বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:০০ এম
ইসরাইলের নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট আসন হারিয়েছে। তবে তার রাজনৈতিক প্রভাব এখনও শেষ হয়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বিরোধীদের জন্য সরকার গঠন করা সহজ হবে না।
নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারের মূল বার্তা ছিল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং জরুরি অবস্থা বজায় রাখা। তিনি ভোটারদের জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলের উপর হামলার জন্য তিনি দায়ী নন। তার দাবি, ওই হামলার দায় সামরিক নেতৃত্বের।
নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেছেন, সামরিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার পর তিনি পরিস্থিতি সামলেছেন। তার নেতৃত্বে ইসরায়েল আগের চেয়ে নিরাপদ হয়েছে।
তবে ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় নেতানিয়াহু এবং তার মিত্ররা ভোট হারিয়েছেন। তাদের জোটের আসন আট থেকে দশটি কমতে পারে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিরোধী দলগুলোও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। নেতানিয়াহুর জোট দুর্বল হলেও বিরোধীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারেনি। তথাকথিত ‘পরিবর্তনপন্থী’ শিবিরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
এই নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ফিলিস্তিনি দলগুলোর অগ্রগতি। বিশেষ করে জয়েন্ট লিস্ট জোট এবং মানসুর আব্বাসের রাআম পার্টির ফল নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।
নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দুই পক্ষ একসঙ্গে ইসরাইলের ১২০ আসনের সংসদে ১৯টি পর্যন্ত আসন পেতে পারে।
ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। কিন্তু দেশটির সরকার ও রাজনীতিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছেন। এবারের নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ ও আসন বৃদ্ধি সেই পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ফিলিস্তিনি ভোট ছাড়া সরকার গঠন কঠিন
মানসুর আব্বাস জয়েন্ট লিস্ট থেকে আলাদা হয়ে ইহুদি ইসরায়েলি দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার পথ বেছে নিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের জন্য বাস্তব সুবিধা আদায় করা। আগের নির্বাচনগুলোতে এই কৌশলে তিনি কিছু সাফল্যও পেয়েছেন।
তবে এবারের নির্বাচনে জয়েন্ট লিস্ট রাআমের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়েছে বলে নির্বাচনী বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরাইলের বিরোধী দলগুলো জাতীয়তাবাদী অবস্থান, অতি-ধর্মীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরোধিতা এবং সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ফিলিস্তিনি ভোটারদের সমর্থন ছাড়া তাদের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেতানিয়াহুর বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের সঙ্গে তিনি ঐক্য সরকার গঠন করলেও ফিলিস্তিনি দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব থেকে যাবে। এমন সরকারে ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের মতো কট্টর ডানপন্থী নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা কঠিন হতে পারে। তবে সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমীকরণ এখনও স্পষ্ট নয়।
ফিলিস্তিনি ভোটারদের বড় অংশের অংশগ্রহণের পেছনে এই দুই নেতাকে ক্ষমতার বাইরে রাখার আকাঙ্ক্ষাও কাজ করে থাকতে পারে।
ইহুদি উদারপন্থীদের সামনে দুটি পথ
নির্বাচনের ফল ইসরাইলের ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থী ইহুদি রাজনীতির সামনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ইহুদি ধর্মনিরপেক্ষ উদারপন্থীদের সামনে দুটি পথ রয়েছে। হয় তাদের চিরকাল নেতানিয়াহু বা তার মতো কারও অধীনে থাকতে হবে। নয়তো আরব দল ও ভোটারদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে হবে।
ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সমর্থন ছাড়া বিরোধী শিবিরের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সংকুচিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এই পরিবর্তনের ফলে ইসরাইলের উদারপন্থীরা ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে তাদের পুরোনো অবস্থান পুরোপুরি বদলে ফেলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
রাজনৈতিক আদর্শের পরিবর্তনের বদলে বাস্তব প্রয়োজন তাদের ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করতে পারে। রাজনৈতিক স্বার্থ অনেক সময় দলগুলোর পুরোনো অবস্থান বদলাতে ভূমিকা রাখে।
তবে বিপরীত সম্ভাবনাও রয়েছে। ডানপন্থী দলগুলো আরব ভোটারদের রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর চেষ্টা করতে পারে। স্মোট্রিচ, বেন-গভির এবং নেতানিয়াহুও এমন পথ খুঁজতে পারেন।
ফিলিস্তিনি ভোটারদের সামনে পরিচয় ও অধিকারের প্রশ্ন
ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যেও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
মানসুর আব্বাসের রাআম পার্টি মনে করে, ইসরায়েলি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে কাজ করে নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য বাস্তব সুবিধা আদায় করা জরুরি।
এই কৌশলে শিক্ষা, উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর অর্থ হলো, গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং বিশ্বের অন্য অঞ্চলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ থেকে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার কিছুটা আলাদা হয়ে যেতে পারে।
আব্বাসের রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী, অন্য অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করার ক্ষমতা তাদের সীমিত। ইসরায়েলি রাষ্ট্র অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই নিজেদের অধিকার ও জীবনযাত্রার উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া দরকার।
অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট দখলদারত্বের মধ্যে থাকা এবং দেশের বাইরে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের নৈতিক দায়বদ্ধতা ছেড়ে দেয়নি।
মঙ্গলবারের ভোটে ফিলিস্তিনি ভোটাররা প্রায় দুই-এক অনুপাতে জয়েন্ট লিস্টের পরিচয় ও অগ্রাধিকারের ধারণাকে সমর্থন করেছেন বলে নির্বাচনী বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
তাদের দাবি শুধু ভালো নাগরিক সেবা নয়। তারা বৈষম্য কমাতে চান। উন্নত আবাসন চান। নিরাপদ সমাজ চান। ফিলিস্তিনি এলাকায় সংগঠিত অপরাধ ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
তবে এসব দাবি পূরণের জন্য তারা নিজেদের ফিলিস্তিনি পরিচয় ছেড়ে দিতে চান না।
নেতানিয়াহুবিরোধী সরকারকে সমর্থনে চার শর্ত
জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসুফ জাবারিন নির্বাচনী প্রচারের সময় নেতানিয়াহুকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনে সমর্থনের জন্য চারটি শর্ত তুলে ধরেছিলেন।
প্রথমত, অপরাধ দমন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ফিলিস্তিনি জনপদের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করতে হবে। তৃতীয়ত, আরব নাগরিকদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি স্পষ্ট প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
এই শর্তগুলো দেখায়, ফিলিস্তিনি দলগুলোর কাছে সরকার গঠনের আলোচনা শুধু ক্ষমতার ভাগাভাগি নয়। তাদের পরিচয়, অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিও এর সঙ্গে যুক্ত।
জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম যদি আইজেনকট কিংবা নাফতালি বেনেটের সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করে, তাহলে ফিলিস্তিনি পরিচয় এবং অধিকৃত অঞ্চলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের প্রশ্ন আলোচনার টেবিলে আসতে পারে।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি কীভাবে ব্যবহার করবেন ফিলিস্তিনিরা?
ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে এই সুযোগ কাজে লাগানো সহজ হবে না। তাদের এমন দাবি তুলতে হবে, যা ইহুদি রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। একই সঙ্গে নিজেদের পরিচয়, মৌলিক অধিকার, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের দাবি এবং দখলদারত্বের অবসানের প্রশ্নেও অবস্থান ধরে রাখতে হবে।
এই নির্বাচনের ফলে ফিলিস্তিনি দলগুলোর দর-কষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। তবে সেই ক্ষমতা কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।
ইসরাইলের ধর্মনিরপেক্ষ মধ্যপন্থী দল এবং ফিলিস্তিনি নাগরিক—দুই পক্ষের জন্যই সামনে কঠিন আলোচনা অপেক্ষা করছে।
সূত্র-মিডল ইস্ট আই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তিন সাবেক মন্ত্রী এবং পুলিশপ্রধানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুলিশি নিরাপত্তায় তাদের পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক (৭০), সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক (৪৬) এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (৬২) রয়েছেন।
বুধবার বেলা ৩টার দিকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়, যা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। সেখানে চিকিৎসা পরীক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর পৌনে ৪টার দিকে তাদের আবার নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত কয়েক মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান রয়েছে।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলার শেষে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে রয়েছে। তারা প্রথম ইনিংসে ১ রানের লিড অর্জন করেছে। দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৪ উইকেটে ৩৩০ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে রান ছিল ৩২৯।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জশ ইংলিস ও অ্যালেক্স ক্যারি অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শন করেছেন। পঞ্চম উইকেটে তারা ১৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন। ইংলিস ৮৫ রান এবং ক্যারি ৫১ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
এর আগে, ম্যাট রেনশ ও ক্যামেরন গ্রিন তৃতীয় উইকেটে ১২৬ রান যোগ করেন। রেনশ ৭৪ রান করেছেন, আর গ্রিনের ব্যাট থেকে এসেছে ৬৫ রান।
দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়া চাপে পড়ে যায়। ট্রাভিস হেড ৪১ রান করে আউট হন এবং মার্নাস লাবুশেন কোনো রান না করেই ফিরে যান। দুজনকেই আউট করেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সাইমন হারমার।
তবে রেনশ ও গ্রিন দলকে সামলে নেন। পরে মার্কো ইয়ানসেনের বলে দুজনই আউট হন। এরপর ইংলিস ও ক্যারি ব্যাট হাতে দলের হাল ধরেন।
ঘাড়ের চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ এই টেস্টে খেলছেন না। তবে তার অনুপস্থিতি নিয়ে রেনশ জানিয়েছেন যে, "বাড়তি কোনো আলোচনা হয়নি।"
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে ইয়ানসেন ভালো করেছেন। তিনি নিজের ২৪তম টেস্টে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। একই দিনে টেস্ট ক্রিকেটে বোলার ও অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন এই পেসার।
অন্যদিকে, পেটের পেশিতে টান থাকার কারণে কাগিসো রাবাদা সমস্যায় পড়েছেন। তিনি ১৮ ওভার বল করে ৮১ রান দিয়েছেন। তার এক ওভারে গ্রিন দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরেছেন।
প্রথম দিন দক্ষিণ আফ্রিকা এক উইকেটে ২০৩ রান তুলেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারা ৩২৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। তবে বিরোধীদের জন্য নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার, প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেশটির তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাসে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোট ১২০ আসনের সংসদে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে।
আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে। এসব দলের সমর্থন ছাড়া বিরোধীদের জন্য সরকার গঠন করা কঠিন হবে। তবে অধিকাংশ ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। প্রয়োজন হলে আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তাকে এই দায়িত্বে থাকতে হতে পারে।
বুধবার ভোরে, নিজের দল লিকুদের সমর্থকদের সামনে বক্তব্য প্রদানকালে নেতানিয়াহু একটি ‘শক্তিশালী ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান।
তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের হুমকি চিরতরে দূর করার জন্য দুই দেশের সামনে ‘ইতিহাসের এক অনন্য সুযোগ’ এসেছে।
ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর নির্বাচনী ফলের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ‘খুব ভালো করেছেন’। তার সমর্থন নেতানিয়াহুকে অনেক সাহায্য করেছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
নেতানিয়াহুর বিরোধীরা আশা করেছিলেন যে, নির্বাচনে তার পরাজয় হলে ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির প্রভাব কমবে। তবে নির্বাচনের ফল তাদের হতাশ করেছে।
আইজেনকোট অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ইস্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আহ্বান জানাচ্ছি, নেতানিয়াহু একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী। জনগণের কাছ থেকে তার কোনো নতুন ম্যান্ডেট বা আস্থা নেই। আপনাদের চ্যালেঞ্জ করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকুন।’
নির্বাচনের ফল ইসরাইলের রাজনীতিতে ডানপন্থীদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে। দেশটির মধ্য-বামপন্থী দলগুলো এখন অনেকটাই দুর্বল। অন্যদিকে, প্রায় সব ইহুদি রাজনৈতিক দলই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপর গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ইসরাইলের হামলায় গাজায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইল ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলিদের মধ্যেও ভোটের হার ছিল বেশি।
সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বিরোধীদের সরকার গঠনের পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। চূড়ান্ত ফল ও জোট গঠনের আলোচনাই ঠিক করবে ইসরাইলের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
সূত্র- রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রদত্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এই সব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ