ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অপরাধীদের জিরো টলারেন্স, সাধারণ মানুষের বন্ধু গোমস্তাপুরের ওসি নূরে আলম: হোগলা নুহু বাজারে জনবান্ধব উঠান বৈঠক


অপরাধীদের জিরো টলারেন্স, সাধারণ মানুষের বন্ধু গোমস্তাপুরের ওসি নূরে আলম: হোগলা নুহু বাজারে জনবান্ধব উঠান বৈঠক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা, সামাজিক নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা এবং পুলিশের সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী ‘উঠান বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোমস্তাপুর থানা পুলিশের বিশেষ উদ্যোগে শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলার হোগলা নুহু বাজারে এই সভার আয়োজন করা হয়।

এই উঠান বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল এলাকার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সভায় চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, জুয়া, মাদক ও জঙ্গিবাদ নির্মূল, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং দমন এবং বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন রোধে কঠোর বার্তা প্রদান করা হয়।

গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তিনি জনগণের সাথে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে একটি সুদৃঢ় আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: মদনে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভধারণ মামলা, রায় ১১ নভেম্বর

ওসি নূরে আলম উপস্থিত জনগণকে কোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য না করার আহ্বান জানিয়ে বললেন— "পুলিশকে তথ্য দিন, সেবা নিন। অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।" যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা অপরাধের আগাম তথ্য গোমস্তাপুর থানা পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ করেন।

উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন গোমস্তাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবু বক্কার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার আনজারুল ইসলাম এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধানে গোমস্তাপুর থানা পুলিশের এমন ব্যতিক্রমী ও জনমুখী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে পাওয়া গেল ৭১ লাখ টাকারও বেশি, স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২১ পি.এম


শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে পাওয়া গেল ৭১ লাখ টাকারও বেশি, স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রা

হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এছাড়া সেখানে সোনা-রূপা এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

শনিবার সকালে, প্রায় ৩৪ দিন পর, মাজার কর্তৃপক্ষ তিনটি ডেগ ও তিনটি বাক্স খুলে দানের টাকা জড়ো করে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে গণনা শুরু হয়, যা চলতে থাকে প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে। ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী এই টাকা গণনা করেন।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, যিনি মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, তিনি দানের হিসাব ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এবার দানবাক্সে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। বৈদেশিক মুদ্রাগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ৩১.১১ পাউন্ড, ভারতীয় ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানি ৬০ রুপি, সৌদি ৭০ রিয়াল, মালেশিয়ান ৮৩ রিঙ্গিত, আমেরিকান ৪ ডলার, নেপালি ১০০ রুপি, ওমানী ১ রিয়াল, আরব আমিরাতের ৬৪.২২ দিরহাম, ইরাকি ২৫০ দিনার, তুর্কি ৯০ লিরা, ভিয়েতনামী ১০০০ ডং, জাপানি ১০০০ ইয়েন, কাতারের ১১২.৫০ রিয়াল, লেবাননী ১০ পাউন্ড, মিশরী ১০ পাউন্ড, দশমিক ৪০ ইউরো, বাহরাইনের ০.১ দিনার এবং কানাডিয়ান ১ ডলার। এছাড়া, ২ ভরি ১ রতি সোনা ও ১ ভরি ২ আনা রূপাও পাওয়া গেছে।

অনেকেই বিভিন্ন প্রত্যাশা নিয়ে চিঠি লিখেছেন। এই চিঠিগুলোতে পারিবারিক অশান্তি, পরিবারে মাদকের ভয়াবহতা এবং রাজনৈতিক প্রত্যাশা উঠে এসেছে।

তবে দানের গরু, ছাগলসহ পশুর হিসাব ঘোষণা করা হয়নি। এসব পশুর তথ্য এখনো মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে বলে জানান আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রথমবার মাজারের আয় ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে উদ্যোগ নেন। গত ১২ জুন বেলা দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শন করেন তিনি।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেখানে দানবাক্সে তালা দেয়া হয়। এরপর ১৮ জুন বিকেল চারটার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে নতুন দানবাক্স স্থাপন করে জেলা প্রশাসন।

পরে ২২ জুন প্রথমবারের মতো মাত্র ৪ দিনের জমা হওয়া দানের টাকা গণনা করা হয়। এদিন গণনায় নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। ১৮ দিন পর দ্বিতীয় দফায় গত ১১ জুলাই খোলা হয় দানবাক্স। সেদিন নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। এই সময়ে একাধিক দেশের মুদ্রা, স্বর্ণালংকারসহ নানা সামগ্রীও পাওয়া যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড করতে চান ট্রাম্প, ইরান বলল টুইট করে দখল করা যায় না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২২ পি.এম


হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড করতে চান ট্রাম্প, ইরান বলল টুইট করে দখল করা যায় না

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ভূমি হিসেবে ঘোষণা করতে চান। কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, টুইট বা নির্বাচনী ভাষণের মাধ্যমে এই নৌপথ দখল করা সম্ভব নয়। এটি সবসময় ইরানের ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

সম্প্রতি নিউইয়র্কের এক সমাবেশে হাসতে হাসতে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে হারানোর পর খুব শিগগিরই হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। ইরানের পরমাণু অস্ত্র পাওয়া ঠেকাতে মার্কিনিদের গ্যাসের জন্য কিছুটা বেশি খরচ করাটা যৌক্তিক বলেও জানান তিনি। তবে পরে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প এই কথাটি রসিকতা করে বলেছিলেন।

ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি এক্সে বলেছেন, টুইট বা রণতরী দিয়ে হরমুজ দখল করা যায় না। বলে, এটি কেবল ইরানের নির্দেশেই খোলা বা বন্ধ হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। মার্কিন নৌ অবরোধকে তিনি ‘ইস্পাতের দেয়াল’ আখ্যা দিয়েছেন।

তবে ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলেছেন। তিনি জানান, ইরানি বাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ সেখানে চলতে পারবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভুল হিসাব-নিকাশ করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হন। জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিতে বিয়ে, পরে অস্বীকার; ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ পি.এম


ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিতে বিয়ে, পরে অস্বীকার; ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার বর

ধর্মীয় রীতিনীতিসহ সামাজিকভাবে ধুমধাম করে হয়েছিল বিয়ে। গায়ে হলুদ, নাচ-গান, বরযাত্রীসহ পালন করা হয়েছিল বিয়ের সব রীতি। অথচ কোনো বিয়েই হয়নি বলে দাবি করে বসেছেন কনে ও তার পরিবার। উল্টো অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ এনে দায়েরকৃত মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছে বর রুমন খন্দকারকে (২১)। এ ঘটনায় পরিবারটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

পুলিশ বলছে, মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়, ওই যুবককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আর ইউএনও বলছেন, বিয়েতে সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। বাল্যবিয়ে আড়াল করতে নিবন্ধন করেনি। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে কনেপক্ষ এই সুযোগটাকে ব্যবহার করছেন। বিয়ে নিবন্ধক (কাজী) যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

জানা যায়, চলতি বছরের ২২ মে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের মিরাজ মাতুব্বরের মেয়ে মিলা আক্তারের (১৬) সাথে বিয়ে হয় একই উপজেলার তালমা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের বিল্লাল খন্দকারের ছেলে রুমন খন্দকারের (২১)।

 

বিয়েতে সামাজিক অনুষ্ঠান করা হয় দুই পরিবারের পক্ষ থেকেও। বিয়ের পূর্বে কনের বাড়িতেও আয়োজন করা হয়েছিল গায়ে হলুদের মতো অনুষ্ঠান। এরপর ৪০ জন বরযাত্রী নিয়ে যাওয়া হয় কনের বাড়িতে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া শেষে দুই পরিবারের স্বজন, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিয়ের কার্য সম্পন্ন হয়।

 

তবে, কনের বয়স কম হওয়ায় নিবন্ধন করা হয়নি এবং দুই পরিবারের সম্মত হয়েছিল প্রাপ্তবয়স্ক হলে নিবন্ধন করে নেয়া হবে। পরে কনেকে বিয়ের রঙে সাজিয়ে জমকালো আয়োজনের মধ্যেই নিয়ে যাওয়া হয় বরের বাড়িতে। যে বিয়ের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতির প্রমাণাদি ও অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা যায়।

 

তবে সামাজিক এ আয়োজনের কিছুদিনের মধ্যেই চিত্রপট পুরোটাই বদলে যায়। রুমনের বাড়ি থেকে মিলা আক্তার চলে যায় নিজের বাড়িতে। এরপর যুবক রুমন খন্দকারের নামে দায়ের করা হয় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা। ২ জুলাই কনে মিলা আক্তারের দাদি জহুরন খাতুন বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ওই রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করে রুমনকে। পরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয় তাকে। প্রায় দেড় মাস যাবৎ ওই মামলায় কারাগারে রয়েছে রুমন। মিথ্যা মামলা দিয়ে রুমনকে জেলে পাঠানোর ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছেন স্বজনরা।

 

রুমনের মা রেনু বেগম বলেন, পারিবারিকভাবে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়। কয়েকদিন পরেই ছেলের বউ বাপের বাড়িতে বেড়াতে যায়। এরপর থেকেই নানা নাটক শুরু করে। একদিন রাতে পুলিশ এসে ছেলেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়, পরে আমরা জানতে পারি ছেলের নামে ধর্ষণ মামলা দিয়েছে বউমা। আমার নিরীহ ছেলেটাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। দেড় মাস হলো ছেলে আমার জেলে রয়েছে। এঘটনার বিচারের দাবি জানাই।

 

রুমনের বাবা বিল্লাল খন্দকার বলেন, গত ২ জুলাই গভীর রাতে হঠাৎ করেই রুমনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় নগরকান্দা থানা পুলিশ। পরেরদিন থানায় গিয়ে জানতে পারি ধর্ষণ মামলায় ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

থানা সূত্রে জানা যায়, ২ জুলাই থানায় ওই মামলাটি দায়ের করেন মিলা আক্তারের দাদি জহুরন খাতুন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৯ জুন বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে নাতনি মিলাকে একটি মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে নিয়ে যায় রুমন। এরপর রুমন খন্দকারদের বাড়িতে রেখে রাতভর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা হয়। পরেরদিন সকালে কৌশলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে পরিবারকে বিষয়টি জানায় মিলা। পরে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়।

 

এদিকে মিলার পরিবারের সদস্যদের দাবি কোনো বিয়ে হয়নি। অপহরণ করে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এঘটনায় বিচার দাবি মিলা আক্তারের স্বজনদের।

 

মামলার বাদী জহুরন খাতুন দাবি করেন, কোনো বিয়ে হয়নি। এছাড়া মামলার এজাহারের বর্ণনা হিসেবে ঘটনাটি জানান এবং ধর্ষণের ঘটনায় বিচার দাবি করেন। তবে, বিয়ের ছবি ও ভিডিও’র বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান তিনি।

 

কনে মিলা আক্তার বলেন, ছেলেটি কাঠমিস্ত্রির কাজ করত, এমনিতে চিনতাম। আমাকে বিভিন্ন সময় বিরক্ত করত। আমাকে জোরপূবর্ক অপহরণ করে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে সেখান থেকে পালিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানাই। এরপর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসা নিই।

 

বিয়ের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিয়ের ভিডিও ও আনুষ্ঠানিকতার বিষয়টিও এড়িয়ে যান তিনি।

 

বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পারিবারিকভাবে দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে বিবাহ হয়। মেয়েটির অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক রয়েছে, একারণে বিয়ের এক সপ্তাহ পর থেকেই নানা ধরনের নাটক করতে থাকে মেয়েটি। স্থানীয়ভাবে সমাধান করা যেতো, কিন্তু স্ত্রী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দেয়ার বিষয়টি মেনে নেয়া যাচ্ছে না।

 

সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মোহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, গত ২ জুলাই জহুরন খাতুন তার নাতনিকে নিয়ে থানায় আসেন। এসময় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারের চিকিৎসার ছাড়পত্র নিয়ে থানায় আসেন। যেখানে ধর্ষণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়। তবে ওই এজাহারে বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়নি এবং পুলিশকে জানানো হয়নি। কেউ যদি মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে এসে অভিযোগ করে সেক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই মামলা নিয়ে থাকি। এক্ষেত্রেও সেটি হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপ-পরিদর্শক শহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

 

অপরদিকে, বাল্যবিয়ে গোপন করতেই নিবন্ধন ছাড়া বিয়ে করাতে পরিবারটি এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন বলে মনে করছে প্রশাসন। তবে নৈতিক আইন লঙ্ঘন করে মামলাটি করা হয়েছে বলে মনে করেন আইন বিশ্লেষকেরাও।

 

ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের দেশে দুই পরিবার ও ছেলে-মেয়ের সম্মতি অহরহ বাল্যবিয়ে হচ্ছে। এখানেও তেমনটা হয়েছে, পারিবারিকভাবে বিয়ের পর সংসার হয়েছে তাদের। তবে, আইনের দৃষ্টিতে এই বিবাহ স্বীকৃত নয়। যার কারণে পারিবারিক কলহের জেরে ধর্ষণের মতো অভিযোগে ছেলেটিকে কঠিন মামলার মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে, যেটি আসলেই অমানবিক।

 

তিনি বলেন, এটি শুধু রেজিস্ট্রেশনবিহীন বিবাহের কারণে নয়, আমি মনে করি এটি নৈতিকতার অবক্ষয়। এখানে প্রকাশ্যে মেয়েটি ছেলের বাড়িতে সংসার করেছে, এরপরেও সামান্য তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে নিবন্ধন না করার সুযোগ নিয়ে ছেলেটিকে ফাঁসাচ্ছে, আসলে নৈতিকতার কাছে পরিবারটি পরাজিত হয়েছে। এসব মামলার ক্ষেত্রে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। সত্যটা জেনেও আইনের মধ্যে না আসলেও আমরা আইনের কাছে দায়বদ্ধ থেকে যাই।

 

তবে রুমনের পরিবার বলছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। বয়স না হওয়ায় কাজির বাড়িতে গিয়ে গোপনে নিবন্ধন করা হয়। দেনমোহর নির্ধারণ করে নিবন্ধন করে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। নিবন্ধন করেন নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) বি এম ফজলুর রহমান। তবে ওই কাজি বি এম ফজলুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

 

নিকাহ রেজিস্ট্রার বি এম ফজলুর রহমান বলেন, এই বিয়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া আমি কোনো নিবন্ধনও করি নাই।

 

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন জানান, বিয়েতে সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। প্রথমে তারা অবৈধ কাজ করেছে, বাল্যবিয়ে আড়াল করতে নিবন্ধন করেননি। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে কনেপক্ষ এই সুযোগটাকে ব্যবহার করছেন। এখানে কোনো বিয়ে নিবন্ধক (কাজি) যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রবিবার কিশোরগঞ্জে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


রবিবার কিশোরগঞ্জে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামীকাল রবিবার কিশোরগঞ্জের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য উপাসনালয়ের সেবকদের মধ্যে চলতি অর্থবছরের সম্মানীর অর্থ বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার বিকেল ৪টায় জেলা সদরের পুরাতন স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন।

সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রী বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করবেন এবং সুধীজনদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

বেলা দুপুর ১২টায় তিনি কটিয়াদি কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন এবং উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী দুপুর আড়াইটায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন এবং জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা রাষ্ট্রীয় এ সুবিধা পাবেন।

চলতি অর্থবছরে মাসিক সম্মানী প্রদানের জন্য সারাদেশের ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩০১টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%