ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

রহনপুরে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার বিক্রি, ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ম্যানেজারের ৭ দিনের কারাদণ্ড


রহনপুরে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার বিক্রি, ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ম্যানেজারের ৭ দিনের কারাদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে নিয়মবহির্ভূতভাবে ও রশিদ ছাড়া ডিএপি সার বিক্রির অভিযোগে এক সার ডিলার প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে রহনপুর পৌরসভাস্থ মেসার্স কবীর ট্রেডার্সের (স্বত্বাধিকারী মোছা. সুফিয়া বেগম) দোকান থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৫ বস্তা ডিএপি সার বিক্রি করা হয়। পরে সারগুলো রহনপুর ইউনিয়নের ধুলাউড়ি এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় সাধারণ জনগণ আটক করেন।

এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, কৃষি অফিস ও থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান।

আরও পড়ুন: চুরির বিরোধে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা

পরে গোমস্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চৌধুরী আল মাহমুদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নিয়মবহির্ভূত ও রশিদবিহীন সার বিক্রির দায়ে মেসার্স কবীর ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মনিরুজ্জামান জীবনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

আটক করা ৫ বস্তা ডিএপি সার পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

কৃষি উপকরণ বিক্রিতে সরকারি নিয়মনীতি ও নির্ধারিত বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজৈরে পরকীয়ায় বাধা, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়ামতপুর থেকে গোমস্তাপুরে সার পাচারের সময় ১৬ বস্তা সার আটক, ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ পি.এম


নিয়ামতপুর থেকে গোমস্তাপুরে সার পাচারের সময় ১৬ বস্তা সার আটক, ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে অবৈধভাবে সার পাচারের সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ১৬ বস্তা রাসায়নিক সার আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত সার পাচারকারীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে গত ০৪  নভেম্বর ২০২৬ (রবিবার) আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী জেলা নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা থেকে একটি ভ্যানে করে রাসায়নিক সার অবৈধভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার শিমুলতলী এলাকায় নিয়ে আসা হচ্ছিল। সারগুলো পাচার করা হচ্ছে—এমন সন্দেহে স্থানীয় লোকজন ভ্যানটি গতিরোধ করে তল্লাশি চালিয়ে ১৬ বস্তা সার জব্দ করেন।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা বিষয়টি গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা কৃষি অফিসারকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করেন।

সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর সার পাচারকারী মো. রশিদকে (পিতা: ফারাজ, সাং: নিমতলা কাঁঠাল, গোমস্তাপুর ইউনিয়ন, থানা: গোমস্তাপুর, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ) নগদ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে জব্দকৃত সারগুলো তাকে শর্ত সাপেক্ষে ফেরত দেওয়া হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় এবং সারের অবৈধ পাচার ও কালোবাজারি রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ : রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ পি.এম


বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ : রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গঠনমূলক এবং শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কেবলমাত্র দুই দেশের সমৃদ্ধির জন্য নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি বুধবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এই কথা বলেন।

রিজভী আরও বলেন, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে চীনের এই সফর আমাদের দুই দেশের এবং দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং স্থায়ী অংশীদারিত্বের প্রতিফলন। বিএনপি সরকার একটি স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক কল্যাণকর সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে।

চলতি বছরের ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি সফরের কথা স্মরণ করে রিজভী জানান, ওই সফরের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সফরের সুফল আগামীতে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

‘এক চীন নীতি’র প্রতি বিএনপির দৃঢ় সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিশ্বে একটাই চীন এবং তাইওয়ান চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ–এই নীতিতে বাংলাদেশ অবিচল রয়েছে।

বাংলাদেশে উৎপাদন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, টেক্সটাইল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানির ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্ভাব্য বিনিয়োগের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়, যা দেশে প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়া, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশে একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে চীন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান রিজভী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুদ্রাস্ফীতির চোরাবালিতে ডুবছে রিপাবলিকানরা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ পি.এম


মুদ্রাস্ফীতির চোরাবালিতে ডুবছে রিপাবলিকানরা?

বিষয়টি কিছুটা জটিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সূচকগুলো সামগ্রিকভাবে বেশ সন্তোষজনক হলেও জনগণের মনোভাব খারাপ। কারণ জনগণের পকেটে সরাসরি চাপ পড়ছিল। ট্রাম্প মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন। নিত্যপণ্যের উচ্চ মূল্যের জন্য জনগণ সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করছিলেন। কারণ তাঁর শুরু করা ইরান যুদ্ধের ফলেই জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এই মুদ্রাস্ফীতির চোরাবালিতেই ডুবল রিপাবলিকানদের তরি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা ২০২৪ সালের নভেম্বরে নির্বাচিত হয়েছিলেন অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য। বর্তমানে ২০২৬ সালের নভেম্বর, এবং দুই বছর আগের তুলনায় আমেরিকানরা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও বেশি সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

২০২১ সালের পর থেকে সবকিছুর দাম যেভাবে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, তা নিয়ে আমেরিকানরা এখনও নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেনি। জো বাইডেনের প্রেসিডেন্সির শেষ বছরে মুদ্রাস্ফীতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে ডেমোক্র্যাটদের আরেকটি সুযোগ দেওয়ার জন্য ভোটারদের রাজি করাতে তা যথেষ্ট ছিল না। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় নিয়ে সেই ক্ষোভ ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরও অব্যাহতভাবে জমাট বেঁধে রয়েছে।

তবে এই বছরের শুরুতে ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের কাছে তুলে ধরার মতো একটি চমৎকার অর্থনৈতিক সাফল্যের গল্প ছিল। ২০২৪ সালের পর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৪ মাস পর উৎপাদন খাতের কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

রিপাবলিকানদের পাস করা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর অধীনে বড় অঙ্কের ট্যাক্স রিফান্ডের টাকা মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হতে শুরু করেছিল। দীর্ঘ তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম বাড়ি কেনার ঋণের সুদের হার ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত শেয়ারগুলোর ওপর ভর করে শেয়ার বাজার ক্রমাগত নতুন নতুন রেকর্ড ছুঁয়ে যাচ্ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভোক্তা মুদ্রাস্ফীতি চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছিল এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও তা সেই সর্বনিম্ন পয়েন্টের কাছাকাছিই ছিল। কিন্তু এরপরই আমেরিকা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, এবং সবকিছু রাতারাতি বদলে যায়। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ডিজেলের দাম ছুঁয়ে ফেলে নতুন রেকর্ড। আর কোনো নির্বাচনের দিন এর আগে কখনো পেট্রলের দাম এতটা আকাশচুম্বী ছিল না।

ন্যাভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং মন্তব্য করেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যদি না হতো, তবে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত।’

আমেরিকানরা মুদ্রাস্ফীতিকে সাধারণত অপছন্দ করে। তবে জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্যের ওপর তারা বিশেষভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কারণ পেট্রলের দাম শহরের বড় বড় বিলবোর্ডে সব সময় দৃশ্যমান থাকে এবং প্রতি সপ্তাহে গাড়ির ট্যাঙ্কি পূর্ণ করার সময় এটি মনে করিয়ে দেয় যে তাদের পকেট থেকে কত বেশি টাকা খসে যাচ্ছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কেবল চড়া পেট্রল ও ডিজেলের দামের কারণে গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবারের অতিরিক্ত ১ হাজার ১৫০ ডলার খরচ বেড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি পায় এবং সেই সঙ্গে মর্টগেজ রেটও লাফিয়ে বাড়ে; যা গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার রেকর্ড।

টানা তিন বছর ধরে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার গতির চেয়ে সাধারণ মানুষের বেতন বাড়ার গতি বেশি ছিল। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সেই ধারা উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করে। এরপর থেকেই পুনরুত্থিত মুদ্রাস্ফীতি শ্রমিকদের প্রকৃত আয় গ্রাস করে চলেছে; যার ফলে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে একজন সাধারণ আমেরিকানের প্রকৃত আয় সংকুচিত হয়েছে।

এটা আশ্চর্যের কিছু নয় যে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অর্থনীতি নিয়ে আমেরিকানদের মধুর স্মৃতি ছিল। ট্রাম্প ১.০-এর প্রতিটি মুহূর্তে আমেরিকানদের কষ্টার্জিত অর্থের কার্যক্ষমতা দাম বাড়ার চেয়ে বেশি ছিল। তাঁর ক্ষমতায় থাকার প্রথম চার বছরে মানুষের বেতন বৃদ্ধির গতি মুদ্রাস্ফীতির গতির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এই কারণেই ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিএনএন-এর জরিপে ভোটাররা অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের চেয়ে ট্রাম্পকে ১৫ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রেখেছিলেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই- রেস থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে নেওয়া শেষ সিএনএন জরিপে অর্থনীতির ওপর বাইডেনের নেট সমর্থন ছিল মাইনাস ৩১ পয়েন্ট। ট্রাম্পের রেটিং এখন বাইডেনের চেয়েও খারাপ, এবং তা একটি বড় ব্যবধানে: অক্টোবর মাসের সিএনএন জরিপ অনুযায়ী, অর্থনীতিতে তাঁর নেট সমর্থন মাইনাস ৪৬ পয়েন্ট।

ট্রাম্প ২.০-এর গল্পটি ট্রাম্প ১.০ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অনেক আমেরিকানের কাছে মনে হচ্ছে খরচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং ‘আমেরিকান ড্রিম’ অধরা হয়ে পড়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এবং কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শোচনীয় অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য ডেমোক্র্যাটদের ওপর দোষ চাপিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের কিছু নীতি—বিশেষ করে তাঁর অজনপ্রিয় যুদ্ধ—নিশ্চিতভাবেই আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিষয়টি কেবল পেট্রোলের দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যা মানুষের মাসিক খরচে প্রায় ৭৫ ডলার যোগ করেছে। এটি অন্যান্য খরচগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যা ভোটাররা ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের সঙ্গে যুক্ত করেন; যার মধ্যে কিছু খরচ তাদের বিলে প্রতি মাসে শত শত ডলার অতিরিক্ত যুক্ত করছে। ২০২৫ সালে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের বর্ধিত ভর্তুকি বাড়াতে রিপাবলিকানদের ব্যর্থতার কারণে এই বছর ওবামাকেয়ার-এর মাসিক প্রিমিয়াম গড়ে ৫৮ ভাগ বেড়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিদ্যুতের খরচ ৮.৭ ভাগ বেড়েছে। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং শুল্কের কারণে গাড়ি মেরামতের খরচ ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ১২.৩ ভাগ লাফিয়ে উঠেছে। বাড়ি নির্মাণের খরচ বেড়েছে ১৩.৩ ভাগ। ট্যাক্স ফাউন্ডেশন-এর মতে, ট্রাম্পের শুল্কের কারণে এই বছর গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবারের ট্যাক্স বাবদ ৮২০ ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ স্টিভেন ডুরলাফ বলেন, ‘তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয় বাইডেন সবকিছু পুরোপুরি বরবাদ করে দিয়েছিলেন; তবু তা কোনোভাবেই ট্রাম্পকে নির্দোষ প্রমাণ করে না। ট্রাম্প মুদ্রাস্ফীতি খুব বাজেভাবে সামলেছেন। ভোটারদের অবশ্যই প্রশাসনের নীতিগুলোর ওপরই এর দায় চাপাতে হবে।’

সমস্ত প্রমাণ ইঙ্গিত করে যে ভোটাররা ঠিক সেটাই করেছেন। আর এটাই একটি বড় কারণ যার জন্য মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে চরম পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমপি আদিব চৌধুরী: নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ পি.এম


এমপি আদিব চৌধুরী: নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে

জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী এমপি মন্তব্য করেছেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পর শেখ মুজিব সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন না করার ফলে আমাদের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর 'স্বাধীনতা-পরবর্তী এক দশকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির তুলনামূলক পর্যালোচনা' শীর্ষক পর্বে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর নতুন দেশ হিসেবে যারা আমাদের স্বীকৃতি দিচ্ছিল, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সুযোগ ছিল। কিন্তু আমরা সেই সুযোগ নষ্ট করেছি। সঠিক পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন না করার কারণে বিদেশি সাহায্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নতুন রাষ্ট্র হিসেবে সেই প্রভাব থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারিনি, যার ফলে দুর্ভিক্ষসহ বিভিন্ন সমস্যা আমাদের ঘিরে ধরেছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী দশকের দ্বিতীয় ভাগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করেছেন যেখানে আমাদের স্বার্থ রয়েছে। বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ শ্রমশক্তিকে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তিনি সৃষ্টি করেছিলেন। অন্যদিকে, শেখ মুজিব সরকার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

জহরত আদিব চৌধুরী ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যাতে পররাষ্ট্রনীতি নেতানির্ভর না হয়ে গবেষণানির্ভর হয় এবং ভবিষ্যতের তরুণরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. মো. আব্দুল মান্নান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%