০২:২২ এম
খুলনা মহানগরীর শামসুর রহমান রোডে রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার সময় এক নারী কর্মীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানের এক নারী কর্মী জানান, সন্ধ্যায় প্রথমে পাঁচ থেকে সাতজন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় বাইরে আরো ১০ থেকে ১২ জন অবস্থান করছিলেন। পরে হামলাকারীর সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ জনে পৌঁছায়। তাঁরা দরজায় লাথি মেরে ভেতরে ঢুকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করেন।
আরও পড়ুন: নিয়ামতপুর থেকে গোমস্তাপুরে সার পাচারের সময় ১৬ বস্তা সার আটক, ১৫ হাজার টাকা জরিমানা
ওই নারী কর্মীর অভিযোগ, হামলার সময় তার স্বামীকে মারধর করা হলে তিনি বাধা দিতে যান। তখন তাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, যার ফলে তার ঠোঁটে আঘাত লাগে। হামলাকারীরা তাদের দেখে নেওয়ার পাশাপাশি সেখানে আর প্যাথলজি চালাতে দেবে না বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়।
তিনি বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের আয় থেকেই আমাদের সংসার চলে। হামলার পর থেকে আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।’
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলাকারীরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠানটি চালাতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সামনে ও ভেতরে ইটের টুকরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: রহনপুরে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার বিক্রি, ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ম্যানেজারের ৭ দিনের কারাদণ্ড
আব্দুল্লাহ প্যাথলজির মালিক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আমরা কিভাবে আপনাদের সেবা দেব?’
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা নয়, একটি রোগীকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হয়েছিল। স্থানীয় কিছু লোকের সঙ্গে কিছুটা ভুল-বোঝাবুঝি হয়। স্থানীয় এক রোগীর পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে ৭২ ঘণ্টা দেরি হবে জানানো হলে তাঁরা লোকজন নিয়ে গিয়ে উত্তেজনা তৈরি করেন। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।
এর আগে নগরীর বাবুখান রোডের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় এ হামলা হয়। পাশাপাশি সন্ধানীর অপর শাখা নগরীর সোনাডাঙ্গার মজিদ সরণির সন্ধানী মেডিকেয়ার হাসপাতালেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেখানেও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির কথা শোনা যায়। তবে এ বিষয়ে মালিকপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোড মোড়ের ঐতিহ্যবাহী চয়নিকা ফার্মেসিও চাঁদাবাজির কারণে গত ২৯ অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ৭ই নভেম্বরের র্যালিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতির ঘোষণা বিএনপির সভায়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন