ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ


ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এদিকে, দুই প্রার্থী প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে জেলা নির্বাচন অফিস নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ শুরু করে। আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

এই আসনে পাঁচ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। এছাড়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলিম নিজামী বটগাছ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হোসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক ডাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?

জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিকল্পনা নেই। বুধবার শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকতে চান। প্রশাসনের প্রস্তুতির ওপর তাঁদের আস্থা রয়েছে। তবে, ১৯৯৪ সালের মাগুরা নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন দাবি করেছেন যে, উপনির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করা হচ্ছে। বুধবার রাতে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সংবাদ সম্মেলন করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে, তিনি আশাবাদী যে, সব শ্রেণি-পেশার ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের ভোটগ্রহণের জন্য ১৮৫টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ হাজার ৩০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেই জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি দাবিতে কর্মবিরতি, সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৭ এম


হবিগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি দাবিতে কর্মবিরতি, সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

হবিগঞ্জের চারটি চা বাগানের শ্রমিকরা মজুরি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করেছেন। তাঁরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন। শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে চুনারুঘাটের লালচাঁদ চা বাগানের মন্দিরের সামনে এই বিক্ষোভ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় লাল সাঁওতালের সভাপতিত্বে লালচাঁদ, দেউন্দি, গিলানী ও নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল, নোয়াপাড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কমেট নায়েক, ইউপি সদস্য দুলাল ঘোষ, কার্তিক বাকতি, লক্ষ্মীকান্ত রায় এবং দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল কুমার দাস।

শ্রমিক নেতারা জানান, মজুরির দাবির সমাধান না হওয়ায় তাঁরা এই কর্মবিরতি পালন করছেন। তাঁদের একটি প্রধান দাবি হলো, বর্তমান মালিকপক্ষকে তাঁরা আর চান না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তাঁরা।

শ্রমিক নেতারা আরও জানান, আগামী রোববার হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি দ্রুত সমস্যার সমাধান না হয়, তবে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে সচিবালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও পালন করবেন তাঁরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করা হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ এম


ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করা হচ্ছে

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের সহিংস রূপ নেওয়ার পর ১৭ অক্টোবর দেশটির কট্টর ডানপন্থিরা মুসলিম তরুণদের এই সহিংসতার জন্য দায়ী করতে শুরু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য মুসলিম অভিবাসীদের দায়ী করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর নাম উল্লেখ না করে, বলেছেন, "ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য যারা মুসলমানদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন, তারা স্টুপিডের (নির্বোধ) মতো কথা বলছেন।"

ফ্রান্সের সহিংস বিক্ষোভের কয়েক সপ্তাহ আগে স্পেনের সিউটা ছিটমহলে মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসী প্রবেশের চেষ্টা করলে, স্পেনের কট্টর ডানপন্থিরা এটিকে মরক্কোর মুসলমানদের একটি সুসংগঠিত ‘আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, স্পেনে প্রবেশের চেষ্টার মূল কারণ হলো ‘ইসলাম সবকিছু দখল করে নিতে চায়’। পশ্চিমা বিশ্বে যেকোনো সংকটে ইসলামভীতি উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে কট্টর ডানপন্থিদের এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়।

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের তীব্রতার মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইসলাম ও মুসলিমবিরোধী একটি প্রস্তাব পাস করে। এই প্রস্তাবের বিষয় ছিল ‘ইসলামপন্থি অনুপ্রবেশ এবং মুসলিম ব্রাদারহুড নেটওয়ার্কের প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি কৌশল প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা।’ মধ্য-ডানপন্থি ‘ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি’ (ইপিপি) এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল, যা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৃহত্তম রাজনৈতিক গোষ্ঠী। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েনও এ দলের সদস্য।

প্রস্তাবটির পক্ষে ৩৮১টি এবং বিপক্ষে ১৬৭ ভোট পড়ে। ১৫ জন ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন। ইপিপির এই প্রস্তাবকে প্রায় সর্বসম্মতভাবে সমর্থন জানায় চারটি দল, কট্টর ডানপন্থি ‘প্যাট্রিয়টস ফর ইউরোপ’ ও ‘ইউরোপ অব সভরেন নেশনস’, উদারপন্থি ‘রিনিউ ইউরোপ’ এবং ‘ইউরোপিয়ান কনজারভেটিভস অ্যান্ড রিফার্মিস্টস’। অন্যদিকে, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট, বামপন্থি এবং গ্রিনসের (সবুজ দল) সদস্যরা এর বিপক্ষে ভোট দিলেও তারা প্রস্তাবটি পাস হওয়া ঠেকাতে পারেননি। ফ্রান্স সরকারের ‘রাজনৈতিক ইসলামবাদ’ বিষয়ক বিতর্কিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রস্তাবে বেশ কিছু ত্রুটিপূর্ণ দাবি করা হয়েছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রস্তাবে ইউরোপে ‘ইসলামপন্থি অনুপ্রবেশবাদ’র সংজ্ঞায় তাদের কার্যক্রমের কয়েকটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ‘প্রভাব বিস্তার, পর্যায়ক্রমিক কাঠামো গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক অনুপ্রবেশ এবং আদর্শগত বৈধতা অর্জনের একটি রাজনৈতিক কৌশল।’ প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ‘ইসলামপন্থি প্রভাব বিভিন্ন সংগঠন, ফাউন্ডেশন এবং সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক, ধর্মীয়, দাতব্য, বিশ্ববিদ্যালয়, যুব, বৈষম্যবিরোধী বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মতো বিস্তৃত ও খণ্ডিত কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করে।’ সোজা কথায়, মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো নেটওয়ার্কগুলো ‘ইসলামভীতিবিরোধী’ উদ্যোগের মাধ্যমে ইউরোপীয় সমাজে ‘অনুপ্রবেশ’ করে।

তবে, এই প্রস্তাবটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য কার্যকর করা বাধ্যতামূলক নয়। মুসলিম ব্রাদারহুড এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সত্তাগুলোকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার যে আহ্বান এই প্রস্তাবে জানানো হয়েছে, তা পুরো ইউরোপে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ব্রাদারহুড রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে সহিংসতাকে বর্জন করেছে। তবে, প্রস্তাবটি এমন একটি আদর্শিক কাঠামোকে বৈধতা দেয়, যা মুসলিমদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি রাষ্ট্র থেকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত মুসলিম প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখে এবং জনজীবনে মুসলিম সুশীল সমাজের অংশগ্রহণকে এক ধরনের ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবে চিত্রিত করে।

এই প্রস্তাবে ব্রাসেলসভিত্তিক ‘ইউরোপীয় নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট রেসিজম’সহ কয়েকটি সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো ‘ইসলামপন্থি’ আচরণ করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ কারণে এগুলোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিলপ্রাপ্তির পথ বন্ধ করার এবং ইইউর অর্থায়নে পরিচালিত কোনো সংস্থাকে তাদের সঙ্গে কাজ করা থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই প্রস্তাবটি ইউরোপের বাইরের পক্ষগুলোও সহজেই একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এবং ইতোমধ্যে তা করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথা বলা যায়। আরব আমিরাত ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে এমন একটি ব্যাপক প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে, যার লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থাকে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’র সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ইমেজ ক্ষুণ্ণ করা। এই প্রস্তাবটি উত্থাপনের কয়েক মাস আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আয়োজিত ‘মুসলিম ব্রাদারহুড : ইউরোপের জন্য একটি প্রকৃত হুমকি’ শীর্ষক এক সম্মেলনে আমিরাতের একজন রাষ্ট্রদূত অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ থেকে স্পষ্ট, ইইউ পার্লামেন্টে মুসলিমবিরোধী প্রস্তাব পাসে আমিরাত প্রভাব খাটিয়েছে। এই প্রস্তাবে কাতার বা তুরস্ক থেকে আসা তথাকথিত ‘ইসলামপন্থি অনুপ্রবেশ’র পেছনে ‘বিদেশি অর্থায়ন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা পর্দার আড়ালের ভূরাজনীতিরই আরেকটি ইঙ্গিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্তাবটি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সুরক্ষা লাভের প্রচেষ্টাকে একটি ‘ইসলামপন্থি অনুপ্রবেশের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে চিত্রিত করেছে। এটি ইউরোপীয় সমাজে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রস্তাবটি ইউরোপের কট্টর ডানপন্থি ও মুসলিমবিদ্বেষী শক্তিগুলোর জন্য একটি বড় বিজয়। ইউরোপে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতির ধরন কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা এই প্রস্তাব থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মধ্য-ডানপন্থি রাজনৈতিক শিবিরের জন্য এই ইসলামবিদ্বেষী কাঠামোটি নানা রাজনৈতিক সুবিধা বয়ে আনে। এটি শুধু মুসলিমবিরোধী ভীতি ছড়ানোর মাধ্যমে নির্বাচনি ফায়দা হাসিল করতেই সাহায্য করে না, বরং বামপন্থি সেই অংশটিকেও আঘাত করার সুযোগ করে দেয়, যারা বর্ণবাদকে প্রত্যাখ্যান করে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ায়।

ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ইসলামো-লেফটিজম’ (ফরাসি ভাষায় ‘ইসলামো-গোশিস্ম’) বা ‘ইসলামি-বামপন্থা’ ধারণাটির প্রচার মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। বামপন্থি দল ‘লা ফ্রান্স আনসুমিজ’র নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তিনি আগামী বছরের প্রথমার্ধে হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে যে, তিনি ফ্রান্সে চলমান আন্দোলনে তথাকথিত ‘দাঙ্গাবাজদের’ উসকে দিচ্ছেন। আর এই ‘দাঙ্গাবাজ’ বলতে মূলত মুসলিমদেরই ইঙ্গিত করা হচ্ছে। বামপন্থি ও মুসলিমদের ওপর এই দ্বিমুখী আক্রমণ অনেকটা সেই পুরোনো ‘ইহুদি-বলশেভিক’ ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে দাবি করা হতো যে, পশ্চিমা সভ্যতা ধ্বংস করার লক্ষ্যে ইহুদিরাই কমিউনিজম ছড়িয়ে দিচ্ছে।

আজকের দিনে ‘ইসলামো-লেফটিজম’ বা ‘ইসলামি-বামপন্থা’ ধারণাটি রক্ষণশীল, উদারপন্থি এবং কট্টর ডানপন্থিদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। ১৯৬০-এর দশক থেকে বর্ণবাদ ও অসমতা দূর করার ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বে যেটুকু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, সেটাকে নস্যাৎ করে একটি প্রতি-বিপ্লব বা কাউন্টার রেভলিউশন সম্পন্ন করার চেষ্টায় তারা এই ধারণাটিকে ব্যবহার করছে। তাদের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য যেন এমন এক ‘ইউরোপীয় দুর্গ’ গড়ে তোলা, যেখানে মুসলিমদের কোনো স্থান নেই।

‘ইসলামপন্থি অনুপ্রবেশ’-সংক্রান্ত প্রস্তাবটির ভিত্তি এই মুহূর্তে যতই দুর্বল হোক না কেন, ইউরোপের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রে কট্টর ডানপন্থি জোটগুলো হয়তো ভবিষ্যতে আরো এমন সব পদক্ষেপ নেবে, যার উদ্দেশ্য হবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে মুসলমানদের সক্রিয় হয়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত করা। বিশেষ করে, যখন সেই সক্রিয়তা মুসলিমদের নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে। একই সঙ্গে, যারা ভীতি ছড়ায়, তারা সামাজিক নানা সমস্যার জন্য ইসলামকেই দায়ী করতে থাকবে, এমনকি কৃচ্ছ্র নীতির বিরুদ্ধে যে ন্যায়সংগত প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, তার জন্যও তারা ইসলামকেই দোষারোপ করবে।

ইউরোপের রাজনীতিবিদরা নিজেদের দলীয় সরকারের শাসনকার্যের ব্যর্থতা থেকে সৃষ্ট জনরোষকে মুসলমানদের দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করে যাবেন। এর মাধ্যমেই তারা জনগণের দৃষ্টি বা মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতে ইসলাম ও মুসলমানদের সামনে নিয়ে আসবেন। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সবার জন্য নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এবং উগ্র ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ গড়ে তোলা।

আলজাজিরা অবলম্বনে মোতালেব জামালী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ এম


মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান

ইসলামের ইতিহাসে অনেক মহীয়সী নারীর অস্তিত্ব রয়েছে, যাঁরা নিজেদের সম্পদ, মেধা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা বিস্তার, জ্ঞানচর্চা এবং জনকল্যাণে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন, কেউ মসজিদ নির্মাণ করেছেন এবং কেউ এতিমদের আশ্রয় ও শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। তাঁরা নিজেদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ, দেনমোহর কিংবা ব্যক্তিগত উপার্জনকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ভোগে ব্যয় করেননি; বরং মানুষের কল্যাণে এবং ইলমের প্রসারে ব্যয় করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

ইসলাম নারীদের সম্পদের মালিকানা, উত্তরাধিকার লাভ এবং নিজেদের সম্পদ ব্যবহারের স্বতন্ত্র অধিকার প্রদান করেছে। একজন নারী তাঁর বাবার সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার পান, স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহর লাভ করেন এবং বৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের মালিক হন। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর ওপর বর্তায় নির্ধারিত শর্তে। ফলে নারীর নিজস্ব সম্পদ থাকলে তা দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন, ব্যবসা করতে পারেন কিংবা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে পারেন।

যুগে যুগে মুসলিম সমাজের বহু নারী এই অধিকারকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মানবকল্যাণে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের অবদান শুধুমাত্র অর্থদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, জ্ঞানচর্চা এবং স্থায়ী জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁরা ছিলেন অগ্রগামী।

বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.)-এর উইলে তাঁর স্ত্রীর প্রাপ্য অনাদায়ী হাতখরচের অর্থের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরিমাণটি ছিল ৩০০ দিনার। তৎকালীন মিসরের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই অর্থের মূল্য ছিল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। এ ঘটনা থেকে মধ্যযুগের মুসলিম সমাজে নারীর আর্থিক অধিকার ও সম্পদের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে এসব সম্পদ কীভাবে সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হতো, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় মুসলিম ইতিহাসের বহু মহীয়সী নারীর জীবন ও কর্মে।

ফাতিমা আল-ফিহরি : জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে যার অবদান অনস্বীকার্য

মুসলিম ইতিহাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় নারীদের অবদানের কথা বলতে গেলে প্রথমেই ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ আল-ফিহরি (রহ.)-এর নাম স্মরণ করতে হয়। তিনি ছিলেন জ্ঞানানুরাগী, ধর্মপরায়ণ এবং জনকল্যাণে নিবেদিত এক মহীয়সী নারী। তাঁর বাবা মুহাম্মদ আল-ফিহরি ছিলেন একজন বিত্তশালী ব্যবসায়ী। পরিবারের বসতি ছিল মরক্কোর ফাস নগরে। বাবার মৃত্যুর পর ফাতিমা ও তাঁর বোন মারিয়াম উত্তরাধিকারসূত্রে উল্লেখযোগ্য সম্পদের মালিক হন। তাঁরা সেই সম্পদ নিজেদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের পাশাপাশি ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেন।

ফাতিমা আল-ফিহরি ইসলামী জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং মানুষের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি নিজের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ থেকে জমি কিনে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যায়, নির্মাণকাজের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি সতর্কতা অবলম্বন করতেন, যাতে তাঁর সম্পদ বৈধভাবে ব্যয় হয় এবং প্রতিষ্ঠানের নির্মাণে হারাম অর্থের সংমিশ্রণ না ঘটে।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত আল-কারাউইয়িন মসজিদ ও শিক্ষাকেন্দ্র পরবর্তী সময়ে ইসলামী জ্ঞানচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মরক্কোর ফাস নগরে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, ফিকহ, হাদিস, ভাষা ও অন্যান্য জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ফাতিমার এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, তিনি নিজের সম্পদকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যয় করেছিলেন, যার সুফল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ ভোগ করেছে। তাঁর জীবন মুসলিম নারীদের জ্ঞানচর্চা, দূরদর্শিতা ও জনকল্যাণে আত্মনিয়োগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

তাঁর বোন মারিয়ামও জনকল্যাণমূলক কাজে পিছিয়ে ছিলেন না। তিনি ফাস নগরে জামেউল আন্দালুস নামে পরিচিত একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন। এভাবে দুই বোন নিজেদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদকে ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণে কাজে লাগিয়ে মুসলিম ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উম্মে হুসাইন : এতিমদের আশ্রয় ও শিক্ষার ব্যবস্থা

মক্কার প্রধান বিচারপতি শায়খ শিহাবুদ্দিন তাবারি (রহ.)-এর কন্যা উম্মে হুসাইনও ছিলেন জ্ঞানী ও ধর্মপরায়ণ নারী। ঐতিহাসিক বিবরণে তাঁকে মুহাদ্দিসা ও ফকিহা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করার আগ্রহও ছিল তাঁর প্রবল।

তিনি মক্কায় একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে এতিম শিশুরা আশ্রয়, খাবার ও শিক্ষার সুযোগ পেতে পারত। এতিমদের জীবনকে নিরাপদ ও সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেই তিনি দায়িত্ব শেষ করেননি; বরং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম যেন দীর্ঘদিন নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সে ব্যবস্থাও করেছিলেন।

এ উদ্দেশ্যে তিনি মক্কা ও মক্কার বাইরের বিভিন্ন সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ করে দেন বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। ওয়াক্‌ফের মাধ্যমে সম্পদের আয় জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার যে ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন, তা ছিল দূরদর্শী উদ্যোগ। কারণ, এর ফলে ব্যক্তির মৃত্যুর পরও তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান মানুষের উপকারে আসার সুযোগ পায়।

রাজপরিবারের নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা

মুসলিম ইতিহাসে শুধু সাধারণ বিত্তশালী পরিবার নয়, রাজপরিবারের নারীরাও শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁদের অনেকেই নিজেদের সম্পদ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে মাদ্রাসা, গ্রন্থাগার এবং ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।

মিসরের সুলতান নাসির মুহাম্মদ ইবনু কালাউনের কন্যার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাতুল হিজাজিয়্যাহ এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ঐতিহাসিক বিবরণে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের কথা পাওয়া যায়। সেখানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়ানোর জন্য বিপুলসংখ্যক বই সংরক্ষণ ও ওয়াক্‌ফ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি শুধু পাঠদানের স্থান হিসেবেই নয়, বরং জ্ঞান অর্জন ও বইপত্র অধ্যয়নের কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

খলিফা নাসির লিদিনিল্লাহর মা জামরাদও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্য স্মরণীয়। তুর্কি বংশোদ্ভূত এই নারী একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।

একইভাবে বাদশাহ আশরাফ মুসার স্ত্রী তুরকান বিনতে মালিক সিরিয়ার মাকামে জাবালে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি তাঁর নামেই পরিচিতি লাভ করে। মৃত্যুর পর তাঁকে সেই মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়। সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি (রহ.)-এর বোন রাবিয়া খাতুনও ছিলেন জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য পরিচিত। তিনিও সিরিয়ায় একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

উসমানি সাম্রাজ্যে নারীদের শিক্ষায় বিনিয়োগ

উসমানি সাম্রাজ্যের ইতিহাসেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় নারীদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সুলতান মুরাদ শাহের মা ইস্কাদার শহরে একটি বড় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যায়।

প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন উপলক্ষে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আলেমদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে আগত আলেমদের প্রত্যেককে এক হাজার দিনার করে উপহার দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্য থেকে ৫০ জন আলেমকে মাদ্রাসাটির শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ রয়েছে।

এই ঘটনা থেকে তৎকালীন মুসলিম সমাজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং আলেমদের সম্মান জানানোর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একজন নারী শুধু একটি ভবন নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং সেখানে পাঠদান ও জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগও নিয়েছিলেন।

তাজবিদ ও কিরাত শিক্ষায় নারীর অবদান

দামেস্কের উম্মে সালেহ নামের এক নারীও শিক্ষাবিস্তারে স্বতন্ত্র ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষ মাদ্রাসার কথা পাওয়া যায়, যেখানে মূলত পবিত্র কোরআনের তাজবিদ ও কিরাত বিষয়ে পাঠদান করা হতো।

কোরআন সঠিকভাবে তিলাওয়াত করা, উচ্চারণের নিয়ম শেখা এবং বিভিন্ন কিরাতের জ্ঞান সংরক্ষণ করা ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি কোরআন শিক্ষার প্রসারে অবদান রেখেছিলেন।

বাংলাদেশেও রয়েছে নারীদের অবদানের ঐতিহাসিক নিদর্শন

নারীদের ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহ্য শুধু আরব, মিসর, সিরিয়া কিংবা উত্তর আফ্রিকায় সীমাবদ্ধ ছিল না। বাংলার ইতিহাসেও নারীদের উদ্যোগে মসজিদ প্রতিষ্ঠার নজির পাওয়া যায়।

ঢাকার নারিন্দা অঞ্চলে সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের কন্যা মুসাম্মাত বখত বিনত বিবি ৮৬১ হিজরিতে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। এ ধরনের নিদর্শন প্রমাণ করে, বাংলার মুসলিম সমাজেও নারীরা ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ ও জনকল্যাণমূলক কাজে অবদান রেখেছেন।

বর্তমানে নারীদের করণীয়

মুসলিম ইতিহাসের এসব ঘটনা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরে—সম্পদ শুধু ব্যক্তিগত ভোগের উপকরণ নয়; সঠিক নিয়ত ও পরিকল্পনার মাধ্যমে তা মানুষের কল্যাণের স্থায়ী মাধ্যমেও পরিণত হতে পারে। ফাতিমা আল-ফিহরির মতো নারীরা নিজেদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। উম্মে হুসাইনের মতো নারীরা এতিমদের আশ্রয় ও শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। অন্যরা মসজিদ, গ্রন্থাগার এবং বিশেষায়িত ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।

আজকের সমাজেও এই ঐতিহ্য থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সামর্থ্যবান নারীরা চাইলে শিক্ষাবৃত্তি চালু করতে পারেন, এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য সহায়তা তহবিল গঠন করতে পারেন, গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন কিংবা মসজিদ-মাদ্রাসা ও অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদ সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে ব্যবহৃত হতে পারে। মহান আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ এম


প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন

জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষ করে আজ বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (ভিভিআইপি ফ্লাইট) টোকিওর হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেবেন এবং বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতেই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।

এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া।

সফরের সময় কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য-প্রযুক্তি এবং শিল্প খাতের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাপানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটান। তার সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় এবং কৌশলগত অংশীদারি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারী ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের নানা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সফরের শেষ ভাগে, টোকিওতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%