ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সরকার ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে ছড়ানো হচ্ছে পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা


সরকার ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে ছড়ানো হচ্ছে পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদ ফাঁকে ফাঁকে পাঁচ মাস অতিক্রম করে গেছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে ঘটেছে নজিরবিহীন সব ইতিবাচক পরিবর্তন, যা বিগত কোনো সরকারের আমলেই কল্পনা করা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান ধারাবাহিকভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন এবং নজিরবিহীন একাধিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই সরকারের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছে। তবে, এই সফলতার কারণে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মাঠে নামতে শুরু করেছে।

অপরদিকে, আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা। সেই সাথে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা তার সঙ্গে দেশে ফিরবেন, এমন একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ‘ডিসেম্বর টু মার্চ’ রূপরেখা বা রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শেখ হাসিনার নির্দেশে, রাজনীতির ময়দানে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তার দোসররা মাঠে নেমেছে। বর্তমান সরকারের স্বার্থে জনসাধারণের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে তারা পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

দুর্ভাগ্যবশত, ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তে জড়িয়ে পড়ছেন বিএনপির কিছু অসাধু ও সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি। সরকারের মধ্যে সুবিধা করতে ব্যর্থ হওয়া কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে দুর্বল করতে তার বিশ্বস্ত সহযোগীদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়ে ‘পেইড’ প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: সচিবালয় স্থানান্তরে নতুন জটিলতার শঙ্কা

একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত এই পেইড প্রোপাগান্ডার পেছনে বর্তমান সরকারের একটি মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিবের (এপিএস) প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’-এর তথ্যানুসারে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে ৩৫১টি এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানকে কেন্দ্র করে ৫০টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন গুজব রটানো হয়েছে। Social media platforms-এ প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীসহ তার আস্থাভাজনদের বিরুদ্ধে ভীষণ অপপ্রচার হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিকল্পিত এই অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম এবং শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। মূলত, সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কের মুখে ফেলতে এবং অসন্তোষ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এই দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীকে টার্গেট করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দলীয় বিবেচনায় নিজস্ব লোক নিয়োগ দিয়েছিল বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকার। তৎকালীন সরকারকে বেআইনিভাবে টিকিয়ে রাখা, ভোটচুরি থেকে শুরু করে যাবতীয় অপকর্মে তারা মূল ভূমিকা পালন করেছে। বিগত সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো প্রশাসনের নানা স্তরে আছেন। তারা মূলত বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলতে এবং শেখ হাসিনাকে ফের ক্ষমতায় আনতে একটি চক্রান্তের অংশ হিসেবে কাজ করছে, যাতে তাদের পূর্বের দুর্নীতি ও লুটপাটের সাম্রাজ্য পুনর্বাসিত হয়।

শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে তারা বিএনপির মন্ত্রী ও এমপিদের বিতর্কিত করার মিশন অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম এবং শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন এই প্রশাসনিক চক্রান্তের শিকার।

সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত অথবা পুনর্বিন্যাস নিয়ে গঠন হওয়া আন্দোলনটি এই ষড়যন্ত্রের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। আন্দোলনটির পেছনে উসকানি দিয়ে তারা ফায়দা নিতে চাচ্ছে। তারা যখন সড়ক অবরোধের মাধ্যমে আন্দোলন সৃষ্টি করেছে, তখন দেখা গেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে অছাত্র, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি বেশি ছিল।

আরও পড়ুন: চাঁদাবাজি করলে ধরে পুলিশে দিন, প্রয়োজনে আমিই ব্যবস্থা নেব: আমিনুল হক

জানা গেছে, শুরু থেকেই চক্রান্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর কিছু আমলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এই কারণে একটি আমলাতান্ত্রিক চক্র বিরক্ত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি বিএনপির একটি অংশও মীর শাহ আলমের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে ঈর্ষা করে। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তাকে বিতর্কিত ও অসৎ হিসেবে উপস্থাপন করতে একটি মহল মরিয়া হয়ে ওঠে।

মীর শাহ আলম তার পরিবারের কারো নামে কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা না করার জন্য লিখিত নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো সত্ত্বেও, তার পরিবারের সদস্যের নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে সেই ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে ট্রোল ও অপপ্রচারের শিকার হতে হয়। না বুঝে এবং প্রকৃত তথ্য না জানার কারণে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীও সেই অপপ্রচারে গা ভাসিয়ে সমালোচনা শুরু করেন। শুধু দেশে নয়, বিদেশ থেকেও কিছু ব্লগার অর্থের বিনিময়ে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন, যার পেছনে সরকারের একটি মন্ত্রীর এপিএস নাম উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় গাছকে উপড়ে ফেলতে হলে আগে তার ডালপালা ছাঁটাই করতে হয়। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীরা বর্তমান সরকারকে দুর্বল করার জন্য এই কৌশলে এগোচ্ছে। সেজন্যই তারা প্রধানমন্ত্রীর চারপাশের বিশ্বস্ত মানুষদের টার্গেট করে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে সার্বিকভাবে সরকারের ওপর থেকে জনসাধারণের আস্থা উঠে যায়।

কারণ, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মানুষের বিরুদ্ধে যদি কোনো অপপ্রচার চালানো হয়, সাধারণ মানুষ সহজেই তা বিশ্বাস করে নেয়। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি এই দুর্বলতা ব্যবহার করে।

আরও পড়ুন: ইবিতে ফুলকুঁড়ি আসরের শিশু-কিশোর সমাবেশ ও পুরষ্কার বিতরণী

সম্প্রতিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী মন্তব্য করেন, ‘আমি মনে করি এটা এক ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। যারা এসব কাজ করে, তারা মানসিকভাবে হীনমন্য এবং পরশ্রীকাতর। সরকারের উচিত অবিলম্বে এসব প্রোপাগান্ডাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।’

বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া কারোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়িয়ে দেয়া সমাজে বিভ্রান্তি, ফিতনা ও পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। ইসলামে এ ধরনের কাজকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গুজব ছড়ানোকে অশ্লীলতা ও ফিতনার শামিল মনে করা হয়।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের জুলাই পদযাত্রার সময়সূচিতে পরিবর্তন। ‘গুজব ও প্রোপাগান্ডা থেকে বেঁচে থাকার বিষয়ে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা হলো- যেকোনো সংবাদ সত্য কি না তা ভালোভাবে যাচাই করা, সত্য ছাড়া মিথ্যা কিছু না বলা, অন্যের সম্মান রক্ষা করা এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: স্পষ্ট বাণী দিয়েছেন “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে”। তাই আমাদের সবার উচিত এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান, দেশে আলাদা অ্যান্ডোক্রাইন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে হবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বদলগাছীতে জমির বিরোধে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত, গ্রেফতার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​বুলবুল আহম্মেদ ( বুলু) বদলগাছী নওগাঁ প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


বদলগাছীতে জমির বিরোধে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত, গ্রেফতার ২

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে মীর ইসমাইল হোসেন (৭০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার শেরপুর গ্রামের মৃত মীর ইয়াসিন আলীর ছেলে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।

ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি এবং একসময় সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষের সময় ছোট ভাই মীর মোশারফ হোসেনের লাঠির আঘাতে বড় ভাই মীর ইসমাইল হোসেন গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের সময় ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী ও সন্তানও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত বদলগাছী উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে মীর ইসমাইল হোসেনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে, সেখানেও অবস্থার আরও অবনতি দেখা দিলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও, ইতিমধ্যেই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ২ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বদলগাছী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরের কাউখালীতে দুই হাজার ৬৮ জন নিবন্ধিত জেলের তথ্য যাচাই-বাছাই ও হালনাগাদ সম্পন্ন হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


পিরোজপুরের কাউখালীতে দুই হাজার ৬৮ জন নিবন্ধিত জেলের তথ্য যাচাই-বাছাই ও হালনাগাদ সম্পন্ন হয়েছে

পিরোজপুরের কাউখালীতে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য বিদ্যমান নিবন্ধিত জেলেদের তালিকা পুনর্নির্ধারণ, বাছাই ও হালনাগাদের লক্ষ্যে ব্যাপক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম দুই দিনব্যাপী সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে ২০ জুলাই ও ২১ জুলাই তারিখে উপজেলা এলাকার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ২ হাজার ৬৮ জন নিবন্ধিত জেলের তথ্যকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়েছে।

সয়না রঘুনাথপুর, আমরাজুরী, কাউখালী সদর, চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ও শিয়ালকাঠী ইউনিয়নে পৃথকভাবে এই উপলক্ষে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই ও তথ্য হালনাগাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভাগুলোতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই সভায় উপস্থিত একাধিক স্থানীয় মৎস্যজীবী জানান যে, প্রকৃত জেলেরা যেন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন এবং ভুয়া কোনো ব্যক্তি যেন তালিকায় ঠাঁই না পায়। এ জন্য একযোগে যাচাই-বাছাই করা একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার সুরক্ষিত হবে। তালিকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন,

"প্রকৃত মৎস্যজীবীদের তালিকাভুক্ত করতেই এই উদ্যোগ। অনেক সময় দেখা যায় অপেশাদার লোক তালিকায় যুক্ত হয়ে যান, আবার কিছু প্রকৃত জেলে বাদ পড়েন। আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে সরাসরি জেলেদের মুখোমুখি হয়ে এবং ট্যাগ অফিসারদের উপস্থিতিতে তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেলাচ্ছি। লক্ষ্য একটাই—কোনো অ-জেলে যেন সরকারি সুবিধা না পায় এবং প্রকৃত একজন জেলে যেন বাদ না পড়ে।"

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,

"জেলেদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ভিজিএফ চাল সুষ্ঠুভাবে বন্টন করতে সঠিক ডাটাবেজের বিকল্প নেই। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আমরা এই যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করছি। কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের সুযোগ রাখা হয়নি। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থানার সামনে অটোরিকশা চাপায় কৃষকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২৬ পি.এম


থানার সামনে অটোরিকশা চাপায় কৃষকের মৃত্যু

নোয়াখালীর কবিরহাট থানার সামনে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার চাপায় মো. সফি উল্যাহ (৬০) নামে একটি কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে কবিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমদাদুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কবিরহাট থানার সামনে, যেখানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে, নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে সফি উল্যাহর মৃত্যু ঘটে।

নিহত সফি উল্যাহ কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের জগদানন্দ গ্রামের আব্দুর রশীদের ছেলে। দুর্ঘটনার পরে, পুলিশ অভিযান চালিয়ে অটোরিকশার চালক মো. ইউসুফকে (২৭) আটক করে। তিনি কবিরহাট উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামের মনির আহম্মদের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে সফি উল্যাহ ব্যক্তিগত কাজে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের সঙ্গে কবিরহাট থানার সামনে আসেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সড়ক পার হওয়ার সময় কবিরহাটগামী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।

এসআই ইমদাদুল ইসলাম আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই অটোরিকশার চালককে আটক করা হয়েছে এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত নেতার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ভিডিও বার্তায় যা বললেন প্রথম স্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


জামায়াত নেতার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ভিডিও বার্তায় যা বললেন প্রথম স্ত্রী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম এবং সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিত গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। এমনকি প্রথমে দল-সংশ্লিষ্ট একটি প্ল্যাটফর্ম ভিডিওটিকে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছিল। তবে পরে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা ওই ভিডিওতে থাকা তরুণীকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে শনাক্ত করেছেন।

এই বিষয়টি নিয়ে এবার গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম মুখ খুলেছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক ভিডিও বার্তায় জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিরোধী মন্তব্য ও কুৎসার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। মাকসুদা ইসলাম বিভিন্ন কুৎসা রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন এবং বলেছেন এই ধরনের অপপ্রচার বন্ধ না হলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত আছেন।

তিনি এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আসসালামু আলাইকুম। আমি মাকসুদা ইসলাম। আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলাম। মরিয়মের সঙ্গে তার বিবাহ হয়েছে। এ নিয়ে যেসব উক্তি করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সমাজে এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত না থাকলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%