০৮:৪০ পি.এম
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে তীব্র বিক্ষোভের মাঝে ভয়াবহ জাতিগত সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যটিতে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে পৃথক দুই সংঘাতে।
রোববার (১ নভেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে মণিপুর রাজ্য পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের দেওয়া এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার রাজ্যের নোনি জেলায় ‘অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের’ মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের তিন সদস্য নিহত হন। একই সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে ক্যাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়, যারা এই সপ্তাহের শুরুর দিকে নিখোঁজ হয়েছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযানে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলার চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডারট্রেইটর’: এফবিআই
কুকি জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মণিপুরের একটি শীর্ষ সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। তারা বলেছে, সন্ত্রাসীরা কুকিদের ওপর সরাসরি ও বিনা উসকানিতে হামলা করেছে নিজেদের আদি ভূমিতে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটে গেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
ভারতের এই প্রান্তিক উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে কুকি ও নাগা উপজাতিদের মধ্যে বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যা তাদের নিজস্ব জাতিগত ভূমির দাবি নিয়ে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্যের হাতে এক নাগা ব্যক্তি লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। এরপর গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে তিন কুকি যাজক খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর দুই পক্ষের মাঝে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: চীনের শীর্ষ ধনী নারী হলেন লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ঝোউ চুনফেই
কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক সংঘাত মণিপুরের বিরাজমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও চাকরির কোটাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গেও রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে কুকি সম্প্রদায়।
এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এখন পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হওয়া ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এখনও বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন