প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সর্বোচ্চ ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন স্বপ্নের 'ঢাকা-সিলেট ৬ লেন' প্রকল্পের কাজ ডানা মেলতে শুরু করেছে। ২০৯ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ককে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, বিদ্যমান জটিলতাগুলো কাটিয়ে আগামী আড়াই বছরের মধ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে। ২০২২ সালে ১২টি প্যাকেজে শুরু হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক আন্তর্জাতিক মানের একটি সড়কে রূপ নেবে। পাশাপাশি উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগের দিক থেকেও প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগাতে এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মহাসড়কের বিভিন্ন বাঁক সরলীকরণ করা হবে এবং অধিক যান চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জজুড়ে ২০৯ কিলোমিটার মহাসড়ককে আন্তর্জাতিক মানের ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতাও ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন এ বিষয়ে জানিয়েছেন, ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলে অবশিষ্ট ছয় লেনের নির্মাণকাজ দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার এই প্রকল্পে মূল চার লেনের পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুটি সার্ভিস লেনও থাকবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ঋণ দিচ্ছে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও তা আর সম্ভব হচ্ছে না। জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা ও অন্যান্য জটিলতার কারণে কাজ পিছিয়ে গেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তি বেড়ে গেছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে সড়কপথে সময় লাগছে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন খাত। সিলেট হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্ট হাউস ওনার্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ জানিয়েছেন, পাঁচ তারকা হোটেলসহ বিভিন্ন মানের আবাসন খাতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ যানজট ও সড়কের ধীরগতির কারণে এসব বিনিয়োগ প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছে না। অন্যদিকে শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। আগামী আড়াই বছরের মধ্যেই ছয় লেন প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদী। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, ৭টি ফ্লাইওভার এবং ওভারপাস এবং ৬টি রেলওয়ে ওভারপাস। এর মধ্যে ৬৬টি সেতুর ৬০টির কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পেয়েছে। এছাড়াও ২০০টির বেশি কালভার্টের নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন