১১:৪৬ পি.এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারারমেলা শাখার উদ্যোগে ‘শিশু-কিশোর সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল ভবনের গগন হরকরা গ্যালারিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
“শিশুশ্রম রোধে আইনের চেয়ে সামাজিক সচেতনতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ” এই উক্তিকে সামনে রেখে একটি বিতর্কের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আরও পড়ুন: জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা সাময়িকভাবে বহিষ্কার
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলকুঁড়ি আসরের কেন্দ্রীয় সহকারী প্রধান পরিচালক আশরাফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক খালিদ হাসান, ফুলকুড়ি আসর তারারমেলা শাখার পরিচালক খন্দকার আহনাফউজ্জামান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (ইবিডিসি) সেক্রেটারি লাবিত হাসান ইফতি, উপদেষ্টা রায়হান আলী, অভিভাবকবৃন্দ, শিশু-কিশোরসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা৷
অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক খালিদ হাসান বলেন, একজন শিক্ষার্থী কতটা ভালো, তা তার পোশাক বা পরিচয় দিয়ে নয়, বরং তার আচরণ ও অভ্যাসের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। একজন ভালো শিক্ষার্থী হতে হলে প্রথমেই নিজের পড়ার টেবিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গোছানো রাখতে হবে। সভা-অনুষ্ঠানে বক্তার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে, চোখে চোখ রেখে কথা শুনতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে। একইভাবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, প্রশ্ন করা, জানার আগ্রহ প্রকাশ এবং শিক্ষকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
বন্ধুদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, অকারণে ঝগড়া করা এবং কাউকে খারাপ নামে বা উপনামে ডাকা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি পিতামাতার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। তাদের সঙ্গে দেখা হলে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী সালাম ও সম্মান জানানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
শেখ সাদীর একটি গল্পের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মানুষের প্রকৃত পরিচয় পোশাকে নয়, বরং তার ব্যক্তিত্ব ও আচরণে প্রকাশ পায়। তাই একজন শিক্ষার্থীকে এমনভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে, যেন তার আচরণই তার ভালো মানুষ হওয়ার পরিচয় বহন করে।
আরও পড়ুন: সচিবালয় স্থানান্তরে নতুন জটিলতার শঙ্কা
এ সময় টাইটানিক জাহাজডুবির ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও অসতর্কতা মানুষের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। ঘুম, খাদ্যাভ্যাস, পড়াশোনা ও ধর্মীয় অনুশীলনে নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। নিজেকে কখনো অজেয় বা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনে করা যাবে না; বরং বিনয়ী, কোমল ও সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ফুলকুঁড়ি আসরের লক্ষ্য শিশুদের শুধু শিক্ষিত করা নয়, বরং তাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করা।
ফুলকুরি আসরের তারারমেলা শাখার পরিচালক খন্দকার আহনাফুজ্জামান বলেন, ফুলকুঁড়ি আসর প্রতিষ্ঠার পর থেকে বায়ান্ন বছর সফলভাবে পার করেছে। আসরের প্রয়াত সদস্যদের শাহাদাতের সর্বোচ্চ মাকামের জন্য দোয়া করছি। শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশের জন্য ফুলকুঁড়ির আসরে বিনামূল্যে নিয়মিত গান, আবৃত্তি, তেলাওয়াত, হামদ, না’ত, চিত্রাঙ্কন, লেখালেখি ও খেলাধুলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিশুদের এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখতে এবং নিয়মিত ফুলকুঁড়ির আসরে পাঠাতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ফুলকুঁড়ি আসরের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
আরও পড়ুন: চাঁদাবাজি করলে ধরে পুলিশে দিন, প্রয়োজনে আমিই ব্যবস্থা নেব: আমিনুল হক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন