ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নাটোরে এতিম-প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে দাঁড়ালেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী


নাটোরে এতিম-প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে দাঁড়ালেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নাটোর, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার লালপুর উপজেলায় বিভিন্ন এতিমখানা এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খাদ্য, অর্থ এবং উপহারসামগ্রীসহ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন।

নাটোর থেকে মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সদস্য, বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনের বাবা ফজলুর রহমান পটলের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আজ দিনব্যাপী এ মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে একান্তে সময় কাটান। এসময় তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘ফজলুর রহমান পটল স্মৃতি বৃক্ষ’ রোপণ করেন।

আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪

প্রতিমন্ত্রী উপজেলার ফুলবাড়ী শিশু সদন ও এতিমখানায় উপজেলার ২৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাঝে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ক্যাপিটেশন গ্রান্টের মঞ্জুরি বাবদ ৭১ লাখ ৫২ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবির হোসেন, লালপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম, লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ পাপ্পু এবং সাবেক গোপালপুর পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী এবং এতিম শিশুরা এদেশের সূবর্ণ নাগরিক। তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যেতে চাই। আমরা এদেশকে মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাই বাবা ফজলুর রহমান পটলের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আজ আমি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।

এ উপলক্ষে তিনি উপজেলার অন্যান্য প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং এতিমখানাসমূহে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুপুরের খাবার বিতরণ করেন।

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম

এদিকে, আজ বিকেলে উপজেলার শ্রী সুন্দরী পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ফজলুর রহমান পটলের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন।

এরআগে মরহুম পটলের বাড়ি সংলগ্ন গৌরিপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ জোহর মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, তুখোড় বক্তা ফজলুর রহমান পটল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। তিনি নাটোর-১ আসন (লালপুর ও বাগাতিপাড়া) থেকে ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯১-৯৬ মেয়াদে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্‌যাপন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যের হোটেলে ছারপোকার কামড়, ৩ লাখের বেশি টাকা ক্ষতিপূরণ পেলেন ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫০ পি.এম


যুক্তরাজ্যের হোটেলে ছারপোকার কামড়, ৩ লাখের বেশি টাকা ক্ষতিপূরণ পেলেন ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের একটি জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক বাজেট হোটেলে এক রাত কাটানোর পর মারাত্মক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন ব্রিটিশ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার হান্না স্টিভেনসন (৩১)। হোটেলটিতে ছারপোকার উপদ্রবের কারণে তার পুরো শরীর জুড়েই গুরুতর ও রক্তক্ষরণকারী কামড়ের দাগ দেখা দেয়।

গত ২৬ জুলাই তিনি তাছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে কেমব্রিজে সময় কাটানোর পর রাতে বাড়ি ফেরার ঝামেলা এড়াতে নিউমার্কেট রোডের ওই ট্রাভেলজ হোটেলে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হান্না সব কিছুতে দেখে হতবাক হন, কারণ তার সারা শরীর চুলকাচ্ছিল এবং বালিশের ওপর রক্তের দাগ লক্ষ্য করেন। এমনকি তিনি নিজ চোখে কক্ষের ভেতরে জীবন্ত ছারপোকা দেখতে পান।

ছারপোকার কামড়ের কারণে তাঁর হাত, পা, বুক ও মুখে অসংখ্য চুলকানিযুক্ত এবং রক্তক্ষরণকারী লাল ফোলা দাগ তৈরি হয়েছে। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সেই ক্ষতগুলো পুরোপুরি ভালো হয়নি।

হান্না বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে তাঁকে নতুন কাপড় কিনে শরীরের ক্ষতগুলো ঢাকতে হয়েছে। এমনকি একটি পারিবারিক বিয়েতে তাকে এই অবস্থাতেই উপস্থিত থাকতে হয়েছিল। একটানা চুলকানির কারণে তাঁর ঘুমের ব্যাহত হয়েছে এবং এমনকি এক পর্যায়ে প্যানিক অ্যাটাকও হয়েছে। নিজের চেহারা এবং হাতের এই অবস্থার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং বেশ কিছু সামাজিক অনুষ্ঠান থেকেও দূরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

ঘটনার পর তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালে পরে শুরুতে কোনো সাড়া পাননি বলে দাবি করেন। তবে পরে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমস্ত বিষয়টি এবং তার শরীরের ক্ষতবিক্ষত ছবি প্রকাশ করেন, যা ভাইরাল হয়ে যায়।

পোস্টটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর হোটেল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। শেষে ট্রাভেলজ কর্তৃপক্ষ হান্নাকে প্রায় ২,৭০০ ডলার (২,০০০ ব্রিটিশ পাউন্ড) ক্ষতিপূরণ দেয়।

এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে হান্না স্টিভেনসন জানান, তিনি তার সবচেয়ে খারাপ শত্রুর ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া কামনা করেন না। তিনি আশা করেন, আন্তর্জাতিক মানের হোটেলগুলো তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কীটপতঙ্গ দমন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো ভ্রমণকারীকে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন না হতে হয়।

অন্যদিকে, ট্রাভেলজ কর্তৃপক্ষ দাবি করে, গ্রাহকদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার এবং এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কক্ষগুলো সিলগালা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে স্ক্যাফোল্ডারের চাহিদা বাড়ছে, দক্ষ কর্মী তৈরিতে এনএসডিএর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যে স্ক্যাফোল্ডারের চাহিদা বাড়ছে, দক্ষ কর্মী তৈরিতে এনএসডিএর উদ্যোগ

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : কনস্ট্রাকশন সেক্টরে ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্ক্যাফোল্ডিংয়ের প্রয়োজনীয়তা থাকায়, দেশের নির্মাণ খাতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারেও স্ক্যাফোল্ডারদের (নির্মাণকাজে অস্থায়ী কাঠামো স্থাপন ও খুলে ফেলার দক্ষ কর্মী) চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে, মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ স্ক্যাফোল্ডার তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

এর অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনএসডিএর সম্মেলন কক্ষে কনস্ট্রাকশন সেক্টরের অধীন ‘স্ক্যাফোল্ডিং’ অকুপেশনের কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) ও কোর্স অ্যাক্রেডিটেশন ডকুমেন্ট (সিএডি) ভ্যালিডেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালায় শিল্পখাতের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, একাডেমিয়া, বিশেষজ্ঞ এবং এনএসডিএর প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করেছেন। এতে সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।

সভাপতির বক্তব্যে ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী জানান, দেশে স্ক্যাফোল্ডিং পেশায় কর্মরত অনেকেই প্রচলিত পদ্ধতি বা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দক্ষতা অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও প্রশিক্ষণ কাঠামো চালু হলে এ ঘাটতি কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে কর্মসংস্থানমুখী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘স্ক্যাফোল্ডিং’ পেশার জন্য কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও প্রশিক্ষণ কারিকুলাম প্রণয়ন এই উদ্যোগেরই অংশ।

এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, দেশের নির্মাণ খাতই নয়, বিদেশের শ্রমবাজারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে, এ উদ্যোগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবকাঠামো ও নির্মাণ প্রকল্পে স্ক্যাফোল্ডারদের প্রয়োজন রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরিできれば, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এসব শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

উল্লেখ্য, স্ক্যাফোল্ডিং হলো নির্মাণকাজে শ্রমিকদের নিরাপদে উঁচু স্থানে ওঠা, চলাচল ও কাজ করার জন্য ব্যবহৃত অস্থায়ী কাঠামো। এটি স্থাপন বা ব্যবহারে দক্ষতার ঘাটতি থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ পেশায় প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা এবং নিরাপদ কর্মপদ্ধতি নিশ্চিত করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মশালায় প্রস্তাবিত কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও প্রশিক্ষণ কোর্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিল্পে কাজের বাস্তব চাহিদা, প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সরঞ্জাম ব্যবহার এবং কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনা করে অংশীদারদের মতামত নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় অংশীদারদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করে সিএস ও সিএডি চূড়ান্ত করা হয়। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম তৈরির পাশাপাশি এনএসডিএ নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে স্ক্যাফোল্ডিং কোর্স চালুর সুযোগ তৈরি হবে। ফলে দেশে স্ক্যাফোল্ডিং পেশায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনবল তৈরির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি স্বনির্ভরতায় এগোচ্ছে মিসর, গ্যাস অনুসন্ধানে ২০% প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


জ্বালানি স্বনির্ভরতায় এগোচ্ছে মিসর, গ্যাস অনুসন্ধানে ২০% প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য

মিসর গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম ২০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করেছে। এবারের বছরেই দেশটির শোধনাগারগুলোর ব্যবহার সক্ষমতা ৮০ শতাংশের ওপরে উন্নীত করার একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। মিসর এসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশের জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।

মিসরের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত মেলেইহা গ্যাস স্থাপনার উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আগামী মাসে। এই স্থাপনাটি দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা রাখবে, যা চালু হওয়া সাপেক্ষে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকারের প্রচেষ্টাকেও সহায়তা করবে।

সম্প্রতি করিম বাদাওয়ির সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ অফিসারদের পাশাপাশি মিসরীয় জেনারেল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (ইজিপিসি), মিসরীয় ন্যাচারাল গ্যাস হোল্ডিং কোম্পানি (ইজিএএস) এবং সাউথ ভ্যালি ইজিপশিয়ান পেট্রোলিয়াম হোল্ডিং কোম্পানির (এসভিপি) শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

উৎপাদন ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের সম্প্রসারণে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে সাউথ ভ্যালি পেট্রোলিয়াম। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিসরের জ্বালানি খাতের অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশীয়ভাবে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো। এটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে।

পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী করিম বাদাওয়ি জানান, শোধনাগারগুলোতে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়ানো ও পরিচালন দক্ষতা উন্নত হওয়ার ফলে ইতিমধ্যে মিসরের জ্বালানি আমদানির বিল কমেছে এবং ডিজেল আমদানিও হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, উচ্চমূল্য সংযোজিত বিশেষায়িত পেট্রোলিয়াম পণ্যের রফতানি বেড়েছে, যা দেশের রফতানি আয় বাড়াতে সহায়তা করছে।

দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ইজিএএস অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও নতুন গ্যাসের মজুত যুক্ত করার জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশল উপস্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস অনুসন্ধানে পাওয়া ইতিবাচক ফলাফল নতুন আবিষ্কারের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে ডেনিস গ্যাসক্ষেত্রের আবিষ্কারকে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিসর সরকার মনে করছে, তুলনামূলকভাবে কম অনুসন্ধান করা হয়েছে এমন অঞ্চলগুলোতে আরও অনুসন্ধান পরিচালনা করা হলে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অনাবিষ্কৃত বা কম অনুসন্ধান এলাকায় সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে নতুন ধরনের চুক্তি কাঠামো তৈরি করছে ইজিপিসি। এর উদ্দেশ্য হলো গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানের জন্য কূপ খননে প্রয়োজনীয় সময় কমানো এবং নতুন অনুসন্ধানের কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

মন্ত্রী বাদাওয়ি বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের বকেয়া অর্থ সঠিক সময়ে পরিশোধ ও গত দুই বছরে নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলো মিসরের তেল ও গ্যাস খাতে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠতেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি সাউথ ভ্যালি পেট্রোলিয়াম সর্বোচ্চ উৎপাদনের একটি রেকর্ড তৈরি করেছে, এবং এখন উৎপাদন ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের আরও সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আল-বারাকা উন্নয়ন এলাকার বিভিন্ন প্রকল্পকে একীভূত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মরুভূমি অঞ্চলে নতুন অনুসন্ধান সমীক্ষা ও সিসমিক জরিপও পরিচালনা করা হবে।

এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন তেল ও গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত শনাক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

মিসরের তেল ও গ্যাস খাতের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের জন্য উদ্বৃত্ত সামগ্রী ও অব্যবহৃত সরঞ্জামের ব্যবস্থাপনার জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে। প্রকল্পে ব্যবহারের পর পড়ে থাকা বা অতিরিক্ত সরঞ্জাম অন্য প্রকল্পে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এছাড়া, পরিবেশগত কার্যক্রম ও পরিবেশগত কর্মদক্ষতা পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও চালু করা হয়েছে।

পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী করিম বাদাওয়ি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে বাস্তবায়িত কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি প্রতিটি কর্মসূচির জন্য স্পষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও পরিমাপযোগ্য সূচক নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাদাওয়ির মতে, দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, আমদানির ওপরে নির্ভরতা কমানো এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোই মিসরের জ্বালানি খাতের প্রধান অগ্রাধিকার।

গ্যাস অনুসন্ধানে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি, শোধনাগারের ব্যবহার সক্ষমতা ৮০ শতাংশের ওপরে নিয়ে আসা, নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কার এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার মাধ্যমে মিসর তার জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে চাচ্ছে। বিশেষ করে, মেলেইহা গ্যাস স্থাপনার দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট উৎপাদন শুরু হলে এবং পশ্চিম মরুভূমি ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অনুসন্ধান জোরদার হলে দেশটির অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহে চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্লাস চলাকালে শিক্ষকের মাথায় ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৬ পি.এম


ক্লাস চলাকালে শিক্ষকের মাথায় ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ল

বরিশালে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা ধসে সরাসরি এক শিক্ষকের মাথায় পড়ার ঘটনা ঘটে। এতে ওই শিক্ষক আহত হন। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণ বাঁচাতে তারা দ্রুত হুড়োহুড়ি করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১০ আগস্ট) বরিশালের উজিরপুর সরকারি ডব্লিউ বি ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ওইদিন বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে পাঠদান করছিলেন সহকারী শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম। হঠাৎ করে ছাদের পলেস্তারা খসে তাঁর মাথার ওপর পড়ে যাওয়ায় তিনি আহত হন। পরে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাথী জানান, 'স্যার ক্লাস নিচ্ছিলেন। হঠাৎ ওপর থেকে ছাদের পলেস্তারা খুলে স্যারের মাথায় পড়েছে। আমরা সবাই ভয়ে পড়ে যাই।'

অন্য একজন শিক্ষার্থী সিমা বলেন, 'পলেস্তারা পড়ার সময় আমরা ক্লাসে ছিলাম। স্যার আহত হয়েছেন। আমাদেরও খুব ভয় লেগেছে।'

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম বলেন, 'ভবনটি ১৯৬০ সালে নির্মিত। এটি অনেক পুরোনো ভবন। ক্লাস চলাকালে ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ে একজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।'

দীর্ঘদিন আগে নির্মিত বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটি বর্তমানে বেশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। শিক্ষক আহত হওয়ার এই ঘটনা বড় ধরনের সতর্কবার্তা। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত বিদ্যালয় ভবনটি পরিদর্শন করে এর ঝুঁকি নিরূপণের ব্যবস্থা করা হোক। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করারও দাবি জানাচ্ছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%