ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৪০৫ জন গ্রেপ্তার


ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৪০৫ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪০৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় ৬২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মিরপুর বিভাগ থেকে ১৪৭ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫৯ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪৩ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৪০ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৩৬ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৩৪ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ২০ জন, রমনা বিভাগ থেকে ১৭ জন, ডিবি থেকে ৬ জন এবং এসআরইউ থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ

অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৯৯২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ২২ পুরিয়া হেরোইন, ৪টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন কোম্পানির ৩ হাজার ১১২টি সিম কার্ড, ১টি ট্রাক, ১টি চাবি, ১টি বাস, ২৬টি সিলিং ফ্যান এবং নগদ ৫৭ হাজার ৬৮৫ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সৌদি জোটের প্রতিহতের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


সৌদিতে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সৌদি জোটের প্রতিহতের দাবি

ইরান সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই হামলাটি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালকি সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই দাবি করেছেন।

এর আগে, ইয়েমেনের পশ্চিমা সমর্থিত সেনাবাহিনী জানায় যে, গত ২৪ ঘণ্টায় হুথিদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ২৭২টি সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযানে প্রায় ৫০০ হুথি যোদ্ধা ও ফিল্ড কমান্ডার হতাহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর মাজেদ আল-নুজাইলি জানান, এসব অভিযানে হুথিদের ১৬৯টি যানবাহন, সামরিক সরঞ্জাম ও ভারী অস্ত্র ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হতাহতদের মধ্যে কতজন নিহত এবং কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রদান করেননি।

সূত্র: আল জাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার রাস্তায় আবু বকরকে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ, জয় কী বললেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


ঢাকার রাস্তায় আবু বকরকে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ, জয় কী বললেন?

পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘দার-ই-নিজাত’-এর আবু বকর চরিত্রটি পর্দায় আদর্শ স্বামী হিসেবে দর্শকদের মন জয় করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্রটির প্রতি যখন প্রশংসা ও উচ্ছ্বাস চলছে, তখন বাংলাদেশের উপস্থাপক ও অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় ভিন্ন এক মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। তিনি বলেছেন, আবু বকরকে ঢাকার রাস্তায় ছেড়ে দিলে বোঝা যেত, তিনি বাস্তবে কতটা ধৈর্যশীল!

জয় সম্প্রতি তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘পাকিস্তানের নাটকের জনপ্রিয় চরিত্র আবু বকরকে ঢাকার রাস্তায় ছেড়ে দিলে সে কতটা ধৈর্যশীল এবং ভালো তার পরীক্ষা হয়ে যেত। ক্যামেরার সামনে তো ভালোর অভিনয় করাই যায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।’

জয়ের এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, ঢাকার চিরচেনা যানজট এবং ব্যস্ত সড়কের পরিস্থিতির সঙ্গে আবু বকরের ধৈর্যের বিষয়টি মিলিয়েই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। পর্দায় একজন আদর্শ মানুষের পরিচয় দেওয়া এবং বাস্তব জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সেই আদর্শ ধরে রাখা যে এক বিষয় নয়, সে দিকেই ইঙ্গিত করেছেন জয়।

‘দার-ই-নিজাত’ ধারাবাহিকে আবু বকর চরিত্রে অভিনয় করছেন শেহরিয়ার মুনাওয়ার সিদ্দিকী। চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব, আচরণ, ধৈর্য এবং স্ত্রীকে ঘিরে দায়িত্বশীল মনোভাব দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

অনেক নারী আবু বকরের চরিত্রে যে গুণগুলো দেখতে চান, সেগুলোর প্রতিফলন তারা খুঁজে পাচ্ছেন। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ তাকে ‘জাতীয় ক্রাশ’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।

ধারাবাহিকটির গল্পের নানা বাঁক, চরিত্রগুলোর আচরণ এবং অভিনয়শিল্পীদের পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে চলছে আলোচনা। সম্প্রতি ‘জারিয়াবের নিকাহ’র সাজকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আবু বকরকে নিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে আলোচনায়। পর্দায় ধৈর্যশীল ও আদর্শ স্বামী হিসেবে দর্শকের মন জয় করা সহজ, কিন্তু বাস্তব জীবনের চাপ, বিশেষ করে ঢাকার যানজটের মতো পরিস্থিতিতে সেই ধৈর্য ধরে রাখা কতটা কঠিন—তার বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই প্রশ্ন।

অভিনয় ও উপস্থাপনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করে প্রায়ই আলোচনায় আসেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। এবার পাকিস্তানি ধারাবাহিকের জনপ্রিয় চরিত্রকে ঘিরে তার এই মন্তব্যও দর্শক-নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী আলজেরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী আলজেরিয়া

আলজেরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে জ্বালানি, ওষুধ, পোশাক, চামড়া, স্বাস্থ্য ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

ঢাকার একটি হোটেলে রবিবার সন্ধ্যায় আলজেরীয় বিপ্লবের ৭২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদুল ওয়াহাব সাইদানি এই আগ্রহের কথা জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, "অভিন্ন ঐতিহাসিক সংহতি, সক্রিয় কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সাম্প্রতিক আলজিয়ার্স সফর দুই দেশের সম্পর্কের গতিশীলতা আরো জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, "তেল, গ্যাস, ওষুধ, পোশাক, চামড়া, স্বাস্থ্য ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।"

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বলেন, "স্বাধীনতার জন্য কঠিন লড়াই এবং ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক বন্ধন তৈরি হয়েছে।" তিনি আলজেরিয়ার ১৯৭১ সালে প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঐতিহাসিক মর্যাদার কথাও উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এটি স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, সার্বভৌমত্ব, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত নিরসনের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ফিলিস্তিন ও পশ্চিম সাহারার জনগণের ন্যায়সংগত আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত আবদুল মাজিদ তিব্বুনের নেতৃত্বে আলজেরিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তরের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, আলজেরিয়া হাইড্রোকার্বন-বহির্ভূত রপ্তানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, খনিশিল্প, কৃষি, আবাসন ও বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, "তেল, গ্যাস ও খনিশিল্পে আলজেরিয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।" তিনি জানান, জ্বালানি প্রযুক্তি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আলজেরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী বাংলাদেশ।

মন্ত্রী বলেন, "আলজেরিয়া থেকে গ্যাস আমদানি এবং দেশটির সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে গত মাসে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ।" তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করা সম্ভব।

আলজেরিয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের বস্ত্র, শিল্পপণ্য, খাদ্যপণ্য, সিরামিক ও হালকা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আলজেরিয়ায় বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ অনুসন্ধানে উৎসাহিত করেন। রাষ্ট্রদূত দেশটির কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালের ১ নভেম্বর ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আলজেরীয় বিপ্লব শুরু হয়। ১৩২ বছরের ফরাসি শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করে। এ বছর বিপ্লবের ৭২তম বার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল ‘নভেম্বর ১ : দেশের স্মৃতি এবং উম্মাহর ভবিষ্যৎ’।

অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক কোরের সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ঢাকায় বসবাসরত আলজেরীয় কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেন যুদ্ধের পর কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


ইউক্রেন যুদ্ধের পর কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

ইউক্রেন যুদ্ধে বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সামরিক সোনার কারণে কৃষ্ণসাগরের ডলফিনেরা দিশাহারা হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতির ফলে তারা শিকার করতে পারছে না। মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে অসংখ্য ডলফিন দম বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে।

দক্ষিণ ইউক্রেনের তুজলি লাগুনস ন্যাশনাল পার্কের প্রধান গবেষক ইভান রুসেভ আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ২০২২ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ডলফিন মারা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের সময় সৃষ্ট বিস্ফোরণের শব্দ, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সামরিক সোনার ডলফিনের স্বাভাবিক চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে তারা দিক হারিয়ে ফেলছে এবং খাবার খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছে।

অনেক ডলফিন মাছ ধরার ট্রলারের জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। জেলেরা যখন জাল থেকে ডলফিনগুলোকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে তাদের পাখনা কেটে ফেলছেন। মৃত ডলফিনগুলো পরে তীরে ভেসে আসছে। এসব ডলফিনের শরীরে মাছ ধরার জালের দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তি ডলফিনের টিকে থাকার অন্যতম প্রধান কৌশল ‘ইকোলোকেশন’ বা প্রতিধ্বনির মাধ্যমে আশপাশের অবস্থান শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে ডলফিনেরা দিকনির্ণয়, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এবং খাবার খুঁজে শিকার করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।

তিনি বলেন, ‘কোনো ডলফিন মাছ শিকার করতে না পারলে দ্রুত তার ওজন কমতে থাকে।’ তার ভাষ্য, এ অবস্থায় ডলফিনেরা বেঁচে থাকার জন্য শরীরে জমা চর্বি বা ‘ব্লাবার’ ব্যবহার করতে শুরু করে। তবে যুদ্ধের কারণে দূষিত হয়ে পড়া কৃষ্ণসাগরের পানি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। ডলফিনের শরীরে জমা এই চর্বির স্তরে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ক্ষতিকর দূষক পদার্থ জমে রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে বর্জ্য পানি, কৃষিজমি থেকে পানিতে মিশে আসা রাসায়নিক ও অন্যান্য উপাদান, মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং অ্যান্টিবায়োটিক। এর ফলে ডলফিনের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি তারা শ্বাসতন্ত্রের প্রাণঘাতী সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে।

চলমান যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরের সামুদ্রিক পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ড্রোন ও ডুবে যাওয়া সাবমেরিন থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ও জ্বালানি পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সমুদ্রের পানি আরো দূষিত হয়ে পড়ছে।

এ অঞ্চলে মাছ ধরার ওপর বিধি-নিষেধ থাকলেও মালেট ও ব্লুফিশের মতো কয়েকটি মাছের প্রজাতি এখন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে সামুদ্রিক প্রাণীদের খাদ্যসংকটও বাড়ছে। রুসেভ বলেন, ‘ডলফিন খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে থাকায় জুপ্ল্যাঙ্কটন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দূষিত পদার্থ শেষ পর্যন্ত তাদের শরীরেও জমা হয়।’

রুসেভ জানান, যুদ্ধের প্রভাব সমুদ্রের মাছ খেয়ে বেঁচে থাকা পাখিদের ওপরও পড়ছে। তার মতে, বিস্ফোরণের কারণে অনেক মাছ মারা যাচ্ছে। বিস্ফোরণের শব্দে উত্তর ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে যাতায়াতকারী পরিযায়ী পাখিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, ‘কোনো পাখি যদি পর্যাপ্ত খাবার বা প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ না পায়, তাহলে সেটি শীতকালীন আবাসস্থল কিংবা প্রজননের জন্য নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব পড়বে নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির পাখির সংখ্যার ওপর।’

ডলফিনের এই ব্যাপক মৃত্যু ইউক্রেনের উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। কৃষ্ণসাগরের তীরে প্রায়ই কঙ্কালসার ও ক্ষতবিক্ষত ডলফিনের মৃতদেহ ভেসে আসতে দেখা যাচ্ছে।

তেতিয়ানা স্মোলচেঙ্কো আলজাজিরাকে জানান, গত আগস্টে দক্ষিণ ইউক্রেনের ওদেসা শহরে আট বছর বয়সী ছেলে ওলেহকে নিয়ে হাঁটছিলেন তিনি। এ সময় তার ছেলে সৈকতে একটি পচনশীল ডলফিনের মৃতদেহ দেখতে পায়। ৩৩ বছর বয়সী তেতিয়ানা স্মোলচেঙ্কো বলেন, ‘দৃশ্যটি দেখে আমার বমি আসছিল’। তার স্বামী ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে কর্মরত। এ ছাড়া তাদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি রুশ ড্রোন হামলায় দুবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে মানুষের মৃত্যু দেখতে দেখতে আমরা এখন অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এসব নিরীহ প্রাণীর মৃত্যু দেখাও কোনো অংশে কম ভয়াবহ নয়। আমরা দুজনেই কেঁদে ফেলেছিলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%