১০:০২ পি.এম
যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক পুনর্গঠন ও জোরদার করার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়ে তিনি ‘গর্বিত’। সাবেক চ্যান্সেলর উল্লেখ করেন, ব্রেক্সিটের ফলে দেশটি 'আরও দরিদ্র, দুর্বল এবং কম নিরাপদ' হয়ে পড়েছে।
গ্রেট ম্যানচেস্টারের মেয়র ও জ্যেষ্ঠ লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো গণভোটের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেননি। তিনি আগামী মাসে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাণিজ্য সম্মেলনের পর ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার পরিকল্পনা স্পষ্ট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দ্য টাইমস-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে রিভস বলেন, 'ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক জোরদার করার জন্য আমরা ইতিমধ্যে যে অগ্রগতি করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত। ব্রেক্সিট আমাদের আরও দরিদ্র, দুর্বল এবং কম নিরাপদ করেছে।'
আরও পড়ুন: নবনির্বাচিত সেনেটর এল-সায়েদ মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চান
তিনি আরও লেখেন, “ইউরোপের সঙ্গে আমাদের ভবিষ্যতের সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। আর এই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে আমি স্বাগত জানাই। ট্রেজারি তে (অর্থ মন্ত্রণালয়) থাকা অবস্থায় আমার দৃষ্টিভঙ্গি কী ছিল, তা নিয়ে কারও মনে কখনোই কোনো সন্দেহ ছিল না। আমি সত্যি বিশ্বাস করি, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যেই রয়েছে।”
গত জুলাইয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর লেবার পার্টির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে র্যাচেল রিভস প্রকাশ্যে যুক্তরাজ্যকে ইইউতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। ২০২৪ সালের লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছিল—লেবার সরকার ইইউর বাইরেই থাকবে এবং ব্রেক্সিটকে কার্যকর উপায়ে সফল করে তুলবে।
তবে প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম ব্রাসেলসের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পথ খুঁজছেন। তিনি ইইউর সঙ্গে মুক্তভাবে চলা চলের (ফ্রিডম অব মুভমেন্ট) দরজাও উন্মুক্ত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং বলেছেন যে এই বিষয়ে একটি 'তথ্যপ্রমাণ-ভিত্তিক আলোচনা' হওয়া প্রয়োজন।
অথচ মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনের প্রচারণাকালে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ব্রেক্সিট সংক্রান্ত পুরনো বিতর্ক তিনি নতুন করে শুরু করবেন না। সে সময় তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, এসব পুরনো বিতর্ক দেশকে 'স্থায়ী এক অচলাবস্থায়' আটকে রাখবে। লিভারপুলে আয়োজিত লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে বার্নহ্যাম দাবি করেন, ব্রেক্সিট উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করেছে। ইইউর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদসহ ভবিষ্যতের সম্পর্কের একাধিক বিকল্প পথ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
আরও পড়ুন: ককরোচ পার্টির নতুন বিক্ষোভের ডাক ৭ নভেম্বর কোচিতে
গত মাসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়া যে হস্তক্ষেপ করেছিল, তার পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ যুক্তরাজ্যের হাতে রয়েছে। বার্নহ্যাম জানান, গ্রীষ্মে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৬ সালের ভোটে ক্রেমলিনের ভূমিকা নিয়ে তিনি একটি পর্যালোচনা চান। সেই পর্যালোচনায় তিনি স্পষ্টভাবে জানতে পারেন যে, সেখানে নিশ্চিতভাবেই রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল।
দ্য রেস্ট ইজ পলিটিক্স পডকাস্টে তিনি বলেন, “ডাউনিং স্ট্রিটে এসে আমি প্রশ্ন তুলেছিলাম—২০১৬ সালের গণভোটে কি রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল? আমি উত্তর পেয়েছি, হ্যাঁ, ছিল।” তিনি আরও বলেন, “এই বিষয়গুলো এখন জনসমক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে আনা জরুরি। এটি জার্মানি ও ফ্রান্সের ভোটারদের বুঝতে সাহায্য করবে যে, আমাদের দেশের এই রাজনীতি আসলে আমাদের শত্রুভাবাপন্ন দেশ, বিশেষ করে রাশিয়ার উসকানিতেই পরিচালিত হয়েছিল।”
তার এই অভিযোগের পর গুঞ্জন তৈরি হয়েছে যে, ২০১৬ সালের গণভোটে রাশিয়ার কথিত হস্তক্ষেপকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তিনি হয়তো দ্বিতীয়বার গণভোটের পরিকল্পনা করছেন।
ব্রাসেলসে ইউকে-ইইউ শীর্ষ সম্মেলন
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে ব্লাড ব্যাংক ও ইউরোপজুড়ে কোল্ড স্টোরেজে সাইবার হামলা
চলতি মাসের শেষের দিকে ব্রাসেলসে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া এই শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামকে স্বাগত জানাবেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। সম্মেলনে কৃষি-খাদ্য বাণিজ্য, কার্বন নির্গমন বাণিজ্য এবং তরুণদের চলাচলের সুযোগসংক্রান্ত (ইউথ মোবিলিটি স্কিম) বেশ কিছু চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তরুণদের জন্য বিশেষ সুযোগের দাবি
দ্য টাইমস-এ রিভস লিখেছেন, চলতি মাসের শেষের দিকে হতে যাওয়া সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ হিসেবে অন্ততপক্ষে ‘ইউথ মোবিলিটি স্কিম’ চূড়ান্ত নিশ্চিত করা উচিত। লিডস ওয়েস্ট ও পাটনির এই সংসদ সদস্য পদে থাকাকালীন সময় থেকেই এই প্রকল্পের পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছেন। এই চুক্তির আওতায় ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রায় ৭৫,০০০ থেকে ৮০,০০০ তরুণ-তরুণী সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের সুবিধা পাবেন।
তিনি যোগ করেন, “যারা যুক্তরাজ্যকে আবারও ইইউতে ফিরিয়ে নিতে চান, তাদেরই যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা দেওয়া, বাস্তব সুবিধাগুলো তুলে ধরা এবং সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত—বিশেষ করে এই মাসের শেষের ইউকে-ইইউ সম্মেলনের আগে। সেখানে সর্বনিম্ন অর্জন হিসেবে আমাদের বছরের শুরুতে আলোচিত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘ইউথ মোবিলিটি স্কিম’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন চাওয়া উচিত এবং একই সঙ্গে ‘সেফ' প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার দিকে অগ্রগতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ইয়েমেন যুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করল ইরান
উল্লেখ্য, ‘সিকিউরিটি অ্যাকশন ফর ইউরোপ’ (সেফ) হলো ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর ইউরোপ কে পুনরায় সামরিকভাবে শক্তিশালী করার ইইউর একটি সমন্বিত উদ্যোগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন