ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মুদ্রাস্ফীতির চোরাবালিতে ডুবছে রিপাবলিকানরা?


মুদ্রাস্ফীতির চোরাবালিতে ডুবছে রিপাবলিকানরা?

বিষয়টি কিছুটা জটিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সূচকগুলো সামগ্রিকভাবে বেশ সন্তোষজনক হলেও জনগণের মনোভাব খারাপ। কারণ জনগণের পকেটে সরাসরি চাপ পড়ছিল। ট্রাম্প মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন। নিত্যপণ্যের উচ্চ মূল্যের জন্য জনগণ সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করছিলেন। কারণ তাঁর শুরু করা ইরান যুদ্ধের ফলেই জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এই মুদ্রাস্ফীতির চোরাবালিতেই ডুবল রিপাবলিকানদের তরি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা ২০২৪ সালের নভেম্বরে নির্বাচিত হয়েছিলেন অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য। বর্তমানে ২০২৬ সালের নভেম্বর, এবং দুই বছর আগের তুলনায় আমেরিকানরা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও বেশি সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

২০২১ সালের পর থেকে সবকিছুর দাম যেভাবে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, তা নিয়ে আমেরিকানরা এখনও নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেনি। জো বাইডেনের প্রেসিডেন্সির শেষ বছরে মুদ্রাস্ফীতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে ডেমোক্র্যাটদের আরেকটি সুযোগ দেওয়ার জন্য ভোটারদের রাজি করাতে তা যথেষ্ট ছিল না। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় নিয়ে সেই ক্ষোভ ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরও অব্যাহতভাবে জমাট বেঁধে রয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘থিওডোর রুজভেল্ট’

তবে এই বছরের শুরুতে ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের কাছে তুলে ধরার মতো একটি চমৎকার অর্থনৈতিক সাফল্যের গল্প ছিল। ২০২৪ সালের পর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৪ মাস পর উৎপাদন খাতের কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

রিপাবলিকানদের পাস করা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর অধীনে বড় অঙ্কের ট্যাক্স রিফান্ডের টাকা মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হতে শুরু করেছিল। দীর্ঘ তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম বাড়ি কেনার ঋণের সুদের হার ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত শেয়ারগুলোর ওপর ভর করে শেয়ার বাজার ক্রমাগত নতুন নতুন রেকর্ড ছুঁয়ে যাচ্ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভোক্তা মুদ্রাস্ফীতি চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছিল এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও তা সেই সর্বনিম্ন পয়েন্টের কাছাকাছিই ছিল। কিন্তু এরপরই আমেরিকা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, এবং সবকিছু রাতারাতি বদলে যায়। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ডিজেলের দাম ছুঁয়ে ফেলে নতুন রেকর্ড। আর কোনো নির্বাচনের দিন এর আগে কখনো পেট্রলের দাম এতটা আকাশচুম্বী ছিল না।

ন্যাভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং মন্তব্য করেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যদি না হতো, তবে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত।’

আমেরিকানরা মুদ্রাস্ফীতিকে সাধারণত অপছন্দ করে। তবে জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্যের ওপর তারা বিশেষভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কারণ পেট্রলের দাম শহরের বড় বড় বিলবোর্ডে সব সময় দৃশ্যমান থাকে এবং প্রতি সপ্তাহে গাড়ির ট্যাঙ্কি পূর্ণ করার সময় এটি মনে করিয়ে দেয় যে তাদের পকেট থেকে কত বেশি টাকা খসে যাচ্ছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কেবল চড়া পেট্রল ও ডিজেলের দামের কারণে গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবারের অতিরিক্ত ১ হাজার ১৫০ ডলার খরচ বেড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি পায় এবং সেই সঙ্গে মর্টগেজ রেটও লাফিয়ে বাড়ে; যা গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার রেকর্ড।

আরও পড়ুন: ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ, চাক শুমারের চাপে বৃদ্ধি

টানা তিন বছর ধরে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার গতির চেয়ে সাধারণ মানুষের বেতন বাড়ার গতি বেশি ছিল। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সেই ধারা উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করে। এরপর থেকেই পুনরুত্থিত মুদ্রাস্ফীতি শ্রমিকদের প্রকৃত আয় গ্রাস করে চলেছে; যার ফলে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে একজন সাধারণ আমেরিকানের প্রকৃত আয় সংকুচিত হয়েছে।

এটা আশ্চর্যের কিছু নয় যে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অর্থনীতি নিয়ে আমেরিকানদের মধুর স্মৃতি ছিল। ট্রাম্প ১.০-এর প্রতিটি মুহূর্তে আমেরিকানদের কষ্টার্জিত অর্থের কার্যক্ষমতা দাম বাড়ার চেয়ে বেশি ছিল। তাঁর ক্ষমতায় থাকার প্রথম চার বছরে মানুষের বেতন বৃদ্ধির গতি মুদ্রাস্ফীতির গতির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এই কারণেই ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিএনএন-এর জরিপে ভোটাররা অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের চেয়ে ট্রাম্পকে ১৫ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রেখেছিলেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই- রেস থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে নেওয়া শেষ সিএনএন জরিপে অর্থনীতির ওপর বাইডেনের নেট সমর্থন ছিল মাইনাস ৩১ পয়েন্ট। ট্রাম্পের রেটিং এখন বাইডেনের চেয়েও খারাপ, এবং তা একটি বড় ব্যবধানে: অক্টোবর মাসের সিএনএন জরিপ অনুযায়ী, অর্থনীতিতে তাঁর নেট সমর্থন মাইনাস ৪৬ পয়েন্ট।

ট্রাম্প ২.০-এর গল্পটি ট্রাম্প ১.০ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অনেক আমেরিকানের কাছে মনে হচ্ছে খরচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং ‘আমেরিকান ড্রিম’ অধরা হয়ে পড়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এবং কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শোচনীয় অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য ডেমোক্র্যাটদের ওপর দোষ চাপিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের কিছু নীতি—বিশেষ করে তাঁর অজনপ্রিয় যুদ্ধ—নিশ্চিতভাবেই আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: মুসলিমবান্ধব পর্যটনের গন্তব্য হতে চায় মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্য

বিষয়টি কেবল পেট্রোলের দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যা মানুষের মাসিক খরচে প্রায় ৭৫ ডলার যোগ করেছে। এটি অন্যান্য খরচগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যা ভোটাররা ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের সঙ্গে যুক্ত করেন; যার মধ্যে কিছু খরচ তাদের বিলে প্রতি মাসে শত শত ডলার অতিরিক্ত যুক্ত করছে। ২০২৫ সালে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের বর্ধিত ভর্তুকি বাড়াতে রিপাবলিকানদের ব্যর্থতার কারণে এই বছর ওবামাকেয়ার-এর মাসিক প্রিমিয়াম গড়ে ৫৮ ভাগ বেড়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিদ্যুতের খরচ ৮.৭ ভাগ বেড়েছে। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং শুল্কের কারণে গাড়ি মেরামতের খরচ ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ১২.৩ ভাগ লাফিয়ে উঠেছে। বাড়ি নির্মাণের খরচ বেড়েছে ১৩.৩ ভাগ। ট্যাক্স ফাউন্ডেশন-এর মতে, ট্রাম্পের শুল্কের কারণে এই বছর গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবারের ট্যাক্স বাবদ ৮২০ ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ স্টিভেন ডুরলাফ বলেন, ‘তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয় বাইডেন সবকিছু পুরোপুরি বরবাদ করে দিয়েছিলেন; তবু তা কোনোভাবেই ট্রাম্পকে নির্দোষ প্রমাণ করে না। ট্রাম্প মুদ্রাস্ফীতি খুব বাজেভাবে সামলেছেন। ভোটারদের অবশ্যই প্রশাসনের নীতিগুলোর ওপরই এর দায় চাপাতে হবে।’

সমস্ত প্রমাণ ইঙ্গিত করে যে ভোটাররা ঠিক সেটাই করেছেন। আর এটাই একটি বড় কারণ যার জন্য মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে চরম পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। সূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন: ইউরোপে বোমা হামলার ভুয়া হুমকিতে বাড়ছে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ আতঙ্ক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমপি আদিব চৌধুরী: নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ পি.এম


এমপি আদিব চৌধুরী: নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে

জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী এমপি মন্তব্য করেছেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পর শেখ মুজিব সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন না করার ফলে আমাদের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর 'স্বাধীনতা-পরবর্তী এক দশকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির তুলনামূলক পর্যালোচনা' শীর্ষক পর্বে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর নতুন দেশ হিসেবে যারা আমাদের স্বীকৃতি দিচ্ছিল, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সুযোগ ছিল। কিন্তু আমরা সেই সুযোগ নষ্ট করেছি। সঠিক পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন না করার কারণে বিদেশি সাহায্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নতুন রাষ্ট্র হিসেবে সেই প্রভাব থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারিনি, যার ফলে দুর্ভিক্ষসহ বিভিন্ন সমস্যা আমাদের ঘিরে ধরেছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী দশকের দ্বিতীয় ভাগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করেছেন যেখানে আমাদের স্বার্থ রয়েছে। বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ শ্রমশক্তিকে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তিনি সৃষ্টি করেছিলেন। অন্যদিকে, শেখ মুজিব সরকার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

জহরত আদিব চৌধুরী ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যাতে পররাষ্ট্রনীতি নেতানির্ভর না হয়ে গবেষণানির্ভর হয় এবং ভবিষ্যতের তরুণরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. মো. আব্দুল মান্নান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন, তাই ভাঙা রাস্তায় পড়ছে নতুন পিচ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন, তাই ভাঙা রাস্তায় পড়ছে নতুন পিচ!

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা সফরের প্রেক্ষাপটে মোংলা-বাগেরহাট ও খুলনা অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে অভূতপূর্ব পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত, মারাত্মক খানাখন্দে ভরা ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোকে দ্রুত সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত এবং সার্বিক নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন রাখতে খুলনা-মোংলা ও বাগেরহাট মহাসড়ক এবং সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৭০ কিলোমিটার সড়ক জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। বড় বড় গর্ত ভরাট, পিচ ঢালাই এবং মসৃণকরণের কাজে কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। সড়কের দুপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ড্রেন পরিষ্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে।

মোংলা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দরের নতুন দুটি কনটেইনার জেটি ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। বাংলাদেশ সরকার ও চীনের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত হতে যাওয়া এই প্রকল্প চালু হলে মোংলা বন্দরের পণ্য খালাস ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে।

স্থানীয়রা জানান, রাতারাতি ৭০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার দেখে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গাড়ি চালক ও স্থানীয় যাত্রী-চলাচলকারীরা। তবে অনেকেই বলছেন, শুধুমাত্র ভিভিআইপি সফরের সময় জরুরি সংস্কার না করে, সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা ভেবে সবসময় যেন এই সড়কগুলোর টেকসই মান বজায় রাখা হয়। তা হলেই দেশের ও এলাকার সঠিক উন্নয়ন সাধিত হবে।

মোংলা বন্দরের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (র.) মাজার জিয়ারত করবেন এবং পরবর্তীতে খুলনার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনা দূতাবাসের অনুষ্ঠানে জামায়াতের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ পি.এম


চীনা দূতাবাসের অনুষ্ঠানে জামায়াতের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ

রাজধানী ঢাকায় চীনা দূতাবাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে। বুধবার দুপুরে ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল হলে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মোবারক হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন; ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি, মীর আহমাদ বিন কাসেম এমপি, নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, নুরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি, সাবিকুন্নাহার এমপি এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমদ মাবরুর।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং, ঢাকায় চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন এবং দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তা, পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে দলের সঙ্গে দলের মতবিনিময়ের ভূমিকা’ শীর্ষক বক্তব্য প্রদান করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। গত বছর দুই দেশ এই সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। জামায়াতে ইসলামী ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০০৬ সালে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী এবং জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী চীন সফর করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দলের নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমপির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চীন সফর করবে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চীনের আমন্ত্রণে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধিদল চীন সফর করবে।

তিনি বলেন, এসব সফর থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, সরকার পরিবর্তন হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক ও যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। তাই দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা গভীর আগ্রহের সঙ্গে অনুসরণ করছে। বিশেষ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের কার্যক্রম আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছি। সেখানে শৃঙ্খলা, সততা ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে শিক্ষণীয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিজ নিজ আদর্শিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখে আমরা একে অপরের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে চাই।

ভবিষ্যৎ সহযোগিতা জোরদারে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হবে। এ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, দুই দেশের তরুণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ, সফর, যৌথ অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়াতে হবে। কারণ আজকের তরুণ নেতৃত্বই আগামী দিনে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেবে। তৃতীয়ত, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়কে সভাকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ সাধারণ মানুষের কাছে এ বন্ধুত্বের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা ও সংকটের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় বিশ লাখ রোহিঙ্গার কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলই নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসন আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব এক দিনে গড়ে ওঠে না। নিয়মিত যোগাযোগ, আন্তরিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক আস্থার মধ্য দিয়েই তা বিকশিত হয়। এ সম্পর্ক জোরদারে জামায়াত নিজস্ব অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে এ আয়োজনের জন্য চীনা দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান। তিনি অনুষ্ঠানের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ পড়বেন কাতারের আমির শেখ তামিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ পি.এম


বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ পড়বেন কাতারের আমির শেখ তামিম

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি দেশের জনগণের প্রতি বিশেষ নামাজ ‘সালাতুল ইস্তিসকা’ আদায়ের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) এক ঘোষণার মাধ্যমে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বিশেষ নামাজ আদায়ের জন্য সকলকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

আমিরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হিজরি ১৪৪৮ সালের ২৫ জমাদিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার সকালে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে সমবেত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করবেন।

অন্যদিকে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি নিজেও লুসাইলের নামাজের মাঠে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সঙ্গে সালাতুল ইস্তিসকার নামাজে অংশগ্রহণ করবেন।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, অনাবৃষ্টি বা খরার সময় মহান আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করার জন্য যে বিশেষ নামাজ আদায় করা হয়, তাকে সালাতুল ইস্তিসকা বলা হয়। ইসলামে বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া ও প্রার্থনার অংশ হিসেবে এই নামাজ আদায় করা হয়।

সূত্র: গালফ টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%