০৯:৩৫ এম
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল) একটি মেগা তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বা ১.০৩ ট্রিলিয়ন রুপি (প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা)। প্রকল্পটির প্রাথমিক কাজ এবং জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর, প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশগত ও উপকূলীয় এলাকার ছাড়পত্রও অর্জন করেছে। গত ২৭ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত ছাড়পত্র প্রদান করা হয়, যা প্রকল্পটির মূল নির্মাণকাজ শুরুর পথকে আরো সহজ করে তুলেছে।
নেলোর জেলার রামায়াপত্তনম বন্দরের নিকটে ৫২০০ একর জমির উপর এই বিশাল গ্রিনফিল্ড কমপ্লেক্সটি গড়ে উঠবে। শোধনাগারের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৯ মিলিয়ন টন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে এখান থেকে ৫.৪ মিলিয়ন টন পরিবহন জ্বালানি, যেমন পেট্রোল, ডিজেল ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল, এবং ৩.২ মিলিয়ন টন উচ্চমানের পেট্রোকেমিক্যাল, যেমন পলিপ্রোপিলিন, পিভিসি, এলডিপিই, ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদিত হবে।
প্রকল্পটির বিশালতা ও পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে বেশ কিছু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশগত প্রভাব কমাতে মোট জমির ৩০ শতাংশ এলাকা জুড়ে নিবিড় সবুজ বেষ্টনী (গ্রীনবেল্ট) গড়ে তোলা হবে। পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার জন্য ৩০২২ কোটি টাকা এবং স্থানীয় পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর সামাজিক উন্নয়নে কর্পোরেট পরিবেশগত দায়বদ্ধতা বাবদ আরো ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে যে, প্রস্তাবিত স্থানটির ১০ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে কোনো জাতীয় উদ্যান বা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য নেই।
আরও পড়ুন: আলাস্কার সিনেট নির্বাচনকে ‘জালিয়াতি’ বললেন ট্রাম্প
এই বিশাল অবকাঠামোর পরিচালনগত প্রয়োজনীয়তা মেটাতে নিজস্ব সমাধান তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিদিনের দুই লাখেরও বেশি ঘনমিটার মিঠা পানির চাহিদা পূরণে সমুদ্রের পানি শোধন করার জন্য একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট বসানো হবে, যার জন্য দুটি পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ৬২৪০০০ ঘনমিটার সমুদ্রের পানি উত্তোলন করা হবে। এছাড়া কমপ্লেক্সটির ৭৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার মধ্যে ১৮৫ মেগাওয়াট নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত হবে এবং বাকি ৫৮৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিড থেকে সংগ্রহ করা হবে।
ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা ও ভবিষ্যতের বাজার ধরতে বিপিসিএল দীর্ঘদিন ধরে এই মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা করে আসছে। বিপিসিএলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় খান্না পূর্বে উল্লেখ করেছিলেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের দৈনিক জ্বালানি তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে রামায়াপত্তনমের মতো কৌশলগত স্থানে প্রকল্প গড়ার প্রাথমিক মূল্যায়ন ও জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছিল, যা এখন পরিবেশগত ছাড়পত্র লাভের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পথে রয়েছে। বর্তমানে মুম্বাই, কোচি ও বিনার তিন শোধনাগার মিলিয়ে কোম্পানির বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ৩ কোটি ৫৩ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২৮ সালের মধ্যে ৪ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদী ‘প্রজেক্ট অ্যাসপায়ার’-এর অংশ হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশের এই শোধনাগারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতির বিচারে এ প্রকল্পটি একটি নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে। নির্মাণ পর্যায়ে প্রায় ১৪০০০ এবং বাণিজ্যিক পরিচালনা পর্যায়ে ৫০০০-এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এই কমপ্লেক্সে সবুজ হাইড্রোজেন, নবায়নযোগ্য শক্তির অঞ্চল এবং একটি মেগা সামুদ্রিক অপরিশোধিত তেল টার্মিনাল অন্তর্ভুক্ত থাকায় অন্ধ্রপ্রদেশ অঞ্চলটি একটি প্রধান জ্বালানি হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
অন্ধ্রপ্রদেশের এই মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি বিপিসিএল বিনা, কোচি ও মুম্বাই শোধনাগারে ইথিলিন ক্র্যাকার, পলিপ্রোপিলিন ও আধুনিক এফসিসি ইউনিট স্থাপনে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে, যা শুধু জ্বালানি নয় বরং প্লাস্টিক ও অন্যান্য শিল্পপণ্যের কাঁচামাল উৎপাদনেও কোম্পানিটিকে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে নিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: কপাল পুড়ছে নেতানিয়াহুর, সরকার সরানোর জন্য জোট গঠনের আলোচনা শুরু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন