ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ৬ আগস্ট


কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ৬ আগস্ট

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রমের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত ব্যবহারিক পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

রবিবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ দেশের সব জেলায়, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষা গ্রহণের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকারি ছুটির দিনেও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: সামান্তা শারমিনের পদাবনতি: পুনর্গঠিত এনসিপিতে কার স্থান কোথায়?

এতে আরও বলা হয়, ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে আগামী ১৪ থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনে পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডে পাঠাতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি ও বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
পিপিপি মডেলে যুক্ত হবে দক্ষিণাঞ্চল

৩.৪ বিলিয়ন ডলারের সেতু নির্মাণে প্রস্তাব দিল জাপানি প্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


৩.৪ বিলিয়ন ডলারের সেতু নির্মাণে প্রস্তাব দিল জাপানি প্রতিষ্ঠান

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের আওতায়, ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

এই দুই সেতু প্রকল্পে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা (৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার)। আশা করা হচ্ছে, এই সেতু প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক সংযোগে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার হবে। ২০৩৩ সালের মধ্যে সেতু দুটি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে পিপিপি পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বাংলাদেশ সরকার বহন করবে।

সম্প্রতি, রাজধানীর এক হোটেলে অনুষ্ঠিত অষ্টম বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্ম সভায় জাপানি কোম্পানিটি এই দুটি সেতু নির্মাণে আগ্রহের কথা জানায়। বাংলাদেশ সেতু বিভাগ ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে যে, সভায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু ও বরিশাল-ভোলা সেতুকে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় নতুন প্রকল্প হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি পিপিপির মাধ্যমে বড় অবকাঠামোগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে উভয় সরকারের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

সভায় দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও আশিক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিুরুল ইসলাম খান। জাপানি প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা; বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি; জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের (এমএলআইটি) সহকারী উপমন্ত্রী ফুজিতা মাসাকুনি ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিষয়ক সহকারী উপমন্ত্রী নাকায়ামা রেইকো।

এর আগে, প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতু প্রকল্পের জন্য মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে নির্বাচন করেছিল জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা যায় যে, শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু প্রকল্প নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও আলোচনা করেছিল সরকার। সেতু বিভাগ ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, মিয়াগাওয়া এককভাবে অথবা আরও কয়েকটি জাপানি প্রতিষ্ঠান নিয়ে যৌথভাবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।

তারা আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করার আগে ট্রানজিশন পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হবে। এরপর সরকার রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) ইস্যু করবে। এটি একটি আনুষ্ঠানিক নথি, যা কোনো সংস্থা বা সরকার নির্দিষ্ট প্রকল্প বা সেবার জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করতে ব্যবহার করে। আরএফপি জমা হওয়ার পর, মূল্যায়ন শেষে জাপানি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে যাবে সরকার।

বাংলাদেশে মিয়াগাওয়ার স্থানীয় অংশীদার হিসেবে কাজ করছে স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড, যারা প্রকল্পের বিনিয়োগ পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তা দিচ্ছে। স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, 'বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য আমরা অনেক বছর ধরে কাজ করছি। ভোলা-বরিশাল সেতু কেবল একটি পরিবহন প্রকল্প নয়; এটি সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।'

ভোলা-বরিশাল সেতু: এ দুটির মধ্যে বড় প্রকল্প ভোলা-বরিশাল সেতু। এর নির্মাণে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রস্তাবিত ১০.৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেতু। এটি দ্বীপজেলা ভোলা ও মূল ভূখণ্ড বরিশালের মধ্যে স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে। ২০২৪ সালের এক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সেতু বিনিয়োগ আকর্ষণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আগামী ৩০ বছরে সেতুটি দেশের জিডিপিতে ০.৮৬ শতাংশ অবদান রাখবে। এছাড়া ভোলা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের কাজও এই সেতুর মাধ্যমে সহজ হবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, ২০৩৩ সালের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু: দ্বিতীয় প্রকল্পটি শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু। মেঘনা নদীর ওপর নির্মিতব্য ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অবকাঠামোর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। সেতুটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলাকে সরাসরি যুক্ত করবে। এর ফলে বর্তমান ফেরি ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য বিকল্প তৈরি হবে। আশা করা হচ্ছে, সেতুটি চালু হলে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যকার দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে ঢাকার ওপর দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহনের চাপও কমবে। চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট ও শরীয়তপুরের সখিপুরের মধ্যে এই সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০৩২ সালের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে এই প্রকল্পের জন্য একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে। গত বছর জরিপ প্রতিবেদন সম্পন্ন হয়েছে।

ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু নিয়েও জাপানের আগ্রহ: পিপিপি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু প্রকল্পও আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। জাপানি প্রতিনিধি দল প্রকল্পটির ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা একে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর ওপর ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে সেতু নির্মাণ হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরিঘাট খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১২টি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ৯টিসহ মোট ২১ জেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃজেলা রুট।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-জাপান পিপিপি প্ল্যাটফর্ম বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মানসম্মত বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার সভাটির সমাপ্তিতে জানান, এই প্ল্যাটফর্ম ও এর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনরায় নিশ্চিত করেন। তারা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার লক্ষ্যে উভয় দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও নিবিড় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। সেইসাথে, তারা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগগুলো দ্রুততর করা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রসার ঘটানোর বিষয়েও একমত হয়েছেন।

অন্যান্য প্রস্তাব: কর্মকর্তারা জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর উন্নয়নের প্রসারে জাপানি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় চট্টগ্রাম শহরে একটি ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করারও প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া, জাপানি কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশের পুরোনো রেলসেতুগুলোর আধুনিকায়নের প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে পিপিপি সহযোগিতার আরও সুযোগ তৈরি করবে।

বৈঠকের পর প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মে চলমান বেশ কয়েকটি মেগাপ্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কমলাপুর মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, আউটার রিং রোড প্রকল্প এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন স্থানীয় সেতু উন্নয়ন প্রকল্প।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাপপ্রবাহে হাঙ্গেরির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


তাপপ্রবাহে হাঙ্গেরির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

ইউরোপজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দানিয়ুব নদীর পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার।

তিনি রোববার জানান, ৪৪ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বুদাপেস্ট থেকে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী খরা ও ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত এলো।

বুদাপেস্টের দক্ষিণে পাকসে অবস্থিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সাধারণত দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে।

কেন্দ্রটির শীতলীকরণ ব্যবস্থা দানিয়ুব নদী থেকে পাম্পের মাধ্যমে তোলা পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মে মাস থেকে বৃষ্টিপাতের অভাব এবং একের পর এক তাপপ্রবাহের কারণে নদীর পানির স্তর রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

মাগিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘দানিয়ুব নদীর পানির স্তর আরও কমে যাওয়ায় পাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শেষ দুটি উৎপাদন ইউনিটের একটি রাত ১টা ৩০ মিনিটে বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদনক্ষমতা কমে ২৪০ মেগাওয়াটে নেমে আসবে। আগামীকাল ৪৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।’

শুক্রবার কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছিল, নদীর পানির স্তর ক্রমাগত কমতে থাকায় আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে পাকস বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হতে পারে।

জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা হাঙ্গারোমেট আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে, যা চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে স্থাপিত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডের সমান হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে নিহত অন্তত ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৯ পি.এম


ভারতে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে নিহত অন্তত ৮

ভারতের কেরালায় টানা ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধস, বন্যা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) কেরালার কোল্লাম ও তিরুবনন্তপুরম ছাড়া সব জেলায় 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট' জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

কেরালার ইদুক্কি, কোট্টায়াম ও পাঠানামথিট্টা জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভ্যাগামনে ৩১৪ মিলিমিটার, পাঠানামথিটার ভাদাসেরিক্কারায় ৩০২ মিলিমিটার এবং লাহায় ২৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

ইদুক্কির বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস এবং বন্যার খবর পাওয়া গেছে। উপ্পুথারায় ভূমিধসে একটি পুলিশ জিপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পার্ক করে রাখা ছিল। চ্যাকোচি বেন্ডের কাছে ভূমিধসের কারণে কোচি-ধনুষকোডি জাতীয় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

কোট্টায়ামের এরাট্টুপেট্টা, কাঞ্জিরাপল্লি, কুট্টিক্কাল, এরুমেলি এবং পালা এলাকার বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থানগুলো ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে। এই কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছেন।

পাঠানামথিট্টার পাহাড়ি এলাকাতেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পাম্বা নদীর তীরবর্তী রানি, কোঝেঞ্চেরি ও আরানমুলার বিভিন্ন অঞ্চল বন্যার পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসন নৌকা নামিয়েছে।

কোট্টায়ামের পুঞ্জার থেকে থানেকারা এলাকায় শনিবার ভোরে ভূমিধসে একজন নারী ও তাঁর ছেলে মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৫০ বছর বয়সী রেজিনা জনি এবং তাঁর ২৮ বছর বয়সী ছেলে জোসেফিন জনি। ভূমিধসে তাঁদের বাড়ি চাপা পড়ার কারণে প্রাণহানি ঘটে।

ইদুক্কির কুডায়াথুরে ভোরের দিকে ভূমিধসে বাড়ি মাটিচাপা পড়ে ৬৯ বছর বয়সী সুমাথি নিহত হয়েছেন। তাঁর স্বামী ও ছেলে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। ভ্যাগামনের কাছে কোহালামেডুতে ভূমিধসে ৭২ বছর বয়সী প্রভাকরণ নায়ারও নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ভাকাথানামে জল জীবন মিশনের একটি জলাধার নির্মাণস্থলে পানিতে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মিলান কে শিজু মারা গেছে। মালাপ্পুরমের কোন্দোট্টিতে চার বছর বয়সী আদম আইমান পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে মারা যায়। ভান্দুরের থিরুভালির কাছে বাড়ির পাশের খালে পড়ে তিন বছর বয়সী আবদুল মুহাইনও ডুবে মারা যায়।

ওয়ানাডে পদিঞ্জারাথারার কৃষক বেনি পুকুরের পানি সেচের জন্য বের করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।

এদিকে, শুক্রবার রাতে তিরুবনন্তপুরম উপকূলে দুটি নৌকা দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ চার জেলের সন্ধানে শনিবারও অভিযান চলেছে। কিছু জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি এর্নাকুলাম, ত্রিশূর, কোঝিকোড়, মালাপ্পুরম, কান্নুর, কাসারগোড় এবং পালাক্কাডেও বন্যা ও ছোটখাটো ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে।

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৬৫টি ত্রাণশিবির খোলা হয়ে আছে। এসব শিবিরে ১ হাজার ৪৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। বৃষ্টির কারণে ১৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১২৭টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির কারণে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র আথিরাপ্পিল্লি ও ভাঝাচালেও সাময়িকভাবে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এগোচ্ছে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন সড়কের নির্মাণকাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


এগোচ্ছে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন সড়কের নির্মাণকাজ

সর্বোচ্চ ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন স্বপ্নের 'ঢাকা-সিলেট ৬ লেন' প্রকল্পের কাজ ডানা মেলতে শুরু করেছে। ২০৯ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ককে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, বিদ্যমান জটিলতাগুলো কাটিয়ে আগামী আড়াই বছরের মধ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে। ২০২২ সালে ১২টি প্যাকেজে শুরু হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক আন্তর্জাতিক মানের একটি সড়কে রূপ নেবে। পাশাপাশি উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগের দিক থেকেও প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগাতে এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মহাসড়কের বিভিন্ন বাঁক সরলীকরণ করা হবে এবং অধিক যান চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জজুড়ে ২০৯ কিলোমিটার মহাসড়ককে আন্তর্জাতিক মানের ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতাও ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন এ বিষয়ে জানিয়েছেন, ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলে অবশিষ্ট ছয় লেনের নির্মাণকাজ দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার এই প্রকল্পে মূল চার লেনের পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুটি সার্ভিস লেনও থাকবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ঋণ দিচ্ছে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও তা আর সম্ভব হচ্ছে না। জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা ও অন্যান্য জটিলতার কারণে কাজ পিছিয়ে গেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তি বেড়ে গেছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে সড়কপথে সময় লাগছে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন খাত। সিলেট হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্ট হাউস ওনার্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ জানিয়েছেন, পাঁচ তারকা হোটেলসহ বিভিন্ন মানের আবাসন খাতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ যানজট ও সড়কের ধীরগতির কারণে এসব বিনিয়োগ প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছে না। অন্যদিকে শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। আগামী আড়াই বছরের মধ্যেই ছয় লেন প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদী। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, ৭টি ফ্লাইওভার এবং ওভারপাস এবং ৬টি রেলওয়ে ওভারপাস। এর মধ্যে ৬৬টি সেতুর ৬০টির কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পেয়েছে। এছাড়াও ২০০টির বেশি কালভার্টের নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%