শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৭ পি.এম
চার বছর আগে জার্মান ফুটবলের চতুর্থ স্তরে অবস্থান করছিল এলভার্সবার্গ। বর্তমানে তারা বুন্দেসলিগায় অভিষেকের প্রথম দুই ম্যাচেই জয়লাভ করে রোববার ৩৫ বারের জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
চার বছর পূর্বে এলভার্সবার্গ আঞ্চলিক লিগে খেলে আসছিল। সেই দলটি এখন বুন্দেসলিগায় অভিষেক মৌসুমে দুই ম্যাচে জয়লাভ করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। রোববার, ছোট শহরের ক্লাবটি জার্মানির সবচেয়ে সফল দল বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে। এলভার্সবার্গের এই উত্থানের কাহিনী ইতোমধ্যে একটি রূপকথায় পরিণত হয়েছে।
চার বছর আগে, এলভার্সবার্গ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের আঞ্চলিক লিগের চতুর্থ স্তরে শীর্ষে উঠে আসে। ২০২২-২৩ মৌসুমে তারা দ্বিতীয়বারের মতো বুন্দেসলিগা-২-এ উন্নীত হয়। ২০২৪-২৫ মৌসুমে হাইডেনহাইমের কাছে প্লে-অফে ৪-৩ গোলে পরাজিত হয়ে বুন্দেসলিগায় ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করে। তবে এক বছর পরে শালকের পেছনে রানার্সআপ হয়ে সরাসরি শীর্ষ স্তরে চলে আসে তারা।
বুন্দেসলিগায় অভিষেক ম্যাচে এলভার্সবার্গের প্রতিপক্ষ ছিল বায়ার লেভারকুসেন। তারা ভয় না পেয়ে প্রথম নয় মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। গোল করেন লুকাস পেটকভ ও কোল ক্যাম্পবেল। বিরতির পর ডেভিড মোকওয়া তৃতীয় গোল করলে তাদের রূপকথার শুরু আরও জমে ওঠে। পরে পাত্রিক শিক ও যোগ করা সময়ে ক্রিস্তিয়ান কোফানে গোল করলেও নবাগতরা জয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
দ্বিতীয় ম্যাচে নাটকীয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। বরুসিয়া মোনশেংগ্লাডবাখের মাঠে ৫৬ মিনিট পর্যন্ত এলভার্সবার্গ ১-৩ গোলে পিছিয়ে ছিল। তবে মরিস ক্রাটেনমাখার ও ফেলিক্স কেইডেলের গোলে তারা সমতা ফেরায়। যোগ করা সময়ে ক্রাটেনমাখারই জয়সূচক গোল করেন। ফলে বুন্দেসলিগায় প্রথম দুই ম্যাচেই জয়লাভ করে এলভার্সবার্গ ইতিহাস গড়ে।
উদ্বোধনী ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম বাদ দিলে, বুন্দেসলিগার ইতিহাসে তারা মাত্র ষষ্ঠ দল হিসেবে প্রথম দুই ম্যাচে জয় লাভের নজির স্থাপন করেছে। একবিংশ শতাব্দীতে এমন কীর্তি মাত্র দ্বিতীয়বার ঘটেছে। দুই ম্যাচে শতভাগ জয় পাওয়া চার দলের মধ্যে এলভার্সবার্গও রয়েছে। এমনকি গত সপ্তাহে শালকের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করা বায়ার্নের চেয়ে তারা এখন পয়েন্ট তালিকায় উপরে অবস্থান করছে।
বিশ্বব্যাপী ১৩ হাজারের বেশি পুরুষ ফুটবল দলের শক্তিমত্তা অনুযায়ী সাজানো অপ্টা পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে এলভার্সবার্গের উত্থান লক্ষণীয়। ২০২২-২৩ মৌসুমের শুরুতে তারা ছিল বিশ্বের শীর্ষ দুই হাজারের বাইরে। মোনশেংগ্লাডবাখকে হারানোর পর বর্তমানে তারা ১২৭তম স্থানে উঠে এসেছে। তাদের নিচে রয়েছে আন্দেরলেখট ও ফিওরেন্তিনা। রোববার বায়ার্নকে পরাজিত করতে পারলে তারা আরও উপরে উঠবে।
এলভার্সবার্গের উত্থানের পেছনে তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করার কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নিক ভল্টেমাডে ২০২২-২৩ মৌসুমে ভের্ডার ব্রেমেন থেকে ধারে এলভার্সবার্গে খেলেছেন। ফিসনিক আসলানি ২০২৪-২৫ মৌসুমে ধারে এসে পরে হফেনহাইমে আলো ছড়ান। ইউনেস এবনুতালিব গত মৌসুমের প্রথমার্ধে এলভার্সবার্গের হয়ে ১৭ লিগ ম্যাচে ১২ গোল করে জানুয়ারিতে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টে চলে যান। তাঁর বিদায়ের পরও এলভার্সবার্গের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে।
গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা-২-এ এলভার্সবার্গ ৬৪ গোল করে সর্বাধিক গোলদাতা দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তাদের প্রত্যাশিত গোল ছিল ৬৪.৮, যা তাদের পারফরম্যান্সের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ৩৯ গোল হজম করে তারা ছিল দ্বিতীয় সর্বনিম্ন গোল খাওয়া দল; বিপক্ষের প্রত্যাশিত গোলও ছিল ৩৯.৫। তাই তাদের উন্নীত হওয়াকে নিছক ভাগ্যের ফল বলার সুযোগ নেই।
তাদের খেলার ধরন আক্রমণাত্মক, তবে অতি সরাসরি নয়। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা-২-এ তারা সবচেয়ে কম লম্বা পাস খেলেছে—১ হাজার ৫৩৭টি। তবে বল সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কার্যকর ছিল। ৯৭৯টি প্রগ্রেসিভ পাস দিয়ে তারা লিগে দ্বিতীয়, আর সফল থ্রু বলের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক—২৯টি। সেট-পিসেও তারা বিপজ্জনক; কর্নার থেকে গত মৌসুমে ১০ গোল করেছে তারা।
এ সাহসী ফুটবলের কারিগর কোচ ভিনসেন্ট ভাগনার। ২০২৫ সালের জুনে দায়িত্ব গ্রহণকারী ভাগনার প্রথম মৌসুমেই দলকে বুন্দেসলিগায় উন্নীত করেন। তবে রোববার বায়ার্নের বিপক্ষে তিনি ডাগআউটে থাকতে পারবেন না। মোনশেংগ্লাডবাখের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখায় নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন তিনি।
ভাগনারের দর্শন তাঁর দলের খেলার সঙ্গে মেলে। তিনি বলেছেন, "পিছিয়ে থেকে রক্ষণাত্মক হয়ে ১-০ গোলে হারার চেয়ে সাহস করে ৪-০ গোলে হারানো তাঁর কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।" তাঁর বিশ্বাস, ফুটবল উপভোগের বিষয় এবং সাহসী, আনন্দময় ফুটবলই খেলোয়াড়দের উন্নতিতে বেশি সহায়তা করে।
ঝুঁকিপূর্ণ এই দর্শনের কারণে এলভার্সবার্গ গোলও হজম করেছে। দুই ম্যাচে তারা পাঁচ গোল খেয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের শেষ ১৪ অ্যাওয়ে লিগ ম্যাচের কোনোটিতেই ক্লিন শিট রাখতে পারেনি। তবে অন্য প্রান্তে গোল করার ক্ষমতাও স্পষ্ট। প্রথম দুই ম্যাচে সাত গোল করে তারা বুন্দেসলিগায় কোনো নবাগত দলের মৌসুম শুরুর প্রথম দুই ম্যাচে সর্বাধিক গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে।
তরুণদের ওপর জোর থাকলেও দলটি পুরোপুরি তারুণ্যনির্ভর নয়। বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ মিলিয়ে চলতি মৌসুমে মাঠে নামা খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৫ বছর ২৪৮ দিন। ক্যাম্পবেল, মোকওয়া ও ফ্রান্সিস ওনিয়েকার মতো তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞ ম্যাক্সিমিলিয়ান রোর, ইয়ান গ্যামারাহ ও লুকা শ্নেলবাখারও রয়েছেন। শ্নেলবাখার ও গোলরক্ষক নিকোলাস ক্রিস্তফ তো আঞ্চলিক লিগ থেকেই ক্লাবটির সঙ্গে যুক্ত আছেন।
এলভার্সবার্গের আরেকটি শক্তি হলো গোলের ভার একজনের ওপর না থাকা। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা-২-এর সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হলেও ব্যক্তিগতভাবে সেরা নয়জন গোলদাতার তালিকায় তাদের কেউ ছিলেন না। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা লুকাস পেটকভ করেছিলেন ১৩ গোল। অর্থাৎ দলটির আক্রমণভাগের শক্তি মূলত সম্মিলিত।
রোববার এলভার্সবার্গের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হতে যাচ্ছে। চার বছর আগে যারা জার্মান ফুটবলের চতুর্থ স্তরে খেলছিল, তারা এখন মাঠে নামবে ৩৫ বারের জার্মান চ্যাম্পিয়ন ও ছয়বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে। দুই ম্যাচে দুই জয় পাওয়া এলভার্সবার্গের রূপকথা এবার কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই দেখার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ সংসদীয় আসনে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন।
এ তথ্য বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
মিডিয়া সেল জানায়, ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মন্দিরে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। আজ বিকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে অনুদান তুলে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
ঢাকা-১৭ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত। মূলত গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, কড়াইল বস্তি, বারিধারা, শাহজাদপুর, কালাচাঁদপুর, ভাষানটেক, মাটিকাটা এবং ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে এই আসনটি গঠিত।
বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই আসনের সংসদ সদস্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিভারপুলে আলিসন বেকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষককে নতুন চুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত নেই লিভারপুলের। এর মানে, যদি সবকিছু বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তাহলে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে ফ্রি এজেন্ট হয়ে অ্যানফিল্ড ছাড়তে পারেন আলিসন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি; চলতি মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স ও ফিটনেসও বিবেচনায় আসবে।
২০১৮ সালের জুলাই মাসে রোমা থেকে প্রায় ৬৬-৬৭ মিলিয়ন পাউন্ডে আলিসনকে দলে ভেড়ায় লিভারপুল। তখন গোলরক্ষকদের জন্য এটি ছিল রেকর্ডধর্মী ট্রান্সফার ফি। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি প্রমাণ করেন যে, তাঁকে ঘিরে এত বড় বিনিয়োগের যথার্থতা ছিল। প্রথম মৌসুমেই তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে সাহায্য করে। টটেনহ্যামের বিপক্ষে ২০১৯ সালের ফাইনালে গোলবার অক্ষত রাখেন তিনি। একই বছরে উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপও জেতেন।
এরপর আসে লিভারপুলের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। ২০১৯-২০ মৌসুমে আলিসন ছিলেন সেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, যারা ৩০ বছর পর লিভারপুলকে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের শিরোপা এনে দেয়। যদিও চোটের কারণে মৌসুমের একটি বড় অংশ তাঁকে বাইরে থাকতে হয়েছিল, ফিরে এসে আবারও নিজের মান ধরে রাখেন। গোল ঠেকানোর পাশাপাশি, পায়ের নিখুঁত ব্যবহার এবং পেছন থেকে আক্রমণ তৈরির ক্ষমতাও তাঁকে ইয়ুর্গেন ক্লপের দলের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করে।
আলিসনের লিভারপুল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি অবশ্য গোলপোস্টের নিচে নয়, বরং প্রতিপক্ষের বক্সে। ২০২১ সালে ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়নের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের ক্রসে হেড করে গোল করেন তিনি। সেই ৯৫তম মিনিটের গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় পায় লিভারপুল। ক্লাবটির ইতিহাসে গোল করা প্রথম গোলরক্ষকও হয়ে যান ব্রাজিলিয়ান।
২০২১-২২ মৌসুমে আলিসনের ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ হয় এফএ কাপ ও লিগ কাপ। চেলসির বিপক্ষে এফএ কাপের ফাইনালের টাইব্রেকারে মেসন মাউন্টের শট ঠেকিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই মৌসুমেই লিভারপুল প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ—দুই প্রতিযোগিতায়ও শেষ পর্যন্ত শিরোপার খুব কাছে পৌঁছেছিল।
এরপরও অ্যানফিল্ডে তাঁর গুরুত্ব কমেনি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে আর্নে স্লটের অধীনে আবারও প্রিমিয়ার লিগ জেতে লিভারপুল, আর আলিসন দ্বিতীয়বারের মতো হাতে তোলেন ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের ট্রফি। শিরোপা জয়ের পথে লিভারপুলের ১৪টি ক্লিনশিটের নয়টিই ছিল আলিসনের। চোটের কারণে মৌসুমটি তাঁর জন্য সহজ ছিল না, কিন্তু ফিট থাকলে গোলবারের নিচে তিনিই ছিলেন দলের প্রথম পছন্দ।
সংখ্যাতেও তাঁর প্রভাব স্পষ্ট। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত লিভারপুলের হয়ে ৩৩৬ ম্যাচে ১৩৮টি ক্লিনশিট নিয়ে ক্লাবের সর্বকালের তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন আলিসন। তাঁর ওপরে আছেন শুধু রে ক্লেমেন্স, ব্রুস গ্রোবেলার ও পেপে রেইনা। লিভারপুলের হয়ে তিনি জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, দুটি লিগ কাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ—একটি প্রজন্মের সবচেয়ে সফল লিভারপুল দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি।
তবে বয়স ও চোটের ইতিহাস এখন তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩৩ বছর বয়সী আলিসন ২০২৫-২৬ মৌসুমে চোট ও অসুস্থতার কারণে ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৬টি ম্যাচ মিস করেছিলেন। লিভারপুল ইতোমধ্যে জর্জি মামারদাশভিলিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এনেছে, আর তরুণ গোলরক্ষক লুকা ব্রুগম্যানসকেও ভবিষ্যতের প্রকল্প হিসেবে যুক্ত করেছে। ফলে আলিসনের জায়গায় নতুন প্রজন্মকে দাঁড় করানোর প্রস্তুতি চলছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
তবুও বিদায়ের আগে আলিসনের হাতে আরও একটি মৌসুম রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতে তিনি আবারও প্রথম পছন্দ এবং নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার অধীনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই এখনকার গল্পটা ‘বিদায় নিশ্চিত’ নয়, বরং ‘বিদায়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে’। আগামী কয়েক মাসে আলিসন যদি আবারও দেখাতে পারেন কেন এত বছর ধরে তিনি লিভারপুলের এক নম্বর, তাহলে অ্যানফিল্ডে তাঁর গল্পের শেষ অধ্যায় হয়তো আরও কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান ইয়েমেনে তাদের বিশেষ বাহিনীর (আইআরজিসি) শত শত কর্মকর্তা পাঠিয়েছে, যাতে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ‘বাবেল-মানদেব প্রণালি’ অবরুদ্ধ করা যায়। সেখানে হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক অভিযানে তারা সরাসরি সহায়তা প্রদান করছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
টানা সংঘর্ষের ফলে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর হাত থেকে কৌশলগত ‘মোখা’ বন্দরটি সম্পূর্ণভাবে দখল করে নিয়েছে হুথিরা। ‘বাবেল-মানদেব প্রণালি’র নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে এখন পুরো সমুদ্রপথটি হুথি ও ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাতিসংঘ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড়ে প্রবেশ করেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার কারণে ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে থমকে গেছে। যদি ‘বাবেল-মানদেব প্রণালি’ও বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে সুয়েজ খালের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে, যা যাতায়াতের সময় ও খরচ বাড়িয়ে দেবে।
যদিও ইরান বরাবরের মতো হুথিদের সরাসরি পরিচালনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তবে মাঠপর্যায়ে ইরানি সৈন্যদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যে ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সূত্র: গালফ নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করার জন্য ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা যদি ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে না পারি, তাহলে আমরা যে স্বপ্নের কথাই বলি না কেন, তা টেকসই হবে না।"
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
মন্ত্রী বলেন, "এখন আমরা এমন একটা জায়গায় চলে আসছি, কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট যদি আনতে হয়, তাহলে ভালো মানুষদের নেতৃত্বে আসতে হবে।"
আন্দালিভ রহমান আরও বলেন, "গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো ও মেধাবী তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে চায় না।"
তিনি বলেন, "রাজনীতি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো উপাদান থাকলেও ভালো বাবুর্চি না থাকলে যেমন ভালো খাবার পাওয়া যায় না, তেমনি ভালো মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।"
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বরিশালের ঐতিহ্যকে অতুলনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "ফুটবল থেকে শুরু করে রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল এবং বরিশালের মানুষ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ভূমিকা রেখেছেন।"
মন্ত্রী বলেন, "বরিশালকে সত্যিকার অর্থে স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে হবে। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
তিনি আরও বলেন, "বরিশালের আশপাশের সব নির্বাচনি এলাকা ও জেলাগুলো থেকে মেধাবী ও ভালো ছেলেমেয়েদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে হবে। এজন্য রাজনীতিতে আসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।"
মন্ত্রী বলেন, "আমরা যদি আগামী প্রজন্মের জন্য ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারি, তাহলে কোনো ধরনের উন্নয়নই টেকসই হবে না। এটা শুধু বরিশালের সমস্যা নয়, সারা বাংলাদেশেই এই সংকট রয়েছে।"
আন্দালিভ রহমান বলেন, "অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ ও শিল্পায়ন এক ধরনের উন্নয়ন। কিন্তু এখন দেশের প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর সে জন্য ভালো মানুষকে নেতৃত্বে আসতে হবে।"
তিনি বলেন, "যারা বর্তমানে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্ম থেকে যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে নিয়ে আসার পথ তৈরি করা। তরুণদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য রাজনীতির পরিবেশ সহজ করতে হবে, যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে রাজনীতিতে আসতে পারে।"
মন্ত্রী বলেন, "আমরা হয়তো অনেক কিছু তৈরি করে যেতে পারব, কিন্তু ভালো নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে সেগুলো ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই এ বিষয়গুলোতে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।"
বরিশাল থেকে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ অনেক বড় নেতা উঠে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ভবিষ্যতেও এ অঞ্চল থেকে যোগ্য ও ভালো নেতৃত্ব সামনে আসতে হবে।"
তিনি বলেন, "তরুণরা ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়া কিংবা বিদেশে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের কেউ যদি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে, সেটিই হবে দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ