প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাঠকের প্রশ্ন: আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। আমার নামে পরিচিত এক ব্যক্তি আমার ঠিকানায় উকিল নোটিশ দিয়েছেন। উকিল নোটিশটি পাওয়ার পর আমার পরিবারের সদস্যরা অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এখন আসলে উকিল নোটিশটি কী এবং আমি কী পদক্ষেপ নিতে পারি?
আইনজীবী: উকিল নোটিশের অর্থ এই নয় যে, এটি মামলা। যখন কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তখন সাধারণত আইনজীবীর মাধ্যমে বাদী যে নোটিশটি পাঠায়, সেটিকে লিগ্যাল নোটিশ বা উকিল নোটিশ বলা হয়। তবে এটি মামলা নয়, বরং মামলা-মোকদ্দমা করার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
একজন আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিপক্ষের কাছে অভিযোগ উত্থাপন করা হয় উকিল নোটিশের মাধ্যমে। পারিবারিক বিষয়, জমিজমা কিংবা আর্থিক বিষয়ে যেকোনো আইনি বিরোধের ক্ষেত্রে উকিল নোটিশ পাঠানো হতে পারে। নোটিশে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয় এবং অনুরোধ করা হয় যে, এ সময়সীমার মধ্যে বিরোধের সমাধান করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তবে বিবাদী বা আসামির বিরুদ্ধে কোন ধারায় বা কী ধরনের মামলা করা হবে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
নোটিশ পেলে করণীয়
যদি কেউ উকিল নোটিশ পেয়ে থাকেন, তাহলে অস্থির না হয়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করুন। নোটিশ প্রেরকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, অন্যথায় একজন আইনজীবীর কাছে গিয়ে উকিল নোটিশটি দেখান এবং আপনার সঙ্গে নোটিশ প্রেরকের আসলে কোনো ধরনের বিরোধ রয়েছে কিনা, সেটি স্পষ্ট করুন। এই ক্ষেত্রে আইনজীবী আপনাকে আইনি পরামর্শ দেবেন। এর মাধ্যমে আপনার বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা হওয়ার আগেই সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবেন।
মিথ্যা ঘটনায় নোটিশ হলে
অনেক সময় নোটিশ প্রেরকের মৌখিক কথার ভিত্তিতে আইনজীবী উকিল নোটিশ পাঠিয়ে দেন। এসব ক্ষেত্রে আইনজীবীর জন্য যাচাই-বাছাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। যদি নোটিশটি মিথ্যা বলে মনে হয়, তাহলে আপনি আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উকিল নোটিশের জবাব দিতে পারেন।
লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন