ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

দুই হাতের আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫০ অর্জন কলি রানীর


দুই হাতের আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫০ অর্জন কলি রানীর

দৃঢ় মনোবল ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন রংপুরের কাউনিয়ার তরুণী কলি রানী (১৮)। জন্মগতভাবে দুই হাতের আঙুল না থাকলেও, তিনি ডান পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম গুঁজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৫০ অর্জন করে কৃতকার্য হয়েছেন।

সরেজমিনে উপজেলার গদাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জন্ম থেকেই দুই হাতের আঙুল না থাকার কারণে কলির স্বাভাবিকভাবে কলম ধরার ক্ষমতা ছিল না। তবে এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার পড়াশোনার আগ্রহকে দমাতে পারেনি। ডান পা দিয়েই লেখালেখি আয়ত্ত করে গদাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি কাউনিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সর্বশেষ কাউনিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

কলি রানীর মা রূপালী রানী জানান, জন্মের পর থেকেই নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রাম করে মেয়েকে বড় করতে হয়েছে। যখন কলি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছিল, তখন তার বাবা মনোরঞ্জন রায় মারা যান। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট কলি বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলেও, মায়ের অনুপ্রেরণা এবং নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তির কারণে সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির শুরুতে সহপাঠীদের উপহাসের মুখে পড়তে হলেও, শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতায় সে তা কাটিয়ে ওঠে এবং সহপাঠীদের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দ্বন্দ্ব, সংবাদ সম্মেলন

কলি শুধু পড়াশোনাতেই নয়, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ডান পা দিয়েই অনায়াসে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার পরিচালনা করতে পারেন। সংগীত জগতেও তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে; বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে তিনি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পুরস্কার ও প্রশংসা অর্জন করেছেন।

ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখছেন কলি রানী। তবে এই পথচলায় অর্থাভাব ও নানা সামাজিক প্রতিকূলতা রয়েছে। তার উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন কলি ও তার পরিবার।

স্থানীয় প্রেস ক্লাব কাউনিয়ার সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক সারোয়ার আলম মুকুল বলেন, "পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫০ অর্জন করা কলি রানীর এক অসাধারণ সাফল্য। তার এই লড়াই কেবল কাউনিয়া কিংবা রংপুরের নয়, দেশের সব স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।"

কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আজম বলেন, "কলি রানী পা দিয়ে লিখে যেভাবে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও জীবনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।"

আরও পড়ুন: জাতীয় যুব দিবসে শ্রেষ্ঠ আত্মকর্মীর সম্মাননা পেলেন জান্নাতুল নাঈমা!

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন বাড়ানো গেলে সমস্যা সমাধান সম্ভব: জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ এম


নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন বাড়ানো গেলে সমস্যা সমাধান সম্ভব: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গার্মেন্টস শিল্পের চলমান অস্থিরতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তিনি মন্তব্য করেছেন, মালিক এবং শ্রমিক উভয় পক্ষকে রক্ষায় সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন এবং সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনের গতি বাড়ানো সম্ভব হলে সমস্যার সমাধান করা যাবে।

আজ রোববার, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এই অবস্থান তুলে ধরেন। জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস শিল্প বর্তমানে কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে, জ্বালানির উচ্চমূল্য, উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে এই খাতের অনিশ্চয়তা এবং ক্রয়াদেশ বাতিল, প্রত্যাহার কিংবা আগের মতো না পাওয়া—এসব কারণে তৈরি পোশাক খাত সংকটের সম্মুখীন হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘরভাড়া, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, যাতায়াত খরচ এবং চিকিৎসা খরচসহ এ শিল্পে কর্মরত জনশক্তির জীবনও কঠিন সংকটের মুখোমুখি।

বিরোধীদলীয় নেতা লিখেছেন, প্রধান রপ্তানি খাতটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের উচিত দ্রুত টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তিনি বলেন, যদি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং উৎপাদনের গতি বাড়ানো সম্ভব হয়, তবে এই সমস্ত সমস্যাগুলো যৌক্তিকভাবে সমাধান করা যেতে পারে।

শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, শিল্প বাঁচলে শুধু মালিক বাঁচবে না, বরং দেশও রক্ষা পাবে। সুতরাং, শিল্প উদ্যোক্তা এবং শিল্পে নিয়োজিত জনশক্তি—দুটোকেই বাঁচানোর জন্য সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। তিনি সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়ার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, যেকোনো ব্যর্থতা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। এখানে কালক্ষেপণের সুযোগ নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহ বোর্ড, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯ প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ এম


ময়মনসিংহ বোর্ড, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯ প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের হুঁশিয়ারি

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ফলস্বরূপ, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এবং পাঠদানের মান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। যদি সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এবং এমপিও বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ময়মনসিংহ বোর্ডের অধীনে ৩১৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৩ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন পাস করেছেন, যার গড় পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন পরীক্ষার্থী।

শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। এই জেলার সাতটি প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন। এছাড়া, নেত্রকোনার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ৩৩ জন, জামালপুরের চারটি প্রতিষ্ঠানের ১৮ জন এবং শেরপুরের দুটি প্রতিষ্ঠানের আটজন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

ব্যর্থতার দিক থেকে এককভাবে শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ‘এইচ এ ডিজিটাল কলেজ’। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৬ জন অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যর্থতা নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ‘এমবিশন মডেল কলেজ’-এর, যেখানে পরীক্ষা দেওয়া ১৬ জনের কেউই পাস করতে পারেননি।

ময়মনসিংহ বোর্ডের শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো তারাকান্দার এইচ এ ডিজিটাল কলেজ (২৬ জন), ঈশ্বরগঞ্জের কোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (৬ জন), হালুয়াঘাটের বাঘাইতলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (৫ জন), ত্রিশালের আউলিয়া নগর কলেজ (৫ জন), নান্দাইলের অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কলেজ (২ জন), ঈশ্বরগঞ্জের চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (১ জন) এবং নান্দাইলের বেরীলা কে এ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন)।

নেত্রকোনার পূর্বধলার এমবিশন মডেল কলেজ (১৬ জন), জুবাইদা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ (৬ জন), খালিশাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৪ জন), নেত্রকোনা সদরের ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ (৪ জন), কলমাকান্দা মহিলা কলেজ (২ জন) এবং কেন্দুয়ার গোপালপুর মডেল কলেজ (১ জন)। জামালপুরের গোয়ালচর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (৭ জন), শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা আকন্দ গার্লস স্কুল (৬ জন), নলবেছা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (৪ জন) এবং এস এম শিক্ষা মুখলেছুর রহমান কলেজ (১ জন)। শেরপুর সদরের মনমথ দে কলেজ (৭ জন) এবং ঝিনাইগাতীর আলহাজ্ব এস এম এ ওয়ারেজ নঈম মডেল কলেজ (১ জন)।

ফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে বহু নামসর্বস্ব ও অচল প্রতিষ্ঠানের চিত্র। সবচেয়ে বেশি ফেল করা তারাকান্দার এইচ এ ডিজিটাল কলেজের নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রমের অস্তিত্ব মেলেনি। স্থানীয়দের মতে, ভাড়া করা ভবনে কিছুদিন কার্যক্রম চললেও বর্তমানে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রশাসনিক তদারকির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি অচল হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ঈশ্বরগঞ্জের চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সেলিম জানিয়েছেন, কলেজে কাগজে-কলমে ১০ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে সাতজন আছেন, যাদের কেউ কলেজে আসেন না। কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা দীর্ঘ ১০ বছর বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান করে অবশেষে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে এবার মাত্র একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে তিনিও অকৃতকার্য হয়েছেন। বাধ্য হয়ে গভর্নিং বডির সঙ্গে আলোচনা করে কলেজ শাখার নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করবেন বলে জানান অধ্যক্ষ।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ জ ম রেজাউল করিম খান বলেছেন, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যেসব কলেজ শুধুমাত্র অনুমতি নিয়ে অস্তিত্বহীনভাবে চলছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বোয়িং ও এয়ারবাস কেনার সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন সংসদীয় কমিটিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ এম


বোয়িং ও এয়ারবাস কেনার সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন সংসদীয় কমিটিতে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দুই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান ও ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কিনা, এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন উঠেছে। উড়োজাহাজগুলোর রুট, যাত্রী চাহিদা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও জানতে চেয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

গতকাল রোববার জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ প্রশ্ন তোলেন কমিটির সদস্যরা। জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপির সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র জানায়, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কিনা, তা জানতে চান কমিটির সদস্য জামায়াতের এমপি কামরুল হাসান। তিনি প্রশ্ন করেন, এই ৩৫টি উড়োজাহাজ কোন কোন রুটে চলবে, এগুলোর যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা ও চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কিনা এবং বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে কিনা। এছাড়া, উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও তিনি জানতে চান।

বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ সময় জানান, ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সব উড়োজাহাজ দেশে আসতে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি আরও বলেন, উড়োজাহাজ কেনার অর্থ সফট লোনের মাধ্যমে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে এবং উড়োজাহাজ পরিচালনা থেকে অর্জিত আয় দিয়েই এর ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানানো হয়। সূত্র জানায়, বৈঠকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। কমিটির একজন সদস্য জানতে চান, টার্মিনাল নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অর্থের অপব্যবহার হয়েছে কিনা।

বিমানবন্দরের ট্রলি-সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে ট্রলির সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে। বৈঠকে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও জামায়াতের এমপি কামরুল হাসান ছাড়াও অংশগ্রহণ করেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দীন আহমেদ, সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার ও আবু তালিব। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়) গিয়াস উদ্দিন রিমন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে তথ্য চায় সংসদীয় কমিটি। একই দিন সংসদ ভবনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দরের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্কিত চুক্তিগুলোর বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। এ সময় কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এগুলো উপস্থাপনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, হাফিজ ইব্রাহিম, আনিছুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, সানজিদা ইয়াসমিন, নাজমুল হুদা, এবং আবদুল হান্নান মাসউদ অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও রপ্তানি পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় দুই দেশের মধ্যে রপ্তানি বাণিজ্যের বিদ্যমান ব্যবধান, সম্ভাবনা ও তা সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটোরে ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পরীক্ষায় কেউ পাস করেনি, কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ এম


নাটোরে ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পরীক্ষায় কেউ পাস করেনি, কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় নাটোর জেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী কোনো পরীক্ষার্থীই কৃতকার্য হতে পারেনি। এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন। তাদেরকে সশরীরে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ফলাফলের কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। শিক্ষা বিভাগ জানতে চেয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে।

শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, এবার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি এমপিও ও ১৬টি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে, এমন ফলাফলে হতবাক হয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকা, পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে এমন ফলাফল হতে পারে। কিছু প্রতিষ্ঠান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ডিসেম্বরের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেবে বলে জানা গেছে।

শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নাটোর সদর উপজেলায় বেগম খালেদা জিয়া মহাবিদ্যালয়; বাগাতিপাড়া উপজেলায় পৌর মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, তমালতলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, টিপুরিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ; গুরুদাসপুর উপজেলায় নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিজনেস কলেজ, চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্য এবং বিজনেস ইনস্টিটিউট; লালপুর উপজেলার মাকড়াম উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, রাধাকান্তপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, নেংগোপাড়া আলিম মাদরাসা, রামপুর জামিরিয়া আলিম মাদরাসা; সিংড়া উপজেলার আগাপাড়া উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ; নলডাঙ্গা উপজেলার সরকুতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সাতারভাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠান হলো গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কমার্স কলেজ ও নলডাঙ্গা উপজেলার শাখারীপাড়া ফাজিল মাদরাসা।

নলডাঙ্গা উপজেলার শাখারীপাড়া দাখিল মাদরাসার সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, "এবার প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস না করায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। প্রতিবছরই ভালো ফলাফল করেন শিক্ষার্থীরা। এবার কেন এমন হলো বুঝতে পারছি না।" তিনি খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করার কথাও জানান।

গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান বলেন, "শিক্ষার্থীরা ২৩ জনই বাংলা ও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছেন। বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা হবে।" তিনি জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিসেম্বরে অকৃতকার্যদের যে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে অংশগ্রহণ করবেন। অংশগ্রহণ করলে আশা করছেন সকলেই কৃতকার্য হবেন।

শিক্ষাবিদ সুবিধ কুমার মৈত্রের মতে, "কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা উদ্বেগজনক।" তিনি বলেন, এর পেছনে শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতাই নয়, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের ভূমিকা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও থাকতে পারে। তাই, শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোস্তম আলী হেলালী জানান, ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল শূন্য হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, কেন এমন ফলাফল হয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনসহ তাদের সশরীরে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খোঁজ নিতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারণ জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে জেলা থেকে উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদরাসা বোর্ডের অধীনে ১৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%