০৩:৫৭ পি.এম
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় বাক্ ও বুদ্ধিবিকাশজনিত প্রতিবন্ধিতার শিকার ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হানিফ মোল্লা (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগীর পরিবার আতঙ্ক ও অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের উত্তর চর আইরকান্দি গ্রামের মইনুদ্দিন শিকদারের মেয়ে সুপা আক্তার। জন্ম থেকেই তিনি বাক্প্রতিবন্ধী। পাশাপাশি তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না, অনেক বিষয়ও বুঝতে পারেন না। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্থানীয় একটি বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত হানিফ মোল্লা তাঁকে হাত ধরে টেনে একটি সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হানিফ মোল্লা মৃত মমিন মোল্লার ছেলে। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কিছুদিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণের কারণে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয়দের দাবি। এ বিষয়ে তাঁর সাবেক স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত সম্পর্কে তাঁর মেয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: যশোরে খেজুরের গুড় সংগ্রহ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
ভুক্তভোগীর বাবা মইনুদ্দিন শিকদার পেশায় একজন ভ্যানচালক। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ছোট ছেলে ও মেয়ে জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। ভ্যান চালিয়ে সীমিত আয়ে দুই প্রতিবন্ধী সন্তানসহ পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। এর মধ্যে মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটায় পরিবারটি চরম অসহায় হয়ে পড়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁরা ভয়ে এখনো থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেননি। ঘটনার পর থেকে তাঁরা বিচার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁদের দাবি, দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা বাড়িটি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অনেকটা ফাঁকা রয়েছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযুক্ত বাড়ি থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, ঘটনাস্থলে কিছু আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে সেগুলোর প্রকৃতি ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর, তদন্ত চলছে
একজন বাক্ ও বুদ্ধিবিকাশজনিত প্রতিবন্ধী তরুণীর সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অসহায় পরিবারটির প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটন, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন