শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২০ পি.এম
দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করার যুদ্ধে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি— এসব পদক্ষেপই বাংলাদেশের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পেছনে মূল কারণ। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স-২৬ (জিএইচআই) প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ক্ষুধা সূচকের স্কোর ১৯ দশমিক ২ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই স্কোরের ভিত্তিতে, বাংলাদেশ মাঝারি মাত্রার ক্ষুধা পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১ এবং পাকিস্তানের স্কোর ২৫ দশমিক ৫। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে শ্রীলংকা ও নেপাল।
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক চারটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। এই সূচকগুলো হলো— জনসংখ্যার মধ্যে অপুষ্টির হার, শিশুমৃত্যুর হার, বয়সের তুলনায় শিশুদের উচ্চতা কম হওয়া এবং উচ্চতার তুলনায় শিশুদের ওজন কম হওয়া। প্রতিবেদনটি জার্মানির বনভিত্তিক ক্ষুধা মোকাবিলায় কাজ করা সংস্থা ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, সুইজারল্যান্ডের জুরিখভিত্তিক সহায়তা সংস্থা হেলভেটাস এবং জার্মানির রুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ইনস্টিটিউট যৌথভাবে প্রকাশ করেছে।
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে স্কোর নির্ধারণ করা হয় শূন্য থেকে ১০০-এর মধ্যে। স্কোর ১০-এর কম হলে ক্ষুধার মাত্রা কম, ১০ থেকে ১৯ দশমিক ৯ হলে মাঝারি, ২০ থেকে ৩৪ দশমিক ৯ হলে গুরুতর, ৩৫ থেকে ৪৯ দশমিক ৯ হলে আশঙ্কাজনক এবং ৫০ বা তার বেশি হলে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই হিসেবে, বাংলাদেশের ১৯ দশমিক ২ স্কোর মাঝারি মাত্রার ক্ষুধা পরিস্থিতি নির্দেশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১, যা গুরুতর ক্ষুধা পরিস্থিতির নির্দেশ করে। পাকিস্তানের স্কোর ২৫ দশমিক ৫, যা দেশের খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, শিশুদের অপুষ্টি, নারীদের কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে সংকটাপন্ন অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সীমান্তের সুনির্দিষ্ট অবস্থান যৌথভাবে নির্ধারণ এবং সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়াকে সামরিক বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে।
শুক্রবার, দুই দেশের মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) বিস্ফোরণের ফলে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটার পর এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিবিষয়ক উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম হং-চল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘স্থলসীমান্তের সামরিক বিভাজনরেখার (এমডিএল) সুনির্দিষ্ট অবস্থান যৌথভাবে নিশ্চিত করা, সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালুর উপায় নিয়ে আলোচনা এবং সীমান্ত এলাকায় অনাকাক্সিক্ষত সংঘর্ষ প্রতিরোধের লক্ষ্যে আমরা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক বৈঠকের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছি।’
এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতিসংঘ কমান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
কিম আরও বলেন, ‘পানমুনজমের মাধ্যমে বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।’ তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সিউল উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।
গত মাসে দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। উত্তর কোরিয়া এ ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানকে উপহাসের সঙ্গে নাকচ করেছে।
১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে ডিএমজেড দুই কোরিয়াকে পৃথক করে রেখেছে। এটি একটি ভারী মাইন পোঁতা বাফার অঞ্চল, যেখানে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উম্ম আল কুয়াইন উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে সমুদ্র দূষণের ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের কারিগরি পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশগত মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে এমবি ইবা নামের ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এরপর স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম শুরু হয়।
আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, দূষণ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘিরে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শারজাহ ও আজমানেও তেলের গন্ধ পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেছে যে, এ গন্ধে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।
কর্তৃপক্ষ জানায়, উম্ম আল কুয়াইনের সৈকত ও উপকূলীয় এলাকাগুলো কারিগরি দলগুলোর মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। জননিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণের পর এসব এলাকা পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দূষণের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ইতোমধ্যে তেল অপসারণ ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। পাশাপাশি উপকূলজুড়ে জরিপ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে দূষণের বিস্তৃতি ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর এর প্রভাব নিরূপণ করা হচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল দূষণ নিয়ে উদ্বেগ
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলতি বছর তেল ছড়িয়ে পড়ার একাধিক ঘটনার পর নতুন এই দূষণ সামুদ্রিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও বেড়েছে।
গত জুনে ক্যারোলিন বেজেঙ্গি নামের একটি ট্যাংকার ওমানের হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে আটকে গিয়ে দেশটির দক্ষিণ উপকূলের পানিতে রুশ অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে দেয়। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, তেল ছড়িয়ে উপকূলের প্রায় ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এছাড়া গত ৩ আগস্ট হরমুজ প্রণালির কাছে মিনোয়ান পাইওনিয়ার নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরানের কেশম দ্বীপেও তেল দূষণ ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, কেশম ও পার্শ্ববর্তী হেঙ্গাম দ্বীপের কাছে প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার জলভাগে তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়েছিল।
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয় সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের তেল দূষণের পরিবেশগত প্রভাব দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারে। তেল উৎসস্থল থেকে বহুদূরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং দৃশ্যমান তেলের আস্তরণ মিলিয়ে যাওয়ার পরও ম্যানগ্রোভের শিকড় ও উপকূলীয় পলিতে আটকে থাকতে পারে।
উম্ম আল কুয়াইনে চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সামুদ্রিক জরিপের মাধ্যমে সর্বশেষ দূষণের প্রকৃত বিস্তৃতি এবং পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এএনআই ও ইকোনমিক টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপের তিনটি দেশ, ইতালি, গ্রিস এবং সাইপ্রাস, থেকে ৩৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার একটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে তারা ঢাকায় পৌঁছান। ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯ জন ইতালি, ১০ জন গ্রিস এবং ৬ জন সাইপ্রাস থেকে রয়েছেন।
ঢাকার ইতালি দূতাবাস এক ঘোষণায় জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার এই প্রত্যাবাসন ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনটি দেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশ ও অবস্থানের বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং বৈধ অভিবাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দূতাবাসের পক্ষ থেকে।
দূতাবাস আরও জানায়, যথাযথ ভিসা ছাড়া ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানব পাচারকারী, দালাল বা চোরাকারবারিদের অর্থ প্রদান করা অবৈধ। এ ধরনের পদক্ষেপের ফলস্বরূপ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে এবং শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের রেকারের সঙ্গে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সেলিম হাওলাদার নামে এক আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিম মাদারীপুর পৌরসভার বাগেরপাড় এলাকার মৃত নাজিম উদ্দীন হাওলাদারের পুত্র। তিনি পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার হোটেল মেট্রো নামে একটি আবাসিক হোটেলের মালিক ছিলেন।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, সেলিম নিজ মালিকানাধীন প্রাইভেটকার চালিয়ে কালকিনির ভূরঘাটা থেকে মাদারীপুর শহরে ফিরছিলেন। তাঁতিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত পার্কিং করা হাইওয়ে পুলিশের রেকারের সঙ্গে প্রাইভেটকারের ধাক্কা লেগে সেলিম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ রহমান জানান, শুক্রবার সকালে নিহতের মরদেহ সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ