০৮:০১ পি.এম
মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাসহ বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ থামছে না। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে চালানো বিমান হামলার ঘটনা নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্ত ব্যবস্থা (আইআইএমএম) মৃত্যু, আহত এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ পেয়েছে। এই হামলাগুলো লক্ষ্য ছিল বাড়িঘর, স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র, ধর্মীয় ভবন এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের শিবির।
আইআইএমএমের তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্যারামোটর ও ড্রোনের ওপর নির্ভরতা ক্রমবর্ধমান হওয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের জন্য হামলার আগাম সংকেত শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে হামলার সময় পালিয়ে যাওয়া বা নিরাপদ আশ্রয় নেয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে। এছাড়া, তদন্ত ব্যবস্থা এই হামলাগুলোর জন্য দায়ী কিছু সামরিক ইউনিটকেও চিহ্নিত করেছে।
অপরদিকে, সেনাবাহিনী পরিচালিত আটককেন্দ্রগুলোতে নির্বিচার আটক, নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার ব্যাপক প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে আইআইএমএম। এতে নির্বাচনের সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য ২০২৫ সালের আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার
এই আইনের আওতায় অসংখ্য ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক মন্তব্য পোস্ট করার মতো কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের ২০ বছরের কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তবে, আইআইএমএমের তদন্ত শুধুমাত্র মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও তাদের সহযোগী মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সংস্থাটি সামরিক বাহিনীর বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে ওঠা কথিত নৃশংসতার অভিযোগও তদন্ত করছে।
আইআইএমএম জানিয়েছে, তাদের তদন্ত ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি উৎস থেকে পাওয়া প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৭৫০টিরও বেশি সাক্ষীর বিবরণ, ছবি, ভিডিও, অডিও, নথি, মানচিত্র, ভূ-স্থানিক চিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং ফরেনসিক প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে প্রমাণ ও বিশ্লেষণ ভাগ করে নেওয়া অব্যাহত রেখেছে আইআইএমএম। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আর্জেন্টিনাও রয়েছে।
আরও পড়ুন: সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না
এর পাশাপাশি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সংঘটিত অপরাধের তদন্তকারী অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অনুরোধেও সাড়া দিচ্ছে তদন্ত ব্যবস্থা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন