ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের ইসলামী ব্যাংকের আইডি কার্ড ব্যবহারে নিরাপত্তা শঙ্কা


চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের ইসলামী ব্যাংকের আইডি কার্ড ব্যবহারে নিরাপত্তা শঙ্কা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পরও কিছু সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ড ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে যদি চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের হাতে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র থাকে এবং তারা সেটি ব্যবহার করে। সংশ্লিষ্টরা এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণের সময়ে নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের একটি অংশ চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে অবস্থান করেন। একই স্থানে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারেও পাল্টা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মধ্যে সংঘর্ষের মতো ঘটনাও ঘটে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শেষ হলেও জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকবে: আইইএ প্রধান

পরে চাকরিচ্যুত এস আলমের লোকজন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। এরই মধ্যে চাকরিচ্যুতদের সিংহবাগই ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন—এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এ বিষয়ে কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তারা। পরে তারা এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, চাকরিতে বহাল না থাকলে আইডি কার্ড ব্যবহার করা যায় না। যারা করছে তারা ঠিক করেনি।

ব্যাংকাররা জানান, চাকরিচ্যুত হওয়ার পর ওই ব্যাংকের আইডি কার্ড ব্যবহার করা সরাসরি নিষিদ্ধ। এটি কেন হচ্ছে, তা তারা জানেন না। তবে কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এভাবে আইডি কার্ড ব্যবহার করা নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। চাকরিচ্যুত হওয়ার পরও তারা আইডি কার্ড ব্যবহার করতে পারেন না। তাদের তো আইডি কার্ড জমা দেওয়ার কথা ছিলো।

তিনি বলেন, পৃথিবীর কোন প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে দেওয়া বা চাকরিচ্যুত হওয়ার পর ওই প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড এভাবে ব্যবহার করতে পারে না।

চাকরি নেই, পরিচয়পত্র কেন?

একজন কর্মীর চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক কর্মসম্পর্কও শেষ হয়। এ অবস্থায় কর্মীর ব্যবহৃত পরিচয়পত্র, প্রবেশ কার্ড, অফিসের বিভিন্ন ডিজিটাল সিস্টেমে প্রবেশাধিকার এবং অন্যান্য অনুমোদন প্রত্যাহার করা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। বিশেষ করে ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচয় ও প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে, সহায়তার অর্থছাড় কমেছে

কারণ একটি ব্যাংকের পরিচয়পত্র শুধু কর্মীর নাম বা পদবির পরিচায়ক নয়; অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোনো ব্যক্তি চাকরিতে না থেকেও পুরোনো পরিচয়পত্র ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখনও ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত হতে পারেন।

এতে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের প্রতিনিধিত্ব এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে শুধু পরিচয়পত্র হাতে থাকা এবং সেটি ব্যবহার করে ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রবেশ বা কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করার বিষয় এক নয়। তাই অভিযোগটি কতটা গুরুতর, তা নির্ভর করবে ওই ব্যক্তিরা কোথায়, কী উদ্দেশ্যে এবং কী ধরনের পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন তার ওপর।

চাকরিচ্যুতদের আন্দোলন অব্যাহত:

আরও পড়ুন: চকরিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আকিত হোসেন সজিব গ্রেফতার

ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি পুনর্বহালের দাবি নতুন নয়। চলতি বছরও চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে কয়েক হাজার চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।

জুলাই মাসেও চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে চাকরিতে পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য পরিশোধের দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কতটা ঝুঁকি?

ব্যাংকিং খাতে কর্মীদের পরিচয়পত্র ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। একজন কর্মী চাকরি হারানোর পর তার পুরোনো পরিচয়পত্র সক্রিয় থাকলে বা সেটি দেখে কেউ তাকে ব্যাংকের বৈধ কর্মকর্তা মনে করলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ আখ্যা দিয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সিপিবি কার্যালয়ে হামলা

বিশেষ করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, শাখা, ভল্ট, নথি সংরক্ষণ এলাকা, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত অংশে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

চাকরিচ্যুত কোনো ব্যক্তি যদি পুরোনো পরিচয়পত্র দেখিয়ে এসব এলাকায় প্রবেশের সুযোগ পান, তাহলে বিষয়টি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে বর্তমানে চাকরিচ্যুত কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন বা পুরোনো আইডি দেখিয়ে কোনো ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন— এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ব্যাংকের বক্তব্য এবং প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রয়োজন।

ব্যাংকের করণীয় কী?

আরও পড়ুন: দেশ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন রুমি, বললেন-‘আপনারা ভালো থাকেন’

অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে পুরোনো পরিচয়পত্র ফেরত নেওয়া, হারানো বা ব্যবহৃত পরিচয়পত্র বাতিল করা এবং ব্যাংকের প্রবেশাধিকার ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো চাকরিচ্যুত ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচয় ব্যবহার করে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কি না, সেটিও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ, নিরাপত্তা বিভাগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীর অফিসের পরিচয়পত্র, প্রবেশাধিকার, ই-মেইল, অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার ও অন্যান্য অনুমোদন বাতিলের ব্যবস্থা থাকা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মী পুরোনো পরিচয়পত্র নিজের কাছে রাখলেও সেটি ব্যবহার করে বর্তমান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলে তা ভিন্ন বিষয়। তাই অভিযোগের ক্ষেত্রে ‘আইডি কার্ড থাকা’ এবং ‘আইডি কার্ড ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করা’—এই দুই বিষয় আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ইনকিলাবকে বলেন, চাকরিচ্যুত বা চাকরি ছেড়ে দিলে ওই প্রতিষ্ঠানে আইডি কার্ড ব্যাবহার করা কোনোভাবেই সম্ভব না। শুধু ব্যাংক নয়, কোন প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে দিলে বা চাকরিচ্যুত হলে, ওই প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড ব্যবহার করা যায় না।

তিনি বলেন, এটার জন্য কোনো ব্যাংকিং আইন লাগে না। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যার সাথে আপনার সম্পর্ক ছেদ ঘটছে, তার পরিচয়পত্র আপনি কীভাবে ব্যবহার করেন?

চাকরিচ্যুতরা ইসলামী ব্যাংকের আইডি কার্ড এখনো ব্যবহার করছে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আমি আপনাকে কমন যেটা প্র্যাকটিস সেটা বললাম।

এ বিষয়ে কথা বলতে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হোসাইনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেনি। পরে তাকে টেক্সস পাঠানো হলেও তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবাসিকসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে: ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ পি.এম


আবাসিকসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে: ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলে অবস্থানরত অতিথিদের তথ্য নিয়মিতভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, "প্রয়োজনের সময় যাতে এসব তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়, সে জন্য হোটেলগুলো থেকে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।"

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা-পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক। তিনি বলেন, "এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে ডিউটি করতে হবে, যাতে কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি না হয় এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি না থাকে।"

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সেজন্য রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। কমিশনার প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে তাদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, সব থানার অফিসার ইনচার্জ এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ, আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে মোজাম্মেলসহ ৯ জন কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ পি.এম


গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ, আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে মোজাম্মেলসহ ৯ জন কারাগারে

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হকসহ (৭৫) গ্রেফতার হওয়া আরও ৯ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ইদ্রিসুল আলম (৫৫), তাড়াইল উপজেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাঈল সিরাজী (৩২), বাড্ডা থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন মামুন (৫০), আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী বিল্লাল গাজী (৩৫), বাড্ডা থানা শ্রমিক লীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সচিব জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ (৪৩), শ্রমিক লীগের সক্রিয় কর্মী সোহেল (৩০), কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী আরিফুর রহমান দীপু (২৭) ও নিরব খান (২২)।

পুলিশ আজ তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রোববার গ্রেফতারকৃত রেহানা পারভীন, সাইফুল ইসলাম, জুয়েল শিকদার, নাজিম উদ্দিন, সাহেদ, শান্ত শেখ, হারুন মাইজভাণ্ডারী, খালেদ মাহমুদ ফয়সাল ও সফিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অজ্ঞাতনামা ৮০ থেকে ১০০ জন নেতাকর্মী পাকা রাস্তায় জড়ো হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য বহন করে মিছিল নিয়ে পুলিশ প্লাজার দিকে যাওয়ার সময় তারা সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ ও এলাকায় নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতের আকাশে বিরল দৃশ্য চাঁদের কোলঘেঁষে উজ্জ্বল তারায় মুগ্ধ উত্তরাঞ্চলের মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহীন আলম, স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ পি.এম


রাতের আকাশে বিরল দৃশ্য চাঁদের কোলঘেঁষে উজ্জ্বল তারায় মুগ্ধ উত্তরাঞ্চলের মানুষ

আজ সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামতেই পশ্চিম আকাশে ভেসে উঠলো এক অপূর্ব ও বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য। মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশে সরু চাঁদের একদম গা-ঘেঁষে জ্বলজ্বল করতে দেখা যায় একটি অতি উজ্জ্বল তারা। নান্দনিক এই মহাজাগতিক মেলবন্ধন নজর কেড়েছে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সচরাচর রাতের আকাশে চাঁদ ও তারার অবস্থান দেখা গেলেও আজকের দৃশ্যটি ছিল একবারে ব্যতিক্রমী ও নয়নাভিরাম। চাঁদের খুব কাছাকাছি উজ্জ্বল এই জ্যোতিষ্কের অবস্থান পুরো আকাশজুড়ে এক অনন্য সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে সব বয়সের কৌতুহলী দর্শক মুহূর্তের মধ্যেই এই রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। সুন্দর এই মুহূর্তটি স্মরণে রাখতে অনেকেই মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও বন্দি করেন, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ও ব্যাপক সাড়া ফেলে।
উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ও রংপুরসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিরল মুহূর্তটি প্রত্যক্ষ করতে মানুষের উৎসাহ চোখে পড়ার মতো ছিল। সুন্দর এই দৃশ্য এক নজর দেখতে বাড়ি-ঘরের ছাদ, খোলা মাঠ ও রাস্তার মোড়ে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। একসাথে চাঁদ ও তাঁর মহাকাশের এমন মনোরম দৃশ্য স্থানীয়দের মাঝে বেশ চাঞ্চল্য ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিঠিতে নতুন আশার আলো কক্সবাজারে ‘ব্লু ইকোনমি’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৮ পি.এম


চিঠিতে নতুন আশার আলো কক্সবাজারে ‘ব্লু ইকোনমি’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা, বঙ্গোপসাগর এবং উপকূলীয় সম্পদকে কেন্দ্র করে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে 'ব্লুইকনোমী সাইন্স এন্ড টেকনোলজী' নামে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্যাডে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুল সম্ভাবনাময় সামুদ্রিক সম্পদকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর জন্য বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন।" তিনি বলেন, কক্সবাজারে UBEST-ইউবিইএসটি নামে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জাতীয় স্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় শূন্য থেকে প্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘ সময়, বিপুল অর্থ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রয়োজন হয়। বাস্তবতার প্রেক্ষিতে কক্সবাজারে অবস্থিত 'বাংলাদেশ ওশানগ্রাফিক রিচার্স ইনস্টিটি- Bangladesh Oceanographic Research Institute (BORI)-এর বিদ্যমান অবকাঠামো, ল্যাবরেটরি, গবেষণা-সুবিধা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ পরিবেশ এবং উপকূলভিত্তিক গবেষণার কাঠামো ব্যবহার করে UBEST-ইউবিইএসটি -এর প্রাথমিক একাডেমিক ও ব্যবহারিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করা সম্ভব হবে।

এতে উল্লেখ করা হয়, BORI-কে একটি জাতীয় সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এর বিদ্যমান সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাথমিক পর্যায়ে সমুদ্রবিজ্ঞান, মৎস্য ও অ্যাকোয়াকালচার, সামুদ্রিক পরিবেশ, উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক তথ্য (Data), পর্যটন ও হসপিটালিটি-সংক্রান্ত বিষয়ে পাঠদান, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অপেক্ষা না করেই একটি গবেষণামুখী, ব্যবহারিক ও বাস্তবতাভিত্তিক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে ব্লু ইকোনমি-সংক্রান্ত বিদ্যমান গবেষণা অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং দেশের ব্লু ইকোনমি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।

এই লক্ষ্যে কক্সবাজারে BORI-এর বিদ্যমান একাডেমিক ও গবেষণা-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে University of Blue Economy Sciences and Technology (UBEST) নামে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতি কামনা করা হয়েছে।

আনন্দ-উচ্ছ্বাস কক্সবাজারবাসীর

কক্সবাজারে ব্লু ইকোনমি বিষয়ে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের খবর স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, ব্যবসায়ী, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সচেতন মহলে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন, কক্সবাজারে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণায় দেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

স্থানীয়দের মতে, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, বিশাল সমুদ্রসীমা, মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, পর্যটন এবং উপকূলীয় অর্থনীতির কারণে কক্সবাজার একটি প্রাকৃতিক ‘ব্লু ইকোনমি হাব’। এখানে সমুদ্রভিত্তিক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় তরুণদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং সমুদ্রসম্পদ, মৎস্য, পর্যটন, পরিবেশ ও সামুদ্রিক প্রযুক্তি নিয়ে দেশি-বিদেশি গবেষণার ক্ষেত্রও বিস্তৃত হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, BORI-এর বিদ্যমান গবেষণা অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা গেলে একদিকে যেমন সময় ও ব্যয় কমবে, অন্যদিকে কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে শিক্ষা, গবেষণা এবং নীল অর্থনীতির একটি আন্তর্জাতিক মানের কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশা, প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে UBEST প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নেবে এবং সমুদ্রসম্পদনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কক্সবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%