বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৯ এম
ইসলামের ইতিহাসে অনেক মহীয়সী নারীর অস্তিত্ব রয়েছে, যাঁরা নিজেদের সম্পদ, মেধা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা বিস্তার, জ্ঞানচর্চা এবং জনকল্যাণে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন, কেউ মসজিদ নির্মাণ করেছেন এবং কেউ এতিমদের আশ্রয় ও শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। তাঁরা নিজেদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ, দেনমোহর কিংবা ব্যক্তিগত উপার্জনকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ভোগে ব্যয় করেননি; বরং মানুষের কল্যাণে এবং ইলমের প্রসারে ব্যয় করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
ইসলাম নারীদের সম্পদের মালিকানা, উত্তরাধিকার লাভ এবং নিজেদের সম্পদ ব্যবহারের স্বতন্ত্র অধিকার প্রদান করেছে। একজন নারী তাঁর বাবার সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার পান, স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহর লাভ করেন এবং বৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের মালিক হন। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর ওপর বর্তায় নির্ধারিত শর্তে। ফলে নারীর নিজস্ব সম্পদ থাকলে তা দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন, ব্যবসা করতে পারেন কিংবা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে পারেন।
যুগে যুগে মুসলিম সমাজের বহু নারী এই অধিকারকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মানবকল্যাণে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের অবদান শুধুমাত্র অর্থদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, জ্ঞানচর্চা এবং স্থায়ী জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁরা ছিলেন অগ্রগামী।
বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.)-এর উইলে তাঁর স্ত্রীর প্রাপ্য অনাদায়ী হাতখরচের অর্থের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরিমাণটি ছিল ৩০০ দিনার। তৎকালীন মিসরের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই অর্থের মূল্য ছিল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। এ ঘটনা থেকে মধ্যযুগের মুসলিম সমাজে নারীর আর্থিক অধিকার ও সম্পদের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে এসব সম্পদ কীভাবে সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হতো, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় মুসলিম ইতিহাসের বহু মহীয়সী নারীর জীবন ও কর্মে।
ফাতিমা আল-ফিহরি : জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে যার অবদান অনস্বীকার্য
মুসলিম ইতিহাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় নারীদের অবদানের কথা বলতে গেলে প্রথমেই ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ আল-ফিহরি (রহ.)-এর নাম স্মরণ করতে হয়। তিনি ছিলেন জ্ঞানানুরাগী, ধর্মপরায়ণ এবং জনকল্যাণে নিবেদিত এক মহীয়সী নারী। তাঁর বাবা মুহাম্মদ আল-ফিহরি ছিলেন একজন বিত্তশালী ব্যবসায়ী। পরিবারের বসতি ছিল মরক্কোর ফাস নগরে। বাবার মৃত্যুর পর ফাতিমা ও তাঁর বোন মারিয়াম উত্তরাধিকারসূত্রে উল্লেখযোগ্য সম্পদের মালিক হন। তাঁরা সেই সম্পদ নিজেদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের পাশাপাশি ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেন।
ফাতিমা আল-ফিহরি ইসলামী জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং মানুষের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি নিজের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ থেকে জমি কিনে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যায়, নির্মাণকাজের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি সতর্কতা অবলম্বন করতেন, যাতে তাঁর সম্পদ বৈধভাবে ব্যয় হয় এবং প্রতিষ্ঠানের নির্মাণে হারাম অর্থের সংমিশ্রণ না ঘটে।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত আল-কারাউইয়িন মসজিদ ও শিক্ষাকেন্দ্র পরবর্তী সময়ে ইসলামী জ্ঞানচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মরক্কোর ফাস নগরে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, ফিকহ, হাদিস, ভাষা ও অন্যান্য জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ফাতিমার এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, তিনি নিজের সম্পদকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যয় করেছিলেন, যার সুফল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ ভোগ করেছে। তাঁর জীবন মুসলিম নারীদের জ্ঞানচর্চা, দূরদর্শিতা ও জনকল্যাণে আত্মনিয়োগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তাঁর বোন মারিয়ামও জনকল্যাণমূলক কাজে পিছিয়ে ছিলেন না। তিনি ফাস নগরে জামেউল আন্দালুস নামে পরিচিত একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন। এভাবে দুই বোন নিজেদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদকে ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণে কাজে লাগিয়ে মুসলিম ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
উম্মে হুসাইন : এতিমদের আশ্রয় ও শিক্ষার ব্যবস্থা
মক্কার প্রধান বিচারপতি শায়খ শিহাবুদ্দিন তাবারি (রহ.)-এর কন্যা উম্মে হুসাইনও ছিলেন জ্ঞানী ও ধর্মপরায়ণ নারী। ঐতিহাসিক বিবরণে তাঁকে মুহাদ্দিসা ও ফকিহা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করার আগ্রহও ছিল তাঁর প্রবল।
তিনি মক্কায় একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে এতিম শিশুরা আশ্রয়, খাবার ও শিক্ষার সুযোগ পেতে পারত। এতিমদের জীবনকে নিরাপদ ও সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেই তিনি দায়িত্ব শেষ করেননি; বরং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম যেন দীর্ঘদিন নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সে ব্যবস্থাও করেছিলেন।
এ উদ্দেশ্যে তিনি মক্কা ও মক্কার বাইরের বিভিন্ন সম্পত্তি ওয়াক্ফ করে দেন বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। ওয়াক্ফের মাধ্যমে সম্পদের আয় জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার যে ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন, তা ছিল দূরদর্শী উদ্যোগ। কারণ, এর ফলে ব্যক্তির মৃত্যুর পরও তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান মানুষের উপকারে আসার সুযোগ পায়।
রাজপরিবারের নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা
মুসলিম ইতিহাসে শুধু সাধারণ বিত্তশালী পরিবার নয়, রাজপরিবারের নারীরাও শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁদের অনেকেই নিজেদের সম্পদ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে মাদ্রাসা, গ্রন্থাগার এবং ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।
মিসরের সুলতান নাসির মুহাম্মদ ইবনু কালাউনের কন্যার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাতুল হিজাজিয়্যাহ এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ঐতিহাসিক বিবরণে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের কথা পাওয়া যায়। সেখানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়ানোর জন্য বিপুলসংখ্যক বই সংরক্ষণ ও ওয়াক্ফ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি শুধু পাঠদানের স্থান হিসেবেই নয়, বরং জ্ঞান অর্জন ও বইপত্র অধ্যয়নের কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
খলিফা নাসির লিদিনিল্লাহর মা জামরাদও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্য স্মরণীয়। তুর্কি বংশোদ্ভূত এই নারী একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।
একইভাবে বাদশাহ আশরাফ মুসার স্ত্রী তুরকান বিনতে মালিক সিরিয়ার মাকামে জাবালে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি তাঁর নামেই পরিচিতি লাভ করে। মৃত্যুর পর তাঁকে সেই মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়। সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি (রহ.)-এর বোন রাবিয়া খাতুনও ছিলেন জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য পরিচিত। তিনিও সিরিয়ায় একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
উসমানি সাম্রাজ্যে নারীদের শিক্ষায় বিনিয়োগ
উসমানি সাম্রাজ্যের ইতিহাসেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় নারীদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সুলতান মুরাদ শাহের মা ইস্কাদার শহরে একটি বড় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যায়।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন উপলক্ষে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আলেমদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে আগত আলেমদের প্রত্যেককে এক হাজার দিনার করে উপহার দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্য থেকে ৫০ জন আলেমকে মাদ্রাসাটির শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ রয়েছে।
এই ঘটনা থেকে তৎকালীন মুসলিম সমাজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং আলেমদের সম্মান জানানোর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একজন নারী শুধু একটি ভবন নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং সেখানে পাঠদান ও জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগও নিয়েছিলেন।
তাজবিদ ও কিরাত শিক্ষায় নারীর অবদান
দামেস্কের উম্মে সালেহ নামের এক নারীও শিক্ষাবিস্তারে স্বতন্ত্র ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষ মাদ্রাসার কথা পাওয়া যায়, যেখানে মূলত পবিত্র কোরআনের তাজবিদ ও কিরাত বিষয়ে পাঠদান করা হতো।
কোরআন সঠিকভাবে তিলাওয়াত করা, উচ্চারণের নিয়ম শেখা এবং বিভিন্ন কিরাতের জ্ঞান সংরক্ষণ করা ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি কোরআন শিক্ষার প্রসারে অবদান রেখেছিলেন।
বাংলাদেশেও রয়েছে নারীদের অবদানের ঐতিহাসিক নিদর্শন
নারীদের ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহ্য শুধু আরব, মিসর, সিরিয়া কিংবা উত্তর আফ্রিকায় সীমাবদ্ধ ছিল না। বাংলার ইতিহাসেও নারীদের উদ্যোগে মসজিদ প্রতিষ্ঠার নজির পাওয়া যায়।
ঢাকার নারিন্দা অঞ্চলে সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের কন্যা মুসাম্মাত বখত বিনত বিবি ৮৬১ হিজরিতে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। এ ধরনের নিদর্শন প্রমাণ করে, বাংলার মুসলিম সমাজেও নারীরা ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ ও জনকল্যাণমূলক কাজে অবদান রেখেছেন।
বর্তমানে নারীদের করণীয়
মুসলিম ইতিহাসের এসব ঘটনা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরে—সম্পদ শুধু ব্যক্তিগত ভোগের উপকরণ নয়; সঠিক নিয়ত ও পরিকল্পনার মাধ্যমে তা মানুষের কল্যাণের স্থায়ী মাধ্যমেও পরিণত হতে পারে। ফাতিমা আল-ফিহরির মতো নারীরা নিজেদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। উম্মে হুসাইনের মতো নারীরা এতিমদের আশ্রয় ও শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। অন্যরা মসজিদ, গ্রন্থাগার এবং বিশেষায়িত ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।
আজকের সমাজেও এই ঐতিহ্য থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সামর্থ্যবান নারীরা চাইলে শিক্ষাবৃত্তি চালু করতে পারেন, এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য সহায়তা তহবিল গঠন করতে পারেন, গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন কিংবা মসজিদ-মাদ্রাসা ও অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদ সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে ব্যবহৃত হতে পারে। মহান আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষ করে আজ বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (ভিভিআইপি ফ্লাইট) টোকিওর হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেবেন এবং বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতেই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া।
সফরের সময় কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য-প্রযুক্তি এবং শিল্প খাতের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জাপানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটান। তার সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় এবং কৌশলগত অংশীদারি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারী ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের নানা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
সফরের শেষ ভাগে, টোকিওতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তারা শুরু করেনি। তবে, তার মতে, তিনি ক্ষমতায় আসার পূর্বে এই সংঘাতের সমাধান হওয়া উচিত ছিল।
৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের চিলিকোথে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের কাছে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, কিন্তু সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ড্রোন উৎপাদনকারীরা বর্তমানে সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ড্রোন নির্মাতারা উৎপাদন কার্যক্রম চালাতে পারছেন না।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি।” তিনি আরও বলেন, “আমি এখানে আসার অনেক আগেই এই সংঘাতের সমাধান করা উচিত ছিল।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। সেই সময় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছিল। আলোচনার সময়েই দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
এর আগে, গত বছরও আলোচনা চলাকালীন সময়ে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দশকের পর দশক ধরে ভোটদানকে অর্থহীন মনে করে আসা এবং ইসরায়েলি রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বয়কট করার দীর্ঘ অবস্থান ভেঙে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ইসরায়েলের বহু ফিলিস্তিনি নাগরিক। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তীব্র বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার বিপরীতে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং কট্টর ডানপন্থী শক্তির উত্থান প্রতিহত করতেই তাদের এই নীতিগত অবস্থান বদল ঘটেছে।
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশের বেশি) ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের একটি বড় অংশ এই বিশ্বাসে নির্বাচন বর্জন করে আসছিল যে, যে রাষ্ট্রকাঠামো তাঁদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করে এবং অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমনপীড়ন চালায়, সেই ব্যবস্থার নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানে প্রকারান্তরে রাষ্ট্রের দমনমূলক নীতিকেই বৈধতা দেওয়া। তাছাড়া বিগত কোনো সরকারই আরব সম্প্রদায়ের মৌলিক নাগরিক সমতা, বাজেট বরাদ্দ বা আইনগত নিরাপত্তার প্রশ্নে কার্যকর কোনো পরিবর্তন আনেনি।
তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে এই বয়কটের প্রাচীর ভাঙার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে দেশটির রাজনীতিতে কট্টর ডানপন্থী ও চরম বর্ণবাদী রাজনীতিকদের নগ্ন উত্থান। সরকারে এসব চরমপন্থীদের ক্ষমতার অংশীদার হওয়া ঠেকাতে এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অনেকেই এবার ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় শহরগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত অপরাধ ও সহিংসতা দমন, বাড়িঘর উচ্ছেদ ও জমি দখল রোধ এবং বাজেট বৈষম্য কমানোর শেষ আইনি হাতিয়ার হিসেবে সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাকেই এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত লড়াই বলে বেছে নিচ্ছেন দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিকরা।
সূত্র: হারেৎজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে আরব দলগুলো নজিরবিহীনভাবে ১৯টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া সত্ত্বেও, দেশটির ফিলিস্তিনি ও আরব নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তির পরিবর্তে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব ভোটাররা রেকর্ড হারে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হলেও, ইসরায়েলি রাজনীতির জটিল সমীকরণে এই আসনগুলো কি সত্যিই নেতানিয়াহুর বিদায় নিশ্চিত করবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার (৬১ আসন) তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দলনেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির এবং আরব দলগুলোর আসন মিলিয়ে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা (প্রায় ৬৭ আসন) দাঁড়িয়েছে। এই রাজনৈতিক পটভূমিতে আরবদের ভূমিকা এখন সরকার গঠনের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।
তবে, আরব ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে সংশয়ের মূল কারণগুলো হলো: ইহুদি বিরোধী দলগুলোর দ্বিধাদ্বন্দ্ব। আইজেনকোটসহ মূলধারার বিরোধী নেতারা নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সরকার না গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আরব দলগুলোর সরাসরি সমর্থন গ্রহণ করলে ডানপন্থী ইহুদি ভোটারদের ক্ষোভের মুখোমুখি হতে পারেন তাঁরা।
নেতানিয়াহুর কড়া প্রচারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল’ বলে আক্রমণ করছেন, যা ইহুদি বিরোধী দলগুলোর ওপর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে।
আরব দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভক্তিও একটি সমস্যা। ‘জয়েন্ট লিস্ট’ আইজেনকোটের সঙ্গে কাজ করে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রস্তাব দিলেও, মনসুর আব্বাসের দল ‘রাম’ তাদের সব পথ খোলা রাখছে।
আরব দলগুলোর প্রাপ্ত ১৯টি আসন নেতানিয়াহুর পথকে কঠিন করে দিলেও, বিরোধী দলগুলো তাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে জোট বাঁধবে কি না অথবা শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল ফের কোনো রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও পুনর্নির্বাচনের দিকে যাবে কি না, তা দেশটির ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
সূত্র : হারেৎজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ