প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এই অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়।
অন্য ছয় আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শায়ান এবং সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।
এদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, এ কে এম জামাল উদ্দিন এবং তানভীর হাসান সৈকত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের জানান, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ‘ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের হামলার ঘটনায়’ উসকানি, ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতার অভিযোগে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা যখন আন্দোলনকারীদের 'রাজাকারের নাতি-পুতি' বা 'রাজাকারের বাচ্চা' বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, তখন আসামিরা এই বক্তব্যকে কার্যকর করে তাদের অধীনস্থদের দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালান এবং শেখ হাসিনার সাথে ফোনে কথা বলে ছাত্রদের হত্যা ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র করেন।
কিছু আসামি এখনও ‘পলাতক’ থাকায় প্রথমে তাদের নাম প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করা হলেও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামাল, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম ও ইনানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের তথ্য দেন প্রসিকিউটর তামীম।
এর আগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা করার আবেদন করা হয়। লিখিত অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০০ থেকে ১ হাজার জনকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছিল।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করা হয়।
ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
এরপর সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন তীব্রতা পায়। বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে চলা আন্দোলন একপর্যায়ে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন