০৫:৪২ এম
বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই জ্বর, সর্দি-কাশি সহ নানা ধরনের ভাইরাল সংক্রমণের প্রকোপ বেড়ে যায়। একই সময়ে, যখন বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা স্থানে এডিস মশার বংশবিস্তার হয়, তখন ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। ফলে, যখন হঠাৎ জ্বর আসে, তখন অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান—এটি কি সাধারণ ভাইরাল জ্বর, নাকি ডেঙ্গু?
সমস্যা হলো, ডেঙ্গু ও সাধারণ ভাইরাল জ্বরের শুরুর দিকের উপসর্গগুলো প্রায় একই রকম। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, বর্ষাকালে জ্বরকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
চিকিৎসকরা বলেন, সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ এবং ডেঙ্গুকে একসূত্রে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়। কারণ, ডেঙ্গু তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই শুরু থেকেই লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
আরও পড়ুন: ৬ নভেম্বর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা
ডেঙ্গু ও ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণের শুরুতে যে সব সাধারণ উপসর্গ দেখা যায় তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত—
• হঠাৎ জ্বর
• শরীরে দুর্বলতা ও অবসাদ
• শরীরব্যথা
আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিনে পর্যটকে প্রাণ ফিরেছে, দ্বীপবাসী স্বস্তিতে
• অতিরিক্ত ক্লান্তি
তবে, এসব উপসর্গ থাকলেই যে ডেঙ্গু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। আবার এগুলোকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে অবহেলাও করা উচিত নয়।
যেসব উপসর্গ ডেঙ্গুর আশঙ্কা বাড়ায়, সেগুলি হলো—
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ ভাইরাল জ্বরের তুলনায় ডেঙ্গুর উপসর্গ সাধারণত বেশি তীব্র হয়। বিশেষ করে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন—
আরও পড়ুন: শাকসবজিতে লুকিয়ে থাকে বিপদ, সতর্কতা প্রয়োজন
• তীব্র জ্বর
• প্রচণ্ড মাথাব্যথা
• চোখের পেছনে ব্যথা
• পেশি ও জয়েন্টে তীব্র ব্যথা
আরও পড়ুন: রান্নাঘর পরিপাটি রাখার ৫টি কার্যকর কৌশল
• বমি বমি ভাব বা বমি
• শরীরে লালচে র্যাশ বা দাগ
চিকিৎসকরা জানান, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে বা কালো দাগ দেখা দিতে পারে, এবং তীব্র পেটব্যথাও হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
কখন ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত? চিকিৎসকদের মতে, বর্ষাকালে জ্বর হলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জ্বরের প্রথম দিকেই ডেঙ্গু শনাক্তে এনএস১ (NS1) অ্যান্টিজেন পরীক্ষা কার্যকর। প্রয়োজন অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে পিসিআর (PCR) পরীক্ষাও করা হয়।
আরও পড়ুন: আইসিসিবিতে শুরু হয়েছে বারভিডার গাড়ি প্রদর্শনী
অন্যদিকে, যদি জ্বর কয়েক দিন স্থায়ী হয় বা বৃদ্ধি পায়, তাহলে চিকিৎসক ডেঙ্গু অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা ও জ্বরের সময়কাল বিবেচনা করে কোন পরীক্ষা প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন চিকিৎসক।
বর্ষার সময়ে জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ ভেবে অবহেলা না করে শুরু থেকেই সতর্ক থাকুন। সময়মতো পরীক্ষা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসাই ডেঙ্গুর জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন