০৭:৫৫ পি.এম
মিসর গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম ২০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করেছে। এবারের বছরেই দেশটির শোধনাগারগুলোর ব্যবহার সক্ষমতা ৮০ শতাংশের ওপরে উন্নীত করার একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। মিসর এসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশের জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।
মিসরের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত মেলেইহা গ্যাস স্থাপনার উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আগামী মাসে। এই স্থাপনাটি দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা রাখবে, যা চালু হওয়া সাপেক্ষে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকারের প্রচেষ্টাকেও সহায়তা করবে।
সম্প্রতি করিম বাদাওয়ির সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ অফিসারদের পাশাপাশি মিসরীয় জেনারেল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (ইজিপিসি), মিসরীয় ন্যাচারাল গ্যাস হোল্ডিং কোম্পানি (ইজিএএস) এবং সাউথ ভ্যালি ইজিপশিয়ান পেট্রোলিয়াম হোল্ডিং কোম্পানির (এসভিপি) শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৪ পয়েন্টে নাশকতার পরিকল্পনা আ.লীগের
উৎপাদন ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের সম্প্রসারণে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে সাউথ ভ্যালি পেট্রোলিয়াম। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিসরের জ্বালানি খাতের অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশীয়ভাবে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো। এটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে।
পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী করিম বাদাওয়ি জানান, শোধনাগারগুলোতে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়ানো ও পরিচালন দক্ষতা উন্নত হওয়ার ফলে ইতিমধ্যে মিসরের জ্বালানি আমদানির বিল কমেছে এবং ডিজেল আমদানিও হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, উচ্চমূল্য সংযোজিত বিশেষায়িত পেট্রোলিয়াম পণ্যের রফতানি বেড়েছে, যা দেশের রফতানি আয় বাড়াতে সহায়তা করছে।
দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ইজিএএস অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও নতুন গ্যাসের মজুত যুক্ত করার জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশল উপস্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস অনুসন্ধানে পাওয়া ইতিবাচক ফলাফল নতুন আবিষ্কারের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে ডেনিস গ্যাসক্ষেত্রের আবিষ্কারকে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মিসর সরকার মনে করছে, তুলনামূলকভাবে কম অনুসন্ধান করা হয়েছে এমন অঞ্চলগুলোতে আরও অনুসন্ধান পরিচালনা করা হলে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অনাবিষ্কৃত বা কম অনুসন্ধান এলাকায় সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: হুথিদের সউদী আরবের তেলক্ষেত্র, রিয়াদ বিমানবন্দর ও সেনাক্যাম্পে হামলার দাবি
অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে নতুন ধরনের চুক্তি কাঠামো তৈরি করছে ইজিপিসি। এর উদ্দেশ্য হলো গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানের জন্য কূপ খননে প্রয়োজনীয় সময় কমানো এবং নতুন অনুসন্ধানের কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
মন্ত্রী বাদাওয়ি বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের বকেয়া অর্থ সঠিক সময়ে পরিশোধ ও গত দুই বছরে নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলো মিসরের তেল ও গ্যাস খাতে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠতেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি সাউথ ভ্যালি পেট্রোলিয়াম সর্বোচ্চ উৎপাদনের একটি রেকর্ড তৈরি করেছে, এবং এখন উৎপাদন ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের আরও সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আল-বারাকা উন্নয়ন এলাকার বিভিন্ন প্রকল্পকে একীভূত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মরুভূমি অঞ্চলে নতুন অনুসন্ধান সমীক্ষা ও সিসমিক জরিপও পরিচালনা করা হবে।
এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন তেল ও গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত শনাক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
আরও পড়ুন: ‘দার–এ–নিজাত’ ধারাবাহিকের ২৩ পর্বে ১৭০ কোটি ভিউ, পাকিস্তানের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড
মিসরের তেল ও গ্যাস খাতের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের জন্য উদ্বৃত্ত সামগ্রী ও অব্যবহৃত সরঞ্জামের ব্যবস্থাপনার জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে। প্রকল্পে ব্যবহারের পর পড়ে থাকা বা অতিরিক্ত সরঞ্জাম অন্য প্রকল্পে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এছাড়া, পরিবেশগত কার্যক্রম ও পরিবেশগত কর্মদক্ষতা পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও চালু করা হয়েছে।
পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী করিম বাদাওয়ি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে বাস্তবায়িত কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি প্রতিটি কর্মসূচির জন্য স্পষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও পরিমাপযোগ্য সূচক নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাদাওয়ির মতে, দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, আমদানির ওপরে নির্ভরতা কমানো এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোই মিসরের জ্বালানি খাতের প্রধান অগ্রাধিকার।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে আবারও যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ড
গ্যাস অনুসন্ধানে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি, শোধনাগারের ব্যবহার সক্ষমতা ৮০ শতাংশের ওপরে নিয়ে আসা, নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কার এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার মাধ্যমে মিসর তার জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে চাচ্ছে। বিশেষ করে, মেলেইহা গ্যাস স্থাপনার দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট উৎপাদন শুরু হলে এবং পশ্চিম মরুভূমি ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অনুসন্ধান জোরদার হলে দেশটির অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহে চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন