কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৩ পি.এম
গৌরবের ঐতিহ্য ও ইতিহাস ধারণ করে তারুণ্যের উল্লাস, ব্যান্ডের তালে তালে আর স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছিল ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা। বর্ণিল আয়োজন, প্রাণবন্ত র্যালি আর নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে আলফাডাঙ্গা লোকাল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ব্যান্ডের ছন্দময় সুরে র্যালি এগিয়ে চলে, আর স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পায় উৎসবমুখর আবহ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের গৌরবময় ঐতিহ্য ও ইতিহাস স্মরণের পাশাপাশি তারুণ্যের শক্তি, সাংগঠনিক ঐক্য এবং আগামী দিনের পথচলা নিয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। ব্যান্ডের তালে তালে র্যালি আর স্লোগানের ছন্দে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসে অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. শাহিন মোল্যার সভাপতিত্বে এবং পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইমরান হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহীদুর রহমান শহীদ, সহসভাপতি মাহিদুল হাসান কাকন ও হেমায়েত হোসেন হেলাল, প্রচার সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান সেন্টু এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম কুদ্দুস শেখ প্রমুখ।
এ সময় যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরুল হাসানসহ স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
গৌরবময় অতীতকে ধারণ করে আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়, তারুণ্যের উল্লাস আর ব্যান্ডের তালে তালে র্যালির প্রাণচাঞ্চল্যে আলফাডাঙ্গায় উদ্যাপিত হয় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি দ্বারা মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৮ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা চারজন।
প্রসঙ্গত, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার আগামী নভেম্বর মাসের জন্য দেশের বাজারে অকটেন-পেট্রোলসহ সকল ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা অক্টোবর মাসের মতোই থাকবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম হবে ১৩৫ টাকা, কেরোসিনের দাম ১৫৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৬০ টাকা।
গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। অক্টোবর মাসেও পূর্বনির্ধারিত দামই কার্যকর ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে পুরো মাসজুড়ে এই নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলার দ্বীপজেলায় শিশু বিশেষজ্ঞের অভাবের কারণে প্রায় ৬ লাখ শিশুর সুচিকিৎসা বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলার সাতটি সরকারি হাসপাতালে পাঁচটি হাসপাতালে শিশু চিকিৎসক নেই। বর্তমানে পুরো জেলায় মাত্র ২ জন ডাক্তার কর্মরত আছেন। এই কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে নামমাত্র সেবা নিয়েই হাসপাতাল ছাড়তে হচ্ছে সেবাপ্রার্থী শিশুদের, বিশেষ করে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের।
বছরের পর বছর ধরে এই সংকট চলতে থাকলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভোলা জেনারেল হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের শয্যার সংখ্যা ৬০। কিন্তু গত এক বছরে এই ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। স্থান সংকুলানের অভাবে শিশুদের মতো সংবেদনশীল রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা, চলাচলের স্থান ও সিঁড়ির কোণে রাখা হচ্ছে।
বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসার জন্য এখানে মাত্র একজন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. সালাহউদ্দীন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের দেখতে ছোটাছুটি করছেন। তিনি শিশু ওয়ার্ড থেকে হাম ও ডেঙ্গু ওয়ার্ডে, আবার সেখান থেকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে যাচ্ছেন। ইনডোরে সকালে রোগী দেখা শুরু করলেও দুপুর গড়িয়ে গেলেও শেষ হচ্ছে না। এদিকে, আইটডোরেও অসুস্থ শিশু নিয়ে অনেক অভিভাবক অপেক্ষা করছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করেও রোগীর অভিভাবকদের সন্তুষ্ট করতে পারছেন না চিকিৎসক। আবার রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ হয়ে ডাক্তার নিজেও অখুশি।
ডা. মো. সালাহউদ্দিন জানান, একজনের পক্ষে এত রোগীর সঠিক চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব। শিশুর অভিভাবকদের সব কথা শোনা সম্ভব হয় না। তবুও তিনি সামর্থ অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শিশুরোগ চিকিৎসক না থাকায় জেলা সদরে সবসময় রোগীর চাপ বেশি থাকে। রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে ডাক্তারদের সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
গত সোমবার দুপুরে ঠান্ডায় আক্রান্ত ৯ মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে আনসার উদ্দিন দম্পতি ভোলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আসেন। আনসার উদ্দিন জানান, তার বাড়ির পাশে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। সেখানে শিশুরোগের চিকিৎসক না থাকায় তিনি প্রায় ৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ভোলা হাসপাতালে এসেছেন। কর্তৃপক্ষ ভর্তি করালেও কোনো বেড নেই এবং ডাক্তারের দেখা পাচ্ছেন না। তাই তার উৎকণ্ঠা কমছে না।
২০২২ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী, ভোলায় ০-১৪ বছর বয়সী মোট শিশুর সংখ্যা ৬ লাখ ৪১ হাজার। এর মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী শিশু ৪ লাখ ২৭ হাজার। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে বর্তমানে ৫ বছরের নিচে শিশুর সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজার। এসব শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা উপজেলার ৭টি হাসপাতালে মোট ৮ জন শিশু বিশেষজ্ঞের পদ রয়েছে। এর মধ্যে সদরে জেনারেল হাসপাতালে একজন সিনিয়র কনসালটেন্ট ও লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট আছেন। বাকি ৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা না পেয়ে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা জেলা সদরের দিকে ছুটছেন।
সদর হাসপাতালের একমাত্র ডাক্তারের পক্ষে বিপুলসংখ্যক রোগীর কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ। শিশু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিভাবকদের অভিযোগের শেষ নেই। মরজিনা বেগম, রিয়াজ উদ্দিন, রহমত আলীসহ অনেকের অভিযোগ, চিকিৎসক না থাকার কারণে শিশুরা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে। শিশুর মা মনিরা বিবি বলেন, অসুস্থ শিশুকে ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু সেখানে ডাক্তার নেই। তাহলে আমরা কোথায় যাব? তার মতে, বেসরকারিভাবে চিকিৎসা করানোর সামর্থ তার নেই।
ডাক্তার সংকটের কারণে শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান। তিনি বলেন, একজন ডাক্তার দিয়ে তারা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য জরুরি ভিত্তিতে শিশুরোগের চিকিৎসক প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ভোলা দ্বীপ এলাকা হওয়ায় জেলার সব রোগী সদর হাসপাতালে আসে।
সিভিল সাজন ডা. মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, জেলার ৭টি হাসপাতালে মোট ৮ জন শিশুরোগ চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে সদর হাসপাতাল ও লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। বাকি ৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এতে শিশুদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শূন্যপদে ডাক্তার নিয়োগের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
চিকিৎসক সংকট অন্যান্য বিভাগেও বিদ্যমান। ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকের ৮৭টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৭ জন ডাক্তার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬ একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে।
বাহিনীটির দাবি অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া দুজন আশিক গ্রুপের সদস্য। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর ৩টা ৩৫ মিনিটে নগরীর সদর থানাধীন আহমাদিয়া মাদ্রাসা রোডের চানমারি শিপইয়ার্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন খুলনা সদর থানার চানমারি বাজার এলাকার সওগাতুল আলম ছগীরের ছেলে ছাহিল মাহমুদ (২৫) এবং অন্যজন লবণচরা থানার মোহাম্মদিয়া পাড়া এলাকার বারেক হাওলাদারের ছেলে শাহাদাত হোসেন শুভ (২৩)।
এসআরবি-৬ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহিনীর স্পেশাল কোম্পানির একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ছাহিল মাহমুদ ও শাহাদাত হোসেন শুভকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া দুজন আশিক গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ