ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

চীনের শীর্ষ ধনী নারী হলেন লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ঝোউ চুনফেই


চীনের শীর্ষ ধনী নারী হলেন লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ঝোউ চুনফেই

৫৬ বছর বয়সী ঝোউ চুনফেই, যিনি একসময় স্কুল ছেড়ে কারখানায় দিনে ১.২০ ডলারে কাজ করতেন, চীনের শীর্ষ ধনী নারীর খেতাব অর্জন করেছেন। তিনি গ্লাস উৎপাদনকারী জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা।

হুরুন রিচেস্ট উইমেন ইন চায়না ২০২৬ তালিকা অনুযায়ী, ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় এক হাজার ৪২০ কোটি পাউন্ড) আনুমানিক সম্পদের মালিক হয়ে ঝোউ এই শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেন। গত এক বছরে তাঁর সম্পদ ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাঁকে হ্যান্সোহ ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা ঝোং হুইজুয়ানের (১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান) চেয়ে সামান্য এগিয়ে রেখেছে।

সূত্র : দি ইনডিপেন্ডেন্ট

আরও পড়ুন: সৌদি উপকূলে তেলবাহী জাহাজে দুই দফা হামলা, নাবিকরা নিরাপদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলার চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডারট্রেইটর’: এফবিআই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ এম


বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলার চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডারট্রেইটর’: এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটরকে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের ভার্চুয়াল সম্পদ চুরি করা হয়েছে।

এই সাইবার হামলা ২৯ অক্টোবর সংঘটিত হয় এবং এটি পিয়ংইয়ংয়ের আলোচিত সাইবার হামলাগুলোর মধ্যে সর্বশেষ ঘটনা। উত্তর কোরিয়া তাদের শক্তিশালী হ্যাকিং সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব কার্যক্রম থেকে অর্জিত অর্থ দেশটির অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়।

কারা এই ট্রেডারট্রেইটর?

ট্রেডারট্রেইটর উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকিং গোষ্ঠী, যা বৃহত্তর লাজারাস গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ২০১৪ সালে সনি পিকচার্সে সাইবার হামলার পর গোষ্ঠীটি বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসে। ওই হামলা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ব্যঙ্গ করে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ইন্টারভিউ’-এর প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছিল।

১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে উত্তর কোরিয়া সাইবার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে আসছে। এর ফলে দেশটি একটি শক্তিশালী হ্যাকিং বাহিনী গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, এই বাহিনীতে প্রায় আট হাজার ৪০০ সদস্য রয়েছে।

এফবিআই তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে, ‘উত্তর কোরিয়া একটি দক্ষ সাইবার বাহিনী গড়ে তুলেছে। দেশটির মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণে যুক্ত করা হচ্ছে।’

উত্তর কোরিয়ার প্রধান বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা রিকনিস্যান্স জেনারেল ব্যুরোর নির্দেশনায় হ্যাকিং কার্যক্রমের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়।

কীভাবে কাজ করে তারা?

ট্রেডারট্রেইটর গোষ্ঠীর সদস্যরা আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রস্তাব দিয়ে নিয়োগদাতা সেজে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর তাদের দিয়ে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ডাউনলোড করানো হয়। এই ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে হ্যাকাররা ভুক্তভোগীদের কম্পিউটার ব্যবস্থায় প্রবেশ করে এবং সংবেদনশীল তথ্য ও ডিজিটাল সম্পদ চুরি করতে সক্ষম হয়।

২০২৪ সালে জাপানের ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্রতিষ্ঠান ডিএমএম বিটকয়েন থেকে ৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার এক হ্যাকার লিংকডইনে নিয়োগদাতা সেজে অন্য একটি ভার্চুয়াল মুদ্রার ওয়ালেট সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই কর্মীকে চাকরিতে নিয়োগের আগে নেওয়া পরীক্ষার মতো একটি ফাইল পাঠানো হয়, কিন্তু তাতে আসলে ক্ষতিকর কোডের একটি লাইন যুক্ত ছিল। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এইভাবে হ্যাকার ওই কর্মীর কম্পিউটার ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পান এবং তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।

উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা কী কী করেছে?

উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের বিরুদ্ধে এর আগে বেশ কয়েকটি বড় সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি এবং ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে কম্পিউটার ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানো ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার হামলা উল্লেখযোগ্য। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ লাজারাস গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হ্যাকারদের বিরুদ্ধে রনিন ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক থেকে প্রায় ৬২ কোটি ডলার চুরির অভিযোগ আনে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই হাতের আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫০ অর্জন কলি রানীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ এম


দুই হাতের আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫০ অর্জন কলি রানীর

দৃঢ় মনোবল ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন রংপুরের কাউনিয়ার তরুণী কলি রানী (১৮)। জন্মগতভাবে দুই হাতের আঙুল না থাকলেও, তিনি ডান পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম গুঁজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৫০ অর্জন করে কৃতকার্য হয়েছেন।

সরেজমিনে উপজেলার গদাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জন্ম থেকেই দুই হাতের আঙুল না থাকার কারণে কলির স্বাভাবিকভাবে কলম ধরার ক্ষমতা ছিল না। তবে এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার পড়াশোনার আগ্রহকে দমাতে পারেনি। ডান পা দিয়েই লেখালেখি আয়ত্ত করে গদাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি কাউনিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সর্বশেষ কাউনিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

কলি রানীর মা রূপালী রানী জানান, জন্মের পর থেকেই নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রাম করে মেয়েকে বড় করতে হয়েছে। যখন কলি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছিল, তখন তার বাবা মনোরঞ্জন রায় মারা যান। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট কলি বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলেও, মায়ের অনুপ্রেরণা এবং নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তির কারণে সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির শুরুতে সহপাঠীদের উপহাসের মুখে পড়তে হলেও, শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতায় সে তা কাটিয়ে ওঠে এবং সহপাঠীদের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে।

কলি শুধু পড়াশোনাতেই নয়, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ডান পা দিয়েই অনায়াসে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার পরিচালনা করতে পারেন। সংগীত জগতেও তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে; বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে তিনি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পুরস্কার ও প্রশংসা অর্জন করেছেন।

ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখছেন কলি রানী। তবে এই পথচলায় অর্থাভাব ও নানা সামাজিক প্রতিকূলতা রয়েছে। তার উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন কলি ও তার পরিবার।

স্থানীয় প্রেস ক্লাব কাউনিয়ার সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক সারোয়ার আলম মুকুল বলেন, "পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫০ অর্জন করা কলি রানীর এক অসাধারণ সাফল্য। তার এই লড়াই কেবল কাউনিয়া কিংবা রংপুরের নয়, দেশের সব স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।"

কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আজম বলেন, "কলি রানী পা দিয়ে লিখে যেভাবে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও জীবনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন বাড়ানো গেলে সমস্যা সমাধান সম্ভব: জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ এম


নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন বাড়ানো গেলে সমস্যা সমাধান সম্ভব: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গার্মেন্টস শিল্পের চলমান অস্থিরতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তিনি মন্তব্য করেছেন, মালিক এবং শ্রমিক উভয় পক্ষকে রক্ষায় সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন এবং সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনের গতি বাড়ানো সম্ভব হলে সমস্যার সমাধান করা যাবে।

আজ রোববার, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এই অবস্থান তুলে ধরেন। জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস শিল্প বর্তমানে কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে, জ্বালানির উচ্চমূল্য, উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে এই খাতের অনিশ্চয়তা এবং ক্রয়াদেশ বাতিল, প্রত্যাহার কিংবা আগের মতো না পাওয়া—এসব কারণে তৈরি পোশাক খাত সংকটের সম্মুখীন হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘরভাড়া, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, যাতায়াত খরচ এবং চিকিৎসা খরচসহ এ শিল্পে কর্মরত জনশক্তির জীবনও কঠিন সংকটের মুখোমুখি।

বিরোধীদলীয় নেতা লিখেছেন, প্রধান রপ্তানি খাতটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের উচিত দ্রুত টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তিনি বলেন, যদি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং উৎপাদনের গতি বাড়ানো সম্ভব হয়, তবে এই সমস্ত সমস্যাগুলো যৌক্তিকভাবে সমাধান করা যেতে পারে।

শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, শিল্প বাঁচলে শুধু মালিক বাঁচবে না, বরং দেশও রক্ষা পাবে। সুতরাং, শিল্প উদ্যোক্তা এবং শিল্পে নিয়োজিত জনশক্তি—দুটোকেই বাঁচানোর জন্য সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। তিনি সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়ার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, যেকোনো ব্যর্থতা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। এখানে কালক্ষেপণের সুযোগ নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহ বোর্ড, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯ প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ এম


ময়মনসিংহ বোর্ড, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯ প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের হুঁশিয়ারি

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ফলস্বরূপ, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এবং পাঠদানের মান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। যদি সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এবং এমপিও বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ময়মনসিংহ বোর্ডের অধীনে ৩১৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৩ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন পাস করেছেন, যার গড় পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন পরীক্ষার্থী।

শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। এই জেলার সাতটি প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন। এছাড়া, নেত্রকোনার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ৩৩ জন, জামালপুরের চারটি প্রতিষ্ঠানের ১৮ জন এবং শেরপুরের দুটি প্রতিষ্ঠানের আটজন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

ব্যর্থতার দিক থেকে এককভাবে শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ‘এইচ এ ডিজিটাল কলেজ’। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৬ জন অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যর্থতা নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ‘এমবিশন মডেল কলেজ’-এর, যেখানে পরীক্ষা দেওয়া ১৬ জনের কেউই পাস করতে পারেননি।

ময়মনসিংহ বোর্ডের শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো তারাকান্দার এইচ এ ডিজিটাল কলেজ (২৬ জন), ঈশ্বরগঞ্জের কোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (৬ জন), হালুয়াঘাটের বাঘাইতলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (৫ জন), ত্রিশালের আউলিয়া নগর কলেজ (৫ জন), নান্দাইলের অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কলেজ (২ জন), ঈশ্বরগঞ্জের চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (১ জন) এবং নান্দাইলের বেরীলা কে এ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন)।

নেত্রকোনার পূর্বধলার এমবিশন মডেল কলেজ (১৬ জন), জুবাইদা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ (৬ জন), খালিশাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৪ জন), নেত্রকোনা সদরের ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ (৪ জন), কলমাকান্দা মহিলা কলেজ (২ জন) এবং কেন্দুয়ার গোপালপুর মডেল কলেজ (১ জন)। জামালপুরের গোয়ালচর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (৭ জন), শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা আকন্দ গার্লস স্কুল (৬ জন), নলবেছা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ (৪ জন) এবং এস এম শিক্ষা মুখলেছুর রহমান কলেজ (১ জন)। শেরপুর সদরের মনমথ দে কলেজ (৭ জন) এবং ঝিনাইগাতীর আলহাজ্ব এস এম এ ওয়ারেজ নঈম মডেল কলেজ (১ জন)।

ফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে বহু নামসর্বস্ব ও অচল প্রতিষ্ঠানের চিত্র। সবচেয়ে বেশি ফেল করা তারাকান্দার এইচ এ ডিজিটাল কলেজের নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রমের অস্তিত্ব মেলেনি। স্থানীয়দের মতে, ভাড়া করা ভবনে কিছুদিন কার্যক্রম চললেও বর্তমানে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রশাসনিক তদারকির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি অচল হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ঈশ্বরগঞ্জের চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সেলিম জানিয়েছেন, কলেজে কাগজে-কলমে ১০ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে সাতজন আছেন, যাদের কেউ কলেজে আসেন না। কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা দীর্ঘ ১০ বছর বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান করে অবশেষে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে এবার মাত্র একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে তিনিও অকৃতকার্য হয়েছেন। বাধ্য হয়ে গভর্নিং বডির সঙ্গে আলোচনা করে কলেজ শাখার নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করবেন বলে জানান অধ্যক্ষ।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ জ ম রেজাউল করিম খান বলেছেন, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যেসব কলেজ শুধুমাত্র অনুমতি নিয়ে অস্তিত্বহীনভাবে চলছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%