মোঃ তুহিন(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
০৮:৫২ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাচারের সময় ১৬ বস্তা রাসায়নিক সার আটক করেছে স্থানীয় লোকজন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সার পাচারের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসন।
আজ ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে উপজেলার শিমুলতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থেকে ভ্যানযোগে রাসায়নিক সার গোমস্তাপুরের শিমুলতলী এলাকায় নিয়ে আসার সময় স্থানীয় লোকজন ১৬ বস্তা সার আটক করেন।
পরে বিষয়টি গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় সার পরিবহনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সার পাচারের অভিযোগে মো. রশিদ (পিতা: ফারাজ, সাং: নিমতলা কাঁঠাল, গোমস্তাপুর ইউনিয়ন, থানা: গোমস্তাপুর, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ) নামের এক ব্যক্তিকে নগদ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে আটক করা ১৬ বস্তা সার পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সার যাতে নির্ধারিত এলাকার বাইরে অবৈধভাবে সরবরাহ বা পাচার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমি দখল করে ১৮ তলা এলিট টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে, ভবনটির অনুমোদিত নকশা বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নগরের মিন্টু কলেজ এলাকায় সরেজমিনে জমি পরিমাপ করেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন।
এ সময় তিনি দেখতে পান, সড়কসংলগ্ন রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জায়গা এলিট টাওয়ারের সীমানার মধ্যে রয়েছে। এরপরেই তিনি ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া নির্মাণকাজ চালু হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন এই কর্মকর্তা। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এর আগে বুধবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারে অভিযান চালানো হয়। রেলওয়ের জমি দখল করে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে —এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, "রেলওয়ের জমিতে কোনো ধরনের বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।" সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রেলওয়ের জায়গার মধ্যে ১৮ তলা এলিট টাওয়ার নির্মাণের কাজ চলছে। তাই কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে কাজ চালু করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ভবনটির ডেভেলপার ও নগরের মুসলিম ভাই উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দাবি, নিয়ম মেনেই ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এতে ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা।
জানা গেছে, ২০২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডেভেলপার জালাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চোমরপাথালিয়া গ্রামে দুই কৃষকের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হলেন- চোমরপাথালিয়া বাজার এলাকার আবুল কালাম ফেলুর ছেলে ফরিদ এবং নজরুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান সত্তার। তারা তিন বিঘা জমিতে কলার চারা রোপণ করেছিলেন, যা ঘটনার পর প্রায় সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুসারে, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বাগানে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাছগুলো কেটে ফেলে। সকালে জমিতে গিয়ে কৃষকরা দেখতে পান, গাছগুলো কাটা অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে।
কৃষকরা জানান, তারা কিস্তিতে টাকা তুলে চাষাবাদ করেছিলেন। মাসের পর মাস পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করে বাগানটি গড়ে তুলেছিলেন। একরাতের মধ্যে তাদের শ্রম ও পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। ঋণ নিয়ে চাষ করায় এই ক্ষতি তাদের জন্য সামলে ওঠা কঠিন হবে বলে তারা জানান। কৃষকদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতা ও প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে এ ক্ষতি করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ঘটনায় এলাকার অন্যান্য কৃষকেরাও নিজেদের ফসল নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ দুই দশক ধরে টেনিস কোর্টে রাজত্ব করে আসছেন রাফায়েল নাদাল। এবার নতুন ভূমিকায় দেখা যেতে পারে স্পেনের এই কিংবদন্তিকে। ২২টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী সাবেক টেনিস তারকা রিয়াল মাদ্রিদের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। ক্লাবটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ নাদালকে পর্ষদের সদস্য করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে নিয়োগ চূড়ান্ত করতে আগামী ২১ নভেম্বর ক্লাবের সদস্যদের সাধারণ সভায় অনুমোদন প্রয়োজন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রিয়াল মাদ্রিদ এক বিবৃতিতে জানায়, সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের প্রস্তাবের ভিত্তিতে নাদালকে পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্লাবটির মতে, খেলাধুলায় নাদালের অসাধারণ সাফল্য, ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ রিয়াল মাদ্রিদের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নাদালও প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে রিয়াল মাদ্রিদের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার জন্য সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ও বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। শেখার আগ্রহ নিয়ে ক্লাবের জন্য নিজের সামর্থ্যের সবটুকু অবদান রাখতে চাই।’
রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে নাদালের সম্পর্ক নতুন নয়। তিনি ছোটবেলা থেকেই ক্লাবটির একনিষ্ঠ সমর্থক। ২০১১ সালে তাঁকে রিয়াল মাদ্রিদের সম্মানসূচক সদস্য করা হয়। বিভিন্ন সময়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারিতে বসে প্রিয় দলের খেলাও উপভোগ করেছেন এই কিংবদন্তি।
সমর্থক হিসেবে নয়, ভবিষ্যতে ক্লাবটির নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্নও দেখেছেন নাদাল। ২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে চলতি বছরের সভাপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার গুঞ্জন থেকে নিজেকে দূরে রাখেন সাবেক এই টেনিস তারকা।
টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড় নাদাল ক্যারিয়ারে জিতেছেন ২২টি গ্র্যান্ড স্লাম এককের শিরোপা। এর মধ্যে ফ্রেঞ্চ ওপেনেই রেকর্ড ১৪ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। এছাড়া দুটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক ও স্পেনের হয়ে পাঁচটি ডেভিস কাপ জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। দীর্ঘ সময় বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষেও ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে পেশাদার টেনিসকে বিদায় জানান নাদাল।
আগামী ২১ নভেম্বর সদস্যদের অনুমোদন মিললে রিয়াল মাদ্রিদের প্রশাসনিক কাঠামোয় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবেন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম পরিচিত এই মুখ। তবে ক্লাব পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে তাঁর দায়িত্বের পরিধি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) পঞ্চম রাউন্ডে খুলনা বিভাগের ওপেনার এনামুল হক বিজয়কে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হয়েছে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে। এই শাস্তির কারণ হলো, তিনি প্রতিপক্ষ দলের ক্রিকেটার মাহফিজুল ইসলাম রবিনের দিকে ব্যাট উঁচিয়ে তেড়ে গিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শেষ দিনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা খুলনার ব্যাটার আজিজুল হাকিমকে স্লেজিং করছিলেন ময়মনসিংহের ফিল্ডার রবিন। বিজয়, যিনি অন্য প্রান্তে ছিলেন, বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। একপর্যায়ে, তিনি মেজাজ হারিয়ে ব্যাট হাতে রবিনের দিকে তেড়ে যান।
ময়মনসিংহের অন্যান্য ফিল্ডাররা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও, কিছুক্ষণ পর বিজয় আবারও রবিনের দিকে ছুটে যান। এ সময় তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
ম্যাচ অফিসিয়ালরা ঘটনাটিকে আচরণবিধির ২.১.৩ ধারার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেন। শুনানি শেষে বিজয়ের নামের পাশে যোগ হয় চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট। এর ফলে, এনসিএলের পরবর্তী রাউন্ডে খেলতে পারবেন না খুলনার এই ওপেনার।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় জড়িত ময়মনসিংহের ক্রিকেটার মাহফিজুল ইসলাম রবিনকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাকে ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে, যা ১৫ হাজার টাকার সমান।
এছাড়া, ম্যাচটিতে ভিন্ন ঘটনায় খুলনার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনসহ আরও দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনেন ম্যাচ রেফারি সৈয়দ আদিল আহমেদ।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত এই ঘটনার ম্যাচে খুলনা বিভাগ ময়মনসিংহ বিভাগকে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ