যবসা, চুরি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, চোরাই মালামালসহ আটক আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের কঠোর অবস্থান ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে মোংলায় চুরি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরাকের আল-ফাও উপকূলের ৬৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এই তথ্যটি যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ইউকেএমটিও প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি জানায়, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তারা জাহাজটিতে আগুন লাগার খবর পায়।
তবে, জাহাজটির নাবিকদের অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম (২৩) সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন। তিনি ১২ দিন ধরে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁর মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় যুবদল নেতা ইসরাফিল শেখ ও গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল হান্নান।
শাকিল নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় খোয়ারপাড়া গ্রামের রবিউল মিস্ত্রির পুত্র। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে তিনি গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ির দিকে পায়ে হেঁটে ফিরছিলেন।
যখন তিনি পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে পৌঁছান, তখন হেলমেট পরা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এরপর তাঁকে ধাওয়া করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। শাকিল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকেন। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন, তবে তার আগেই দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় শাকিলকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাঁকে ঢাকায় পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে, এই ঘটনার পর ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন শাকিলের পিতা রবিউল মিস্ত্রি। গুরুদাসপুর থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান জানান, শাকিলের পিতার দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হবে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও আটক করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শাকিল হত্যার বিচার চেয়ে গুরুদাসপুর পৌর এলাকায় যুবদল ও ছাত্রদল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্যারিস সাঁ জার্মাঁ এবং রিয়াল মাদ্রিদের কাছে পরপর হারের ফলে বার্সেলোনার দুর্দশা আরও বেড়ে গেছে। এবার দলের উদীয়মান ডিফেন্ডার জাভি এসপার্ট চোটের কারণে প্রায় সাত সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন। রোববারের এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ম্যাচের প্রথমার্ধেই তাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। পরীক্ষার পর বার্সেলোনা জানিয়েছে, তার ডান গোড়ালির সংযোগস্থলে চোট ধরা পড়েছে এবং সুস্থ হতে আনুমানিক সাত সপ্তাহ সময় লাগবে।
বর্তমান মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে এসপার্ট সকলের নজর কাড়েন। তবে রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে অরেলিয়েন চুয়ামেনির সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি আর খেলতে পারেননি। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন আলেহান্দ্রো বালদে। এসপার্টের চোটের কারণে বার্সেলোনার রক্ষণভাগের সমস্যা আরও গভীর হয়েছে। আন্দ্রেয়াস ক্রিস্তেনসেন এবং এরিক গার্সিয়াও চোটের কারণে বাইরে রয়েছেন, এবং জুল কুন্দের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে দলটি।
চোটের এই ধাক্কা বার্সেলোনার জন্য একটি কঠিন সময়ে এসেছে। মৌসুমের শুরুতে টানা ১১ ম্যাচ জিতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দলটি গত সপ্তাহে প্যারিস সাঁ জার্মাঁর কাছে ৪-২ গোলে পরাজিত হয়েছে এবং রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছে। ফলে পরপর দুই ম্যাচে হারতে হয়েছে হান্সি ফ্লিকের দলের। রিয়ালের বিপক্ষে হারের পর ফ্লিক রক্ষণভাগের চোটকে দলের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এসপার্টের অনুপস্থিতিতে বার্সেলোনাকে এখন রক্ষণভাগের সমন্বয় নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা করতে হবে। সামনে আলাভেস, আতলেতিকো মাদ্রিদ এবং ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লিগ ম্যাচের পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও রয়েছে। সাত সপ্তাহের পুনর্বাসন সময় ধরে হিসাব করলে, মৌসুমের ব্যস্ত এই সময়ে তরুণ ডিফেন্ডারের অনুপস্থিতি বার্সেলোনার জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তবে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার কোন সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার হওয়া ১০টি লাশের মধ্যে কোনোটির ডিএনএ নমুনার সঙ্গে নাসরিনের নমুনার মিল না পাওয়ায়, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হলেও নাসরিনের পরিণতি নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে অবহিত করবে বলেও তিনি জানান।
শহরের শ্যামলী এলাকার শনাক্ত হওয়া চার সদস্যের পরিবারে রয়েছেন, গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।
অন্যদিকে, নিহত ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সি ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন। নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন এবং তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া লাশগুলো পুড়ে যাওয়ায় সেগুলোর পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। সিআইডি লাশ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সঙ্গে স্বজনদের নমুনা মিলিয়ে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এর ফলে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের লাশ শনাক্তের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করার কথাও জানান তিনি।
নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া ১০টি লাশের পরিচয় শনাক্ত হলেও নিখোঁজের তালিকায় থাকা ১১ জনের মধ্যে একজনের অবস্থান এখনো অজানা। তিনি স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৭)। উদ্ধার হওয়া কোনো লাশের ডিএনএ-এর সঙ্গে তার নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।
রিমন ঘোষ বলেন, ১০ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছিল, তাদের ডিএনএ স্যাম্পলই মিল পাওয়া গেছে। আরেকজনেরটা পাওয়া যায়নি।
নাসরিন ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি দুই বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নাসরিনের বাবার নাম মোস্তফা কামাল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ