প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদ ফাঁকে ফাঁকে পাঁচ মাস অতিক্রম করে গেছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে ঘটেছে নজিরবিহীন সব ইতিবাচক পরিবর্তন, যা বিগত কোনো সরকারের আমলেই কল্পনা করা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান ধারাবাহিকভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন এবং নজিরবিহীন একাধিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই সরকারের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছে। তবে, এই সফলতার কারণে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মাঠে নামতে শুরু করেছে।
অপরদিকে, আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা। সেই সাথে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা তার সঙ্গে দেশে ফিরবেন, এমন একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ‘ডিসেম্বর টু মার্চ’ রূপরেখা বা রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শেখ হাসিনার নির্দেশে, রাজনীতির ময়দানে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তার দোসররা মাঠে নেমেছে। বর্তমান সরকারের স্বার্থে জনসাধারণের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে তারা পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
দুর্ভাগ্যবশত, ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তে জড়িয়ে পড়ছেন বিএনপির কিছু অসাধু ও সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি। সরকারের মধ্যে সুবিধা করতে ব্যর্থ হওয়া কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে দুর্বল করতে তার বিশ্বস্ত সহযোগীদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়ে ‘পেইড’ প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত হয়েছেন।
একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত এই পেইড প্রোপাগান্ডার পেছনে বর্তমান সরকারের একটি মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিবের (এপিএস) প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’-এর তথ্যানুসারে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে ৩৫১টি এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানকে কেন্দ্র করে ৫০টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন গুজব রটানো হয়েছে। Social media platforms-এ প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীসহ তার আস্থাভাজনদের বিরুদ্ধে ভীষণ অপপ্রচার হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিকল্পিত এই অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম এবং শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। মূলত, সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কের মুখে ফেলতে এবং অসন্তোষ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এই দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীকে টার্গেট করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দলীয় বিবেচনায় নিজস্ব লোক নিয়োগ দিয়েছিল বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকার। তৎকালীন সরকারকে বেআইনিভাবে টিকিয়ে রাখা, ভোটচুরি থেকে শুরু করে যাবতীয় অপকর্মে তারা মূল ভূমিকা পালন করেছে। বিগত সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো প্রশাসনের নানা স্তরে আছেন। তারা মূলত বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলতে এবং শেখ হাসিনাকে ফের ক্ষমতায় আনতে একটি চক্রান্তের অংশ হিসেবে কাজ করছে, যাতে তাদের পূর্বের দুর্নীতি ও লুটপাটের সাম্রাজ্য পুনর্বাসিত হয়।
শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে তারা বিএনপির মন্ত্রী ও এমপিদের বিতর্কিত করার মিশন অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম এবং শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন এই প্রশাসনিক চক্রান্তের শিকার।
সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত অথবা পুনর্বিন্যাস নিয়ে গঠন হওয়া আন্দোলনটি এই ষড়যন্ত্রের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। আন্দোলনটির পেছনে উসকানি দিয়ে তারা ফায়দা নিতে চাচ্ছে। তারা যখন সড়ক অবরোধের মাধ্যমে আন্দোলন সৃষ্টি করেছে, তখন দেখা গেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে অছাত্র, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি বেশি ছিল।
জানা গেছে, শুরু থেকেই চক্রান্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর কিছু আমলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এই কারণে একটি আমলাতান্ত্রিক চক্র বিরক্ত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি বিএনপির একটি অংশও মীর শাহ আলমের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে ঈর্ষা করে। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তাকে বিতর্কিত ও অসৎ হিসেবে উপস্থাপন করতে একটি মহল মরিয়া হয়ে ওঠে।
মীর শাহ আলম তার পরিবারের কারো নামে কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা না করার জন্য লিখিত নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো সত্ত্বেও, তার পরিবারের সদস্যের নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে সেই ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে ট্রোল ও অপপ্রচারের শিকার হতে হয়। না বুঝে এবং প্রকৃত তথ্য না জানার কারণে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীও সেই অপপ্রচারে গা ভাসিয়ে সমালোচনা শুরু করেন। শুধু দেশে নয়, বিদেশ থেকেও কিছু ব্লগার অর্থের বিনিময়ে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন, যার পেছনে সরকারের একটি মন্ত্রীর এপিএস নাম উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় গাছকে উপড়ে ফেলতে হলে আগে তার ডালপালা ছাঁটাই করতে হয়। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীরা বর্তমান সরকারকে দুর্বল করার জন্য এই কৌশলে এগোচ্ছে। সেজন্যই তারা প্রধানমন্ত্রীর চারপাশের বিশ্বস্ত মানুষদের টার্গেট করে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে সার্বিকভাবে সরকারের ওপর থেকে জনসাধারণের আস্থা উঠে যায়।
কারণ, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মানুষের বিরুদ্ধে যদি কোনো অপপ্রচার চালানো হয়, সাধারণ মানুষ সহজেই তা বিশ্বাস করে নেয়। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি এই দুর্বলতা ব্যবহার করে।
সম্প্রতিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী মন্তব্য করেন, ‘আমি মনে করি এটা এক ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। যারা এসব কাজ করে, তারা মানসিকভাবে হীনমন্য এবং পরশ্রীকাতর। সরকারের উচিত অবিলম্বে এসব প্রোপাগান্ডাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।’
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া কারোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়িয়ে দেয়া সমাজে বিভ্রান্তি, ফিতনা ও পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। ইসলামে এ ধরনের কাজকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গুজব ছড়ানোকে অশ্লীলতা ও ফিতনার শামিল মনে করা হয়।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের জুলাই পদযাত্রার সময়সূচিতে পরিবর্তন। ‘গুজব ও প্রোপাগান্ডা থেকে বেঁচে থাকার বিষয়ে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা হলো- যেকোনো সংবাদ সত্য কি না তা ভালোভাবে যাচাই করা, সত্য ছাড়া মিথ্যা কিছু না বলা, অন্যের সম্মান রক্ষা করা এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: স্পষ্ট বাণী দিয়েছেন “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে”। তাই আমাদের সবার উচিত এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন