বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫১ পি.এম
নাটোর, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নির্বাচনের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আজ জেলায় শুরু হয়েছে।
আজ বুধবার পুলিশ লাইন্সে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।
প্রশিক্ষণের ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইফতে খায়ের আলম জানান, দুই দিনের এই প্রশিক্ষণে জেলা পুলিশ ছাড়াও সিআইডি, হাইওয়ে এবং পিবিআইয়ের মোট ৪০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের আইনানুগতা, নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে যেকোন পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে মোকাবেলা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে সমন্বয়ের সক্ষমতা থাকতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশে মারা গেছেন বড় ভাইও। দুই ভাইয়ের এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকা শোকের ছায়ায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি ফটিকছড়ি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মীর আহমদ সওদাগর বাড়িতে ঘটেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মীর আহমদ সওদাগরের ছোট ছেলে মোহাম্মদ খোরশদুল আলম (৩৫) মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ৫টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির মোসাফফা এলাকায় হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মরদেহ এখনও দেশে পৌঁছায়নি। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুতে যে গভীর শোক ও ধাক্কা পরিবারে নেমে এসেছে, তা সামলে ওঠার আগেই, ঠিক একদিন পর বুধবার সকাল ৫টায় মারা যান বড় ভাই মোহাম্মদ নুরুল আলম।
নিহতদের ভাতিজা রাশেদ বলেন, "ছোট চাচা প্রবাসে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। সেই শোক কাটতে না কাটতেই তার পরদিনই আবার বড় চাচাও একই সময়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।" তিনি আরও বলেন, "পরপর দুই অভিভাবককে হারিয়ে আমাদের পরিবার আজ দিশেহারা। এই চরম বেদনা আমাদের পরিবার কীভাবে মেনে নেবে, তা আমাদের জানা নেই।"
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ভাইয়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে ফটিকছড়ি পৌরসভা ও আশেপাশের এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এই অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়।
অন্য ছয় আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শায়ান এবং সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।
এদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, এ কে এম জামাল উদ্দিন এবং তানভীর হাসান সৈকত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের জানান, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ‘ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের হামলার ঘটনায়’ উসকানি, ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতার অভিযোগে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা যখন আন্দোলনকারীদের 'রাজাকারের নাতি-পুতি' বা 'রাজাকারের বাচ্চা' বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, তখন আসামিরা এই বক্তব্যকে কার্যকর করে তাদের অধীনস্থদের দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালান এবং শেখ হাসিনার সাথে ফোনে কথা বলে ছাত্রদের হত্যা ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র করেন।
কিছু আসামি এখনও ‘পলাতক’ থাকায় প্রথমে তাদের নাম প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করা হলেও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামাল, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম ও ইনানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের তথ্য দেন প্রসিকিউটর তামীম।
এর আগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা করার আবেদন করা হয়। লিখিত অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০০ থেকে ১ হাজার জনকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছিল।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করা হয়।
ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
এরপর সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন তীব্রতা পায়। বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে চলা আন্দোলন একপর্যায়ে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। বুধবার বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকালে রুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেনসহ মোট ৮ সদস্যের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য রুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামগ্রিক একাডেমিক অগ্রগতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসময় প্রেসিডেন্ট বলেন, "আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" দেশের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও নরসিংদী-৫ আসনের এমপি আশরাফ উদ্দিন, রুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন, মেকানিক্যাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল কাদের জিলানী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহম্মদ চৌধুরী, ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ. এম. রাসেলসহ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামপুরের একটি আদালত সোমবার জামিন প্রদান করেছে ৬৬ বছর বয়সী জলিল আখতারকে, যিনি পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে প্রায় তিন মাস আগে আটক হয়েছিলেন। মঙ্গলবার তাকে ইসলামপুর সংশোধনাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জলিল আখতার উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি ব্লকের বাজারগাঁও ২ পঞ্চায়েতের বাঘড়ুই গ্রামের বাসিন্দা। রাজ্য পুলিশ ১৬ জুন তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। প্রথমে তাকে শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে অবস্থিত ফুলবাড়ির একটি হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার নিজামপুরের অপর একটি হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।
২২ জুলাই আখতারকে বিদেশি নাগরিকত্বের অভিযোগে ইসলামপুর আদালতে হাজির করা হলে তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করে আসছিলেন যে তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক। তারা আদালতে ১৯৬৭ সালে তার বাবার নামে জমি কেনার বৈধ কাগজপত্রও উপস্থাপন করেন।
সোমবারের শুনানিতে বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আখতারকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আদালত তার জন্মস্থান, পরিবারের সদস্যদের পেশা এবং প্রতিবেশীদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছিল।
আদালতে উপস্থিত আখতারের স্ত্রী তোফা বিবি এবং মেয়ে কুলসুম বেগমের পরিচয়ও যাচাই করা হয়। আখতার বিচারকের সমস্ত প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়। কাগজপত্র ও তথ্যাদি পর্যালোচনার পর আদালত কিছু শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে।
আখতারের আইনজীবী শাহিদ রেজা জানান, "তিনি পুলিশকে না জানিয়ে তার বাসস্থানের বাইরে যেতে পারবেন না এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। তাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হবে এবং কোনো শারীরিক জরুরি অবস্থায় চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে হলে আগেই স্থানীয় থানাকে অবহিত করতে হবে।" এই জামিনের আদেশে আখতারের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আখতারের ভাই মতিউর রহমান ক্ষোভ ও স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, "সব কাজ ফেলে দীর্ঘ তিন মাস ধরে এক প্রশাসনিক দফতর থেকে অন্য দফতরে এবং আদালতে দৌড়াদৌড়ি করে আমরা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ও শারীরিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে আমাদের যা ফসল ছিল সব বিক্রি করতে হয়েছে। অবশেষে তিনি জামিন পেলেন। সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও একজন বয়স্ক ও দরিদ্র মানুষকে অনর্থক হয়রানি করা হলো।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ