ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি পরিষেবা জোরদারে রংপুরে বিপিডব্লিউএনের কর্মশালা


জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি পরিষেবা জোরদারে রংপুরে বিপিডব্লিউএনের কর্মশালা

জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি ব্যবস্থা ও সহায়তা পরিষেবা জোরদারে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) এক কর্মশালার আয়োজন করেছে।

দেশব্যাপী চলমান কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রংপুরে এই কনসাল্টেশন কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ‘বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৭ বাস্তবায়ন’-এর আওতায় এ আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভেঙে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন স্বজন-সমর্থকেরা

দিনব্যাপী কর্মশালায় রংপুর বিভাগ ও রেঞ্জের ৭৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

কর্মশালায় বিপিডব্লিউএন ও এর কৌশলগত পরিকল্পনার (২০২৪-২০২৭) সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (এমটি এবং কর্মশালা) এবং বিপিডব্লিউএন’-এর সহ সভাপতি শামসুন্নাহার।

কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার রেসপনসিভ পুলিশিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন ইউএন-এর উইমেন প্রতিনিধি সাদিয়া তাসনীম।

প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন ঢাকাস্থ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ইউএন অপারেশনস) ফাতেমা-তুজ-জোহরা।

আরও পড়ুন: বিপ্লব: বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার কৃষকদের শত কোটি টাকা লুট করেছে

পুলিশ সদস্যদের মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা পারভীন।

তারা বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনার মূল ক্ষেত্রগুলো, কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার উপায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তি-সহায়তায় জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলার উপায় নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন।

ইউএন উইমেন প্রতিনিধি সাদিয়া তাসনীম কর্মশালায় জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি কার্যক্রম এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।

কর্মশালায় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: কাতারএনার্জি আগামী বছর ৪০ কার্গোর ২৬টি সরবরাহ করবে

তিনি বলেন, দক্ষতা, যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যদের নিজেদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারী পুলিশ সদস্যরা একই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং একই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাই দায়িত্ব পালনে তাদের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন কেবল সাহস ও আত্মবিশ্বাস।

তিনি তার বক্তব্যে পুরুষের পাশাপাশি  নারীদের পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার পরামর্শ দেন।

এসময় তিনি কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীদের উৎসাহিত করেন।

আরও পড়ুন: নেছারাবাদে বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবস তিন গ্রুপে পালিত

কর্মশালায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ।

তিনি তার বক্তব্যে নারীদের উপযোগী কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিপিডব্লিউএন-এর সহসভাপতি শামসুন্নাহার বলেন, ‘বিপিডব্লিউএন আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনের আলোকে নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে এবং তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, উক্ত উদ্দেশ্যে নারী সদস্যদের দক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত সক্ষমতা উন্নয়নে তারা একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: বরিশালে দুই অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিলো পরিবেশ অধিদফতর, বাধা দেয়ায় আটক ১

ইউএন উইমেন এবং বিপিডব্লিউএন নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করে আসছে। যার মধ্যে বাংলাদেশে নারী ও মেয়েদের জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং এবং ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) সেবা শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত।

ইউএন উইমেন প্রতিনিধি সাদিয়া তাসনীম বলেন, আমাদের নিজেদের অবচেতন মনে কাজ করা বৈষম্যমূলক মনোভাব দূর করা এবং সারভাইভার-কেন্দ্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা নারীদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সহায়ক।

তিনি আরও বলেন, বিপিডব্লিউএন-এর লক্ষ্য ও করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা অর্জন এবং নিজেদের ও সেবাগ্রহীতা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার জন্য এ ধরণের মতবিনিময় কর্মশালা চমৎকার মাধ্যম।

কর্মশালায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জেন্ডার-রেসপনসিভ পুলিশিং, যৌন হয়রানি, সাইবার নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া, এবং প্রতিকারের বিষয়গুলো নিয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: ‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ’ মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা

উল্লেখ্য, ইউএন উইমেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএন-এর সঙ্গে কাজ করছে।

বর্তমানে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইউএন উইমেনের বাংলাদেশে চলমান ‘এন্ডিং সেক্সুয়াল অ্যান্ড জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স ইন পাবলিক স্পেসেস, ওয়ার্কপ্লেসেস অ্যান্ড ইন টারশিয়ারি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস ইন বাংলাদেশ (ইএসজিবিভি)’ প্রকল্পে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএন অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখেরও বেশি মৃত্যু, সতর্কতা দিয়েছে ডব্লিউএইচও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৬ পি.এম


চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখেরও বেশি মৃত্যু, সতর্কতা দিয়েছে ডব্লিউএইচও

গত চার বছরে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে ২ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন তাপপ্রবাহ দ্রুত একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বার্লিনে প্রকাশিত ‘তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা নির্দেশিকা’-এ ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক ড. হান্স ক্লুগে বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই সমন্বিত ও শক্তিশালী নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন। না হলে তাপজনিত মৃত্যু আরও বাড়তে পারে।

ডব্লিউএইচওর নতুন নির্দেশিকায় সরকারগুলোর জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাপপ্রবাহের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি করা, শহরগুলোতে শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা, নগর এলাকায় গাছের সংখ্যা ও সবুজায়ন বৃদ্ধি করা এবং বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ব্যক্তিগত পর্যায়ের সচেতনতা- যেমন পর্যাপ্ত পানি পান করা, ছায়ায় থাকা বা রোদ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একা এই পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট নয়। এই সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বড় ধরনের কাঠামোগত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। এর ফলে বয়স্ক মানুষ এবং আগে থেকেই স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ডব্লিউএইচও এই পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের স্কুল মাঠ দখল করে বাণিজ্য মেলার আড়ালে জুয়া, অশালীন নৃত্য ও যাত্রাপালার অভিযোগ; আলোচনায় বিএনপি নেতা এবাদুল হক চাঁন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশেষ প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:২৪ পি.এম


বরিশালের স্কুল মাঠ দখল করে বাণিজ্য মেলার আড়ালে জুয়া, অশালীন নৃত্য ও যাত্রাপালার অভিযোগ; আলোচনায় বিএনপি নেতা এবাদুল হক চাঁন

বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ সাগর মাঠকে ঘিরে চলমান বাণিজ্য মেলা এখন আর শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজনের বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ রক্ষা, সরকারি নীতিমালার বাস্তবায়ন, আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান এবং জনস্বার্থের প্রশ্নে বহুল আলোচিত একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
একদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজনের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা, অন্যদিকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ-সব মিলিয়ে পরেশ সাগর মাঠ এখন বরিশালের অন্যতম আলোচিত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
পরেশ সাগর মাঠ, যা বরিশাল জেলা স্কুলের অধীনে রয়েছে-এ বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার পক্ষ থেকে গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ১৮ মে ২০২৬ শুনানি শেষে হাইকোর্ট মেলা বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন এবং বিএনপি নেতা ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবাদুল হক চাঁন হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ২৭ মে মেলার উদ্বোধন করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হাইকোর্টের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মেলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা মেলা চালু রাখা হচ্ছে এবং সেখানে জুয়া, অশালীন নৃত্য, যাত্রাপালা ও বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে চেম্বার আদালতে আপিল করা হয়। আপিলকারী বিএনপি নেতা ও চেম্বার সভাপতি এবাদুর রহমান হক চাঁনের আপিল এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আগামী সোমবার এ বিষয়ে চেম্বার আদালতে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
এদিকে চেম্বার সভাপতি এবাদুল হক চাঁন প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে বিজ্ঞ আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং দেড় মাস মেলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করেছেন। অন্যদিকে মানবাধিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি এবং তারা আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, চেম্বার সভাপতির পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে প্রকাশ্যে মেলা পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের স্বার্থে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম সীমিত রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি মেলার আড়ালে প্রকাশ্যে জুয়া পরিচালনার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে।
মানবাধিকার পক্ষের দাবি, চেম্বার আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি এবং হাইকোর্টের পূর্বের আদেশ কার্যকর রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগেই মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিজয়ের ঘোষণা দেওয়া বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে জুয়া পরিচালনা এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে মেলা চালিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন আইন ও আদালতের ঊর্ধ্বে অবস্থান করতে পারে না। একটি স্কুল মাঠ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার কথা; সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা শিক্ষার পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। অন্যথায় আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিতর্কিত কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আইন, আদালতের নির্দেশনা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মেলা পরিপত্র-২০২৪ কী বলছে?
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৪ জুন ২০২৪ তারিখে ‘মেলা পরিপত্র-২০২৪’ জারি করে, যা ১ জুলাই ২০২৪ থেকে কার্যকর হয়। পরিপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা যাবে না। একই সঙ্গে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ছাড়া অন্যান্য বাণিজ্য মেলার ক্ষেত্রে নির্ধারিত অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়।
১৪ জুলাই ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দৈনিক প্রথম আলো উল্লেখ করে, নতুন পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
এক মাঠে পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংকট: ১৫ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় দৈনিক সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বরিশালের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত মাঠে বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি চলছিল। মাঠজুড়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে বাণিজ্যিক আয়োজন চললে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাইকোর্টে রিট, আদালতের হস্তক্ষেপ: বিষয়টি জনস্বার্থে আদালতে গড়ায়। রিট আবেদনে দাবি করা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন ‘মেলা পরিপত্র-২০২৪’-এর পরিপন্থী। মে ২০২৬-এ হাইকোর্টে শুনানিকালে রিটকারীর পক্ষ থেকে আদালতের নজরে আনা হয় যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পরবর্তীতে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করেন এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মেলা কার্যক্রম বন্ধ রাখার অন্তর্র্বতী নির্দেশ দেন বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্নের মুখে অনুমোদন প্রক্রিয়া: মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন-যদি সরকারি পরিপত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত করা হয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে এ ধরনের আয়োজনের অনুমোদন দেওয়া হলো?
তাদের মতে, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়; বরং জনস্বার্থ, শিশু অধিকার এবং শিক্ষা পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন:
৯ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ, মাঠ রক্ষায় মানবাধিকারকর্মীদের দাবি এবং মেলা আয়োজকদের আইনি তৎপরতা-সব মিলিয়ে বরিশাল বাণিজ্য মেলা নগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখার পরিপত্র অনুযায়ী, দেশের সব শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট, মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনার পরও মেলার কিছু কার্যক্রম সন্ধ্যার পর পর্যন্ত চলতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আদালতের নির্দেশনা ও চলমান আইনি প্রক্রিয়া: রিট পিটিশন নং-৬২৫৯/২০২৬-এর শুনানি শেষে গত ১৮ মে ২০২৬ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের বাণিজ্য মেলা আয়োজন না করার নির্দেশ দেন।

আদালত ‘মেলা পরিপত্র-২০২৪’-এর ধারা ৫(চ) উল্লেখ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এ ধরনের আয়োজনের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশনার পর বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবং বিএনপি নেতা এবাদুল হক চান হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন। ফলে মাঠটির পরিচয়, ব্যবহার ও আইনগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তবে বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় মাঠটির মালিকানা, পরিচয় ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

মানবাধিকারকর্মীদের বক্তব্য:
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রনি সিকদার। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সত্য কখনো চাপা থাকে না। এতদিন যেসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক ছিল, আদালতের চলমান আইনি প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আমরা আশা করি, আদালত বিষয়টি আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে বিবেচনা করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “ঐতিহ্যবাহী এই মাঠে মেলা আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।”

চেম্বার নেতৃত্ব নিয়ে পুরোনো বিতর্ক:
পরেশ সাগর মাঠের মেলা বিতর্কের মধ্যেই আবার আলোচনায় এসেছে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃত্ব। ৬ মে ২০২৫ তারিখে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বরিশাল চেম্বারের কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ সদস্যদের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন সভাপতি এবাদুল হক চাঁনের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয় বলে মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল।
একই দিনে যুগান্তর ও আজকের পত্রিকাও প্রশাসক নিয়োগ এবং চেম্বার পরিচালনা নিয়ে সদস্যদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে কমিটি গঠনের অভিযোগের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্ত শেষে মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, সংগঠনটির কার্যক্রমে অস্থিরতা, অসন্তোষ ও সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। পরবর্তীতে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

জনমনে এখন যে প্রশ্ন: পরেশ সাগর মাঠকে ঘিরে বিতর্ক এখন বৃহত্তর এক প্রশ্নে রূপ নিয়েছে-রাষ্ট্রের নীতিমালা, আদালতের নির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবে কতটা সুরক্ষিত?
বরিশালের সাধারণ মানুষের সামনে এখন কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন- শিক্ষার্থীদের মাঠ কি শিক্ষার্থীদের কাছেই ফিরবে?
মেলা পরিপত্র-২০২৪ কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে?
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে?
জনস্বার্থ ও বাণিজ্যিক স্বার্থের সংঘাতে কোনটি অগ্রাধিকার পাবে?
শিক্ষা পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে?
সচেতন নাগরিক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিষয়টির স্বচ্ছ, আইনসম্মত ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন। কারণ একটি মাঠ হারানো মানে শুধু একটি খোলা জায়গা হারানো নয়; বরং একটি প্রজন্মের খেলাধুলা, বিকাশ এবং মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার সংকুচিত হয়ে যাওয়া।
বর্তমানে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বরিশালের নাগরিক সমাজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমুচা কিনতে পারা না সেই বস্তির ছেলেটি এখন ২০ হাজার কোটির মালিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


সমুচা কিনতে পারা না সেই বস্তির ছেলেটি এখন ২০ হাজার কোটির মালিক

শৈশবের দিনগুলো মুম্বাইয়ের বস্তিতে কাটিয়েছিল। বিদ্যালয়ের ক্যানটিনে সমুচা কেনার জন্য প্রয়োজনীয় টাকাও ছিল না। সেই বস্তির ছেলে রিজওয়ান সাজান এখন দুবাইভিত্তিক নির্মাণসামগ্রী ও রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি ড্যানিউব গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত।

রিজওয়ানের দুবাইয়ে রয়েছে ৪০ হাজার বর্গফুটের একটি প্রাসাদ। সেখানে একটি বিশাল ফোয়ারা, ব্যক্তিগত সিনেমা হল, ক্যাসিনো-স্টাইল গেমিং লাউঞ্জ, সুইমিংপুল, স্পা রয়েছে। এমনকি ঘরের ভিতরে খাবার ওঠানামার জন্য আলাদা একটি লিফটও অবস্থিত।

নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় রিয়েলিটি সিরিজ ‘দুবাই ব্লিং’-এ তার উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের কাছে তাকে আরও পরিচিত করে তুলেছে। তবে ক্যামেরার ঝলকানি, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং হাজার কোটির সম্পত্তির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে সংগ্রাম, ঝুঁকি ও অবিশ্বাস্য অধ্যবসায়ের একটি গল্প।

রিজওয়ান সাজানের জন্ম গরিব নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার এলাকায়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ। তার বাবা কষ্ট করে কনভেন্ট স্কুলের শিক্ষা ফি প্রদান করতেন। মাসে তার হাতে ছিল মাত্র ১৫ রুপি।

সেখানে স্কুলের ক্যানটিনে সহপাঠীদের খাবার খেতে দেখতেন। কিন্তু পকেটে নিজের টাকা ছিল না। এই ছোট্ট অপমান একদিন তার জীবনের মোড় পরিবর্তন আনে।

পরে এক সাক্ষাৎকারে রিজওয়ান সাজান বলেছেন, ‘বন্ধুরা যখন ক্যানটিনে খেত, আমি দূর থেকে দেখতাম। তখন খুব খারাপ লাগত। আমি ঠিক তখনই সিদ্ধান্ত নিই যে, নিজের উপার্জন নিজেই করব।’ মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি প্রথম ব্যবসা শুরু করেন।

তাঁর বাবার কাছ থেকে এক হাজার রুপি ধার নিয়ে ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এই টাকায় মুম্বাইয়ের পাইকারি বাজার থেকে স্কুলের বই কিনে মৌসুমে বিক্রি করতে শুরু করেন। প্রথমে তিনি ৭৫ রুপি লাভ হলেই খুশি হতেন। কিন্তু মৌসুম শেষে লাভ দাঁড়ায় ২০০ রুপি। আজকের দিনে ২০০ রুপি তেমন মূল্য হয়তো নয়। তবে তখন সেই অর্থ রিজওয়ান সাজানের কাছে ছিল বিশাল সম্পদ। প্রথম লাভের টাকা দিয়ে তিনি নিজের জন্য নয়, বন্ধুদের জন্য সমুচা কিনেছিলেন। যে সমুচা খাওয়ার জন্য ব্যবসা শুরু, সেই সমুচাই যেন হয়ে উঠেছিল তার প্রথম সাফল্যের প্রতীক।

১৮ বছর বয়সে রিজওয়ান সাজানের জীবনে আসে একটি বড় ধাক্কা। সেইসময় তার বাবা মারা যান এবং সংসারের সব দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। এরপর তিনি কাজের খোঁজে কুয়েতে পাড়ি জমান। সেখানে তাঁর মাসে ১৮ হাজার রুপি বেতনের একটি চাকরি জোটে। যা ছিল তার পূর্বের জীবনের পঞ্চাশ গুণ। কিন্তু ভাগ্য তার জন্য এছাড়া আরও বড় পরীক্ষা রেখে রেখেছিল।

কুয়েত অধ্যায়ের পর রিজওয়ান দুবাইয়ে চলে আসেন। সেই সময় তাঁর সঞ্চয় ছিল প্রায় এক লাখ দিরহাম। এই অর্থের ব্যাপারে তিনি খুব সচেতনভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন। স্ত্রীর জন্য কিছু অর্থ সহায়তা করেন এবং একটি ছোট অফিস নেন। গাড়ি কেনেন কিস্তিতে। ব্যবসার লাইসেন্স সংগ্রহ করেন। কর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য একটি আলাদা তহবিলও রাখেন। নিজেকে তিনি মাত্র তিন মাস সময় দিয়েছিলেন। প্রথম মাসে আয় হয় ৫ হাজার দিরহাম, দ্বিতীয় মাসে ১০ হাজার এবং তৃতীয় মাসে ২০ হাজার। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তার ব্যবসা সঠিক পথে এগোচ্ছে।

এভাবে ধীরে ধীরে নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে ড্যানিউব গ্রুপ। আজ মধ্যপ্রাচ্যের নির্মাণশিল্পে এটি একটি পরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল, হোম ইন্টেরিয়র ও রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা বাড়িয়েছে তারা। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। রিজওয়ানের সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার কোটি রুপি। তবে তার ভাষায়, ‘কখনো আমাকে টাকা অনুপ্রাণিত করেনি। কাজই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। টাকা কেবল সেই কাজের ফল।’

অপরদিকে বিলাসবহুল জীবনযাপনের পাশাপাশি তিনি অতীতকে ভুলে যাননি। রিজওয়ানের এক সুপ্রসিদ্ধ উক্তি হল—‘আমি বস্তিতে জন্মেছি। পরে চাওলে থেকেছি। আজ ৪০ হাজার বর্গফুটের বাড়িতে থাকি। কিন্তু আমাকে যদি আফ্রিকার কোনো জঙ্গলে কিছু না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, আমি আবারও নিজেকে গড়ে তুলতে পারব।’ এই আত্মবিশ্বাসই রিজওয়ান সাজানের সাফল্যের মূল রহস্য। কারণ তিনি জানেন, সম্পদ হারানো যায়; কিন্তু অভিজ্ঞতা, সাহস ও উদ্যোগ হারানো অসম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোটরসাইকেলের গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার হলো ভারতীয় গাঁ-জা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:২৬ পি.এম


মোটরসাইকেলের গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার হলো ভারতীয় গাঁ-জা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মোটরসাইকেলের ভেতরে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা সাড়ে ৮ কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)।

সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১১ জুন কসবা উপজেলার মঈনপুর বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা সাড়ে ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার পূর্ব বাইনারী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. আল আমীন (৩৫)-কে আটক করা হয়। জব্দকৃত গাঁজার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৫০ টাকা। উদ্ধারকৃত গাঁজা ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ আটক ব্যক্তিকে কসবা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কসবা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আরও একজন পলাতক আসামি রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক এস এম শরিফুল ইসলাম বলেন, মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে এই গাঁজা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্তে মাদক, চোরাচালান, পুশ-ইন এবং নারী-শিশু পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%