প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লিভারপুলে আলিসন বেকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষককে নতুন চুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত নেই লিভারপুলের। এর মানে, যদি সবকিছু বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তাহলে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে ফ্রি এজেন্ট হয়ে অ্যানফিল্ড ছাড়তে পারেন আলিসন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি; চলতি মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স ও ফিটনেসও বিবেচনায় আসবে।
২০১৮ সালের জুলাই মাসে রোমা থেকে প্রায় ৬৬-৬৭ মিলিয়ন পাউন্ডে আলিসনকে দলে ভেড়ায় লিভারপুল। তখন গোলরক্ষকদের জন্য এটি ছিল রেকর্ডধর্মী ট্রান্সফার ফি। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি প্রমাণ করেন যে, তাঁকে ঘিরে এত বড় বিনিয়োগের যথার্থতা ছিল। প্রথম মৌসুমেই তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে সাহায্য করে। টটেনহ্যামের বিপক্ষে ২০১৯ সালের ফাইনালে গোলবার অক্ষত রাখেন তিনি। একই বছরে উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপও জেতেন।
এরপর আসে লিভারপুলের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। ২০১৯-২০ মৌসুমে আলিসন ছিলেন সেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, যারা ৩০ বছর পর লিভারপুলকে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের শিরোপা এনে দেয়। যদিও চোটের কারণে মৌসুমের একটি বড় অংশ তাঁকে বাইরে থাকতে হয়েছিল, ফিরে এসে আবারও নিজের মান ধরে রাখেন। গোল ঠেকানোর পাশাপাশি, পায়ের নিখুঁত ব্যবহার এবং পেছন থেকে আক্রমণ তৈরির ক্ষমতাও তাঁকে ইয়ুর্গেন ক্লপের দলের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করে।
আলিসনের লিভারপুল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি অবশ্য গোলপোস্টের নিচে নয়, বরং প্রতিপক্ষের বক্সে। ২০২১ সালে ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়নের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের ক্রসে হেড করে গোল করেন তিনি। সেই ৯৫তম মিনিটের গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় পায় লিভারপুল। ক্লাবটির ইতিহাসে গোল করা প্রথম গোলরক্ষকও হয়ে যান ব্রাজিলিয়ান।
২০২১-২২ মৌসুমে আলিসনের ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ হয় এফএ কাপ ও লিগ কাপ। চেলসির বিপক্ষে এফএ কাপের ফাইনালের টাইব্রেকারে মেসন মাউন্টের শট ঠেকিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই মৌসুমেই লিভারপুল প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ—দুই প্রতিযোগিতায়ও শেষ পর্যন্ত শিরোপার খুব কাছে পৌঁছেছিল।
এরপরও অ্যানফিল্ডে তাঁর গুরুত্ব কমেনি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে আর্নে স্লটের অধীনে আবারও প্রিমিয়ার লিগ জেতে লিভারপুল, আর আলিসন দ্বিতীয়বারের মতো হাতে তোলেন ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের ট্রফি। শিরোপা জয়ের পথে লিভারপুলের ১৪টি ক্লিনশিটের নয়টিই ছিল আলিসনের। চোটের কারণে মৌসুমটি তাঁর জন্য সহজ ছিল না, কিন্তু ফিট থাকলে গোলবারের নিচে তিনিই ছিলেন দলের প্রথম পছন্দ।
সংখ্যাতেও তাঁর প্রভাব স্পষ্ট। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত লিভারপুলের হয়ে ৩৩৬ ম্যাচে ১৩৮টি ক্লিনশিট নিয়ে ক্লাবের সর্বকালের তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন আলিসন। তাঁর ওপরে আছেন শুধু রে ক্লেমেন্স, ব্রুস গ্রোবেলার ও পেপে রেইনা। লিভারপুলের হয়ে তিনি জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, দুটি লিগ কাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ—একটি প্রজন্মের সবচেয়ে সফল লিভারপুল দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি।
তবে বয়স ও চোটের ইতিহাস এখন তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩৩ বছর বয়সী আলিসন ২০২৫-২৬ মৌসুমে চোট ও অসুস্থতার কারণে ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৬টি ম্যাচ মিস করেছিলেন। লিভারপুল ইতোমধ্যে জর্জি মামারদাশভিলিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এনেছে, আর তরুণ গোলরক্ষক লুকা ব্রুগম্যানসকেও ভবিষ্যতের প্রকল্প হিসেবে যুক্ত করেছে। ফলে আলিসনের জায়গায় নতুন প্রজন্মকে দাঁড় করানোর প্রস্তুতি চলছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
তবুও বিদায়ের আগে আলিসনের হাতে আরও একটি মৌসুম রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতে তিনি আবারও প্রথম পছন্দ এবং নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার অধীনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই এখনকার গল্পটা ‘বিদায় নিশ্চিত’ নয়, বরং ‘বিদায়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে’। আগামী কয়েক মাসে আলিসন যদি আবারও দেখাতে পারেন কেন এত বছর ধরে তিনি লিভারপুলের এক নম্বর, তাহলে অ্যানফিল্ডে তাঁর গল্পের শেষ অধ্যায় হয়তো আরও কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন