ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজেই শেষ মার্কিন আধিপত্য! ২০৩০ সালের মধ্যেই হারাবে বিশ্ব নেতৃত্ব?


হরমুজেই শেষ মার্কিন আধিপত্য! ২০৩০ সালের মধ্যেই হারাবে বিশ্ব নেতৃত্ব?



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। দিনটি হয়তো একদিন ইতিহাসের পাতায় শুধু একটি যুদ্ধের সূচনাদিবস হিসেবে নয়, বরং বিশ্বব্যবস্থার এক দীর্ঘ অধ্যায়ের বাঁকবদলের দিন হিসেবেও লেখা হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত সামরিক আগ্রাসন যে লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল, যুদ্ধের বাস্তবতা এখন সেই হিসাবের সঙ্গে ক্রমেই বেমানান হয়ে উঠছে। ওয়াশিংটন ভেবেছিল তার বিপুল সামরিক শক্তি, আকাশ আধিপত্য, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ ইরানকে দ্রুত নতজানু করবে। কিন্তু ছয় মাসেরও বেশি সময় পর প্রশ্নটি এখন উল্টো দিকে ঘুরেছে—ইরানকে কতটা দুর্বল করা গেল, সেটি নয়; বরং এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিজের বিশ্ব নেতৃত্বের কতটা ক্ষয় ঘটাল?
এটাই আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

কারণ যুদ্ধ শুধু ক্ষেপণাস্ত্র, বোমা কিংবা সামরিক ঘাঁটি দখলের হিসাব নয়। যুদ্ধ আসলে ক্ষমতার বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা। আর একটি পরাশক্তির সবচেয়ে বড় অস্ত্র তার পারমাণবিক বোমা নয়—বিশ্বকে এই বিশ্বাস করিয়ে রাখা যে সে যা বলে, শেষ পর্যন্ত তা করাতে পারে। ইরান সেই বিশ্বাসের জায়গাতেই আঘাত করেছে।

ইরান কি আমেরিকার ‘অপরাজেয়তার’ মিথ ভেঙে দিল? ইরান সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছে—এমন সরল দাবি করার সময় এখনো আসেনি। কিন্তু ইরান যে আমেরিকাকে একটি দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চিত সংঘাতে আটকে দিয়েছে, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত যুদ্ধলক্ষ্যের সবগুলোও এখনো অর্জিত হয়নি। বিপরীতে, তেহরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গায় চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছে। হরমুজ তাই নিছক একটি জলপথ নয়। এটি বৈশ্বিক শক্তির শিরা।

বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়ে চলাচল করে। সেখানে ইরানের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা বাধা সৃষ্টি মানে শুধু আমেরিকার নৌবাহিনীকে চ্যালেঞ্জ নয়—বিশ্ববাজার, জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করা। যুদ্ধের পর হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে; বিশ্ব অর্থনীতিও তার অভিঘাত অনুভব করছে।
এখানেই ইরানের কৌশলগত সাফল্য।

আমেরিকার হাতে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী থাকতে পারে। কিন্তু পৃথিবীর প্রতিটি সংকটকে সামরিক শক্তি দিয়ে নিজের অনুকূলে পরিণত করা যায় না। পরাশক্তির আসল পরাজয় কোথায়? আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নয়। বিপদটি আরও গভীরে—মিত্রদের আস্থার সংকটে।

যে দেশগুলো কয়েক দশক ধরে আমেরিকার নিরাপত্তা ছাতার নিচে ছিল, তারাই এখন নতুন করে হিসাব করতে শুরু করেছে—সংকটের মুহূর্তে Washington-এর ওপর কতটা নির্ভর করা যায়?
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা-সমীকরণ ইতোমধ্যেই নড়বড়ে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতার উদ্যোগ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় সেই পরিবর্তনের লক্ষণ। এটাই আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সংকেত।

কারণ সাম্রাজ্য শুধু অস্ত্র দিয়ে টিকে থাকে না; টিকে থাকে অন্যদের সম্মতিতে। অন্য রাষ্ট্র যখন মনে করতে শুরু করে—‘আমেরিকা শক্তিশালী, কিন্তু আমেরিকার ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়’—তখন আধিপত্যের ভিতরে প্রথম ফাটল দেখা দেয়।
ইরান সেই ফাটলটি আরও প্রশস্ত করেছে।

২০২৯-৩০: আমেরিকাকে কি আর কেউ নেতা মানবে? আজই ঘোষণা করে দেওয়া যায় না যে ২০২৯ বা ২০৩০ সালে পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র আর আমেরিকার কথা শুনবে না। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এত সরল নয়। আমেরিকার অর্থনীতি, ডলার, প্রযুক্তি, সামরিক শক্তি, বৈশ্বিক জোট এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব—সব মিলিয়ে তার ক্ষমতা এখনো বিপুল। কিন্তু প্রশ্নটি অন্য জায়গায়।

২০২৯-৩০ সালের পৃথিবীতে আমেরিকা কি আজকের মতো নিরঙ্কুশভাবে ‘নেতা’ হিসেবে বিবেচিত হবে? সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে।ইরান যুদ্ধ সেই সন্দেহকে ত্বরান্বিত করছে। একসময় ওয়াশিংটনের একটি নিষেধাজ্ঞা ছিল অর্থনৈতিক ভূমিকম্প। একটি সামরিক হুমকি ছিল যুদ্ধের পূর্বাভাস। একটি কূটনৈতিক নির্দেশ ছিল বহু দেশের নীতিনির্ধারণের ভিত্তি।

কিন্তু এখন পৃথিবী ক্রমেই বহুকেন্দ্রিক হচ্ছে। চীন নিজের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পরিসর বাড়াচ্ছে। রাশিয়া পশ্চিমা চাপকে মোকাবিলা করার নিজস্ব পথ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলো বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো খুঁজছে। আর ইরান দেখিয়ে দিচ্ছে—একটি রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক চাপের মুখেও প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারে এবং যুদ্ধের খরচ উল্টো প্রতিপক্ষের ঘাড়েও চাপিয়ে দিতে পারে।এটাই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় লক্ষণ।

হরমুজের যুদ্ধ আসলে কার বিরুদ্ধে? হরমুজে সংঘাত তাই কেবল ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নয়। এটি একটি পুরোনো বিশ্বব্যবস্থা বনাম একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার সংঘর্ষের প্রতীক। পুরোনো ব্যবস্থার যুক্তি—যার হাতে সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী, সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান এবং সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক নিষেধাজ্ঞা, শেষ কথা তার।

নতুন বাস্তবতার যুক্তি—যুদ্ধক্ষেত্রকে যদি এমনভাবে বদলে দেওয়া যায় যেখানে পরাশক্তির প্রতিটি আঘাতের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত মূল্য তাকে নিজেকেও দিতে হয়, তাহলে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব আর রাজনৈতিক বিজয়ের নিশ্চয়তা নয়।
ইরান সেই দ্বিতীয় যুক্তিটিই সামনে এনেছে।

হরমুজকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া মানে আমেরিকার জন্য শুধু সামরিক ব্যয় নয়; মিত্রদের ওপর চাপ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং ক্রমবর্ধমান যুদ্ধক্লান্তি। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণগুলোতেও দেখা যাচ্ছে, সংঘাতটি এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে ওয়াশিংটনের জন্য বেরিয়ে আসার পথও সহজ নয়, আবার অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াও সহজ নয়।তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—এ কেমন পরাশক্তি, যে যুদ্ধ শুরু করতে পারে, কিন্তু নিজের শর্তে যুদ্ধ শেষ করাতে পারে না?

প্রশ্ন হলো, আমেরিকা কি হেরে গেছে?
না—এখনই তা চূড়ান্তভাবে বলা না গেলেও অনুমান করা যাচ্ছে। কিন্তু আমেরিকার ‘অপরাজেয়’ ভাবমূর্তিতে যে গভীর আঘাত লেগেছে, সেটি অস্বীকার করারও সুযোগ নেই।ইরান হয়তো ওয়াশিংটনের পতন ঘটায়নি। কিন্তু ওয়াশিংটনের ভয়কে ছোট করেছে। আর বিশ্ব রাজনীতিতে ভয় কমে যাওয়া মানেই আধিপত্যের ক্ষয় শুরু হওয়া।

একটি রাষ্ট্র যখন বুঝে যায় যে আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করলে শুধু ধ্বংসই অনিবার্য নয়, তখন সেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কল্পনাশক্তি বদলে যায়। অন্য রাষ্ট্রগুলোও তখন একই প্রশ্ন করতে শুরু করে—‘আমরা কেন পারব না?’এই প্রশ্নটিই মার্কিন আধিপত্যের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ।

হরমুজ সেই প্রশ্নটি বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ্য করে দিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগ্রাসন যদি আমেরিকার শক্তির প্রদর্শন হয়ে থাকে, তাহলে তার পরবর্তী মাসগুলো হয়ে উঠেছে সেই শক্তির সীমাবদ্ধতার প্রদর্শনী।
ইরান হয়তো আমেরিকাকে পরাজিত করেনি।
কিন্তু আমেরিকাকে থামিয়ে দিয়েছে—এমন একটি জায়গায়, যেখানে একসময় কেউ তাকে থামানোর সাহস কল্পনাও করত না।

আর ইতিহাসে আধিপত্যের পতন সাধারণত একদিনে ঘটে না। প্রথমে ভাঙে ভয়। তারপর ভাঙে বিশ্বাস।তারপর ভাঙে আনুগত্য। আর শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে আধিপত্য।

হরমুজের উত্তাল জলরাশিতে আজ তাই শুধু তেলের ট্যাংকার ভাসছে না—ভাসছে মার্কিন বিশ্ব আধিপত্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও এক কঠিন প্রশ্ন:
আমেরিকা কি এখনো বিশ্বের নেতা, নাকি বিশ্ব ইতিমধ্যেই তার পরবর্তী নেতার সন্ধান শুরু করে দিয়েছে?
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে ‘অনেক সমস্যা’ চলছে, স্বীকার করলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


ইরানে ‘অনেক সমস্যা’ চলছে, স্বীকার করলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : ইরানের নাগরিকেরা ‘অনেক সমস্যার’ মুখোমুখি হচ্ছেন বলে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে ইরানের অর্থনীতিকে আরও বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে রোববার তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পেজেশকিয়ান জানান, ‘আমি বুঝতে পারছি, এই মুহূর্তে আমাদের সমাজে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমরা যতটা সম্ভব এসব সমস্যা সামলানোর চেষ্টা করছি।’

বার্তা সংস্থা এএফপি তেহরান থেকে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন বলেছিল, নতুন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির মাধ্যমে ইরানি সরকারের ‘পতন’ ঘটানো হবে। এটি যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ বিপরীতে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে ইরান ‘পূর্ণমাত্রার অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধে’ রয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তিনি বলছেন, ইরানের ওপর সবচেয়ে কঠোর ও ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছেন।’

ইরান সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক দফা বড় ধরনের গণবিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছে। এসব বিক্ষোভের পেছনে প্রায়ই অর্থনৈতিক সংকট কাজ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি এবং বিনিময় হারের ওঠানামা, ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে একটি আন্দোলন শুরু হয়। পরে সেই আন্দোলন ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়।

অথরিটির অবদানে ওই অস্থিরতায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছে।

তবে বিদেশভিত্তিক বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, কর্তৃপক্ষ নির্বিচারে দমন অভিযান চালিয়েছে। এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে।

রোববার পেজেশকিয়ান বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি, জীবিকার সমস্যা ও বেকারত্ব কাটিয়ে উঠতে এবং মানুষের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, যাতে তারা মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দামেস্কের কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর বাসে বিস্ফোরণ, নিহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


দামেস্কের কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর বাসে বিস্ফোরণ, নিহত ২

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি বাসে শনিবার এক বিস্ফোরক হামলায় বাসের কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানায়।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানায়, দামেস্কের গ্রামাঞ্চলের মারুনাহ-আল-তাল সড়কে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি বাসকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ডিভাইসটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।

দামেস্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা সানা আরও জানায়, হামলার তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

সানা ক্ষতিগ্রস্ত বাসটির কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে। এতে সড়কের পাশে পড়ে থাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাস দেখা যায়। বাসটির জানালা ও একটি দরজা বিস্ফোরণে উড়ে গেছে। সামনের আসনে কাচ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

২০২৪ সালের শেষ দিকে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে সিরিয়ার ইসলামপন্থী কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দামেস্ক ও এর আশপাশের এলাকায় এ সময়ে একাধিক হামলা হয়েছে।

আগস্টের শুরুতে দামেস্কের কাছে খ্রিস্টান ও দ্রুজ সম্প্রদায়ের বসবাসের শহর জারামানায় একটি বাসে বিস্ফোরণে ১৪ জন আহত হন।

জুলাইয়ে সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, তার কাছে দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বিস্ফোরণের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।

ওই বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হন। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর সদস্য বলে জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়লেন শরিফুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ পি.এম


বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়লেন শরিফুল

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : বিদেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে ইনিংসে সেরা বোলিংয়ের একটি নতুন রেকর্ড গড়লেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।

ম্যাকাইতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে বল হাতে ১৫ ওভারে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নেন শরিফুল। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি বোলার হিসেবে এই বোলিংটি সেরা।

এখন পর্যন্ত এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। গত জুনে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিনি ৪০.২ ওভার বল করে ১৩৮ রানে ৭ উইকেট শিকার করেছিলেন। সেই টেস্ট ইনিংস ও ৮৫ রানে হার মানতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।

এছাড়া, বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে ৭ উইকেট শিকার করার কীর্তি গড়লেন শরিফুল।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পেসার হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট শিকার করার রেকর্ডটির মালিক ছিলেন শাহাদাত হোসেন। ১৮ বছর পর নতুন রেকর্ড গড়লেন শরিফুল।

সর্বশেষ ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে ১৫.৩ ওভারে ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন শাহাদাত। এতদিন বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে এটি ছিল সেরা বোলিং ফিগার। ঐ টেস্টে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে হেরেছিল।

টেস্টে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে ইনিংসে সেরা বোলিংয়ের তালিকায় শরিফুল তৃতীয় স্থানে উঠে আসলেন। প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে যথাক্রমে- তাইজুল ও সাকিব রয়েছেন।

২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬.৫ ওভারে ৩৯ রান খরচায় ৮ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল। এটি এখনও বাংলাদেশের কোন বোলারের সেরা বোলিং ফিগার। ঐ টেস্টে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয় লাভ করেছিল।

তারপর আছেন সাকিব। ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫.৫ ওভারে ৩৬ রানে ৭ উইকেট শিকার করেছিলেন।

এছাড়া, ১৪০ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাঁ-হাতি পেসার হিসেবে ইনিংসে ৭ উইকেট শিকার করলেন শরিফুল। সর্বশেষ ১৮৮৬ সালে ম্যানচেষ্টারে ৪৪ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের বাঁ-হাতি পেসার ডিক বারলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনের পাশে নরওয়ে, ৯.২ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৩১ পি.এম


ইউক্রেনের পাশে নরওয়ে, ৯.২ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা

নরওয়ে ইউক্রেনের জন্য ২০২৭ সালে ৮ হাজার ৫০০ কোটি নরওয়েজিয়ান ক্রোনার (যা প্রায় ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার) সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এটি বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার সমান। রবিবার কিয়েভে সফরকালে এই ঘোষণা দেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর। খবরটি আনাদোলুর সূত্রে পাওয়া গিয়েছে।

নরওয়ের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনআরকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঘোষিত অর্থের অধিকাংশই সামরিক খাতে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে ৭ হাজার কোটি ক্রোনার বা প্রায় ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে। এবং বাকি ১ হাজার ৫০০ কোটি ক্রোনার বা প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে বেসামরিক খাতে।

স্টোর জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রতিরোধযুদ্ধের জন্য নরওয়ের সমর্থন অটুট থাকবে। সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ইউক্রেনের পাশে থাকার বিষয়ে এই ঘোষণাতে স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

এই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে টানা তৃতীয় বছরের জন্য নরওয়ে একই পরিমাণ বার্ষিক সহায়তা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার রাশিয়ার প্রতিবেশী এই দেশের প্রধানমন্ত্রী নর্ডিক ও বাল্টিক অঞ্চলের নেতাদের সাথে কিয়েভে পৌঁছান।

স্টোর মন্তব্য করেন, রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির শিকার হচ্ছে ইউক্রেনের নাগরিকরা। প্রতি দিন তারা নিজেদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। সুতরাং এই সংকটের সময় নরওয়ের পক্ষে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

কিয়েভ সফরের সময় ইউক্রেন ও নর্ডিক-বাল্টিক দেশগুলোর সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে স্টোরের। এছাড়াও, ইউক্রেনের জাতীয় পতাকা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করবেন তিনি। সফরকালে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%