০৫:৫৫ পি.এম
উপজেলা কমিটি না থাকার কারণে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় নেছারাবাদে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করতে গিয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে, প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে, পৃথক তিনটি স্থানে মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। নেতাকর্মীদের এই বিভক্তি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, উপজেলার জগন্নাথকাঠি বাজারের সুপারিপট্টি থেকে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি স্বরূপকাঠি পৌর শহরের বাজার রোড ও তেঁতুল তলা ঘুরে পুরাতন থানা এলাকার রিকশাস্ট্যান্ডের তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কাজী কামাল হোসেনসহ তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
এরপর, উপজেলার জগৎপট্টি গ্রামের সন্ধ্যা নদীর অপর পাশে ডাকবাংলার সামনে থেকে নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদারের নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল বের হয়। এই মিছিলটি নদীরপাড় সড়ক হয়ে পুরাতন থানা সড়ক, তেঁতুলতলা ও জগন্নাথকাঠি বাজার সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নাছির উদ্দীন তালুকদারসহ তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন: শেরপুর গারো পাহাড়ে অবৈধ বালু পরিবহনের অভিযোগে ৬ জন আটক
প্রায় একই সময়ে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসানের নেতৃত্বে তৃতীয় একটি মিছিল বের হয়। এই মিছিলটি পৌর শহরের বাজার রোড, তেঁতুলতলা ও পুরাতন থানা সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে নেতারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন।
দলের কেন্দ্রীয় ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি একসঙ্গে পালন না করে তিনটি পৃথক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি পালন করার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, "তিনটি গ্রুপ একই দিনে পৃথক স্থান ও সময়ে কর্মসূচি পালন করেছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সর্বাত্মক অবস্থানে ছিল। তবে কর্মসূচি চলাকালে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।"
নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোঃ ফকরুল আলম বলেন, "উপজেলা বিএনপির কমিটি নেই, তাই হয়তো নিজ নিজ স্বক্ষমতা দেখাতে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচী হয়েছে। সবাইকে একত্র করে আহবান করা হয়েছিল কর্মসূচী করতে তবে কেউই তা করেনি। আমি সরেজমিনে এ কারনে কর্মসূচীতে আসিনি। তবে আমার লোকজন সর্বত্রই রেলীতে ছিল।" তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, "কমিটি হলে এই সমস্যা দ্রুত নিরসন হবে। কমিটি না থাকায় নেতৃত্বের অনৈক্যর কারণে এমনটা হয়েছে।"
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভেঙে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন স্বজন-সমর্থকেরা
পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, "নেছারাবাদে দলীয় পৃথক কর্মসূচি পালনের বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। এটি কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি। তাই তাঁদের একত্র হয়ে কর্মসূচি পালন করার প্রয়োজন ছিল না। মূল বিষয় হলো, কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে কি না।"
তবে দলের এত বড় একটি কর্মসূচি সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করলে ভালো হতো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "পৃথক কর্মসূচি পালনের মূল কারণ হলো, নেছারাবাদে বিএনপির কোনো কমিটি নেই। তবে সবাই একত্র হয়ে কর্মসূচি পালন করলে আরও ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন