শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৫ পি.এম
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন। তবে, তিনি মনে করেন যে, দেশের শক্তি বাড়ানো জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে শত্রু বা অন্য দেশের সামনে দুর্বল হয়ে আলোচনায় বসতে না হয়। খবর মিডলইস্ট আই -এর।
দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় এসব মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন এবং সংস্কৃতি রক্ষায় গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সরকারের সহায়ক হওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, শিক্ষার্থীদের উচিত রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে সকলকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, যিনি দেশের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবেন, তাকেই তিনি স্বাগত জানাবেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শও দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লাল (৩২) এখনও দাফন বা দাহ করা হয়নি। তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মা ও বাবার মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ায়, মারা যাওয়ার ছয় দিন পরেও তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে।
শুভকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ইসলামি রীতিতে দাফন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তার মা, স্ত্রী ও ভাই। অপরদিকে, তার বাবা হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান। শুভর মৃত্যুর পরপরই তার মা ও স্ত্রী দাফনের জন্য চেষ্টা করলে বাবা বাধা দেন। দাফন বা দাহের বিষয়ে জটিলতা তৈরি হলে স্ত্রীর পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট ইসলামি রীতিতে দাফনের নির্দেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, দাফন নিয়ে মা ও বাবার মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আদালতের কাছে গড়িয়েছে। লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মা ও ভাই উচ্চ আদালতে আবেদন করার পর ইসলামি রীতিতে লাশ দাফনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া একটার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনের সড়কে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
শুভর মা পার্বতী রানী দাস ও বাবা হরি চন্দ্র দাসের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ২০০৩ সালে তিন সন্তানসহ পার্বতী রানী হিন্দুধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তার নাম হয় আয়েশা বেগম। দুই ছেলের নামও পরিবর্তন করা হয়। শুভর নতুন নাম রাখা হয় মো. বিল্লাল এবং তার ছোট ভাই সুজনের নাম হয় ইব্রাহিম। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) শুভ চন্দ্র দাস নাম পরিবর্তন করা হয়নি।
শুভর ভাই ইব্রাহিম জানান, ধর্মান্তরের পর থেকে তারা মুসলিম পরিচয়ে জীবনযাপন করে আসছেন। ছোটবেলায় শুভ মাদ্রাসায় পড়েছেন। বর্তমানে বাবা হিন্দুধর্মের অনুসারী দাবি করে লাশ দাফনে বাধা দিচ্ছেন।
শুভ মুসলিম পরিচয়েই বড় হয়েছেন, পরিবারের দাবি। প্রায় আট বছর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মুসলিম তরুণী জ্যোতি আক্তারকে বিয়ে করেন। কাবিননামার মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সুমাইয়া আক্তার নামে দুই বছর বয়সি একটি মেয়ে রয়েছে। তারা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ভূঁইগড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
শুভর স্ত্রী জ্যোতি আক্তার জানান, তার স্বামী জীবিত থাকতে বলেছেন, মারা গেলে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করতে। কিন্তু তার শ্বশুর পুলিশ পাঠিয়ে মাসদাইর কবরস্থান থেকে লাশ নিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, "আমার স্বামী মরে গিয়েও শান্তি পাচ্ছে না। তারা তাকে কষ্ট দিচ্ছে। আমরা চাই, ইসলাম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার লাশ দাফন করা হোক।"
তবে শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, শুভ হিন্দু পরিবারে জন্মেছেন। তাই তিনি হিন্দু ধর্মীয় রীতিতেই ছেলের শেষকৃত্য করতে চান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম জানান, শুভর মায়ের আবেদনের পর লাশ দাফনের জন্য কবরস্থানে নেওয়া হয়েছিল কিন্তু শুভর বাবা আইনজীবীর মাধ্যমে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্যের জন্য লাশ চেয়ে আবেদন করেন। হস্তান্তরের আগপর্যন্ত লাশ ঢাকা মেডিকেলের হিমঘরে রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে শুভর মা ও ভাই উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ শুভকে ইসলাম ধর্মীয় রীতিতে দাফন করার আদেশ দেন।
রিটকারী আইনজীবী মো. জুয়েল আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে আদেশ হওয়ায় আদেশের কপি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো সম্ভব হয়নি। রোববার কার্যদিবসের শুরুতেই আদেশের কপি পৌঁছানোর আশা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বার্সেলোনার হয়ে লিওনেল মেসির গড়া কিছু রেকর্ড এতদিন পর্যন্ত ছিল প্রায় অপ্রাপ্য। তবে নতুন মৌসুমে রাফিনিয়াকে ভিন্ন ভূমিকায় খেলানোর সিদ্ধান্ত সেই হিসাব কিছুটা পরিবর্তন করেছে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের শুরুটা যেভাবে হয়েছে, তাতে মেসির একাধিক রেকর্ডের দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার সামনে।
২০২৬-২৭ মৌসুমে রাফিনিয়া এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলে আট গোল করেছেন। রবার্ট লেভানডভস্কি ও ফেরান তোরেসের দল ছাড়ার পর এবং জুলিয়ান আলভারেজকে দলে যুক্ত করার চেষ্টা সফল না হওয়ায় বার্সেলোনা রাফিনিয়াকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উইং থেকে উঠে এসে কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার পারফরম্যান্সের চিত্র যেন বদলে গেছে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক বার্সেলোনার সর্বকালের সেরা মেসির যেসব রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারেন রাফিনিয়া-
লা লিগায় টানা গোলের রেকর্ড
২০১২-১৩ মৌসুমে লা লিগায় টানা ২১ ম্যাচে গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন মেসি। রাফিনিয়া অবশ্য এখনো সেই রেকর্ডের কাছাকাছিও পৌঁছাননি। তবে চলতি লিগে প্রথম চার ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে মেসির রেকর্ডের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৪ গোল
২০১১-১২ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার হয়ে ১৪ গোল করেছিলেন মেসি। এবারের আসরে প্রথম ম্যাচেই দুই গোল করে দারুণ সূচনা করেছেন রাফিনিয়া। নতুন ফরম্যাটের কারণে নকআউট পর্বসহ বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকায় এই রেকর্ডকে লক্ষ্য করা অসম্ভব নয়।
হোস্কোরড রেটিংয়েও নজর
টানা ১২ মৌসুম হোস্কোরডের গড় রেটিংয়ে ৮.০০-এর ওপরে ছিলেন মেসি। তার সর্বোচ্চ গড় রেটিং ছিল ৮.৮৮। চলতি মৌসুমে রাফিনিয়ার রেটিং ৮.৭২—অর্থাৎ শুরুতেই মেসির সেরা সময়ের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন তিনি।
লা লিগায় ৫০ গোলের মাইলফলক
২০১১-১২ মৌসুমে লা লিগায় মেসির ৫০ গোলের কীর্তি এখনও বিরল একটি রেকর্ড। তবে রাফিনিয়ার চলতি মৌসুমের শুরু অন্তত আশার আলো দেখাচ্ছে। প্রথম চার ম্যাচে তার গোল ছয়টি, অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে দেড় গোল। এই হার পুরো ৩৮ ম্যাচের মৌসুমে ধরে রাখতে পারলে তার গোলসংখ্যা ৫৭-তে পৌঁছাতে পারে।
এক মৌসুমে আট হ্যাটট্রিক
লা লিগার এক মৌসুমে আটটি হ্যাটট্রিক করার রেকর্ডও মেসির দখলে। নতুন পজিশনে খেলার কারণে ইয়ামাল, পেদ্রি ও ফেরমিনের কাছ থেকে নিয়মিত গোলের সুযোগ পাচ্ছেন রাফিনিয়া। ফলে মৌসুমজুড়ে একাধিক হ্যাটট্রিক করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
৩৮ ম্যাচের ২৭টিতে গোল
লা লিগার এক মৌসুমে ৩৮ ম্যাচের মধ্যে ২৭ ম্যাচেই গোল করেছিলেন মেসি। রাফিনিয়ার এবারের শুরু অবশ্য শতভাগ সফল। লিগের চার ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। তবে মেসির রেকর্ড স্পর্শ করতে হলে প্রায় পুরো মৌসুমজুড়েই এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে তাকে।
এক মৌসুমে ৭৩ গোল
২০১১-১২ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩ গোল করেছিলেন মেসি—যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য ব্যক্তিগত রেকর্ড। রাফিনিয়া এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে করেছে আট গোল। একই গতিতে ৫০ ম্যাচ খেলতে পারলে তার গোলসংখ্যা ৮০-এর কাছাকাছি যেতে পারে।
তবে মৌসুমের শুরুতেই এ ধরনের হিসাবকে চূড়ান্ত সম্ভাবনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘ মৌসুমে চোট, ফর্ম, ম্যাচের সংখ্যা এবং প্রতিপক্ষের মান—সবকিছুই একজন খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও স্ট্রাইকার হিসেবে রাফিনিয়ার এই দুর্দান্ত সূচনা বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘদিনের ‘অস্পর্শনীয়’ রেকর্ডগুলো নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার যথেষ্ট কারণ তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চার বছর আগে জার্মান ফুটবলের চতুর্থ স্তরে অবস্থান করছিল এলভার্সবার্গ। বর্তমানে তারা বুন্দেসলিগায় অভিষেকের প্রথম দুই ম্যাচেই জয়লাভ করে রোববার ৩৫ বারের জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
চার বছর পূর্বে এলভার্সবার্গ আঞ্চলিক লিগে খেলে আসছিল। সেই দলটি এখন বুন্দেসলিগায় অভিষেক মৌসুমে দুই ম্যাচে জয়লাভ করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। রোববার, ছোট শহরের ক্লাবটি জার্মানির সবচেয়ে সফল দল বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে। এলভার্সবার্গের এই উত্থানের কাহিনী ইতোমধ্যে একটি রূপকথায় পরিণত হয়েছে।
চার বছর আগে, এলভার্সবার্গ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের আঞ্চলিক লিগের চতুর্থ স্তরে শীর্ষে উঠে আসে। ২০২২-২৩ মৌসুমে তারা দ্বিতীয়বারের মতো বুন্দেসলিগা-২-এ উন্নীত হয়। ২০২৪-২৫ মৌসুমে হাইডেনহাইমের কাছে প্লে-অফে ৪-৩ গোলে পরাজিত হয়ে বুন্দেসলিগায় ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করে। তবে এক বছর পরে শালকের পেছনে রানার্সআপ হয়ে সরাসরি শীর্ষ স্তরে চলে আসে তারা।
বুন্দেসলিগায় অভিষেক ম্যাচে এলভার্সবার্গের প্রতিপক্ষ ছিল বায়ার লেভারকুসেন। তারা ভয় না পেয়ে প্রথম নয় মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। গোল করেন লুকাস পেটকভ ও কোল ক্যাম্পবেল। বিরতির পর ডেভিড মোকওয়া তৃতীয় গোল করলে তাদের রূপকথার শুরু আরও জমে ওঠে। পরে পাত্রিক শিক ও যোগ করা সময়ে ক্রিস্তিয়ান কোফানে গোল করলেও নবাগতরা জয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
দ্বিতীয় ম্যাচে নাটকীয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। বরুসিয়া মোনশেংগ্লাডবাখের মাঠে ৫৬ মিনিট পর্যন্ত এলভার্সবার্গ ১-৩ গোলে পিছিয়ে ছিল। তবে মরিস ক্রাটেনমাখার ও ফেলিক্স কেইডেলের গোলে তারা সমতা ফেরায়। যোগ করা সময়ে ক্রাটেনমাখারই জয়সূচক গোল করেন। ফলে বুন্দেসলিগায় প্রথম দুই ম্যাচেই জয়লাভ করে এলভার্সবার্গ ইতিহাস গড়ে।
উদ্বোধনী ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম বাদ দিলে, বুন্দেসলিগার ইতিহাসে তারা মাত্র ষষ্ঠ দল হিসেবে প্রথম দুই ম্যাচে জয় লাভের নজির স্থাপন করেছে। একবিংশ শতাব্দীতে এমন কীর্তি মাত্র দ্বিতীয়বার ঘটেছে। দুই ম্যাচে শতভাগ জয় পাওয়া চার দলের মধ্যে এলভার্সবার্গও রয়েছে। এমনকি গত সপ্তাহে শালকের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করা বায়ার্নের চেয়ে তারা এখন পয়েন্ট তালিকায় উপরে অবস্থান করছে।
বিশ্বব্যাপী ১৩ হাজারের বেশি পুরুষ ফুটবল দলের শক্তিমত্তা অনুযায়ী সাজানো অপ্টা পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে এলভার্সবার্গের উত্থান লক্ষণীয়। ২০২২-২৩ মৌসুমের শুরুতে তারা ছিল বিশ্বের শীর্ষ দুই হাজারের বাইরে। মোনশেংগ্লাডবাখকে হারানোর পর বর্তমানে তারা ১২৭তম স্থানে উঠে এসেছে। তাদের নিচে রয়েছে আন্দেরলেখট ও ফিওরেন্তিনা। রোববার বায়ার্নকে পরাজিত করতে পারলে তারা আরও উপরে উঠবে।
এলভার্সবার্গের উত্থানের পেছনে তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করার কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নিক ভল্টেমাডে ২০২২-২৩ মৌসুমে ভের্ডার ব্রেমেন থেকে ধারে এলভার্সবার্গে খেলেছেন। ফিসনিক আসলানি ২০২৪-২৫ মৌসুমে ধারে এসে পরে হফেনহাইমে আলো ছড়ান। ইউনেস এবনুতালিব গত মৌসুমের প্রথমার্ধে এলভার্সবার্গের হয়ে ১৭ লিগ ম্যাচে ১২ গোল করে জানুয়ারিতে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টে চলে যান। তাঁর বিদায়ের পরও এলভার্সবার্গের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে।
গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা-২-এ এলভার্সবার্গ ৬৪ গোল করে সর্বাধিক গোলদাতা দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তাদের প্রত্যাশিত গোল ছিল ৬৪.৮, যা তাদের পারফরম্যান্সের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ৩৯ গোল হজম করে তারা ছিল দ্বিতীয় সর্বনিম্ন গোল খাওয়া দল; বিপক্ষের প্রত্যাশিত গোলও ছিল ৩৯.৫। তাই তাদের উন্নীত হওয়াকে নিছক ভাগ্যের ফল বলার সুযোগ নেই।
তাদের খেলার ধরন আক্রমণাত্মক, তবে অতি সরাসরি নয়। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা-২-এ তারা সবচেয়ে কম লম্বা পাস খেলেছে—১ হাজার ৫৩৭টি। তবে বল সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কার্যকর ছিল। ৯৭৯টি প্রগ্রেসিভ পাস দিয়ে তারা লিগে দ্বিতীয়, আর সফল থ্রু বলের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক—২৯টি। সেট-পিসেও তারা বিপজ্জনক; কর্নার থেকে গত মৌসুমে ১০ গোল করেছে তারা।
এ সাহসী ফুটবলের কারিগর কোচ ভিনসেন্ট ভাগনার। ২০২৫ সালের জুনে দায়িত্ব গ্রহণকারী ভাগনার প্রথম মৌসুমেই দলকে বুন্দেসলিগায় উন্নীত করেন। তবে রোববার বায়ার্নের বিপক্ষে তিনি ডাগআউটে থাকতে পারবেন না। মোনশেংগ্লাডবাখের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখায় নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন তিনি।
ভাগনারের দর্শন তাঁর দলের খেলার সঙ্গে মেলে। তিনি বলেছেন, "পিছিয়ে থেকে রক্ষণাত্মক হয়ে ১-০ গোলে হারার চেয়ে সাহস করে ৪-০ গোলে হারানো তাঁর কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।" তাঁর বিশ্বাস, ফুটবল উপভোগের বিষয় এবং সাহসী, আনন্দময় ফুটবলই খেলোয়াড়দের উন্নতিতে বেশি সহায়তা করে।
ঝুঁকিপূর্ণ এই দর্শনের কারণে এলভার্সবার্গ গোলও হজম করেছে। দুই ম্যাচে তারা পাঁচ গোল খেয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের শেষ ১৪ অ্যাওয়ে লিগ ম্যাচের কোনোটিতেই ক্লিন শিট রাখতে পারেনি। তবে অন্য প্রান্তে গোল করার ক্ষমতাও স্পষ্ট। প্রথম দুই ম্যাচে সাত গোল করে তারা বুন্দেসলিগায় কোনো নবাগত দলের মৌসুম শুরুর প্রথম দুই ম্যাচে সর্বাধিক গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে।
তরুণদের ওপর জোর থাকলেও দলটি পুরোপুরি তারুণ্যনির্ভর নয়। বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ মিলিয়ে চলতি মৌসুমে মাঠে নামা খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৫ বছর ২৪৮ দিন। ক্যাম্পবেল, মোকওয়া ও ফ্রান্সিস ওনিয়েকার মতো তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞ ম্যাক্সিমিলিয়ান রোর, ইয়ান গ্যামারাহ ও লুকা শ্নেলবাখারও রয়েছেন। শ্নেলবাখার ও গোলরক্ষক নিকোলাস ক্রিস্তফ তো আঞ্চলিক লিগ থেকেই ক্লাবটির সঙ্গে যুক্ত আছেন।
এলভার্সবার্গের আরেকটি শক্তি হলো গোলের ভার একজনের ওপর না থাকা। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা-২-এর সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হলেও ব্যক্তিগতভাবে সেরা নয়জন গোলদাতার তালিকায় তাদের কেউ ছিলেন না। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা লুকাস পেটকভ করেছিলেন ১৩ গোল। অর্থাৎ দলটির আক্রমণভাগের শক্তি মূলত সম্মিলিত।
রোববার এলভার্সবার্গের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হতে যাচ্ছে। চার বছর আগে যারা জার্মান ফুটবলের চতুর্থ স্তরে খেলছিল, তারা এখন মাঠে নামবে ৩৫ বারের জার্মান চ্যাম্পিয়ন ও ছয়বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে। দুই ম্যাচে দুই জয় পাওয়া এলভার্সবার্গের রূপকথা এবার কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই দেখার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ সংসদীয় আসনে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন।
এ তথ্য বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
মিডিয়া সেল জানায়, ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মন্দিরে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। আজ বিকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে অনুদান তুলে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
ঢাকা-১৭ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত। মূলত গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, কড়াইল বস্তি, বারিধারা, শাহজাদপুর, কালাচাঁদপুর, ভাষানটেক, মাটিকাটা এবং ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে এই আসনটি গঠিত।
বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই আসনের সংসদ সদস্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ