শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৫ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে প্রবীণদের সেবার উদ্দেশ্যে সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের একটি চতুর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। মেডিকেয়ার কর্মসূচি থেকে প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ লেনদেনের অপরাধে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাকিয়া খানকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে মার্কিন আদালত। ব্রুকলিনের আদালত কক্ষে বিচারক নাতাশা সি মার্ল এই রায় প্রদান করেন।
আদালতের নথিপত্র থেকে জানা যায়, এটি একটি লোভ ও প্রতারণার অবিশ্বাস্য কাহিনী। ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ এবং ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল’ নামে দুটি প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনা করতেন জাকিয়া। পাশাপাশি, বাসায় সেবা দেওয়ার আড়ালে ‘রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং’ এবং বেআইনি অর্থ লুকানোর জন্য ‘তানভী সার্ভিসেস’ নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি।
২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর ধরে এই কারচুপি চলতে থাকে। প্রবীণ নাগরিকদের এসব কেন্দ্র থেকে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, জাকিয়া ও তার চক্রের দালালরা তাদের নগদ টাকার প্রলোভন দেখাতেন। প্রবীণরা কোনো সেবা না পেয়েও কেবল ভুয়া হাজিরা খাতায় সই করতেন, আর তার বিনিময়ে নগদ ঘুষের টাকা পেতেন। অন্যদিকে, জাকিয়া খান সরকার বা মেডিকেয়ারের কাছে সেবা প্রদানের ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে কোটি কোটি ডলার তুলে নিতেন।
গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জাকিয়া খান নিজের অফিসে বসে কীভাবে ঘুষের টাকা লেনদেন করছেন। জানা গেছে, এই কয়েক বছরে তার প্রতিষ্ঠান দুটি প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমা দিয়েছে। এর মধ্যে সরকার তাকে ৫৬ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে। প্রতারণার এই বিপুল অর্থ দিয়ে জাকিয়া বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন, জমা করেছেন প্রচুর নগদ টাকা ও খাঁটি সোনার গয়না।
তদন্তে সব কিছু ধরা পড়ার পর গত বছর জাকিয়া নিজের দোষ স্বীকার করেন। বিচারের সময় কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ওই ৫৬ মিলিয়ন ডলার সরকারকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, তার দুটি বাড়ি, নগদ টাকা ও সোনা মিলিয়ে অন্তত ৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা এবং পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জালিয়াতি চক্র ধরা পড়েছে। প্রবীণ ও অসহায় মানুষের নাম ভাঙিয়ে যারা সরকারের টাকা আত্মসাৎ করবে, তাদের সবাইকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন জীবন শুরু করার গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল হলিউডের তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে নিয়ে। এবার সেই জল্পনা বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে দীর্ঘকাল বসবাসকারী ‘লারা ক্রফট’ খ্যাত এই অভিনেত্রী ছয় সন্তানের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুনভাবে জীবনযাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ফ্যাশন ম্যাগাজিন ল’অফিশিয়েল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোলি জানিয়েছেন যে, বর্তমানে কোনো একটি দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা তার নেই। বরং, তিনি কিছু সময়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়ে ‘যাযাবর’ জীবনযাপন করতে চান। অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী উল্লেখ করেছেন যে, তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হতে চলেছে।
বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা সম্পর্কে জোলি জানান, দেশের বাইরে গেলেও তিনি এখনই কোথাও স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করতে চান না। তবে, তার মায়ের স্মৃতি এবং পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে সযত্নে সংরক্ষণ করার ইচ্ছা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরও তিনি নিজের সৃজনশীল ফ্যাশন হাউসের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চান। পাশাপাশি, জাতিসংঘ এবং তার অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাডক্স ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন তিনি। এই তারকা শুরুতে কয়েক মাস কম্বোডিয়ায় থাকার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় তার ২৯ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক বাড়িটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন জোলি। সে সময় তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছিল যে, লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি বহু বছর ধরেই ভাবছিলেন।
তবে এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পেছনে ব্যক্তিগত ইচ্ছার পাশাপাশি আইনি বিষয়ও ছিল। সাবেক স্বামী ব্র্যাড পিটের সঙ্গে বিচ্ছেদের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সন্তানদের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত জোলির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল।
জোলি ও পিটের ছয় সন্তান হলেন ম্যাডক্স, প্যাক্স, জাহারা, শিলো এবং যমজ ভিভিয়েন ও নক্স। গত জুলাইয়ে যমজ সন্তান দুজনই ১৮ বছর পূর্ণ করায় সেই বাধ্যবাধকতাও শেষ হয়েছে।
এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকার বিষয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন জোলি। গত আগস্টে দ্য হলিউড রিপোর্টার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন যে, বিবাহবিচ্ছেদের কারণে বাধ্য হয়ে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকতে হচ্ছে।
ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন। তবে, তিনি মনে করেন যে, দেশের শক্তি বাড়ানো জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে শত্রু বা অন্য দেশের সামনে দুর্বল হয়ে আলোচনায় বসতে না হয়। খবর মিডলইস্ট আই -এর।
দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় এসব মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন এবং সংস্কৃতি রক্ষায় গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সরকারের সহায়ক হওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, শিক্ষার্থীদের উচিত রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে সকলকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, যিনি দেশের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবেন, তাকেই তিনি স্বাগত জানাবেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শও দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লাল (৩২) এখনও দাফন বা দাহ করা হয়নি। তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মা ও বাবার মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ায়, মারা যাওয়ার ছয় দিন পরেও তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে।
শুভকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ইসলামি রীতিতে দাফন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তার মা, স্ত্রী ও ভাই। অপরদিকে, তার বাবা হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান। শুভর মৃত্যুর পরপরই তার মা ও স্ত্রী দাফনের জন্য চেষ্টা করলে বাবা বাধা দেন। দাফন বা দাহের বিষয়ে জটিলতা তৈরি হলে স্ত্রীর পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট ইসলামি রীতিতে দাফনের নির্দেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, দাফন নিয়ে মা ও বাবার মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আদালতের কাছে গড়িয়েছে। লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মা ও ভাই উচ্চ আদালতে আবেদন করার পর ইসলামি রীতিতে লাশ দাফনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া একটার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনের সড়কে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
শুভর মা পার্বতী রানী দাস ও বাবা হরি চন্দ্র দাসের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ২০০৩ সালে তিন সন্তানসহ পার্বতী রানী হিন্দুধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তার নাম হয় আয়েশা বেগম। দুই ছেলের নামও পরিবর্তন করা হয়। শুভর নতুন নাম রাখা হয় মো. বিল্লাল এবং তার ছোট ভাই সুজনের নাম হয় ইব্রাহিম। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) শুভ চন্দ্র দাস নাম পরিবর্তন করা হয়নি।
শুভর ভাই ইব্রাহিম জানান, ধর্মান্তরের পর থেকে তারা মুসলিম পরিচয়ে জীবনযাপন করে আসছেন। ছোটবেলায় শুভ মাদ্রাসায় পড়েছেন। বর্তমানে বাবা হিন্দুধর্মের অনুসারী দাবি করে লাশ দাফনে বাধা দিচ্ছেন।
শুভ মুসলিম পরিচয়েই বড় হয়েছেন, পরিবারের দাবি। প্রায় আট বছর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মুসলিম তরুণী জ্যোতি আক্তারকে বিয়ে করেন। কাবিননামার মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সুমাইয়া আক্তার নামে দুই বছর বয়সি একটি মেয়ে রয়েছে। তারা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ভূঁইগড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
শুভর স্ত্রী জ্যোতি আক্তার জানান, তার স্বামী জীবিত থাকতে বলেছেন, মারা গেলে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করতে। কিন্তু তার শ্বশুর পুলিশ পাঠিয়ে মাসদাইর কবরস্থান থেকে লাশ নিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, "আমার স্বামী মরে গিয়েও শান্তি পাচ্ছে না। তারা তাকে কষ্ট দিচ্ছে। আমরা চাই, ইসলাম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার লাশ দাফন করা হোক।"
তবে শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, শুভ হিন্দু পরিবারে জন্মেছেন। তাই তিনি হিন্দু ধর্মীয় রীতিতেই ছেলের শেষকৃত্য করতে চান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম জানান, শুভর মায়ের আবেদনের পর লাশ দাফনের জন্য কবরস্থানে নেওয়া হয়েছিল কিন্তু শুভর বাবা আইনজীবীর মাধ্যমে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্যের জন্য লাশ চেয়ে আবেদন করেন। হস্তান্তরের আগপর্যন্ত লাশ ঢাকা মেডিকেলের হিমঘরে রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে শুভর মা ও ভাই উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ শুভকে ইসলাম ধর্মীয় রীতিতে দাফন করার আদেশ দেন।
রিটকারী আইনজীবী মো. জুয়েল আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে আদেশ হওয়ায় আদেশের কপি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো সম্ভব হয়নি। রোববার কার্যদিবসের শুরুতেই আদেশের কপি পৌঁছানোর আশা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বার্সেলোনার হয়ে লিওনেল মেসির গড়া কিছু রেকর্ড এতদিন পর্যন্ত ছিল প্রায় অপ্রাপ্য। তবে নতুন মৌসুমে রাফিনিয়াকে ভিন্ন ভূমিকায় খেলানোর সিদ্ধান্ত সেই হিসাব কিছুটা পরিবর্তন করেছে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের শুরুটা যেভাবে হয়েছে, তাতে মেসির একাধিক রেকর্ডের দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার সামনে।
২০২৬-২৭ মৌসুমে রাফিনিয়া এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলে আট গোল করেছেন। রবার্ট লেভানডভস্কি ও ফেরান তোরেসের দল ছাড়ার পর এবং জুলিয়ান আলভারেজকে দলে যুক্ত করার চেষ্টা সফল না হওয়ায় বার্সেলোনা রাফিনিয়াকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উইং থেকে উঠে এসে কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার পারফরম্যান্সের চিত্র যেন বদলে গেছে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক বার্সেলোনার সর্বকালের সেরা মেসির যেসব রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারেন রাফিনিয়া-
লা লিগায় টানা গোলের রেকর্ড
২০১২-১৩ মৌসুমে লা লিগায় টানা ২১ ম্যাচে গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন মেসি। রাফিনিয়া অবশ্য এখনো সেই রেকর্ডের কাছাকাছিও পৌঁছাননি। তবে চলতি লিগে প্রথম চার ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে মেসির রেকর্ডের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৪ গোল
২০১১-১২ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার হয়ে ১৪ গোল করেছিলেন মেসি। এবারের আসরে প্রথম ম্যাচেই দুই গোল করে দারুণ সূচনা করেছেন রাফিনিয়া। নতুন ফরম্যাটের কারণে নকআউট পর্বসহ বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকায় এই রেকর্ডকে লক্ষ্য করা অসম্ভব নয়।
হোস্কোরড রেটিংয়েও নজর
টানা ১২ মৌসুম হোস্কোরডের গড় রেটিংয়ে ৮.০০-এর ওপরে ছিলেন মেসি। তার সর্বোচ্চ গড় রেটিং ছিল ৮.৮৮। চলতি মৌসুমে রাফিনিয়ার রেটিং ৮.৭২—অর্থাৎ শুরুতেই মেসির সেরা সময়ের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন তিনি।
লা লিগায় ৫০ গোলের মাইলফলক
২০১১-১২ মৌসুমে লা লিগায় মেসির ৫০ গোলের কীর্তি এখনও বিরল একটি রেকর্ড। তবে রাফিনিয়ার চলতি মৌসুমের শুরু অন্তত আশার আলো দেখাচ্ছে। প্রথম চার ম্যাচে তার গোল ছয়টি, অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে দেড় গোল। এই হার পুরো ৩৮ ম্যাচের মৌসুমে ধরে রাখতে পারলে তার গোলসংখ্যা ৫৭-তে পৌঁছাতে পারে।
এক মৌসুমে আট হ্যাটট্রিক
লা লিগার এক মৌসুমে আটটি হ্যাটট্রিক করার রেকর্ডও মেসির দখলে। নতুন পজিশনে খেলার কারণে ইয়ামাল, পেদ্রি ও ফেরমিনের কাছ থেকে নিয়মিত গোলের সুযোগ পাচ্ছেন রাফিনিয়া। ফলে মৌসুমজুড়ে একাধিক হ্যাটট্রিক করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
৩৮ ম্যাচের ২৭টিতে গোল
লা লিগার এক মৌসুমে ৩৮ ম্যাচের মধ্যে ২৭ ম্যাচেই গোল করেছিলেন মেসি। রাফিনিয়ার এবারের শুরু অবশ্য শতভাগ সফল। লিগের চার ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। তবে মেসির রেকর্ড স্পর্শ করতে হলে প্রায় পুরো মৌসুমজুড়েই এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে তাকে।
এক মৌসুমে ৭৩ গোল
২০১১-১২ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩ গোল করেছিলেন মেসি—যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য ব্যক্তিগত রেকর্ড। রাফিনিয়া এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে করেছে আট গোল। একই গতিতে ৫০ ম্যাচ খেলতে পারলে তার গোলসংখ্যা ৮০-এর কাছাকাছি যেতে পারে।
তবে মৌসুমের শুরুতেই এ ধরনের হিসাবকে চূড়ান্ত সম্ভাবনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘ মৌসুমে চোট, ফর্ম, ম্যাচের সংখ্যা এবং প্রতিপক্ষের মান—সবকিছুই একজন খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও স্ট্রাইকার হিসেবে রাফিনিয়ার এই দুর্দান্ত সূচনা বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘদিনের ‘অস্পর্শনীয়’ রেকর্ডগুলো নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার যথেষ্ট কারণ তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ