বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৩ এম
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার সোলার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ককে আরও নিচে নামিয়েছে। নতুন সুবিধার আওতায় যোগ্য সোলার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে মোট ১ শতাংশ কর দিতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১ শতাংশের বেশি কাস্টমস শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), অগ্রিম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি। এনবিআর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এসআরও জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন এই সুবিধা কার্যকর থাকবে।
এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ২০২৬ সালের ৮ জুন জারি করা এসআরও নং ১৫৯-আইন/২০২৬/১৪/কাস্টমসের আওতায় এনবিআর সোলার খাতের প্রধান উপকরণে শুল্ক ও কর অব্যাহতি প্রদান করেছিল। সেই সময়ে আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম কর মওকুফ করা হয়েছিল। তবে তখনও ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম আয়করসহ মোট ১৭ শতাংশ কর দিতে হতো।
এখন এনবিআর সেই সুবিধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সোলার সরঞ্জামের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক আমদানিকারকরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই সুবিধার আওতায় আসবেন। এর আগে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য এই শুল্ক ও কর ছাড় প্রযোজ্য ছিল না।
এনবিআর বলছে, কর কমানোর ফলে সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ কমবে এবং নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুততার সাথে যোগ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও, এই পদক্ষেপটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে শক্তিশালী করবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আজ এই তথ্য জানিয়েছেন।
আজ বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) 'ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬' উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করণীয়, বাস্তবায়ন কৌশল এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতাসহ একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করে উপস্থাপন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমরা এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে আরও কার্যকর করা যাবে। এফডিসিও এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।'
তিনি আরও বলেন, সরকার শুধু এফডিসির উন্নয়ন নয়, সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অতীতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গুণী পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা যে অসাধারণ কাজ করেছেন, সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে চলচ্চিত্রের মান ও শিল্পের সক্ষমতা আরও বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চলচ্চিত্রের গুণীজনদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ও গুণী ব্যক্তিরাই। সরকার তাদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।'
অনুষ্ঠানে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে 'ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে'র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন স্বাগত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনে অবদানের জন্য ফরিদুর রেজা সাগর, বরেণ্য সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, মাসুদ পারভেজ, এ জে মিন্টু, কাজী হায়াৎ, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, ড. মতিন রহমান ও মসিহ উদ্দিন শাকেরসহ বেশ কয়েকজনকে সম্মাননা জানানো হয়। উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের অনুরোধে বরেণ্য সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন গানও পরিবেশন করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান, এফডিসির এমডি মাসুমা তানি, পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন কবির টুটুলসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী, কলাকুশলী ও সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বার্সেলোনা মানেই যেন গোল উৎসব! চলতি মৌসুমে কোচ হানস ডিয়েটার ফ্লিকের দল মাঠে নামছেই যেন প্রতিপক্ষকে গোলবানে ভাসাতে। রাসিং সান্তান্দেরের বিপক্ষেও তার ব্যত্যয় ঘটল না।
এবার দলটা নিজেদেরও ছাপিয়ে গেল যেন! রাফিনিয়া করলেন হ্যাটট্রিক, তারও আগে জোয়াও কানসেলো করলেন দুটি অসাধারণ গোল; সবকিছুর মিশেলে রাসিং সান্তান্দারকে ৭-২ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা।
অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। লামিন ইয়ামালের আড়াআড়ি পাস পেয়ে যান কানসেলো। এরপর ২০ গজ দূর থেকে অসাধারণ একটি কার্লিং শট করেন, বল ক্রসবার ছুঁয়ে জালে আটকায়।
এরপর পেদ্রো ফেলিপের ফাউলে পেনাল্টি পান রাফিনিয়া। সেটি নিচের ডানদিকে জালে পাঠিয়ে দিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ৩০তম মিনিটে মাগেত গুয়ে গোল করে ব্যবধান কমালেও কানসেলো আবার দূর থেকে গোলের ওপরের বাম কোণে শট মেরে বার্সাকে দুই গোলের লিড ফিরিয়ে দেন। এই গোলটিও ছিল দেখার মতো।
বিরতির আগেই রাফিনিয়া তার দ্বিতীয় গোলটি করেন। দানি ওলমোর চমৎকার পাস পেয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি। এরপর আদেয়েমিকে ফেলে দেওয়ায় আরেকটি পেনাল্টি পায় বার্সা। রাফিনিয়া সেবার পেনাল্টির দায়িত্ব ইয়ামালকে দিলেও গোলকিপার আগিরেজাবালা তা ঠেকিয়ে দেন।
বিরতির পর বিকল্প হিসেবে নামা ভয়চেখ শেজনির ভুলের সুযোগে ইয়াসির জাবিরি গোল করে ব্যবধান কমান। কিন্তু মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে আদেয়েমিকে ফাউল করায় পেনাল্টি পেয়ে রাফিনিয়া তার হ্যাটট্রিক পূরণ করেন।
এরপর গ্যাব্রিয়েল জেসুস ওপরের ডান কোণে বল পাঠিয়ে স্কোর করেন। আর ৮৯তম মিনিটে আদেয়েমির কাছ থেকে পাস পেয়ে ইয়ামাল ফার্স্ট-টাইম শটে গোল করে ম্যাচ শেষ করেন।
এই মৌসুমে এটি বার্সেলোনার ছয়তম টানা লা লিগা জয়। এই শতাব্দীতে ষষ্ঠবার প্রথম ছয় ম্যাচ জিতে শুরু করল তারা। আগের পাঁচবারের মধ্যে চারবারই মৌসুম শেষে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বার্সা।
ফ্লিকের দল এখন পর্যন্ত ২৮ গোল করেছে, যা লা লিগায় সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ১১ গোল বেশি। এই সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছেন রাফিনিয়া। ফ্লিকের ডাকে ফলস নাইন হিসেবে খেলে ছয় ম্যাচে নয় গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
কানসেলোর দুটি লংরেঞ্জ গোলের মোট এক্সপেক্টেড গোল (এক্সজি) ছিল মাত্র ০.০৪৭, যা বোঝায় এই গোলগুলো কতটা অবিশ্বাস্য ছিল। পুরো ম্যাচে বার্সার এক্সজি ছিল ৬.৬৫, আর রাসিংয়ের মাত্র ১.৮৬।
ইয়ামালও শেষমেশ গোল পেয়েছেন। ক্যারিয়ারে প্রথমবার টানা চার লা লিগা ম্যাচে গোল করলেন স্প্যানিশ তারকা। এই মৌসুমে এখন তার মোট গোল সাত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীন ইরানের ‘বৈধ অধিকার ও স্বার্থ’ রক্ষায় দেশটির সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বুধবার বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই মন্তব্য করেন।
ওয়াং ই বলেন, “চীন ইরানের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার করতে এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”
তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যৌক্তিক ও সংযত’ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দ্রুত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ওয়াং ই আরও বলেন, চীন চায় আঞ্চলিক উত্তেজনা যেন ইয়েমেন ও লোহিত সাগর পর্যন্ত আরও ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত যে ঐকমত্য হয়েছে, তার ভিত্তিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রক্রিয়া পুনরায় গড়ে তোলা উচিত।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এটি সংস্কার ও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, ন্যায় ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত চীন। ইরানের বিষয়ে চীনের নীতিও ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল রয়েছে।
বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ‘মৌলিক পরিবর্তন’ এসেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসী’ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান আঞ্চলিক আলোচনা শুরু করেছে।
নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরাঘচি বলেন, “আমরা এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাই এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চাই। এ লক্ষ্যে আমরা অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছি।”
এর আগে চলতি সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল বেইজিং, যেখানে দাবি করা হয়েছিল চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের কাছে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা একটি সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করেছে।
এ ছাড়া গত এপ্রিল মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একটি চিঠি লিখে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি না করার অনুরোধ করেছিলেন।
চীন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার। একই সঙ্গে ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অফিসের চার দেয়ালের মাঝে একজন সত্যিকারের ভালো বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। প্রতিদিনের কাজের চাপ, ডেডলাইনের মানসিক ধকল এবং বসের বকুনি সবকিছুই সহজ হয়ে যায় যদি পাশে এমন একজন সহকর্মী থাকে, যিনি একাধারে কাজের সঙ্গী এবং মনের মানুষ। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, অফিস শেষ পর্যন্ত একটি পেশাদার জায়গা এবং সেখানে সবার আগে আপনার ক্যারিয়ার। বন্ধুত্বের গভীরতা যতই হোক, আবেগের বশে এমন কিছু কথা শেয়ার করা উচিত নয় যা পরবর্তীতে আপনার পেশাদার জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই সম্পর্কে স্বচ্ছতা রেখেও কিছু বিষয়ে নীরব থাকাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ—
নতুন চাকরি খোঁজা বা ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আপনি যদি গোপনে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেন বা ইন্টারভিউ দিয়ে থাকেন, তা কখনোই সহকর্মীকে জানাবেন না। করপোরেট দুনিয়ায় দেয়ালেরও কান থাকে। কোনোভাবে এই তথ্যটি ম্যানেজমেন্টের কাছে পৌঁছালে আপনার বর্তমান চাকরি যেমন ঝুঁকিতে পড়বে, তেমনি কোনো প্রমোশন বা ইনক্রিমেন্টের সুযোগ থাকলে তাও হাতছাড়া হতে পারে।
আপনার সঠিক বেতন ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা
বেতনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত রাখা উচিত। একই সংস্থায় কাজ করার কারণে দুজনের বেতনের পার্থক্য (তা সে যতই কম-বেশি হোক না কেন) আপনাদের সুন্দর বন্ধুত্বের মাঝে অজান্তেই দেয়াল তুলে দিতে পারে। কম বেতন পাওয়া মানুষের মনে ক্ষোভ বা হীনম্মন্যতা তৈরি হওয়া খুব স্বাভাবিক, যা কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কে ফাটল ধরায়।
বস বা অন্য সহকর্মীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ও সমালোচনা
কাজের সূত্রে কারও ওপর রাগ বা ক্ষোভ জমতেই পারে, কিন্তু তা নিয়ে সহকর্মী-বন্ধুর কাছে অতিরিক্ত খোলামেলা আলোচনা বা পরনিন্দা করবেন না। কর্মক্ষেত্রের সমীকরণ খুব দ্রুত বদলায়। আজকের বন্ধু পরিস্থিতির চাপে কাল আপনার প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারেন। তখন আপনারই বলা কোনো মন্তব্য আপনার পেশাদার সুনামের ক্ষতি করতে পারে।
কোম্পানির পলিসি বা ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা
প্রতিষ্ঠানের কোনো নতুন নিয়ম বা পলিসি আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। তবে তা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে উচ্চবাচ্য করা বা বন্ধুর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করা অনুচিত। এই ধরনের আলোচনা আপনাকে কোম্পানির প্রতি অনুগত নয় এমন একজন নেতিবাচক কর্মী হিসেবে প্রমাণ করতে পারে, যা আপনার ক্যারিয়ার গ্রোথের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সংকট ও পারিবারিক গোপন তথ্য
আপনার পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক ঋণ বা জটিল কোনো ব্যক্তিগত সমস্যার কথা কর্মক্ষেত্রে এড়িয়ে চলাই ভালো। বন্ধু হিসেবে তিনি হয়তো আপনাকে সান্ত্বনা দেবেন, কিন্তু কর্মক্ষেত্রের অন্যান্য মানুষ একে আপনার মনোযোগের অভাব বা দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করতে পারে। পেশাদার জায়গায় নিজেকে সবসময় মানসিকভাবে দৃঢ় রাখা জরুরি।
কর্মক্ষেত্রে গভীর বন্ধুত্বের অনুভূতি প্রকাশ করলেও কিছু বিষয়ে দেয়াল তুলে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের বেতন, ক্যারিয়ারের গোপন পরিকল্পনা কিংবা কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ মনের ভেতর চেপে রাখলে আপনার পেশাদার জীবন থাকবে সুরক্ষিত ও ঝুঁকিমুক্ত। বন্ধুত্বের আবেগ এবং অফিসের পেশাদারিত্বের মধ্যে একটি সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখাই আপনার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক উভয়কেই দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর করে তুলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ