১১:৫৯ এম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বড় আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে এ বাজেটের বাস্তবায়ন হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এমন মন্তব্য করেছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি একথা জানিয়ে বলছে, প্রশাসনের আধুনিকায়ন, অটোমেশন ও কাঠামোগত সংস্কার যদি না করা হয়, তাহলে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।
শুক্রবার (১২ জুন) সিপিডি আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সভায় এসব কথা বলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন বাজেটে থোক বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। কিন্তু ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব হবে না। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বাড়লে, তখন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভেঙে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন স্বজন-সমর্থকেরা
বিদেশি ঋণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, যদি স্বচ্ছতা ও সুশাসনের সঙ্গে বিদেশি ঋণ ব্যবহার করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ ও বাস্তবসম্মত মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি কিছু দিন অব্যাহত রাখতে হবে, এমন ধারণা তিনি পোষণ করেন।
তিনি আরও বর্ণনা করেন, সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমেই উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না পেলে মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, কৃষি খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়াকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
নিম্নআয়ের মানুষের ওপর করের চাপ বাড়ছে বলেও জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক। তার মতে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানোর সুযোগ ছিল।
আরও পড়ুন: বিপ্লব: বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার কৃষকদের শত কোটি টাকা লুট করেছে
বাজেটে করের ক্ষেত্রে ব্যাপক ছাড় দেয়া হয়েছে জানানোর পাশাপাশি তিনি বলেন, দেশীয় শিল্পের জন্য কর রেয়াত ও আমদানি পর্যায়ে কর সুবিধা দেয়া হয়েছে। উৎপাদন বাড়িয়ে কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ রয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন