প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ফলস্বরূপ, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এবং পাঠদানের মান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এদিকে, ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। যদি সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এবং এমপিও বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ময়মনসিংহ বোর্ডের অধীনে ৩১৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৩ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন পাস করেছেন, যার গড় পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন পরীক্ষার্থী।
শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। এই জেলার সাতটি প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন। এছাড়া, নেত্রকোনার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ৩৩ জন, জামালপুরের চারটি প্রতিষ্ঠানের ১৮ জন এবং শেরপুরের দুটি প্রতিষ্ঠানের আটজন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।
ব্যর্থতার দিক থেকে এককভাবে শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ‘এইচ এ ডিজিটাল কলেজ’। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৬ জন অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যর্থতা নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ‘এমবিশন মডেল কলেজ’-এর, যেখানে পরীক্ষা দেওয়া ১৬ জনের কেউই পাস করতে পারেননি।
ময়মনসিংহ বোর্ডের শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো তারাকান্দার এইচ এ ডিজিটাল কলেজ (২৬ জন), ঈশ্বরগঞ্জের কোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (৬ জন), হালুয়াঘাটের বাঘাইতলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (৫ জন), ত্রিশালের আউলিয়া নগর কলেজ (৫ জন), নান্দাইলের অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কলেজ (২ জন), ঈশ্বরগঞ্জের চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (১ জন) এবং নান্দাইলের বেরীলা কে এ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন)।
নেত্রকোনার পূর্বধলার এমবিশন মডেল কলেজ (১৬ জন), জুবাইদা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ (৬ জন), খালিশাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৪ জন), নেত্রকোনা সদরের ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ (৪ জন), কলমাকান্দা মহিলা কলেজ (২ জন) এবং কেন্দুয়ার গোপালপুর মডেল কলেজ (১ জন)। জামালপুরের গোয়ালচর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (৭ জন), শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা আকন্দ গার্লস স্কুল (৬ জন), নলবেছা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (৪ জন) এবং এস এম শিক্ষা মুখলেছুর রহমান কলেজ (১ জন)। শেরপুর সদরের মনমথ দে কলেজ (৭ জন) এবং ঝিনাইগাতীর আলহাজ্ব এস এম এ ওয়ারেজ নঈম মডেল কলেজ (১ জন)।
ফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে বহু নামসর্বস্ব ও অচল প্রতিষ্ঠানের চিত্র। সবচেয়ে বেশি ফেল করা তারাকান্দার এইচ এ ডিজিটাল কলেজের নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রমের অস্তিত্ব মেলেনি। স্থানীয়দের মতে, ভাড়া করা ভবনে কিছুদিন কার্যক্রম চললেও বর্তমানে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রশাসনিক তদারকির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি অচল হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ঈশ্বরগঞ্জের চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সেলিম জানিয়েছেন, কলেজে কাগজে-কলমে ১০ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে সাতজন আছেন, যাদের কেউ কলেজে আসেন না। কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা দীর্ঘ ১০ বছর বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান করে অবশেষে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে এবার মাত্র একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে তিনিও অকৃতকার্য হয়েছেন। বাধ্য হয়ে গভর্নিং বডির সঙ্গে আলোচনা করে কলেজ শাখার নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করবেন বলে জানান অধ্যক্ষ।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ জ ম রেজাউল করিম খান বলেছেন, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যেসব কলেজ শুধুমাত্র অনুমতি নিয়ে অস্তিত্বহীনভাবে চলছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন