বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৫২ পি.এম
যশোর, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি, যশোরে বিএসসি (অনার্স) ইন অ্যারোনটিক্স এবং বিবিএ প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ একাডেমিক কৃতিত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের জন্য ওসমানী স্বর্ণপদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার একাডেমিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন পদক ও সনদ তুলে দেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪, ৮৫ এবং ৮৬ বাফা (বিএএফএ) কোর্সের কর্মকর্তাদের হাতে পদক ও সনদ প্রদান করেন।
পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, একাডেমিক উৎকর্ষ একজন কর্মকর্তার পেশাগত জীবনের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, ‘জ্ঞানার্জনের কোনো শেষ নেই। সময়ের সঙ্গে অর্জিত জ্ঞান প্রজ্ঞায় রূপ নেয়, যা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।’
তরুণ কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার আহ্বান জানান বিমান বাহিনী প্রধান। তিনি অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগের গুরুত্বকেও তুলে ধরেন।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, সে বিষয়েও তিনি উল্লেখ করেন। এসব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য উচ্চমানের প্রশিক্ষণ, কঠোর শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে জোর দেন বিমান বাহিনী প্রধান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) ও সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের এয়ার অধিনায়ক, কমান্ড্যান্ট (ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড), ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, বিমান বাহিনী একাডেমি’র কমান্ড্যান্ট এবং বিমান বাহিনী সদর ও ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইটে যাত্রীদের আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে চলাফেরা এবং একে অপরের মধ্যে খাবার দেওয়া-নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, ভিডিওটি দেখে কিছু ব্যবহারকারী উড়োজাহাজের ভেতরের পরিস্থিতির তুলনা করেছেন লোকাল ট্রেনের সঙ্গে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী নীরজ প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী ভিডিওটি পোস্ট করেছেন। তার দাবি, ঘটনাটি ঘটেছে থাইল্যান্ডের ক্রাবি থেকে নয়াদিল্লিগামী ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইটে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সামনের কয়েক সারিতে বসা যাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে পেছনের সারিতে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কথোপকথন করছেন। কেউ কেউ এক সারি থেকে অন্য সারিতে খাবার নিয়ে তা অন্যদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এ সময় দুই কেবিন ক্রুকে যাত্রীদের নিজ নিজ আসনে ফিরে যেতে বলতে দেখা যায়।
প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী জানান, বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও কয়েকজন যাত্রী চলাফেরা ও কথোপকথন অব্যাহত রাখেন। তার ভাষ্য, ১ থেকে ৫ নম্বর সারির যাত্রীরা জোরে কথা বলছিলেন, কেবিনে ঘোরাফেরা করছিলেন এবং খাবার ভাগাভাগি করছিলেন। এ সময় ঝাঁকুনির কারণে সিটবেল্টের সংকেত জ্বলছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
ভিডিওর ক্যাপশনে চৌধুরী লেখেন, যাত্রীদের আচরণে পুরো ফ্লাইটে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং কেবিন ক্রুর বারবার নির্দেশ উপেক্ষা করা হচ্ছিল।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ কেবিন ক্রুর নির্দেশ অমান্য করার সমালোচনা করেছেন, বিশেষ করে সিটবেল্টের সংকেত জ্বলার সময় দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি নিয়ে। আবার কেউ কেউ ঘটনাটিকে হাস্যরসের সঙ্গে দেখছেন।
চৌধুরী জানান, তিনি বিষয়টি কেবিন ক্রুদের নজরে আনার চেষ্টা করেছিলেন। যাত্রীদের বিমানে খাবার খাওয়ার বিষয়ে তার আপত্তি নেই; বরং তাদের আচরণ এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা না মানার বিষয়েই তার অভিযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের সব সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি, নির্ধারিত স্ট্যান্ড স্থাপন এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকেরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শহরের শাপলা চত্বরে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
অবরোধের ফলে কুড়িগ্রাম-রংপুর, কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী ও কুড়িগ্রাম-উলিপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে এসব সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
অবরোধ চলাকালে কুড়িগ্রাম জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাসুম মিয়া, সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী, লালমনিরহাট সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোজাম্মেল হক, তিস্তা সিএনজিচালিত মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিলন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক, ফুলবাড়ী উপজেলা কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমেদসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কুড়িগ্রাম জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের লোকজন বিভিন্ন সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে যাত্রী নামিয়ে নিয়ে তাদের নির্দিষ্ট যানবাহনে তুলে দেন। এতে এসব অটোরিকশার চালকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন সময় চালকদের কাছ থেকে টাকা কেড়ে নেওয়া এবং প্রতিবাদ করলে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
চালকেরা জানান, তারা নিয়ম মেনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতে চান। কিন্তু বিভিন্ন সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা ও হয়রানির শিকার হওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই জেলার সব সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ, নির্ধারিত স্ট্যান্ড স্থাপন এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরো বলেন, ২৪ ঘণ্টা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে কার্যকর নিশ্চয়তা দিতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো চালকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, যাত্রী নামিয়ে দেওয়া, মারধর বা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। এমন পরিস্থিতি হলে জেলার সড়কে কোনো যানবাহনের চাকা ঘুরতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পরে কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ হয়রানি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। তার আশ্বাসের পর চালকেরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আগে আমি জানতাম না, আজই প্রথম জানতে পেরেছি। একজন ওসি হিসেবে এখানে কথা দিয়ে যাচ্ছি, সিএনজি চালকদের আর কেউ কোনো ধরনের হয়রানি করতে পারবে না। কেউ হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যেকোনো ধরনের সহযোগিতা আমার পক্ষ থেকে থাকবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে ফের সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল্লাহ পিয়াসের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা রমনা গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নূর আলম এ আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে এ মামলায় গত বৃহস্পতিবার তাকে সাতদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত তিন দফায় পনেরো দিন রিমান্ডে নেওয়া হলো।
আজকের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি রবিউলকে সাত দিনের রিমান্ডে পনেরো বারের বেশি বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করা নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। কখনো ট্যুরিস্ট কখনো বিজনেস ভিসায় আসে। কিন্তু এর প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেনি। জিজ্ঞাসাবাদে তার তথ্য গরমিল এবং ভাঙা ভাঙা ছিল। কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সে একজন ভারতীয় নাগরিক এবং একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অফিশিয়াল ডকুমেন্টস যা পাচার নিষিদ্ধ তা সে পাচার করে বলে দাবি পুলিশের। এসবের পৃষ্ঠপোষক, অর্থদাতা এবং সার্বিক সহযোগীদের তথ্য উদঘাটনে তাকে ফের সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
গুপ্তচরবৃত্তি আইনের মামলার অভিযোগে বলা হয়, সে ভারতের হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদে উল্লেখ আছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে, ১০/১২ বছর ধরে বাংলাদেশে একাধিকবার যাতায়াত করেছে। সে ব্যবসার কথা বলে বাংলাদেশে এসে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি সংস্থার কাছে তথ্য পাচার করে এসেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানকালে রবিউল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও সংরক্ষিত এলাকার ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন। এ ছাড়া বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা এবং গুপ্তচরবৃত্তির প্রবল সন্দেহ তৈরি হওয়ায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে প্রথমে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩’ (গুপ্তচরবৃত্তি আইন)-এর আওতায় নিয়মিত মামলা করা হয়।
মামলার বিবরণ ও তদন্ত কর্মকর্তা সূত্র জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়িভোজ গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন। উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার পাসপোর্ট প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে পরীক্ষা করে তার পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ভারতীয় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্ম তারিখে ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশে তার একাধিকবার যাতায়াত এবং অবস্থান নিয়ে সে বারবার অসংলগ্ন তথ্য দিয়ে তদন্ত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন করে বিষজাতীয় ‘গুল’ খাইয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জিল্লুর মোল্যাকে (৩৫) আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের আছাদ মোল্যার ছেলে জিল্লুর মোল্যার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই জিল্লুর তার স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো।
২০১৯ সালের ১৯ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে নিহতের স্বজনেরা জানতে পারেন, স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার পর দুপুর ১টার দিকে ওই নারী ‘গুল’ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে স্বজনেরা জিল্লুরের বাড়িতে গিয়ে উঠানে চৌকির ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে এ ঘটনায় নিহতের দুলা ভাই ইমরান মোল্যা বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং স্ত্রীকে বিষজাতীয় পদার্থ খাইয়ে হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিকোটিনজাত বিষক্রিয়ায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার শ্বাসনালি ও পরিপাকতন্ত্রে ‘গুল’ পাওয়া যায়। চিকিৎসকের মতামতে উল্লেখ করা হয়, বিষক্রিয়ার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর ধরণ ছিল হত্যাজনিত।
মামলাটির তদন্ত শেষে আলফাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজিমুদ্দিন জিল্লুর মোল্যাকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত জিল্লুর মোল্যাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা প্রদান করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, "যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় আদালতের এ রায় গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের কঠোর অবস্থান সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ