মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৮ এম
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম (২৩) সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন। তিনি ১২ দিন ধরে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁর মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় যুবদল নেতা ইসরাফিল শেখ ও গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল হান্নান।
শাকিল নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় খোয়ারপাড়া গ্রামের রবিউল মিস্ত্রির পুত্র। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে তিনি গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ির দিকে পায়ে হেঁটে ফিরছিলেন।
যখন তিনি পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে পৌঁছান, তখন হেলমেট পরা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এরপর তাঁকে ধাওয়া করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। শাকিল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকেন। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন, তবে তার আগেই দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় শাকিলকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাঁকে ঢাকায় পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে, এই ঘটনার পর ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন শাকিলের পিতা রবিউল মিস্ত্রি। গুরুদাসপুর থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান জানান, শাকিলের পিতার দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হবে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও আটক করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শাকিল হত্যার বিচার চেয়ে গুরুদাসপুর পৌর এলাকায় যুবদল ও ছাত্রদল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্যারিস সাঁ জার্মাঁ এবং রিয়াল মাদ্রিদের কাছে পরপর হারের ফলে বার্সেলোনার দুর্দশা আরও বেড়ে গেছে। এবার দলের উদীয়মান ডিফেন্ডার জাভি এসপার্ট চোটের কারণে প্রায় সাত সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন। রোববারের এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ম্যাচের প্রথমার্ধেই তাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। পরীক্ষার পর বার্সেলোনা জানিয়েছে, তার ডান গোড়ালির সংযোগস্থলে চোট ধরা পড়েছে এবং সুস্থ হতে আনুমানিক সাত সপ্তাহ সময় লাগবে।
বর্তমান মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে এসপার্ট সকলের নজর কাড়েন। তবে রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে অরেলিয়েন চুয়ামেনির সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি আর খেলতে পারেননি। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন আলেহান্দ্রো বালদে। এসপার্টের চোটের কারণে বার্সেলোনার রক্ষণভাগের সমস্যা আরও গভীর হয়েছে। আন্দ্রেয়াস ক্রিস্তেনসেন এবং এরিক গার্সিয়াও চোটের কারণে বাইরে রয়েছেন, এবং জুল কুন্দের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে দলটি।
চোটের এই ধাক্কা বার্সেলোনার জন্য একটি কঠিন সময়ে এসেছে। মৌসুমের শুরুতে টানা ১১ ম্যাচ জিতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দলটি গত সপ্তাহে প্যারিস সাঁ জার্মাঁর কাছে ৪-২ গোলে পরাজিত হয়েছে এবং রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছে। ফলে পরপর দুই ম্যাচে হারতে হয়েছে হান্সি ফ্লিকের দলের। রিয়ালের বিপক্ষে হারের পর ফ্লিক রক্ষণভাগের চোটকে দলের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এসপার্টের অনুপস্থিতিতে বার্সেলোনাকে এখন রক্ষণভাগের সমন্বয় নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা করতে হবে। সামনে আলাভেস, আতলেতিকো মাদ্রিদ এবং ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লিগ ম্যাচের পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও রয়েছে। সাত সপ্তাহের পুনর্বাসন সময় ধরে হিসাব করলে, মৌসুমের ব্যস্ত এই সময়ে তরুণ ডিফেন্ডারের অনুপস্থিতি বার্সেলোনার জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তবে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার কোন সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার হওয়া ১০টি লাশের মধ্যে কোনোটির ডিএনএ নমুনার সঙ্গে নাসরিনের নমুনার মিল না পাওয়ায়, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হলেও নাসরিনের পরিণতি নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে অবহিত করবে বলেও তিনি জানান।
শহরের শ্যামলী এলাকার শনাক্ত হওয়া চার সদস্যের পরিবারে রয়েছেন, গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।
অন্যদিকে, নিহত ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সি ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন। নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন এবং তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া লাশগুলো পুড়ে যাওয়ায় সেগুলোর পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। সিআইডি লাশ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সঙ্গে স্বজনদের নমুনা মিলিয়ে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এর ফলে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের লাশ শনাক্তের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করার কথাও জানান তিনি।
নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া ১০টি লাশের পরিচয় শনাক্ত হলেও নিখোঁজের তালিকায় থাকা ১১ জনের মধ্যে একজনের অবস্থান এখনো অজানা। তিনি স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৭)। উদ্ধার হওয়া কোনো লাশের ডিএনএ-এর সঙ্গে তার নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।
রিমন ঘোষ বলেন, ১০ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছিল, তাদের ডিএনএ স্যাম্পলই মিল পাওয়া গেছে। আরেকজনেরটা পাওয়া যায়নি।
নাসরিন ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি দুই বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নাসরিনের বাবার নাম মোস্তফা কামাল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাঠকের প্রশ্ন: আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। আমার নামে পরিচিত এক ব্যক্তি আমার ঠিকানায় উকিল নোটিশ দিয়েছেন। উকিল নোটিশটি পাওয়ার পর আমার পরিবারের সদস্যরা অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এখন আসলে উকিল নোটিশটি কী এবং আমি কী পদক্ষেপ নিতে পারি?
আইনজীবী: উকিল নোটিশের অর্থ এই নয় যে, এটি মামলা। যখন কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তখন সাধারণত আইনজীবীর মাধ্যমে বাদী যে নোটিশটি পাঠায়, সেটিকে লিগ্যাল নোটিশ বা উকিল নোটিশ বলা হয়। তবে এটি মামলা নয়, বরং মামলা-মোকদ্দমা করার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
একজন আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিপক্ষের কাছে অভিযোগ উত্থাপন করা হয় উকিল নোটিশের মাধ্যমে। পারিবারিক বিষয়, জমিজমা কিংবা আর্থিক বিষয়ে যেকোনো আইনি বিরোধের ক্ষেত্রে উকিল নোটিশ পাঠানো হতে পারে। নোটিশে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয় এবং অনুরোধ করা হয় যে, এ সময়সীমার মধ্যে বিরোধের সমাধান করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তবে বিবাদী বা আসামির বিরুদ্ধে কোন ধারায় বা কী ধরনের মামলা করা হবে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
নোটিশ পেলে করণীয়
যদি কেউ উকিল নোটিশ পেয়ে থাকেন, তাহলে অস্থির না হয়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করুন। নোটিশ প্রেরকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, অন্যথায় একজন আইনজীবীর কাছে গিয়ে উকিল নোটিশটি দেখান এবং আপনার সঙ্গে নোটিশ প্রেরকের আসলে কোনো ধরনের বিরোধ রয়েছে কিনা, সেটি স্পষ্ট করুন। এই ক্ষেত্রে আইনজীবী আপনাকে আইনি পরামর্শ দেবেন। এর মাধ্যমে আপনার বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা হওয়ার আগেই সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবেন।
মিথ্যা ঘটনায় নোটিশ হলে
অনেক সময় নোটিশ প্রেরকের মৌখিক কথার ভিত্তিতে আইনজীবী উকিল নোটিশ পাঠিয়ে দেন। এসব ক্ষেত্রে আইনজীবীর জন্য যাচাই-বাছাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। যদি নোটিশটি মিথ্যা বলে মনে হয়, তাহলে আপনি আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উকিল নোটিশের জবাব দিতে পারেন।
লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পল্টনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিছিলে হামলার অভিযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
তারা জানিয়েছেন, সোমবার রাত ১০টায় দলের এক নেতার জেলমুক্তির উপলক্ষে পুরানা পল্টনের সড়কে মিছিল চলাকালীন স্লোগান দিচ্ছিলেন দলের নেতাকর্মীরা। সেই সময় জয় সমাজতন্ত্র স্লোগানকে জয় বাংলা স্লোগান মনে করে কিছু মানুষ তাদের উপর হামলা চালায়।
এই হামলার ফলে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সিপিবির দুই সদস্য বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। তবে হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পারেননি।
হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের সরকার দলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানিয়েছেন, ‘আমাদের দলের কেউ সেখানে নেই। থাকলেও বহিস্কৃত।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ