ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঢাকার রাস্তায় আবু বকরকে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ, জয় কী বললেন?


ঢাকার রাস্তায় আবু বকরকে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ, জয় কী বললেন?

পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘দার-ই-নিজাত’-এর আবু বকর চরিত্রটি পর্দায় আদর্শ স্বামী হিসেবে দর্শকদের মন জয় করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্রটির প্রতি যখন প্রশংসা ও উচ্ছ্বাস চলছে, তখন বাংলাদেশের উপস্থাপক ও অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় ভিন্ন এক মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। তিনি বলেছেন, আবু বকরকে ঢাকার রাস্তায় ছেড়ে দিলে বোঝা যেত, তিনি বাস্তবে কতটা ধৈর্যশীল!

জয় সম্প্রতি তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘পাকিস্তানের নাটকের জনপ্রিয় চরিত্র আবু বকরকে ঢাকার রাস্তায় ছেড়ে দিলে সে কতটা ধৈর্যশীল এবং ভালো তার পরীক্ষা হয়ে যেত। ক্যামেরার সামনে তো ভালোর অভিনয় করাই যায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।’

জয়ের এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, ঢাকার চিরচেনা যানজট এবং ব্যস্ত সড়কের পরিস্থিতির সঙ্গে আবু বকরের ধৈর্যের বিষয়টি মিলিয়েই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। পর্দায় একজন আদর্শ মানুষের পরিচয় দেওয়া এবং বাস্তব জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সেই আদর্শ ধরে রাখা যে এক বিষয় নয়, সে দিকেই ইঙ্গিত করেছেন জয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে আর বিনিয়োগ করবেন না সালমান মুক্তাদির

‘দার-ই-নিজাত’ ধারাবাহিকে আবু বকর চরিত্রে অভিনয় করছেন শেহরিয়ার মুনাওয়ার সিদ্দিকী। চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব, আচরণ, ধৈর্য এবং স্ত্রীকে ঘিরে দায়িত্বশীল মনোভাব দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

অনেক নারী আবু বকরের চরিত্রে যে গুণগুলো দেখতে চান, সেগুলোর প্রতিফলন তারা খুঁজে পাচ্ছেন। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ তাকে ‘জাতীয় ক্রাশ’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।

ধারাবাহিকটির গল্পের নানা বাঁক, চরিত্রগুলোর আচরণ এবং অভিনয়শিল্পীদের পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে চলছে আলোচনা। সম্প্রতি ‘জারিয়াবের নিকাহ’র সাজকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আবু বকরকে নিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে আলোচনায়। পর্দায় ধৈর্যশীল ও আদর্শ স্বামী হিসেবে দর্শকের মন জয় করা সহজ, কিন্তু বাস্তব জীবনের চাপ, বিশেষ করে ঢাকার যানজটের মতো পরিস্থিতিতে সেই ধৈর্য ধরে রাখা কতটা কঠিন—তার বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই প্রশ্ন।

আরও পড়ুন: ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি, না ফেরার দেশে অভিনেতা অনুজ ঠাকুর

অভিনয় ও উপস্থাপনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করে প্রায়ই আলোচনায় আসেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। এবার পাকিস্তানি ধারাবাহিকের জনপ্রিয় চরিত্রকে ঘিরে তার এই মন্তব্যও দর্শক-নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী আলজেরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী আলজেরিয়া

আলজেরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে জ্বালানি, ওষুধ, পোশাক, চামড়া, স্বাস্থ্য ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

ঢাকার একটি হোটেলে রবিবার সন্ধ্যায় আলজেরীয় বিপ্লবের ৭২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদুল ওয়াহাব সাইদানি এই আগ্রহের কথা জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, "অভিন্ন ঐতিহাসিক সংহতি, সক্রিয় কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সাম্প্রতিক আলজিয়ার্স সফর দুই দেশের সম্পর্কের গতিশীলতা আরো জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, "তেল, গ্যাস, ওষুধ, পোশাক, চামড়া, স্বাস্থ্য ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।"

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বলেন, "স্বাধীনতার জন্য কঠিন লড়াই এবং ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক বন্ধন তৈরি হয়েছে।" তিনি আলজেরিয়ার ১৯৭১ সালে প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঐতিহাসিক মর্যাদার কথাও উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এটি স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, সার্বভৌমত্ব, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত নিরসনের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ফিলিস্তিন ও পশ্চিম সাহারার জনগণের ন্যায়সংগত আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত আবদুল মাজিদ তিব্বুনের নেতৃত্বে আলজেরিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তরের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, আলজেরিয়া হাইড্রোকার্বন-বহির্ভূত রপ্তানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, খনিশিল্প, কৃষি, আবাসন ও বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, "তেল, গ্যাস ও খনিশিল্পে আলজেরিয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।" তিনি জানান, জ্বালানি প্রযুক্তি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আলজেরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী বাংলাদেশ।

মন্ত্রী বলেন, "আলজেরিয়া থেকে গ্যাস আমদানি এবং দেশটির সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে গত মাসে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ।" তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করা সম্ভব।

আলজেরিয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের বস্ত্র, শিল্পপণ্য, খাদ্যপণ্য, সিরামিক ও হালকা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আলজেরিয়ায় বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ অনুসন্ধানে উৎসাহিত করেন। রাষ্ট্রদূত দেশটির কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালের ১ নভেম্বর ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আলজেরীয় বিপ্লব শুরু হয়। ১৩২ বছরের ফরাসি শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করে। এ বছর বিপ্লবের ৭২তম বার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল ‘নভেম্বর ১ : দেশের স্মৃতি এবং উম্মাহর ভবিষ্যৎ’।

অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক কোরের সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ঢাকায় বসবাসরত আলজেরীয় কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেন যুদ্ধের পর কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


ইউক্রেন যুদ্ধের পর কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

ইউক্রেন যুদ্ধে বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সামরিক সোনার কারণে কৃষ্ণসাগরের ডলফিনেরা দিশাহারা হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতির ফলে তারা শিকার করতে পারছে না। মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে অসংখ্য ডলফিন দম বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে।

দক্ষিণ ইউক্রেনের তুজলি লাগুনস ন্যাশনাল পার্কের প্রধান গবেষক ইভান রুসেভ আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ২০২২ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ডলফিন মারা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের সময় সৃষ্ট বিস্ফোরণের শব্দ, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সামরিক সোনার ডলফিনের স্বাভাবিক চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে তারা দিক হারিয়ে ফেলছে এবং খাবার খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছে।

অনেক ডলফিন মাছ ধরার ট্রলারের জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। জেলেরা যখন জাল থেকে ডলফিনগুলোকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে তাদের পাখনা কেটে ফেলছেন। মৃত ডলফিনগুলো পরে তীরে ভেসে আসছে। এসব ডলফিনের শরীরে মাছ ধরার জালের দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তি ডলফিনের টিকে থাকার অন্যতম প্রধান কৌশল ‘ইকোলোকেশন’ বা প্রতিধ্বনির মাধ্যমে আশপাশের অবস্থান শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে ডলফিনেরা দিকনির্ণয়, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এবং খাবার খুঁজে শিকার করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।

তিনি বলেন, ‘কোনো ডলফিন মাছ শিকার করতে না পারলে দ্রুত তার ওজন কমতে থাকে।’ তার ভাষ্য, এ অবস্থায় ডলফিনেরা বেঁচে থাকার জন্য শরীরে জমা চর্বি বা ‘ব্লাবার’ ব্যবহার করতে শুরু করে। তবে যুদ্ধের কারণে দূষিত হয়ে পড়া কৃষ্ণসাগরের পানি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। ডলফিনের শরীরে জমা এই চর্বির স্তরে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ক্ষতিকর দূষক পদার্থ জমে রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে বর্জ্য পানি, কৃষিজমি থেকে পানিতে মিশে আসা রাসায়নিক ও অন্যান্য উপাদান, মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং অ্যান্টিবায়োটিক। এর ফলে ডলফিনের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি তারা শ্বাসতন্ত্রের প্রাণঘাতী সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে।

চলমান যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরের সামুদ্রিক পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ড্রোন ও ডুবে যাওয়া সাবমেরিন থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ও জ্বালানি পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সমুদ্রের পানি আরো দূষিত হয়ে পড়ছে।

এ অঞ্চলে মাছ ধরার ওপর বিধি-নিষেধ থাকলেও মালেট ও ব্লুফিশের মতো কয়েকটি মাছের প্রজাতি এখন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে সামুদ্রিক প্রাণীদের খাদ্যসংকটও বাড়ছে। রুসেভ বলেন, ‘ডলফিন খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে থাকায় জুপ্ল্যাঙ্কটন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দূষিত পদার্থ শেষ পর্যন্ত তাদের শরীরেও জমা হয়।’

রুসেভ জানান, যুদ্ধের প্রভাব সমুদ্রের মাছ খেয়ে বেঁচে থাকা পাখিদের ওপরও পড়ছে। তার মতে, বিস্ফোরণের কারণে অনেক মাছ মারা যাচ্ছে। বিস্ফোরণের শব্দে উত্তর ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে যাতায়াতকারী পরিযায়ী পাখিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, ‘কোনো পাখি যদি পর্যাপ্ত খাবার বা প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ না পায়, তাহলে সেটি শীতকালীন আবাসস্থল কিংবা প্রজননের জন্য নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব পড়বে নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির পাখির সংখ্যার ওপর।’

ডলফিনের এই ব্যাপক মৃত্যু ইউক্রেনের উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। কৃষ্ণসাগরের তীরে প্রায়ই কঙ্কালসার ও ক্ষতবিক্ষত ডলফিনের মৃতদেহ ভেসে আসতে দেখা যাচ্ছে।

তেতিয়ানা স্মোলচেঙ্কো আলজাজিরাকে জানান, গত আগস্টে দক্ষিণ ইউক্রেনের ওদেসা শহরে আট বছর বয়সী ছেলে ওলেহকে নিয়ে হাঁটছিলেন তিনি। এ সময় তার ছেলে সৈকতে একটি পচনশীল ডলফিনের মৃতদেহ দেখতে পায়। ৩৩ বছর বয়সী তেতিয়ানা স্মোলচেঙ্কো বলেন, ‘দৃশ্যটি দেখে আমার বমি আসছিল’। তার স্বামী ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে কর্মরত। এ ছাড়া তাদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি রুশ ড্রোন হামলায় দুবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে মানুষের মৃত্যু দেখতে দেখতে আমরা এখন অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এসব নিরীহ প্রাণীর মৃত্যু দেখাও কোনো অংশে কম ভয়াবহ নয়। আমরা দুজনেই কেঁদে ফেলেছিলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের দাওয়াতে হাজির হাজারো মানুষ, উপহার হিসেবে গাড়ি-ফ্রিজ-খাবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের দাওয়াতে হাজির হাজারো মানুষ, উপহার হিসেবে গাড়ি-ফ্রিজ-খাবার

চীনের এক তরুণের বিয়ের দাওয়াত পেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজির হয়েছেন হাজার হাজার অপরিচিত মানুষ। কেউ এসেছেন খাবার নিয়ে, কেউ উপহার হিসেবে দিয়েছেন ফ্রিজ ও আসবাবপত্র। এমনকি নবদম্পতির জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করেছেন কেউ কেউ। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের অভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান নিরানন্দ হয়ে যেতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উন্মুক্ত আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ২৪ বছর বয়সী ওই তরুণ। তার সেই আহ্বান ঘিরেই ঘটে যায় ব্যতিক্রমী ঘটনা।

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশের ঝাওতং শহরের ইলিয়াং কাউন্টির বাসিন্দা শু চেংহং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘শিয়াওশিয়াওশু’ নামে পরিচিত। চায়না নিউজ সার্ভিস ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে নেটিজেনদের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান তিনি।

শুর বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তার বাবা মারা যান। দুই বছর পর মা দ্বিতীয় বিয়ে করলে বড় ভাইয়ের সঙ্গে দাদির কাছে বড় হতে থাকেন তিনি। পরে দাদিও মারা যান। পরিবারের অন্য সদস্যদের হারিয়ে দুই ভাই একে অপরের ওপর নির্ভর করে জীবন কাটান। অল্প বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে জীবিকার সন্ধানে কাজে নামতে হয় শুকে। নানা ধরনের কাজ করে বিয়ের জন্য ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ ইউয়ান সঞ্চয় করেন তিনি।

প্রায় তিন বছর আগে অনলাইনে পরিচয় হয় তার বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে। জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকার কারণে স্ত্রীকে নিয়ে নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখছিলেন শু। কিন্তু বিয়ের আয়োজন সামনে আসতেই অতিথি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি। ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠান করলে মাত্র দুই-তিনটি টেবিল পূর্ণ হবে বলে ধারণা করেছিলেন। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত মানুষদের বিয়েতে আমন্ত্রণ জানান।

শুর ধারণা ছিল, হয়তো ২০ জনের মতো অপরিচিত মানুষ তার আমন্ত্রণে সাড়া দেবেন। কিন্তু ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর হাজারো মানুষ বিয়েতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকে কয়েক শ থেকে হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অতিথিদের অনেকে শুধু শুভেচ্ছা জানাতেই আসেননি, বিয়ের আয়োজনেও সহযোগিতা করেছেন। কেউ নিয়ে আসেন শূকর, মাছ, সবজি ও অন্যান্য খাবার। কেউ উপহার দেন ফ্রিজ, খাবার গরম রাখার সরঞ্জাম, টেবিল ও চেয়ার। আবার কেউ বাড়ি সাজানো, কনের সাজসজ্জা এবং বিয়ের গাড়ির ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসেন।

হুনান প্রদেশের হুয়াইহুয়া শহর থেকে এক বিয়ের আয়োজক প্রায় ১২ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে এসে অনুষ্ঠানস্থল সাজানোর কাজে সহযোগিতা করেন। সিচুয়ান প্রদেশের এক কৃষক উপহার হিসেবে নিয়ে আসেন প্রায় ২০ হাজার ইউয়ান মূল্যের দুটি গরু। নবদম্পতির জন্য একটি বিলাসবহুল মেবাখ গাড়ির ব্যবস্থাও করেন এক শুভাকাঙ্ক্ষী বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অতিথির সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় স্থানীয় এলাকায় তৈরি হয় নানা ধরনের চাপ। আশপাশের হোটেল ও অতিথিশালাগুলোর কক্ষ পূর্ণ হয়ে যায়। রেস্তোরাঁগুলোতেও বাড়তে থাকে ক্রেতার সংখ্যা। অতিথিদের সামলাতে মূল অনুষ্ঠানস্থল থেকে আয়োজন সরিয়ে কাছের একটি বড় সাংস্কৃতিক চত্বরে নেওয়ার ব্যবস্থা করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সাংহাই ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের ভোজে প্রায় দুই টন মুরগির মাংস রান্না করা হয়। অতিথিদের খাবার পরিবেশনের জন্য প্রায় ৫০টি রান্নার চুলা একটানা চালু ছিল। দেরিতে আসা অতিথিদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি; রাত ২টা পর্যন্ত তাদের খাবার পরিবেশন করা হয়।

অতিথির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য এসেছে। কিছু প্রতিবেদনে বিয়েতে ১০ হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতির কথা বলা হলেও ১ নভেম্বর শু নিজে জানান, তার বিয়েতে তিন হাজারের বেশি অতিথি এসেছিলেন।

ব্যতিক্রমী এই আয়োজন ঘিরে স্থানীয় পর্যটন খাতেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিথিরা যাতে বিয়েতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারেন, সে বিষয়ে স্থানীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন কর্তৃপক্ষ আলোচনা শুরু করেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এত বড় আয়োজনের পেছনে পরিকল্পিত প্রচারণা বা বিপণন কৌশল থাকতে পারে বলে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে অধিকাংশ ব্যবহারকারী অপরিচিত মানুষের প্রতি অন্যদের সহমর্মিতা ও সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন।

এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা অপরিচিত হতে পারি, কিন্তু একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারি। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মানুষ পরিবারের সদস্য হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থ মন্ত্রণালয়ে ৩৫ জনের চাকরির সুযোগ, নতুন পে স্কেলে বেতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


অর্থ মন্ত্রণালয়ে ৩৫ জনের চাকরির সুযোগ, নতুন পে স্কেলে বেতন

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীনে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, রাজস্ব খাতভুক্ত তিনটি ভিন্ন পদে মোট ৩৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

আবেদন শুরু ৩ নভেম্বর ২০২৬ থেকে। ২৩ নভেম্বর ২০২৬-এ আবেদন শেষ হবে।

পদ সংক্রান্ত তথ্যাবলী:

১. ব্যক্তিগত সহকারী

পদ সংখ্যা: ১০

বেতনস্কেল: ২৪০০০-৫৮০০০

২. অফিস সহকারয় কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা: ১২

বেতনস্কেল: ২১৯০০-৫২৯০০

৩. অফিস সহায়ক

পদসংখ্যা: ১৩

বেতনস্কেল: ২০০০০-৪৮৪০০

প্রার্থীর বয়সসংক্রান্ত তথ্য:

প্রার্থীদের বয়স ১ নভেম্বর তারিখে সর্বনিম্ন ১৮ বছর এবং সর্বোচ্চ ৩২ বছরের মধ্যে থাকতে হবে।

বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।

আবেদনের পদ্ধতি:

আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

সফলভাবে আবেদন জমা দেয়ার পর, টেলিটক প্রিপেইড সিমের মাধ্যমে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%