ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

জেলেনস্কির অভিযোগ: রাশিয়া সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে


জেলেনস্কির অভিযোগ: রাশিয়া সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন, যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সংঘটিত এই হামলায় নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ সদস্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশের জরুরি সেবা বিভাগ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। খবরটি রয়টার্সের।

জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকারী দলের দুই সদস্য এবং চার পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই উদ্ধারকর্মীও অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন: সমুদ্রের বুকে ভারতীয় নৌবাহিনীর নতুন মাইলফলক: রাফাল-এম যুদ্ধবিমান সফল অবতরণ

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সোমবার রাতের নিয়মিত ভিডিও ভাষণে জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী প্রথমে গ্রামের একটি স্কুলে বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করে। উল্লেখ্য, স্কুলটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং প্রতি সোমবার সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হতো।

তিনি আরও জানান, যুদ্ধের সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে স্কুলটিতে কোনো ক্লাস চলছিল না। অঞ্চলটির প্রধান শহর জাপোরিঝিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গ্রামটির অবস্থান।

জেলেনস্কি বলেন, ‘মানুষ যখন সেখানে আসতে শুরু করেন, ঠিক তখনই রাশিয়া প্রথম হামলা চালায়। কয়েকটি বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় আরও বোমা নিক্ষেপ করা হয়, এবার আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে। এটি একটি জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা।’

তিনি উল্লেখ করেন, কোমিশুভাখায় অবস্থানরত বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে মানবিক সহায়তার প্যাকেট সংগ্রহ করতে একত্র হন, যা রুশ বাহিনীর অজানা থাকার কথা নয়।

আরও পড়ুন: হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে তিন তেলবাহী ট্যাংকার বিধ্বস্ত: আইআরজিসির দাবি

জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিবর্তে মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় বাস্তবায়িত হয়।

তিনি বলেন, ‘রাশিয়া বারবার ইউক্রেন এবং এখানে বিদ্যমান সবকিছুর প্রতি তাদের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। রাশিয়া যদি সত্যিই উত্তেজনা কমাতে চাইত, তাহলে ওলেশকির ঘটনার পর মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার সুযোগ ছিল। আমরা এমন প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু রাশিয়া মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে।’

এদিকে, হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার অংশগ্রহণ পুনর্বহালের পক্ষে ক্রীড়া আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দেশটির অংশগ্রহণ বর্জনের আহ্বান জানান।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিবিহা বলেন, ‘রাশিয়ার প্রাপ্য নিন্দা, বিচ্ছিন্নতা ও শাস্তি; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে ফিরে আসার সুযোগ নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, রাশিয়ার অপরাধকে দেশটির পতাকা, জাতীয় দল কিংবা আন্তর্জাতিক বৈধতা ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টা থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু, ৩৬ অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন

জাপোরিঝিয়া সিটি কাউন্সিলের সচিব রেজিনা খারচেঙ্কো জানিয়েছেন, হামলার পর ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আঞ্চলিক পুলিশ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। হামলার পর ঘটনাস্থলের বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এর এক দিন আগে খেরসন অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং সেখান থেকে চলে যেতে ইচ্ছুক বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য ঘোষিত ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বার্সার মাঠে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সম্ভাবনা, বলছেন স্প্যানিশ ফুটবল প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


বার্সার মাঠে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সম্ভাবনা, বলছেন স্প্যানিশ ফুটবল প্রধান

২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বার্সেলোনার ঐতিহাসিক স্পটিফাই ন্যু ক্যাম্পের নাম উঠে এসেছে। রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) সভাপতি রাফায়েল লুজান এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে, ন্যু ক্যাম্প ফাইনাল আয়োজনের জন্য একটি সম্ভাব্য স্থান হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নতুন রূপে সাজানো স্টেডিয়ামে বিশ্বমঞ্চের সেরা ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ পাওয়া যাবে।

লুজান সোমবার বার্সেলোনা সিটি হলে ‘কিংস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিল এবং ক্যাটালান রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি ন্যু ক্যাম্পে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে লুজান উল্লেখ করেন, ‘ন্যু ক্যাম্পে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আর আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা থাকবে, স্পেন যেন আবারও এই ঐতিহাসিক মঞ্চে বিশ্বকাপের ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরতে পারে।’

বিশ্বকাপের ট্রফির দিকে ইঙ্গিত করে আরএফইএফ সভাপতি আরও বলেন, ‘মাননীয় মেয়র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন যে ২০৩০ সালে স্বপ্নের এই কাপটি যেন কোনো না কোনোভাবে বার্সেলোনাতেই থাকে। আমি নিজেও তা-ই আশা করি। আপনারা সবাই জানেন, এর বাস্তব সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে।’

এছাড়া, ন্যু ক্যাম্প স্টেডিয়ামের পুনর্বিন্যাস ও আধুনিকায়নের প্রশংসা করেন লুজান। তিনি এটিকে ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও সর্বাধুনিক ভেন্যু হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান যে, বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিল এবং কাতালান সরকারের সঙ্গে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। এই দুটি শীর্ষ সংস্থা বার্সেলোনা শহরকে ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সর্বাত্মক সমর্থন প্রদান করছে।

স্পটিফাই ন্যু ক্যাম্পের দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার হবে, যা এটি শেষ হলে ইউরোপের সর্ববৃহৎ স্টেডিয়ামের মর্যাদা পাবে। লুজান স্টেডিয়ামটির প্রশংসা করে বলেন, ‘এটি আধুনিক প্রযুক্তিতে গড়া প্রায় ইউরোপের সেরা এবং সবচেয়ে নতুন স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে।’

তবে, স্প্যানিশ ফুটবল প্রধানের এই বক্তব্যে সম্ভাবনা থাকলেও, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালের চূড়ান্ত ভেন্যু হিসেবে ন্যু ক্যাম্পের নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফিফা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

উল্লেখ্য, ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে বড় ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আ. লীগের সহিংসতায় বিরোধী দলকেও খেসারত দিতে হবে: রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


আ. লীগের সহিংসতায় বিরোধী দলকেও খেসারত দিতে হবে: রাশেদ খান

রাজধানীর মাতুয়াইল মেডিক্যাল কলেজের সামনে মধ্যরাতে একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে, যা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান এই ঘটনায় দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে সহিংসতার অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

মঙ্গলবার সকালে, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে এসব কথা জানান।

পোস্টে রাশেদ খান বলেন, "শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে একের পর এক অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও বিরোধী দল নীরব ভূমিকা পালন করছে।" তিনি উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের নীরবতা নৈরাজ্য সৃষ্টিতে তাদের মৌন সমর্থনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

তিনি আরও লেখেন, "ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় আওয়ামী লীগের সহিংস কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে বিরোধী দলকেও এর খেসারত চরমভাবে দিতে হতে পারে।"

রাশেদ খান আরও বলেন, "বিরোধীদল দেশের মঙ্গল চাইলে রাজপথে নেমে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করুক। তাহলেই বুঝব, আসলেই বিরোধীদল গণহত্যার বিচার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার চায়।"

এছাড়া, পতিত স্বৈরাচারী গোষ্ঠীর সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির কোনো আপস-মীমাংসা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওয়ানডে বিশ্বকাপ দেখতে এখনি ১২ কোটির বেশি আবেদন জমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ এম


ওয়ানডে বিশ্বকাপ দেখতে এখনি ১২ কোটির বেশি আবেদন জমা

বিশ্বকাপের উন্মাদনা যেন এখনই তুঙ্গে! মাঠে খেলা শুরু হতে এখনো প্রায় এক বছর বাকি। তবুও, গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট পেতে আবেদন জমা পড়েছে ১২ কোটির বেশি।

১৯৩টি দেশ থেকে ২৮ লাখেরও বেশি সমর্থক টিকিট কেনার সুযোগ পেতে নিবন্ধন করেছেন। এই পরিসংখ্যান বিশ্বকাপ ঘিরে বৈশ্বিক আগ্রহের চিত্র স্পষ্ট করে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর পর্যন্ত টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে ১২ কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার ৪৬৭টি। এর মধ্যে বিভিন্ন ম্যাচের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি। টিকিটের জন্য আবেদন করার সময় শেষ হবে আগামী ২১ নভেম্বর। অর্থাৎ, হাতে রয়েছে ১৯ দিনের মতো।

আবেদনে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকেরা। আফ্রিকা মহাদেশ থেকেই জমা পড়েছে প্রায় দেড় কোটি আবেদন। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪১ ম্যাচের জন্য আবেদন পড়েছে ১০ কোটির বেশি। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার ১১ ম্যাচ দেখতে আবেদন পড়েছে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ।

জিম্বাবুয়েতে টিকিটের আবেদন ছাড়িয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ। সেখানে ভারত-জিম্বাবুয়ে ম্যাচের জন্য আবেদন পড়েছে ৩৩ লাখের বেশি। নামিবিয়ার উইন্ডহুকের ৬ ম্যাচের জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২০ লাখের বেশি। বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখতে আবেদন করেছেন প্রায় ৯ লাখ সমর্থক।

সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে। ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গে হতে যাওয়া এই ম্যাচের জন্য আবেদন পড়েছে ৮৩ লাখ ৯৭ হাজার ২৯৪টি। একই শহরে ২১ নভেম্বরের ফাইনালের জন্য আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৭৯ লাখ।

টিকিটের এমন সাড়া নিয়ে আইসিসির ইভেন্টস ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক গৌরব সাক্সেনা বলেছেন, ‘২০২৭ পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের সাড়া অসাধারণ। টিকিটের জন্য এই বিপুল চাহিদা প্রমাণ করে, বিশ্বজুড়ে টুর্নামেন্টটির জনপ্রিয়তা কতটা। ২৪ বছর পর পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আফ্রিকায় ফিরছে, যা এই আয়োজনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় সমর্থকদের ব্যাপক আগ্রহ প্রমাণ করে, বিশ্বমানের একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আয়োজন পুরো আফ্রিকা মহাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রিকেটপ্রেমীদের এক সুতোয় বাঁধবে।’

২০২৭ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। ১২টি ভেন্যুতে হবে ৫৭টি ম্যাচ। অংশ নেবে ১৪টি দল। ২০০৩ সালের পর প্রথমবার আফ্রিকায় ফিরছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। নামিবিয়ায় এবারই প্রথম হবে ছেলেদের বিশ্বকাপের ম্যাচ।

আগামী ২১ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের (দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সময়) মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। আবেদন বেশি হলে লটারির মাধ্যমে টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন সমর্থকেরা। টিকিটের লটারিতে অংশ নিতে কোনো অর্থ দিতে হবে না। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করলে পরে এই সুযোগ মিলবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ১০ বিলিয়ন ডলারের তেল শোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ এম


ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ১০ বিলিয়ন ডলারের তেল শোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল) একটি মেগা তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বা ১.০৩ ট্রিলিয়ন রুপি (প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা)। প্রকল্পটির প্রাথমিক কাজ এবং জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর, প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশগত ও উপকূলীয় এলাকার ছাড়পত্রও অর্জন করেছে। গত ২৭ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত ছাড়পত্র প্রদান করা হয়, যা প্রকল্পটির মূল নির্মাণকাজ শুরুর পথকে আরো সহজ করে তুলেছে।

নেলোর জেলার রামায়াপত্তনম বন্দরের নিকটে ৫২০০ একর জমির উপর এই বিশাল গ্রিনফিল্ড কমপ্লেক্সটি গড়ে উঠবে। শোধনাগারের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৯ মিলিয়ন টন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে এখান থেকে ৫.৪ মিলিয়ন টন পরিবহন জ্বালানি, যেমন পেট্রোল, ডিজেল ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল, এবং ৩.২ মিলিয়ন টন উচ্চমানের পেট্রোকেমিক্যাল, যেমন পলিপ্রোপিলিন, পিভিসি, এলডিপিই, ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদিত হবে।

প্রকল্পটির বিশালতা ও পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে বেশ কিছু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশগত প্রভাব কমাতে মোট জমির ৩০ শতাংশ এলাকা জুড়ে নিবিড় সবুজ বেষ্টনী (গ্রীনবেল্ট) গড়ে তোলা হবে। পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার জন্য ৩০২২ কোটি টাকা এবং স্থানীয় পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর সামাজিক উন্নয়নে কর্পোরেট পরিবেশগত দায়বদ্ধতা বাবদ আরো ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে যে, প্রস্তাবিত স্থানটির ১০ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে কোনো জাতীয় উদ্যান বা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য নেই।

এই বিশাল অবকাঠামোর পরিচালনগত প্রয়োজনীয়তা মেটাতে নিজস্ব সমাধান তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিদিনের দুই লাখেরও বেশি ঘনমিটার মিঠা পানির চাহিদা পূরণে সমুদ্রের পানি শোধন করার জন্য একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট বসানো হবে, যার জন্য দুটি পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ৬২৪০০০ ঘনমিটার সমুদ্রের পানি উত্তোলন করা হবে। এছাড়া কমপ্লেক্সটির ৭৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার মধ্যে ১৮৫ মেগাওয়াট নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত হবে এবং বাকি ৫৮৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিড থেকে সংগ্রহ করা হবে।

ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা ও ভবিষ্যতের বাজার ধরতে বিপিসিএল দীর্ঘদিন ধরে এই মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা করে আসছে। বিপিসিএলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় খান্না পূর্বে উল্লেখ করেছিলেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের দৈনিক জ্বালানি তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে রামায়াপত্তনমের মতো কৌশলগত স্থানে প্রকল্প গড়ার প্রাথমিক মূল্যায়ন ও জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছিল, যা এখন পরিবেশগত ছাড়পত্র লাভের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পথে রয়েছে। বর্তমানে মুম্বাই, কোচি ও বিনার তিন শোধনাগার মিলিয়ে কোম্পানির বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ৩ কোটি ৫৩ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২৮ সালের মধ্যে ৪ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদী ‘প্রজেক্ট অ্যাসপায়ার’-এর অংশ হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশের এই শোধনাগারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতির বিচারে এ প্রকল্পটি একটি নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে। নির্মাণ পর্যায়ে প্রায় ১৪০০০ এবং বাণিজ্যিক পরিচালনা পর্যায়ে ৫০০০-এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এই কমপ্লেক্সে সবুজ হাইড্রোজেন, নবায়নযোগ্য শক্তির অঞ্চল এবং একটি মেগা সামুদ্রিক অপরিশোধিত তেল টার্মিনাল অন্তর্ভুক্ত থাকায় অন্ধ্রপ্রদেশ অঞ্চলটি একটি প্রধান জ্বালানি হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

অন্ধ্রপ্রদেশের এই মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি বিপিসিএল বিনা, কোচি ও মুম্বাই শোধনাগারে ইথিলিন ক্র্যাকার, পলিপ্রোপিলিন ও আধুনিক এফসিসি ইউনিট স্থাপনে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে, যা শুধু জ্বালানি নয় বরং প্লাস্টিক ও অন্যান্য শিল্পপণ্যের কাঁচামাল উৎপাদনেও কোম্পানিটিকে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে নিয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%