প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের সব সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি, নির্ধারিত স্ট্যান্ড স্থাপন এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকেরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শহরের শাপলা চত্বরে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
অবরোধের ফলে কুড়িগ্রাম-রংপুর, কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী ও কুড়িগ্রাম-উলিপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে এসব সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
অবরোধ চলাকালে কুড়িগ্রাম জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাসুম মিয়া, সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী, লালমনিরহাট সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোজাম্মেল হক, তিস্তা সিএনজিচালিত মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিলন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক, ফুলবাড়ী উপজেলা কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমেদসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কুড়িগ্রাম জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের লোকজন বিভিন্ন সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে যাত্রী নামিয়ে নিয়ে তাদের নির্দিষ্ট যানবাহনে তুলে দেন। এতে এসব অটোরিকশার চালকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন সময় চালকদের কাছ থেকে টাকা কেড়ে নেওয়া এবং প্রতিবাদ করলে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
চালকেরা জানান, তারা নিয়ম মেনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতে চান। কিন্তু বিভিন্ন সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা ও হয়রানির শিকার হওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই জেলার সব সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ, নির্ধারিত স্ট্যান্ড স্থাপন এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরো বলেন, ২৪ ঘণ্টা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে কার্যকর নিশ্চয়তা দিতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো চালকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, যাত্রী নামিয়ে দেওয়া, মারধর বা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। এমন পরিস্থিতি হলে জেলার সড়কে কোনো যানবাহনের চাকা ঘুরতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পরে কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ হয়রানি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। তার আশ্বাসের পর চালকেরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আগে আমি জানতাম না, আজই প্রথম জানতে পেরেছি। একজন ওসি হিসেবে এখানে কথা দিয়ে যাচ্ছি, সিএনজি চালকদের আর কেউ কোনো ধরনের হয়রানি করতে পারবে না। কেউ হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যেকোনো ধরনের সহযোগিতা আমার পক্ষ থেকে থাকবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন