প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের একটি জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক বাজেট হোটেলে এক রাত কাটানোর পর মারাত্মক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন ব্রিটিশ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার হান্না স্টিভেনসন (৩১)। হোটেলটিতে ছারপোকার উপদ্রবের কারণে তার পুরো শরীর জুড়েই গুরুতর ও রক্তক্ষরণকারী কামড়ের দাগ দেখা দেয়।
গত ২৬ জুলাই তিনি তাছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে কেমব্রিজে সময় কাটানোর পর রাতে বাড়ি ফেরার ঝামেলা এড়াতে নিউমার্কেট রোডের ওই ট্রাভেলজ হোটেলে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হান্না সব কিছুতে দেখে হতবাক হন, কারণ তার সারা শরীর চুলকাচ্ছিল এবং বালিশের ওপর রক্তের দাগ লক্ষ্য করেন। এমনকি তিনি নিজ চোখে কক্ষের ভেতরে জীবন্ত ছারপোকা দেখতে পান।
ছারপোকার কামড়ের কারণে তাঁর হাত, পা, বুক ও মুখে অসংখ্য চুলকানিযুক্ত এবং রক্তক্ষরণকারী লাল ফোলা দাগ তৈরি হয়েছে। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সেই ক্ষতগুলো পুরোপুরি ভালো হয়নি।
হান্না বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে তাঁকে নতুন কাপড় কিনে শরীরের ক্ষতগুলো ঢাকতে হয়েছে। এমনকি একটি পারিবারিক বিয়েতে তাকে এই অবস্থাতেই উপস্থিত থাকতে হয়েছিল। একটানা চুলকানির কারণে তাঁর ঘুমের ব্যাহত হয়েছে এবং এমনকি এক পর্যায়ে প্যানিক অ্যাটাকও হয়েছে। নিজের চেহারা এবং হাতের এই অবস্থার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং বেশ কিছু সামাজিক অনুষ্ঠান থেকেও দূরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘটনার পর তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালে পরে শুরুতে কোনো সাড়া পাননি বলে দাবি করেন। তবে পরে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমস্ত বিষয়টি এবং তার শরীরের ক্ষতবিক্ষত ছবি প্রকাশ করেন, যা ভাইরাল হয়ে যায়।
পোস্টটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর হোটেল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। শেষে ট্রাভেলজ কর্তৃপক্ষ হান্নাকে প্রায় ২,৭০০ ডলার (২,০০০ ব্রিটিশ পাউন্ড) ক্ষতিপূরণ দেয়।
এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে হান্না স্টিভেনসন জানান, তিনি তার সবচেয়ে খারাপ শত্রুর ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া কামনা করেন না। তিনি আশা করেন, আন্তর্জাতিক মানের হোটেলগুলো তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কীটপতঙ্গ দমন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো ভ্রমণকারীকে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন না হতে হয়।
অন্যদিকে, ট্রাভেলজ কর্তৃপক্ষ দাবি করে, গ্রাহকদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার এবং এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কক্ষগুলো সিলগালা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন