প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের কেরালায় টানা ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধস, বন্যা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) কেরালার কোল্লাম ও তিরুবনন্তপুরম ছাড়া সব জেলায় 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট' জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
কেরালার ইদুক্কি, কোট্টায়াম ও পাঠানামথিট্টা জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভ্যাগামনে ৩১৪ মিলিমিটার, পাঠানামথিটার ভাদাসেরিক্কারায় ৩০২ মিলিমিটার এবং লাহায় ২৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
ইদুক্কির বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস এবং বন্যার খবর পাওয়া গেছে। উপ্পুথারায় ভূমিধসে একটি পুলিশ জিপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পার্ক করে রাখা ছিল। চ্যাকোচি বেন্ডের কাছে ভূমিধসের কারণে কোচি-ধনুষকোডি জাতীয় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
কোট্টায়ামের এরাট্টুপেট্টা, কাঞ্জিরাপল্লি, কুট্টিক্কাল, এরুমেলি এবং পালা এলাকার বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থানগুলো ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে। এই কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছেন।
পাঠানামথিট্টার পাহাড়ি এলাকাতেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পাম্বা নদীর তীরবর্তী রানি, কোঝেঞ্চেরি ও আরানমুলার বিভিন্ন অঞ্চল বন্যার পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসন নৌকা নামিয়েছে।
কোট্টায়ামের পুঞ্জার থেকে থানেকারা এলাকায় শনিবার ভোরে ভূমিধসে একজন নারী ও তাঁর ছেলে মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৫০ বছর বয়সী রেজিনা জনি এবং তাঁর ২৮ বছর বয়সী ছেলে জোসেফিন জনি। ভূমিধসে তাঁদের বাড়ি চাপা পড়ার কারণে প্রাণহানি ঘটে।
ইদুক্কির কুডায়াথুরে ভোরের দিকে ভূমিধসে বাড়ি মাটিচাপা পড়ে ৬৯ বছর বয়সী সুমাথি নিহত হয়েছেন। তাঁর স্বামী ও ছেলে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। ভ্যাগামনের কাছে কোহালামেডুতে ভূমিধসে ৭২ বছর বয়সী প্রভাকরণ নায়ারও নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া ভাকাথানামে জল জীবন মিশনের একটি জলাধার নির্মাণস্থলে পানিতে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মিলান কে শিজু মারা গেছে। মালাপ্পুরমের কোন্দোট্টিতে চার বছর বয়সী আদম আইমান পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে মারা যায়। ভান্দুরের থিরুভালির কাছে বাড়ির পাশের খালে পড়ে তিন বছর বয়সী আবদুল মুহাইনও ডুবে মারা যায়।
ওয়ানাডে পদিঞ্জারাথারার কৃষক বেনি পুকুরের পানি সেচের জন্য বের করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
এদিকে, শুক্রবার রাতে তিরুবনন্তপুরম উপকূলে দুটি নৌকা দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ চার জেলের সন্ধানে শনিবারও অভিযান চলেছে। কিছু জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি এর্নাকুলাম, ত্রিশূর, কোঝিকোড়, মালাপ্পুরম, কান্নুর, কাসারগোড় এবং পালাক্কাডেও বন্যা ও ছোটখাটো ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৬৫টি ত্রাণশিবির খোলা হয়ে আছে। এসব শিবিরে ১ হাজার ৪৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। বৃষ্টির কারণে ১৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১২৭টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র আথিরাপ্পিল্লি ও ভাঝাচালেও সাময়িকভাবে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন