০৩:৪১ এম
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির তিন দিনের প্রদর্শনী ‘বারভিডা কার এক্সপো ২০২৬’। গতকাল বৃহস্পতিবার এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে জাপানের আধুনিক ও জনপ্রিয় মডেলের গাড়ির পাশাপাশি সত্তরের দশকের পুরনো গাড়িগুলোও প্রদর্শিত হচ্ছে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির ৫০ বছরের ইতিহাস তুলে ধরার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে টয়োটা, হোন্ডা, নিশান ও মিত্সুবিশিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে টয়োটা প্রিয়াস, হ্যারিয়ার, করোলা ক্রস, নোয়া, ভক্সি ও আলফার্ডের মতো জনপ্রিয় মডেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দর্শনার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তির হাইব্রিড গাড়ির পাশাপাশি পুরনো দিনের গাড়ি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ক্রেতারা একই জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাড়ি দেখতে পারবেন। পাশাপাশি গাড়ির প্রযুক্তি, সুযোগ-সুবিধা ও দাম তুলনা করে নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী গাড়ি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুন: ৯০ বছরেও তরুণদের টেক্কা, ফিটনেসের রহস্য জানালেন জাপানিজ বডিবিল্ডার তোশিসুকে কানাজাওয়া
বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান অনুষ্ঠানে বলেন, "জাপানি গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।" তিনি আরও জানান, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে জাপানি গাড়ির গুণগত মান, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং দেশের অর্থনীতিতে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি খাতের অবদান তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বারভিডার সভাপতি আবদুল হক মন্তব্য করেন, দেশে গাড়ি উৎপাদন, আমদানি এবং যন্ত্রাংশ আমদানি করে সংযোজনের ক্ষেত্রে একই ধরনের শুল্কনীতি থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, "এসব খাতের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে পৃথক ও ভারসাম্যপূর্ণ করকাঠামো প্রয়োজন।" রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ব্যবসা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তিনি এই খাতের জন্য বৈষম্যহীন ও জনবান্ধব নীতি প্রণয়নের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, "বিভিন্ন সময়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও ব্যবসার পথ সংকুচিত করার চেষ্টা হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এই খাতের সঙ্গে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সরকারের রাজস্ব আয় জড়িত। তাই নীতিনির্ধারকদের এই খাতের অবদান বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়া উচিত।
যানবাহনের নিবন্ধন ও নিরাপত্তার বিষয়ে বারভিডার সাবেক সভাপতি আব্দুন মান্নান চৌধুরী খসরু বলেন, "সড়কে চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা থাকা জরুরি।" তিনি জানান, দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হতে হবে। এ ক্ষেত্রে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির চেসিস নম্বর ও আইডেন্টিফিকেশন নম্বর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন: ঘরের বাতাস সতেজ রাখতে সহায়ক ইনডোর গাছগুলো
বারভিডার আয়োজনে এই প্রদর্শনী চলবে আগামীকাল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশে কোনো ফি লাগবে না। তবে দর্শনার্থীদের নিবন্ধন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন