প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে ফের সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল্লাহ পিয়াসের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা রমনা গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নূর আলম এ আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে এ মামলায় গত বৃহস্পতিবার তাকে সাতদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত তিন দফায় পনেরো দিন রিমান্ডে নেওয়া হলো।
আজকের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি রবিউলকে সাত দিনের রিমান্ডে পনেরো বারের বেশি বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করা নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। কখনো ট্যুরিস্ট কখনো বিজনেস ভিসায় আসে। কিন্তু এর প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেনি। জিজ্ঞাসাবাদে তার তথ্য গরমিল এবং ভাঙা ভাঙা ছিল। কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সে একজন ভারতীয় নাগরিক এবং একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অফিশিয়াল ডকুমেন্টস যা পাচার নিষিদ্ধ তা সে পাচার করে বলে দাবি পুলিশের। এসবের পৃষ্ঠপোষক, অর্থদাতা এবং সার্বিক সহযোগীদের তথ্য উদঘাটনে তাকে ফের সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
গুপ্তচরবৃত্তি আইনের মামলার অভিযোগে বলা হয়, সে ভারতের হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদে উল্লেখ আছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে, ১০/১২ বছর ধরে বাংলাদেশে একাধিকবার যাতায়াত করেছে। সে ব্যবসার কথা বলে বাংলাদেশে এসে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি সংস্থার কাছে তথ্য পাচার করে এসেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানকালে রবিউল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও সংরক্ষিত এলাকার ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন। এ ছাড়া বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা এবং গুপ্তচরবৃত্তির প্রবল সন্দেহ তৈরি হওয়ায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে প্রথমে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩’ (গুপ্তচরবৃত্তি আইন)-এর আওতায় নিয়মিত মামলা করা হয়।
মামলার বিবরণ ও তদন্ত কর্মকর্তা সূত্র জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়িভোজ গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন। উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার পাসপোর্ট প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে পরীক্ষা করে তার পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ভারতীয় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্ম তারিখে ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশে তার একাধিকবার যাতায়াত এবং অবস্থান নিয়ে সে বারবার অসংলগ্ন তথ্য দিয়ে তদন্ত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন